শুধু দেশাত্মবোধ নিয়ে আমরা আর কতদূর এগোবো?

“সময়”। আমদের বাংলাদেশীদের জন্যে ব্যাপারটা এমন বড় কোন ফ্যাক্টর নয়। এটা সকলেরই জানা। আর্মি, উর্দি ওয়ালারা অবশ্য এটা নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি করে , কিন্তু আমরা যারা civilian অথবা claiming to be civilian,  তারা মোটেও এটা নিয়ে এতটা বাড়াবাড়ি পছন্দ করিনা।

সময়টাকে আমরা আইনেস্টাইনের মত ধ্রুব না ধরে মোটামুটি একটা দিকনির্দেশনা হিসাবে দেখি।উধাহরন দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে।

যেমন, বিয়ের দাওয়াত রাত্রি ৮ টায় লিখা থাকলে ধরে নিতে হব, অভ্যর্থনাকারিরা ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে অতিথিদের আশা করছেন। কারন রাত ঠিক ৮ টায় যেয়ে আমি অনেক ক্ষেত্রে কাউকেই পাইনি। নিজেকে আইন ভঙ্গকারী হিসাবে এবং সহধর্মিণীর কাছে বেশ বিব্রত হতে হয়েছে।

দুপুরে লাঞ্চের দাওয়াত? সাড়ে বারটায় তো লিখা থাকবেই, যেতে হবে  at least দেড়টায়, আর সমাজের কেওকেটা যদি হই, তবে দুইটার পরে। অর্থাৎ সভাপতির আসন যদি by chance আমার দ্বারাই অলংকৃত হয়, তবেতো দেরীতে না গেলে প্রেস্টিজই  শেষ। সকলকে অপেক্ষামান না রাখা গেলে নিজেকে মুল্যবান হিসাবে প্রতীয়মান করা  কিভাবে সম্ভব ?

পরিবার নিয়ে যেমন সমাজ, আর সমাজ নিয়ে দেশ, তেমনি দেশগুলি নিয়েইত আন্তঃ রাস্ট্রীয় এই পৃথিবী।

গোল বাঁধে তখনই, যখন আমরা আমাদের এই রাজকীয় ঐতিহ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ” Time Zone” এ প্রবেশ করি।যাদের ‘সময়’ নিয়ে আমাদের মত এই খানদানী বোধ নেই। কেরানীদের মত যারা ‘দশটা-পাঁচটা’ কে  দশটা-পাঁচটা হিসাবেই দেখে।আগের আমলে দশটা-পাঁচটা অফিস সময় ছিল, আর কেরানীরা নাকি পাঁচটা বাজলে আর এক মুহূর্ত বেশি ফাইল খোলা রাখত না ।

আমার অনেক বদ অভ্যাসের মধ্যে ‘বোম্বাইয়াদের’ মত একটা ঝোঁক আছে, কোন কিছু কেনা কাটার ক্ষেত্রে প্রথম অতি আপন জন কেউ থাকলে তাকে প্রাধান্য দেয়া। যেমন চাল-ডাল  তেল-সাবান কেনাকাটায় টাকাতো কাউকে না কাউকে দিতেই হবে,আমার অতি আপন জন, আত্মিয় কেউ থাকলে তাকে নয় কেন? লাভটা না হয় অন্যে না করে আপনজন কেউই করুক! আমি জানি, বর্তমান খোলা বাজার নীতিতে ব্যাপারটি হাস্যকর।কিন্তু  মূল্যবোধটি সেকেলে ঠেকলেও এবং মাঝে মাঝে প্রচণ্ড বিড়ম্বনায় পরলেও, এনিয়ে আমি খুব একটা  অখুশী নই।

গ্রীষ্মের ছুটিতে স্বস্ত্রীক বেড়াতে যাব। আর বেড়ানোর উদ্দেশ্যেই যখন বিদেশ যাব, যতদূর যাওয়া যায় national carrier বিমানেই যাই ! যুক্তি আমার অতি সহজ ।দেশের বিমানে যতদূর যাওয়া যায়, যাই না। টাকাটা ওরাই পাক।

