যাচ্ছে জীবন–১

অনেকদিন থেকে ইচ্ছা ছিল একটা সিরিজ শুরু করার। মাঝে মাঝে যা মন চায় লিখলাম, মাঝে মাঝে ডুব মারলাম। কেউ পড়ল, কি না পড়ল, তারপরও লিখে যাওয়া। কিন্তু বড্ড আলসেমী ভর করছে আজকাল, সপ্তাহের পাঁচদিন সকাল সাড়ে সাতটায় উঠে কাজে এ যাওয়া আর রাত নয়টার দিকে ফিরে আসার পরে কোন ব্লগে সামান্য একটা মন্তব্য করতেও আলসেমী লাগে।আজ ট্রেনে বাসায় ফেরার পথে চিন্তা করলাম না শুরু করি…

[১]
ব্রিটেনে ক্যামেরনের সরকার যে কয়েকটা ম্যান্ডেট নিয়ে আসছিল তার মধ্যে একটা ছিল ইমিগ্রেশন ইস্যু। বিশেষ করে ব্রাউন সাহেবের আমলে নতুন ভিসা পদ্ধতিতে ছাত্রদেরকে পড়তে আসার সুযোগ নিয়ে সবাই কম বেশী বানিজ্য করে নিয়েছে। আর এর পরে তা নিয়ে যা হয়েছে তা আজকাল সবারই জানা। যাইহোক ব্রাউন সাহেব ইলেকশনে জেতার জন্যে রোগ সারাবার উপশম হিসাবে দিল সবার ব্যবসার বারোটা বাজিয়ে। কলেজ বন্ধ, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল থেকে ভিসা বন্ধ করে সে এক এলাহী কান্ড কারখানা করলো। আর এতে করে যে কতো নিরীহ ছাত্রের ভোগান্তি হলো, তথাকথিত ভিসা কলেজে বৈধ অবৈধভাবে আসা ছাত্ররা যে বিপদে পড়ল, যাদের টাকা মাইর গেলো, সেই সব বিষয়ের কোন সুরাহা কিন্তু হলো না। ক্যামেরন সাহেব বললেন যে তিনি কঠোর আইন করবেন, তিনি জিতলেন। নতুন কিছু নিয়ম আসল এবং অতঃপর আবার ভিসা দেওয়া শুরু হয়েছে বাংলাদশ, ইন্ডিয়া, নেপাল, পাকিস্তান থেকে।
ব্রিটেনের এই উচ্চ শিক্ষার ব্যবসা থেকে বছরে ২৫ বিলিয়ন পাউন্ড রোজগার হয়। গত বছরে ৩৪,০০০ ছাত্র বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিল শুধু ইন্ডিয়া থেকেই।এই বছরের শুরুতে ইন্ডিয়াতে ভিসা বন্ধ থাকার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বড়ই ক্ষতি হয়ে গেছে। বিশেষ করে এই প্রতিযোগিতা আর অর্থনৈতিক মন্দার যুগে বাজার ধরে না রাখতে পারলে এতো বড় খাতটা থেকে যদি টাকা না আসে তো কিভাবে চলে? যাইহোক এই ব্যবসার সুত্রেই আমারও রুজি রোজগার চলছে, ক্যামেরন সাহেব আশা করি আর ধুমধাম করে আবার সব কিছু বন্ধ করে দিবেন না।
[২]
আমরা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় কেউ যদি বলতো মাথা ব্যাথা, তো আমরা বলতাম ‘এক কাজ কর, তোর তো মাথাতে মগজ নাই, গোবর সব এই জন্যে গ্যাস হচ্ছে। তুই তোর মাথা কেটে ফেল, ব্যাস আর কোন মাথা ব্যাথা নাই’। বাংলাদেশে সরকার দেখি আজকাল মাথা ব্যাথা হলেই মাথা কেটে ফেলার মাধ্যমে সমাধান করছে। রোজার সময় বেশী যানজট হচ্ছে দেখে স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হলো। এখন গ্যাস যেন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে পাওয়া যায় বিদ্যুত উৎপাদনের জন্যে সেজন্য সিএনজি স্টেশন গুলো তিনটা থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। খুব ভালো সমাধান, কিন্তু মানুষ যে এখন রাস্তা বন্ধ করে গাড়ী নিয়ে লাইন দিয়ে বসে থাকবে গ্যাস স্টেশনে তার সমাধান কি হবে? অবশ্য এক দিক দিয়ে ভালো যেহেতু সবাই গাড়ীতেই অনেক সময় থাকবে, বাসায় যাওয়া লাগবে না, সেইজ়ন্যে বিদ্যুত খরচও কম হবে।
কয়েকদিন আগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় এরকম কোন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিলো। গার্মেন্টস শ্রমিকরা বার বার আন্দোলন করে তাই গার্মেন্টসগুলোই বন্ধ করে দেওয়া হোক।
[৩]
আমাদের ব্যাচে সবেধন নীলমনি গায়ক ছিল এক জনই মোস্তফা। সেই ক্লাস সেভেন থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত একাই আমাদের সব কালচারাল প্রোগ্রামে ও গান গাইছে। বিসিএস দিয়ে পুলিশে হিসাবে যোগ দিয়েছিল। কয়েক মাস আগে প্রধান মন্ত্রী যাবে ও রাস্তা খালি করছিল কোথা থেকে একটা গাড়ী এসে মেরে দিল। সরকার ওর দায়ভার নিয়েছিল, সিংগাপুরে চিকিৎসা শেষে ও দেশে ফিরেছে, আস্তে আস্তে হাঁটতে পারছে এখন। আশা করা যায় সামনের বছর আবার কাজে যোগ দিবে। সরকার যে ওর চিকিৎসার সব ব্যবস্থা নিয়েছিল সময় মতো তার জন্যে অসীম কৃতজ্ঞতা।

