রাতলিপি ১

ঠাৎ করেই রাতজাগার সুযোগ পাওয়া গেছে। মানে সূয্যি মামা ওঠার আগে উঠবো আমি জেগের জীবন থেকে নিস্তার পেয়েছি কিছুদিনের জন্য, একটু বেলা করে ঘুম থেকে ওঠা যায়। সে কারনে আমি মনের ইচ্ছা মত রাত জেগে যাচ্ছি। ভাবলাম এই সুযোগে একটু ব্লগর ব্লগর করা যাক।

রাত জাগার অভ্যাস আমার শুরু হয়েছিল যে বছর ক্যাডেট কলেজে চান্স পেলাম তখন থেকে, রেজাল্টের পরে কলেজে যাবার করার আগের সময়টাতে। তখনই প্রথম বাসায় নির্ভয়ে গল্পের বই পড়ার সুযোগ পেলাম। কিন্তু প্রায় সারাদিনই বাইরে ঘুরে বেড়ানোর কারনে বই পড়ার সময় তেমন একটা পাচ্ছিলাম না। সন্ধ্যার পরে বই পড়া শুরু করতাম, আস্তে আস্তে সেটা গভীর রাত পর্যন্ত যাওয়া শুরু করল। সেই থেকে আমার রাত জাগার শুরু। সঙ্গী হিসেবে গল্পের বই থেকে শুরু করে রেডিও, টিভি, মুভি, ইন্টারনেট, কলেজে আড্ডাবাজি, রুম ক্রিকেট আর এই মুহুর্তে ব্লগিং সহ আরো অনেক কিছুই ছিল, সেগুলো নিয়ে না হয় আরেকদিন ব্লগানো যাবে।

ই মুহুর্তে মনে হয় জব্বার কাগু বাংলা অনলাইন জগতে সবচেয়ে আলোচিত নাম। জনকন্ঠের রিপোর্টটা পড়ে ওনার সাথে একটু সরাসরি বাতচিত করার সাধ জাগল, ওনার ফেসবুক একাউন্টে গিয়ে দেখলাম জায়গা ফাঁকা নেই, তবে ওনার ২য় একাউন্টের খবর পেলাম, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে এড ও করে নিল। সেখানে গিয়ে দেখি আগেই একজন তার উপর ছোট খাটো হামলা করেছে, আমিও তাতে সামিল হলাম। সারাদিন ধরেই কমেন্ট পালটা কমেন্ট চললো, ভালই জমেছিল। লাঞ্চের জন্য একটু ব্রেক নিয়ে পরে আবার এসে দেখি আমি ঐ প্রোফাইল ই খুঁজে পাচ্ছি না, বুঝলাম আমাকে ব্লক করে দিয়েছে। তখন খালি একটাই আফসোস হচ্ছিল, কেন যে স্ক্রীন শট নিয়ে রাখলাম না।

থচ এই লোকটাকে নিয়ে আমার ধারনা ভালই ছিল। দেখতাম টিভিতে কম্পিউটার বিষয়ে জ্ঞান দেয়, কাট, কপি, পেস্ট ইত্যাদি টাইপ। এইচএসসিতে কম্পিউটারকে ৪র্থ বিষয় হিসেবে নেয়ার উছিলাতে বাসায় একটা পিসির আবেদন জানিয়ে সফলতা পেলাম। তবে আশেপাশের মুরুব্বী মহল আব্বুকে পরামর্শ দিল ছেলেকে কম্পিউটার কিনে দিচ্ছ ভাল কথা কিন্তু সেটায় যাতে কোন সিডি ড্রাইভ না থাকে, এটা থাকলে নাকি পোলায় শুধু গেমস খেলবে আর সুযোগ পেলে ঐ সব দেখবে। বলাই বাহুল্য আব্বুর এই উপদেশ খুবই মনঃপুত হলো, আমার কোন ধরনের প্রতিবাদই ধোপে টিকলো না। সিডি ড্রাইভ ছাড়া কম্পিউটার চালানো যাবে না, এই ধরনের একটা জ্ঞান দেবার চেষ্টা করলে আব্বু বললো জনাব মোস্তফা জব্বার সাহেবের সাথে তার পরিচয় রয়েছে, তিনি নিজেই নাকি এইচএসসি পর্যায়ের বইও লিখেছেন এবং সে নিশ্চিত করেছে যে সিডি ড্রাইভের কোন প্রয়োজনই নাই।