দিনটা ছিল গত মাসের ১৮ তারিখ ।চট্টগ্রাম থেকে সেই সকালের ফ্লাইটে ঢাকা এসে বসে আছি এয়ারপোর্টে । দুপুরের ফ্লাইট। ব্যাংকক পর্যন্ত নিয়ে যাবে বিমান। বিজি  ০৮৮। নির্ধারিত সময়ে সব এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইট চলে যাচ্ছে, ইনফরমেশন মনিটরে বিমানের ঘরে শুধু ” Delayed ” দেখিয়েই যাচ্ছে। কতক্ষণ তার কোন হদিশ নেই। মানুষের ধ্বৈর্জেরতো একটা সীমা থাকে।সকাল গড়িয়ে বিকাল, সন্ধ্যা তারপর রাত। হঠাৎ করেই বলা হল ‘বিমান’ এসে গেছে, “তিনি” ঘণ্টা খানেকের মধ্যে উড়াল দিতে সক্ষম হবেন। কি রাজসিক ব্যাপার , একেবারে আমাদের মানসিকতার প্রতিমূর্তি যেন!

কিন্তু গোল বাধে ওই যায়গায়, যাদের পরবর্তীতে অন্য কোন এয়ারলাইনে অন্য কোন খানে গন্তব্য থাকে! ওদেরতো ‘বিমানের’ মত ‘রয়্যাল এ্যটিচ্যুড’ নেই। আমাদের বিমান পৌছতে পৌছতে কানেক্টিং ফ্লাইট হয়তো ততঃক্ষনে জাপানে পৌঁছে গেছে! যাদের ট্যাঁকে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা নেই, তাদের ট্রানজিট লাউঞ্জে না খেয়ে বসে থাকা ছাড়া কোন উপায়ই থাকে না।

আসার দিনও একই ব্যাপার ব্যাংকক সুবর্ণভুমি এয়ারপোর্টের হাজারটা ফ্লাইট পৃথিবীর সব প্রান্তে উড়াল দিচ্ছে, শুধু ‘বিমান মহাশয়’ “বিলম্বিত”

তার চেয়ে বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্যে। সুপরিসর এই বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে সর্ব সাকুল্যে বাংলাদেশি ছিল মাত্র দুইজন। আমি আর আমার স্ত্রী ! আর সব ভারতীয় ‘ট্রানজিট লাগেজ পার্টি ‘ ও তাদের অন্যায় আবদারের মালামাল ভর্তি হয়ে আসা আমাদের দূঃখিনী বিমান।

এয়ারপোর্টে বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্তিপক্ষ কে প্রশ্ন করায় তিনি অবাক বিস্ময়ে যা বললেন তাতে আমার মনে একটি প্রশ্নই শুধু ঘুরপাক খেতে থাকে।

“বিমানের উর্দি গায়ে রেখেই এই স্বাধীনতার মাসেই বলছি ভাই,আপনারা বিমানে চড়ার মত বোকামি করেন কেন? থাই এয়ারলাইন্স এর ভাড়াতো একই সমান”।

আসলেই আমরা অনেক বোকামি করি ! ১৯৮০ সনে সাধা জার্মান নাগরীকত্ব নেইনি নিজের দেশকে বিসর্জন দিতে হবে বলে। অনেক কষ্ট হলেও নিজেদের ভাঙ্গা উরুজাহাজে চড়তে চাই, আমার দুটি পয়সা দেশই পাবে বলে। দেশীয় পন্য ব্যবহার সহ হাজারটা কাজ করি দেশের উন্নতির কথা ভেবেই!

কিন্তু প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে বার বার মাথায় ঠোকর মারেঃ  শুধু দেশাত্মবোধ নিয়ে  আমরা আর কতদূর এগোবো?

১,৭১৩ বার দেখা হয়েছে

২০ টি মন্তব্য : “শুধু দেশাত্মবোধ নিয়ে আমরা আর কতদূর এগোবো?”

  1. রেজা শাওন (০১-০৭)

    হিথ্রো থেকে ঢাকার ফ্লাইট নিলে কিছু টাকা সেভ করা যায়। আমস্টারডাম থেকে লন্ডন যেহেতু মাত্র তিন ঘণ্টার পথ।

    আমাদের গত রি ইউনিয়নের আগে একটা চেষ্টা প্রায় নিয়ে ফেলছিলাম। কলেজের রি ইউনিয়ন বলে কথা । কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সাহসে কুলাতে পারি নাই। ভবিষ্যতেও পারবো না হয়তো।

