সাপ্তাহিক ২.৩

ই সপ্তাহান্তটা ভালই কাটলো, দলবেধে শহরে গিয়ে ইফতার, দুর্দান্ত আড্ডা, রাতভর মুভি, দিনভর ঘুম আর সব কিছুর সাথে অনবরত বৃষ্টি, এক কথায় দারুন।

বে সপ্তাহের শুরুটা ছিল পুরো উল্টো। সারা রাত জেগে পড়াশুনা, লেখালেখি, তারপর সারাদিন বাইরে রোদে বৃষ্টিতে ভিজে পুড়ে বকর বকর। রোজা রেখে এগুলো করে পুরো নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল। তবে এসবের থেকেও ভয়াবহ ছিল ফ্যান্টাসী ফুটবলের ফলাফল। এর চেয়ে বাজে সূচনা মনে হয় সম্ভব ছিল না। Morning যদি আসলেই day show করে তাহলে আমার আশা ভরসা সব শেষ, কারন প্রথম সপ্তাহ শেষে আমার অবস্থান একদম তলানীতে। সব চেয়ে দুঃখের ব্যাপার হলো গত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পয়েন্ট দেয়া দ্রগবা আমার টিমের ক্যাপ্টেন ছিল শনিবার দুপুর পর্যন্ত। বিবিসির ম্যাচ প্রিভিও পড়ে দেখলাম ল্যাম্পার্ড, দ্রগবা দুজনই ডাউটফুল, কি মনে করে দুজনকেই বাদ দিয়ে দিলাম। সপ্তাহ শেষে মনে হচ্ছিল পুরো টিমকে উত্তর কোরিয়া জাতীয় দলের মত পানিশমেন্টে পাঠাই। সেটা সম্ভব না দেখে দুই নম্বর দল মাঠে নামিয়ে দিলাম। দেখি এবার কতদূর এগোনো যায়।

প্রথম সপ্তাহ শেষে কেউ আমলনামা দিল না, এক দিক থেকে আমি খুশি, রেলিগেশন পার্টির মধ্যে নিজের নাম দেখা লাগে নি। তবে যারা ভাল করছে তাদের মধ্যে থেকে কেউ প্রতি সপ্তাহে একটা আমলনামা দিলে ভাল হয়, সেখানে ফ্যান্টাসী লীগ নিয়ে প্যাচালও পাড়া যাবে, আর আমাদের মত দূর্বল ম্যানেজারেরা কিছু টিপস ও নিতে পারব।

ফ্যান্টাসী লীগের বাইরে আসল লীগে অবস্থাও খুব একটা সুবিধার ছিল না, আর্সেনাল ভাগ্য গুনে লিভারপুলের কাছ থেকে পয়েন্ট পেয়ে এসেছে। তবে আজকে ওয়ালকটের হ্যাট্রিকের পরে বেশ ফুর্তিতে আছি। তবে চেলসি যেভাবে শুরু করেছে তাতে ঘটনা বেশি সুবিধার মনে হচ্ছে না। এদিকে ট্রান্সফার উইন্ডোর আর ৯ দিন বাকি, এর মাঝে যদি ওয়েঙ্গার কোন গোলকিপার জোগাড় করতে না পারে তাহলে আর্সেনালের কপালে দুঃখই আছে। আলমুনিয়ার মত গোলকিপারকে নিয়ে আর্সেনাল আর যাই হোক, ট্রফি জিততে পারবে বলে আমার মনে হয় না।

কালের কন্ঠের সাপ্তাহিক আয়োজন টুনটুন টিনটিন থেকে জানতে পারলাম ‘তিন গোয়েন্দা’র ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে এ মাসে। আমার সাথে তিন গোয়েন্দার পরিচয় প্রায় ১৬-১৭ বছর আগে। তারপর থেকে অনেক ধরনের বই পড়েছি কিন্তু কোন বইয়ের মাঝেই আমি তিন গোয়েন্দার মত ডুবে যেতে পারিনি। অন্যান্য সব পাঠকের মত আমিও নিজেকে কিশোর পাশা জায়গায় কল্পনা করতাম। আমাদের তিনজনের একটা গ্রুপও ছিল, আমার সাথে মুসা, রবিন ও ছিল। এমনকি জর্জিনা পারকার ও ছিল। নিজে কিশোর পাশার বয়স পার করার আগেই সেই বন্ধুগুলো হারিয়ে গিয়েছে, কে কোথায় আছে জানি না। তবে মাসুদ রানার বয়সে এসে সেই জর্জিনা পারকারের খোঁজ পেয়েছিলাম, কিন্তু তার সাথে বাল্যস্মৃতি রোমন্থনের সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ধন্যবাদ সেবা প্রকাশনী এবং রকিব হাসান, ছোটবেলায় কিছু অসাধারন সময় উপহার দেবার জন্য।