[৪]
কার ব্লগে জানি দেখলাম সেইদিন ফয়েজ ভাই লিখেছে, যে ফেসবুকে খোঁজ করতে, সেখানে ছোট বেলার হারানো সাথীকে খুঁজে পাওয়া যাবে। ফেসবুক আসলেই আজকাল দুনিয়াটাকে বড় বেশী ছোট করে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও পৃথিবীটা বিশাল বড় কেউ হারাতে চাইলে খুব সহজেই হারিয়ে যেতে পারে।মাঝে মাঝে মনে হয় সব মানুষের একই নেটওর্য়াকে ধরে রাখার ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল। যখনই কারো কথা মনে হবে তখনই একটা তরংগ পাঠিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা যাবে। কেউ কোথাও হারাতে পারবে না।

[৫]
আমাদের ক্লাস সেভেনের ট্যালেন্ট শো তে মোস্তফা একটা প্রচন্ড রোমান্টিক গান গেয়েছিল। তখনকার প্রিন্সিপাল কালচারাল প্রোগ্রামে কোন রোমান্টিক গান সহ্য করতে পারতো না। কিন্তু মোস্তফার একটা গানই মুখস্ত ছিল তো কি আর করা আমাদের ফর্ম মাস্টার জাহিদুল আলম স্যার বাধ্য হয়ে ভয়ে ভয়ে ওই গান রেখেছিলেন। মোস্তফা ওই এক গান দিয়ে বাজীমাত করে দিয়েছিল, আর আমরা পেয়েছিলাম আমাদের ব্যাচের জাতীয় সংগীত। ওই গানটি দিয়েই শুরু করলাম আমার এই সিরিজ, পরের পর্ব লিখি অথবা নাই লিখি……
মন কি যে চায় বলো

১,৩৬৮ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “যাচ্ছে জীবন–১”