    বিমানকে চাইলেই লাভজনক করা যায়। এর জন্য মাথাওয়ালা লোকের কোন গতিশীল নেতৃত্বের দরকার নাই। শুধু এটাকে পুরোপুরি বেসরকারি খাতে দিয়ে দেওয়া হোক। অনেক ছোট দেশের বিমান সংস্থাগুলো এভাবেই চলছে, এবং লাভে চলছে।

    এই যুগে এসেও বিমানের ই টিকেটিং সিস্টেম খুবই খারাপ। এই ব্যাপারগুলো যে কবে সংশ্লিষ্ট লোকজনের নজরে আসবে, আল্লাহ্‌ই জানেন।

    চমৎকার বিষয়ভিত্তিক লেখা এবং সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন আজিজ ভাই। ধন্যবাদ।

    জবাব দিন
    • আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)

      ১৮ই মার্চ সম্ভবত ইন্ডীয়া-পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যচ ছিল। ঢাকা এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশনের ওপারে যারা ছিলেন, তারা জানেন অভব্যতা অশোভনতা কাকে বলে! TV'র সামনে বসা শতের উপরে ভারতীয় transit লাগেজ পার্টির উন্মত্ত আচরণে কিছু জাপানি, ইউরোপিয়ান সহ ভিনদেশীদের চোখে যে ভীত দৃষ্টি দেখেছি, আর ভাবছি, ওরা নিশ্চয়ই এই 'লাগেজ পার্টিদের' বাংলাদেশিই ভাবছে! এ লজ্জা আমাদের সকলের!
      পরে জানলাম, বিমানের বি জি ০৮৮ এবং বি জি ০৮৯ এর ব্যাংকক-ঢাকা-ব্যাংকক ফ্ল্যাইট শুধু এই লাগেজ পার্টিদের জন্যেই সৃষ্ট। এতে সাধারন যাত্রী প্রায় থাকেই না। এবং ব্যাপারটা ঊর্ধ্বতন সকল কর্তিপক্ষেরই জানা।শুধু বার্তি লাগেজ এবং বিমানের বসদের উপরি উপার্জনের জন্যে এই রুটটি পরিচালিত!
      দেশপ্রেম দেখানোর দায়ইত্ব কি শুধু তোমার- আমার, আমাদের????


      Smile n live, help let others do!

      জবাব দিন
      • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

        ভাই কি বলবেন???? কাকে বলবেন???? এইসকল লাগেজ পার্টির জন্য সকাল ১১টার ফ্লাইট যেয়ে ঠেকে সন্ধ্যা ৬টায়। তাও আবার ঢাকা-কলকাতা। বিমানই কি করবে???? লাগেজ পার্টি ছাড়া তো আর প্যাসেঞ্জার পাওয়াও দুষ্কর। প্যাসেঞ্জাররাই বা কি করবে? সেবার যা ছিরি। 😀

        এই চক্রের কোন বাইপাস নাই।

        জবাব দিন
        • আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)

          এটা একটা ' ভিসাস সার্কেল ' কি বল? সেবা নাই তাই প্যাসেঞ্জার নাই, আর প্যাসেঞ্জার নাই তাই সেবাও খারাপ! Great!! কিন্তু দুর্জনেরা বলে অন্য কথা। "দরবেশ" বাবাদের নতুন উড়োজাহাজ এসে পরার কারনে 'বিমান'কে নাকি গলা টিপে ইচ্ছাকৃত ভাবে হত্যা কয়রা হচ্ছে !! সব আল্লাহর ইচ্ছা !!! ~x(


          Smile n live, help let others do!

          জবাব দিন
          • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

            বস, দরবেশ বাবা অবশ্য বিশেষ সুবিধা করতে পারে নাই। IATA আরো কি কি যেন আছে না, ওদের সাথে কি আর জোচ্চুরি চলে?ইন্টারন্যাশনাল রুটে তাদের লাইসেন্স না কি যেন বাতিল করা হয়েছে। তবে কে জানে, দরবেশ বাবা বলে কথা, কি না কি করে বসবে, আর তার উড়োজাহাজ আবার বহাল তবিয়তে চলতে থাকবে। আর বিমান আকাশেই শান্তির নীড় রচনা করবে, কোথাও আর পৌছানো লাগবে না।