দানিং ভালই মুভি দেখা হচ্ছে। যতটুকু অবসর পাচ্ছি, মুভি দেখেই কাটাচ্ছি। কোন বাছ বিচার ছাড়া, হাতের কাছে যা পাচ্ছি তাই দেখছি। অনেকগুলোই বেশ ভাল লাগছে, কিছু আবার পুরোপুরি অখাদ্য। আলাদা ভাবে নাম বলতে গেলে বিশাল লিস্ট হয়ে যাবে, এখানে নাম গুলো আছে। তবে গতকাল দেখা এক্স ফাইলস ২ (I want to believe) দেখে অন্যরকম একটা ভাল লাগা টের পেয়েছি। মুভি হিসেবে ভাল লেগেছেই, সেই সাথে কেমন একটা নষ্টালজিক অনুভূতি হচ্ছিল। বিটিভি’র সময় থেকেই নিয়মিত দেখতাম। আর রাত ১০ টার পরে আমার টিভি দেখা নিষিদ্ধ থাকলেও কেন জানি এটা দেখার অনুমতি পেয়ে গিয়েছিলাম। এক্স ফাইলস মুভিটা দেখার সময় সে সমইয়ের কথাগুলো মনে পড়ে যাচ্ছিল। তবে মুভিতে স্ক্যালির বয়সটা মনে হয় একটু বেশিই বাড়িয়ে দিয়েছে, মেক আপ দিয়ে আরেকটু ঘসা মাজা করলেই পারতো।

নেক দিন আগে ফেসবুকের কোন এক লিঙ্ক থেকে খোঁজ পেয়েছিলাম ‘একাত্তরের দিনগুলি’ অবলম্বনে সিনেমা নির্মিত হচ্ছে,‘দীপ নেভার আগে’। তখন থেকেই অপেক্ষায় আছি। কবে নাগাদ মুক্তি পাবে কোন ধারনা নেই, তবে ইতিমধ্যে মনে হয় মিউজিক রিলিজ হয়েছে, গান গুলো দারুন লেগেছে। আশা করি মুভিটাও ভাল হবে। মুভির OST টা শেয়ার করলাম…

শুভেচ্ছা।

২,১৭৩ বার দেখা হয়েছে

৩৪ টি মন্তব্য : “সাপ্তাহিক ২.৩”

  1. কিবরিয়া (২০০৩-২০০৯)

    তিন গোয়েন্দার জন্য আগে পাগল ছিলাম, পরে "মাহাকাশে কিশোর" (২০০২ সালে মনে হয়) থেকে তিন গোয়েন্দা পড়া ছেড়ে দিছি, কারন অই সময়ের পর থেকে রকিব হাসানের সাথে সেবার কি জানি একটা গোলমালে রকিব হাসান তিন গোয়েন্দা লেখা ছাইড়্যা দিছে। রকিব হাসানের জায়গায় "শামসুদ্দীন নাওয়াব" তিন গোয়েন্দা লেখত। শামসুদ্দীন নাওয়াব মোটামুটি/ভালো লেখত কিন্ত আমাকে আর টানত না।
    দীপ নেভার আগে দেখার প্রতীক্ষায়...
    ধন্যবাদ আহসান ভাই শেয়ার করার জন্য (ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠাইছি, নাম স্বপ্ন বালক, এক্সসেপ্ট কইরেন)


    যেমন রক্তের মধ্যে জন্ম নেয় সোনালি অসুখ-তারপর ফুটে ওঠে ত্বকে মাংসে বীভৎস ক্ষরতা।
    জাতির শরীরে আজ তেম্নি দ্যাখো দুরারোগ্য ব্যাধি - ধর্মান্ধ পিশাচ আর পরকাল ব্যবসায়ি রূপে
    - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      তিন গোয়েন্দা রকিব হাসান থাকতেই নষ্ঠ হয়েছে, পিচাশ/হরর এসব নিয়ে আসার পর থেকেই। তবে এখনো প্রথম দিকের বইগুলোর ভাললাগা রয়ে গিয়েছে।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    অনেক নস্টালজিক করে দিলে সত্যি। তিন গোয়েন্দা, ফুটবল, একাত্তরের দিনগুলি.....
    আর গানটাও দারুণ, ওটা শুনতে শুনতে লিখছি।

    ফ্যান্টাসী ফুটবলটা খালি বুঝিনা, ফলো করিনা।
    অনেক ধন্যবাদ।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।