  1. তানভীর (৯৪-০০)
    যখনই কারো কথা মনে হবে তখনই একটা তরংগ পাঠিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা যাবে। কেউ কোথাও হারাতে পারবে না।

    এরকম ব্যবস্থা থাকলে আসলেই ভালো হত।

    সিরিজের শুরু ভালো হল, চলুক পূর্ণ গতিতে। 🙂

    জবাব দিন
  2. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    এই কে আছিস, আদি জামাই বান্ধা গরু সামি ভাইকে চা দে...রকিব্বা কই গেলি?
    বিসিএস দিয়ে পুলিশে হিসাবে যোগ দিয়েছিল

    ইয়ে,সামি ভাই,উনার সাথে কন্টাক্টের কুনো ব্যবস্থা করা যাবে কি? আপনেদের মাস্ফ্যুও একই পথের পথিক কিনা :shy:

    জবাব দিন
  3. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    হারাইতে চাইলে তো সোজা রাস্তা আছেই, কিন্তুক সমস্যা কি জানো, মানুষ আসলেই সামাজিক জীব, লুকাই থাকতে পারে না।

    তুমি বউ সহ ব্রিটেনে, নাকি মিস করতাছো 😀 আর ছড়া-টড়া লেখে না তোমারে নিয়া?


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  4. এহসান (৮৯-৯৫)

    আররে সামি আছ কেমন? কই থাকো এখন? ট্রেনে করে বাসায় ফিরো... মনে হয় লন্ডনেই। আমি বাংলাদেশে আইসা ফুটবল খুব মিস করি। গত সপ্তাহে সব মিলিয়ে মাত্র ৪০ মিনিট খেলা দেখসি। তারপরেও লিভারপুলের খেলা ভালোই লাগসে। রিজার্ভ বেঞ্চটা একটু দুর্বল...
    যাই হোক তোমার সিরিজটা নিয়মিত চালাবা প্লিজ...

    আজকাল নিজের পোলার বদৌলতে সামি নামটা বেশ শুনি... বাংলাদেশে সার্ফ এক্সেল এর একটা এড দেখায়.. যেখানে একটা দুষ্টু পিচ্চি থাকে ... ওরে ডাকে এই সামিইইইইইইই... আর রিপ্লাই আসে এক মিইইইনিইইইট।

    ভালো থেকো।

    জবাব দিন
    • সামি হক (৯০-৯৬)

      এহসান ভাই, আপনি চাইলে আপনারে আমি ম্যাচ অফ দ্যা ডে ডাউনলোডের লিঙ্ক পাঠায়ে দি্বোনে। লিভারপুল এইবার মনে হয় আসলেই ভালো করবে খালি আর একটা ভালো স্ট্রাইকার দরকার। আর রয় হজসন মনে হয় আন্ডার ২১ প্লেয়ারগুলারে বেশ চান্স দিবে ওদের মধ্যে কয়েকজন কিন্তু বেশ ভালো খেলে। ম্যানচেস্টার সিটিরে এই সপ্তাহে হারালে কি যে আনন্দ লাগবে 😀 😀

      ওহ আমি লন্ডনে আছি এখন। আমার অ্যাড টা দেখা লাগবে দেখি 😀 । আর দেখি সিরিজটা চালায়ে যাবো।

      আপনিও ভালো থাকবেন।

      জবাব দিন
  5. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    সামি ভাই,
    অনেকদিন পর বস্‌, কেমন আছেন?
    আপনি লন্ডন আর ভাবী কানাডায়? আহারে ছাড়া থেকে বান্ধা গরু হয়ে আবার নির্বাসিত গরু হয়ে গেলেন 🙁

    মন কিযে চায় বলো গানটা অনেকদিন পর শুনলাম। হালকা নস্টালমুজিব হয়ে গেলুম :dreamy: ইয়ে মানে, এই গানটার একটা পিসিসি ভার্সনের কথাও লেঞ্জা ধইরা মনে পিড়া গেলো ;))


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।