            জবাব দিন
  2. আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

    আজিজ ভাই@ দেশপ্রেম দেখানোর দায়িত্ব আমার, আপনার বা কারোরই একার নয়, অবশ্যই সবার। কিন্তু প্রশ্ন হল দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যেকে যদিওবা দেশপ্রেমের বুদবুদে হাবুডুবু খেতে থাকত তা হলেও কী খুব বেশী কিছু পাল্টাতো? শুধু ভালবাসলেই কী চলে? প্রেমের জন্য ত্যাগ অত্যাবশ্যক, ওটাতেই যে আমাদের ভীষন আপত্তি! আর তাছাড়া একটি আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর, অন্যায় যেখানে সব শাসন করে, পরিবারের সদস্যরাই যেখানে দুর্নীতিতে উতসাহ যোগায় বা মুনাফাকেন্দ্রিক সমাজ কাঠামোর মাঝে থেকে আমরা ত্যাগী হবই বা কীভাবে? আর সেই সমাজের গর্ভে দেশপ্রেমের ভ্রুন বিকশিতই বা হবে কীভাবে?

    জবাব দিন
  3. আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

    আজিজ ভাই@ দেশপ্রেম দেখানোর দায়িত্ব আমার, আপনার বা কারোরই একার নয়, অবশ্যই সবার। কিন্তু প্রশ্ন হল দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যেকে যদিওবা দেশপ্রেমের বুদবুদে হাবুডুবু খেতে থাকত তা হলেও কী খুব বেশী কিছু পাল্টাতো? শুধু ভালবাসলেই কী চলে? প্রেমের জন্য ত্যাগ অত্যাবশ্যক, ওটাতেই যে আমাদের ভীষন আপত্তি! আর তাছাড়া একটি আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর, অন্যায় যেখানে সব শাসন করে, পরিবারের সদস্যরাই যেখানে দুর্নীতিতে উতসাহ যোগায় বা মুনাফাকেন্দ্রিক সমাজ কাঠামোর মাঝে থেকে আমরা ত্যাগী হবই বা কীভাবে? আর সেই সমাজের গর্ভে দেশপ্রেমের ভ্রুন বিকশিতই বা হবে কীভাবে? আর দেশপ্রেম জন্মালেও তা আমাদের দেশপ্রেমের মত বিকলাংগ হতে বাধ্য।

    জবাব দিন
    • আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)

      আসিফ, একটা সত্য ঘটনা পড়েছিলাম মনে পরল এই প্রসঙ্গে, তোমাকে বলিঃ

      দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর, ওখানকার বড় বড় কোম্পানি গুলি থেকে প্রায় সকল অধিকর্তাদের অক্ষ শক্তির (Imperial German-Japan Axis Power) দালাল হিসাবে চাকরিচ্যুত করা হল।এবং ছোট কর্মচারীদের প্রমোশন দিয়ে বস্ বানিয়ে বসিয়ে দেয়া হল।
      টোকিও শহরের উল্লেখ যোগ্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলির বসদের দেখা যেত, নিজ নিজ আফিস বিল্ডিং এর কাছে,গাছ তলায়, চা'র দোকানে প্রতিদিন অফিস চলাকালিন সময়ে বোসে অপেক্ষা করতে।
      ছোট কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিতে যদি ওদের সাহায্যের প্রয়োজন হয়!
      এবং হতোও তাই, ক্ষনে ক্ষনে ছোট গুলিকে দৌড়ে একবার নিচে আরেকবার উপরতলা করতে হত!
      ভাই, এসবই দেশাত্মবোধ থেকে, টাকা বা ক্ষমতার জন্যে ওরা করেনি।
      "ওঁরাওতো আমাদের মত এশিয়ান, আমাদের মত মানুষ, ওরা পারলে, আমরা পারবোনা কেন"???????


      Smile n live, help let others do!

      জবাব দিন
    • আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)

      ‘লাগেজ পার্টি’ মানব প্রজাতির এক অতিশয় নিন্মজাত পেশাজীবী, যাহারা বিভিন্ন দেশে যাইয়া মালিকের ক্রয় কৃত সমুদয় শাড়ি- সেলোয়ার কামিজ, মায় আলতা, স্নো, পাওডার, সেন্ডল-জুতা ‘লাগেজে ভর্তি' করিয়া এবং " ব্যগ্যেজ রুলের" ট্যাক্স সুবিধা প্রাপ্ত হইয়া নিজ দেশে বহন করিয়া লইয়া যায়।বিনিময়ে মালিকের টাকায় বিদেশ ভ্রমন, থাকা খাওয়ার খরচ ও কিঞ্চিৎ অর্থ প্রাপ্ত হইয়া থাকে। (সম্পাদিত)


      Smile n live, help let others do!

