প্রিন্সের গল্প -প্রথম কিস্তি

ঈশপের গল্প

আমরা সবাই ঈশপের গল্পের সাথে কম বেশি পরিচিত। সেই গল্পটা আছে না, দুই বন্ধু বনে বেড়াতে গেছে হটাৎ একটা ভালুক সামনে পড়ল। দুই বন্ধুর একজন গাছে চড়তে পারে অন্যজন পারে না। যেই না ভালুক সামনে আসল অমনি যে গাছে চড়তে পারে সে অন্যজনকে রেখে গাছে চড়ে বসল। অন্যজন কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে মাটিতে মরার মতো শুয়ে পড়ল। ভালুক এসে তাকে শুকেটুকে মরা ভেবে চলে যেতেই গাছে চড়া বন্ধুটা নেমে এসে বলল ভালুক তোকে কি বলেছে ? বন্ধুটা বলল ভালুক বলেছে বিপদে যে বন্ধুকে রেখে পালায় তাকে বিস্বাস না করতে।

ঈশপের বক্তব্য : বিপদেই বন্ধুর প্রকৃত পরিচয়।
………….

আমার প্রিয় বন্ধু প্রিন্স।
সবসময় আমরা একসাথে, যাকে বলে হরিহর আত্মা।
একদিন রাতে আমাদের গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওযায় আমি আর প্রিন্স গেলাম মেকানিক ডেকে আনতে সিলেটের মনিপুরি পাড়া থেকে। মেকানিক ভদ্রলোকের নাম মনি বাবু। তার বাসার উঠোনটা ছিল অন্ধকার। আমি ছিলাম সামনে আর আমার পেছোনে প্রিন্স। যেই আমি একটু সামনে গেছি ওমনি অন্ধকার গাছের ছায়া থেকে বিকট দর্শন একটা কুকুর বের হয়ে আসল। আমিতো ভয়েই শেষ। কিন্তু কি ভয় পাব সাথে সাথে অনুভব করি আমার পিঠে একমণ ওজন আর ‘মাগো’ বলে বিকট চিৎকার। আমি ভারের চোটে ঘাড় ঘোরাতে পারছিনা। প্রিন্স কোথায় তাও দেখতে পারছিনা। আমি ভাবছি কুকুর আমার পিঠে উঠেছে এবার কামড় দেবে।

চিৎকার শুনে মনিবাবুর বাসা থেকে সবাই বের হয়ে আসতেই কুকুরটা সরে গেল। তারপর দেখি আমার পিঠ থেকে বোঝাটাও নেমে গেছে। এবার ঘাড় ফেরাতেই দেখি আমার বন্ধু প্রিন্স আমার পিঠ ঘেষে দাড়িযে হাপাচ্ছে। পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন আমার পিঠের বোঝাটা কি ছিল এবং মাগো ডাক কে দিয়েছিল ? প্রিন্স আবার খুব মাতৃভক্ত কিনা। 😉

৩,৪০৮ বার দেখা হয়েছে

৬২ টি মন্তব্য : “প্রিন্সের গল্প -প্রথম কিস্তি”

  1. জিহাদ (৯৯-০৫)

    এই ভাবে না বলে কয়ে ঘাড়ে ওঠার জন্যে প্রিন্স ভাইয়ের ব্যাঞ্চাই ।

    অফটপিক: ফাহিম নামের সব মানুষগুলাই বস হয়। আমার গাইডও ছিল ফাহিম ভাই। দুনিয়ার সকল ফাহিম ভাইকে :salute:


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  2. তৌফিক (৯৬-০২)

    ছোটবেলায় একদিন কুত্তার দৌড় খাইছিলাম। এরপর থাইকা আমি কুত্তা ডরাই, এমনকি এখনো। এই কয়দিন আগে ডর ভাংছে, কারণ কুত্তাদের সিক্সথ সেন্স ভালো। তাদের কেউ ডরাইতাছে বুঝলে তারাও ডরায় এবং ঘেউ ঘেউ শুরু করে। সবচেয়ে ভালো উপায় হইল, জাস্ট ইগনোর করা। কুত্তা আর ডিস্টার্ব দিবে না। 🙂

    জবাব দিন
  3. তানভীর (৯৪-০০)

    ফাহিম ভাই, আপনি নিশ্চিন্ত মনে যুবরাজ ভাইয়ের সব কাহিনী বলা শুরু করে দেন। আমরা আছি আপনার সাথে।

    (অফটপিকঃ যুবরাজ ভাই, ফাহিম ভাই এইটা কি করল? আপনি উনার এত প্রশংসা করে ব্লগ লিখলেন আর উনি?? নাহ! বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে!) ;)) ;)) ;))

    জবাব দিন
  4. তাইফুর (৯২-৯৮)
    কিন্তু কি ভয় পাব সাথে সাথে অনুভব করি আমার পিঠে একমণ ওজন আর ‘মাগো’ বলে বিকট চিৎকার

    আমি যুবরাজ হিসেবে যাকে চিনি তার ওজন একমণ ... প্রশ্নই উঠেনা। ঃলা এক কেজি কিনা ডাউট আছে। লেখায় অতিরঞ্জনের কারণে ফাহিমের ব্যাঞ্চাই।
    কবি বলেছেন, মণে মণে একমণ না হইলে মিল্বে না ওজন। যুবরাজের ওজন মিলে নাই ...


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  5. ফাহিম ভাই, আপনি নিশ্চিন্ত মনে যুবরাজ ভাইয়ের সব কাহিনী বলা শুরু করে দেন। আমরা আছি আপনার সাথে।

    (অফটপিকঃ যুবরাজ ভাই, ফাহিম ভাই এইটা কি করল? আপনি উনার এত প্রশংসা করে ব্লগ লিখলেন আর উনি?? নাহ! বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে!)

    তানভীর, দুই বন্ধুর আবার মিলন হইয়া গেলে......

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।