যাই হোক নির্দিষ্ট দিনে আমি আব্বুর সাথে আনন্দ কম্পিউটার্স এ গেলাম, সিডি ড্রাইভ না পাবার কষ্ট ভুলে আপাতত কম্পিউটার পাচ্ছি এই খুশিতেই বিভোর ছিলাম। গিয়ে দেখলাম ইতিমধ্যে পিসি রেডি করে রাখা আছে এবং সেটা সিডিরম ছাড়া। বিরষ বদনে যখন সব কিছু বুঝে নিচ্ছিলাম তখন হঠাৎ করেই জব্বার কাগু আব্বুর উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন, সিডিরমটা দিয়েই দেই, নতুন কোন সফটওয়্যার লোড করতে হলে তো সিডি রম লাগবে। শুনে আমি তো খুশীতে পারলে পোলভোল্ট দেই। আব্বুও এই বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞের মতামত ফেলতে পারলোনা। তখন মনে মনে জব্বার সাহেবের কাছে চির কৃতজ্ঞ টাইপ হয়ে গেলাম। সেই থেকে ওনারে আমি একটু ভাল চোখেই দেখতাম, যদিও বুঝতে পেরে ছিলাম এটা উনি কয়েক টাকা বেশি লাভের জন্যই করেছে। কিন্তু কাগুর ইদানিং কালের আস্ফালন দেখে আর সহ্য হচ্ছে না। বিশেষ করে ফেসবুকে সরাসরি দেখতে পেলাম যে সে কতটা নির্লজ্জ, তার আয় রোজগার বন্ধ হবার উপক্রম হচ্ছে দেখে কতটা ডেসপারেট।

নেক ফালতু প্যাচাল পাড়লাম। এবার এই বিরক্তি কাটানোর জন্য একটা মেডিসিন। এই সাইট পেয়েছি একটা বাংলা ফোরামে, জব্বার কাগুর ওয়েব সাইটের সাথে তুলনা করতে গিয়ে কেউ একজন বিশিষ্ট পোয়েট সাহাবুদ্দিনের এই ওয়েব সাইটর কথা উল্লেখ করেছেন। একবার ক্লীক করেই দেখুন, নিশ্চিত বিনোদন, বিফলে মূল্য ফেরত।

শুভেচ্ছা।

১,৪১৯ বার দেখা হয়েছে

২০ টি মন্তব্য : “রাতলিপি ১”

  1. রাশেদ (৯৯-০৫)

    এখন কি প্রতি সপ্তাহের জায়গায় প্রতি রাতে ব্লগাবেন 😀

    কাগু বেচারা বুঝে নাই সে নিজের কেমন ক্ষতি ডেকে আনছে 😛 খোমাখাতায় বিভিন্ন লিংক শেয়ার দেওয়ার পর কয়েকজন বন্ধু বান্ধব অভ্র সম্পর্কে খোজ নিয়েছে। বাংলা এত সহজে লেখা যায় দেখে ব্যাটারা এখন অভ্রের অনুসারী। এইভাবে প্রত্যেকের খোমাখাতা থেকে যদি দুই তিন জন নতুন ব্যবহারকারী বের হয় তাইলে সংখ্যাটা অনেক, অন্তত প্রতিপক্ষের প্রচারণার জন্য এইরকম বোকামী করা শুধু মাত্র মহান কাগুর পক্ষেই সম্ভব :))


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।