      জবাব দিন
  4. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    বিমানের অভিজ্ঞতা এখনো পাইনি, তবে দেশপ্রেম দেখাতে গিয়ে এরকম বিড়ম্বনার শিকার হয়েছি টেলিটক সিম ব্যবহার করতে গিয়ে। আরো বহু ক্ষেত্রে একই অবস্থা।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)

      ওয়াহিদা নূর আফজা,
      প্রশ্ন টা ঘুরে ঘুরেই আসে, দেশপ্রেম দেখানোর দায়ইত্ব কি শুধু তোমার- আমার, আমাদের????

      মাঝে মাঝে মনে হয়, দেশটা কারো কারো কাছে সুস্বাদু একটা বৃহৎ চীজ কেইক বা জেলোটিন কাস্টার্ড, কিছু মানুষ চারিদিক থেকে ছুরি কাঁটা চামচ যা দিয়ে খুশি খুবলে খুবলে খাচ্ছে!

      স্বাধীন বাংলা বেতারে একটা গান সব সময় বাজাতো।আমার খুব প্রিয় ছিল। জানিনা কার।

      "ব্যারিকেড-বেয়নেট-বেড়াজাল,
      ঘাঁটে ঘাঁটে তড়পায় সমকাল,
      মানুষের কলিজা, ছিঁড়ে খুঁড়ে খাবলায় নরপাল" ! !

      (আমার দেশের কলিজা ,ছিঁড়ে খুঁড়ে খাবলায় নরপাল") (সম্পাদিত)


      Smile n live, help let others do!

      জবাব দিন
  5. তানভীর (২০০১-২০০৭)

    আজিজুল ভাই, দারুণ লেখা। আসলে এমন শতশত সমস্যা নিয়ে আমাদের এই দেশ। অপ্রাসঙ্গিক একটা কথা তবুও বলি, আমার পেশা গত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ দেশে ও বিদেশে করা যায়। এমন কি বিশ্বে আমার এই পেশাতে বাংলাদেশীদের অবস্থান ও সুদৃঢ়। অনেক পয়সার ব্যাপার তাই আমি সিদ্ধান্তও নিয়েছি দেশ থেকে পরীক্ষা দিবো। টাকাটা দেশেই থাকবে। কিন্তু যখন বিভিন্ন কাজ করতে যেয়ে দেখলাম আসলে এত বড় একটা সরকারী অফিস যে কত শত সমস্যা নিয়ে চলছে ধুঁকে ধুঁকে। তার চেয়ে বড় সমস্যা দেখছি আমার অন্যান্য বন্ধুরা সমস্যা এড়ানোর জন্য টাকা ঢেলে কাজ করে নিচ্ছে অতি সহজে আর আমাকে করতে হচ্ছে আরও সময় নিয়ে। তবুও তো কাজ ঠিকই হচ্ছে। যদিও দেরি হচ্ছে , সেটা তো আমার ওই সব বন্ধুদের জন্ন।তাদেরকে বললে বলে, আমাদের এত সময় নেই.....................................................................। কিছু বলার নেই ওদের কে। মাঝে মাঝে ধাঁধাঁয় পড়ি যেন আমারই ভুল!!!!!!!


    তানভীর আহমেদ

    জবাব দিন
    • আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)

      তানভীর,
      তুমি সম্ভবত ডি জি শিপিং অফিসের কথা বলছ। আমার জানা আছে, ওদের ব্যাপারে। ডেমো জাহাজ কেনার আগে ওদের পারমিশন ও ক্লিয়ারেন্স নিতে হয় আমাদের।

      বছর পনের/বিশেক আগে ১ম ব্যচের ফৌজিয়ান মালেক ভাই ছিলেন ' ডি জি' তখন পরিবেশ অনেক পরিচ্ছন্ন ছিল।এখনতো যাতা অবস্থা!

      একজন হেডের উপর ডিপার্টমেন্ট কি ভাবে চলবে তার অনেকটাই নির্ভর করে!
      ধিক উর্দি পরিহিত " এয়ার কোমোডরদের " উপর!একজনের পর একজন 'এম ডি' হিসাবে এসে বিমানকে স্বর্গে পৌছিয়ে দিচ্ছে!


      Smile n live, help let others do!

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।