ফুটবল লিজেন্ড: এক স্বল্পভাষী ফুটবল জাদুকরের কথা

১৯৫৩ সালের কথা। একটু ভালোভাবে বাঁচার আশায় উত্তর আলজেরিয়ার এক প্রত্যন্ত প্রদেশ থেকে ইসমাইল ও তার স্ত্রী মালিকা পাড়ি জমালেন ফ্রান্সের মার্সেইয়ে। ঠাঁই নিলেন দক্ষিণ ফ্রান্সের এক ছোট বন্দর নগরীতে। যার নাম লা ক্যাসেলেইন। একে একে চারটি সন্তান জন্ম নেয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৩ জুন তাদের পঞ্চম সন্তান জন্ম নেবার সময় ঘনিয়ে এলো। অভাবের সংসারে আরো একটি নতুন মুখের আবির্ভাব। কেউ তখনো টেরও পেলোনা সামান্য মুদি দোকানের রক্ষক ইসমাইল এর বাড়িতে এইমাত্র নতুন এক ফুটবল নক্ষত্রের জন্ম হলো।

ঠিক সময়ে টের পাননি আলজেরিয়ার জাতীয় দলের ফুটবল কোচও। কথিত আছে মার্সেইয়ের অপরাধ পল্লীতে জন্ম নেয়া সেই ফুটবলার সম্পর্কে আলজেরিয়ার ফুটবল কোচ একসময় বলেছিলেন – ” ওকে দলে নিয়ে কি হবে। মিডফিল্ডে ও তেমন চটপটে নয়।” দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবাদে তার আলজেরিয়ার হয়ে খেলারও সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষমেষ সত্যিই আলজেরিয়ান জাতীয় ফুটবল দলে জায়গা হয়নি তার। সময়ের সাথে সাথে তিনি অবশ্য প্রমাণ করেছেন তার মাপের ফুটবলার ধারণ করার মত দল আলজেরিয়ান ফুটবল টীম কখনোই ছিলোনা।

সেই একই ফুটবলার যখন নিজের সময়ের শ্রেষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে খ্যাতি পেয়ে গেছেন তখন তার সতীর্থ বিজেন্তে লিজারাজু তার সম্পর্কে সশ্রদ্ধ কন্ঠে বলেছিলেন – “আমরা মাঠে যখন কি করবো ভেবে পাইনা তখন ওকে বল পাস করে দেই। সে ঠিকই তখন কোন না কোন কিছু করে ফেলে। ”

যাদের চেনার কথা তারা ইতোমধ্যেই চিনে গেছেন। যাকে নিয়ে এতক্ষন এত কিছু বলা তিনি জিনেদিন ইয়াজিদ জিদান। গোটা ফুটবল বিশ্ব যাকে আদর করে ডাকে “জিজু” বলে।

জিনেদিন জিদান

কথায় বলে নক্ষত্রের জন্মই হয় একসময় ধীরে ধীরে নি:শেষ হয়ে যাবার জন্য। কথাটা বোধহয় পৃথিবীর বুকে নেমে আসা নক্ষত্রদের জন্য সবসময় প্রযোজ্য নয়। কে জানতো, মার্সেইয়ের সেই নিতান্তই দরিদ্র ঘরে জন্ম নেয়া শিশুটি তার সময়ের পুরোটুকু জুড়ে ফুটবল দুনিয়াকে আবিষ্ট করে রাখবেন মোহময় ফুটবল জাদুতে।

বড়বেলার ফুটবল জাদুকর জিদানের ছোট বেলা কেটেছে চরম অভাব অনটন আর দারিদ্রের মধ্য দিয়ে। শৈশবে বেড়ে উঠেছেন এমন একটি শহরের আলো বাতাস গায়ে মেখে যেখানে বেকারত্ব এবং আত্নহত্যার হার ছিলো আশংকাজনক ভাবে বেশি। তাই গড়পড়তার আর সব মানুষের চে জীবনকে সময়ের চে একটু বেশিই আগে চেনা হয়ে গিয়েছিল তার। পরবর্তীতে অবশ্য জিদান নিজেও বলেছেন তার শৈশবের এই সংগ্রামমুখর জীবন তাকে পরবর্তীতে ফুটবলার জিদান হিসেবে গড়ে উঠতে অনেক বেশি সাহায্য করেছে।

ফুটবল জীবনের শুরু হয়েছিল মাত্র তেরো বছর বয়সে। নাম লেখান কান ক্লাব এর জুনিয়র লেভেলের ফুটবল টীমে। ১৪বছর বয়সী জিদান বল বয় হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয়ান কাপের ফ্রান্স – পর্তুগাল ম্যাচে যেটি মার্সেইয়ের স্টেডিয়াম স্টাড ডি ভেলোড্রোমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৭বছর বয়সেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে কান ক্লাবের মূল দলে জায়গা হয়ে যায় তার। প্রথম গোলটি করলেন উনিশ বছর বয়সে, ৮ফেব্রুয়ারী,১৯৯১ সালে। জিদানে মুগ্ধ ক্লাব প্রেসিডেন্ট অনেক আগে দেয়া তার কথা রাখলেন, জিদানকে তিনি উপহার স্বরুপ একটি লাল গাড়ি উপহার দিলেন। ১৯ বছর বয়সী একজন ফুটবলার, যার স্বপ্ন আর জাগরণের পুরোটা সময় জুড়ে শুধু ফুটবল আর ফুটবলের আনাগোণা, এরকম একটি উপহার নি:সন্দেহে তাকে অনেক উৎসাহ জুগিয়েছিল। ঐ একই বছরে তার ক্লাব উয়েফা লিগ এর বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হলো। বছরটি তার জন্য স্মরনীয় হয়ে রইলো চিরদিনের জন্য। কান এ জিদানের দ্বিতীয় সেসন ততোটা আশাপ্রদ ছিলোনা। কিন্তু খেলোয়াড়ি জীবনের বাইরে এ সময়েই তার জীবন সঙ্গিনী স্প্যানিশ নৃত্যশিল্পী ভেরোনিকার সাথে জিদানের প্রথম দেখা হয়।

নব্বইয়ের শুরুতেই তার জায়গা হলো ফ্রান্সের ক্লাব বোরডক্সে। পরবর্তী চার বছর থেকে গেলেন সেখানেই। সেখানে খেলতে খেলতেই চোখে পড়ে গেলেন ইতালীর অভিজাত ক্লাব জুভেন্টাসের । জুভেন্টাসে এসে প্রথম পরিচয় ঘটলো বিজেন্তে লিজারাজু আর ক্রিস্টোফার ডুগারির সাথে। পরবর্তীতে এই ত্রয়ী মিলেই ১৯৯৮ সালে ইতিহাস গড়েছিলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।
জুভেন্টাস থেকে ২০০১ এ পাড়ি জমালেন স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদে। ক্লাব রদবদলের এই যাত্রায় তার দাম উঠলো ৭০.৫ মিলিয়ন ডলার। চমকে গেল পুরো বিশ্ব। এত টাকার লেনাদেনা ফুটবল বিশ্ব আগে যে কখনো দেখেনি। নিন্দুকেরা নাক সিঁটকালেন। এত টাকা অপচয়ের কোন মানে হয়না। অবশ্য মানে বুঝাতে জিনেদিন জিদান খুব বেশি সময় নিলেন না। রিয়েল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে নিজেকে উত্তরোত্তর প্রমাণ করেই যেতে লাগলেন, তিনি মোটেও সস্তা খেলোয়াড় নন।

ক্লাব অঙ্গনের এই দামী খেলোয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজের জাত চিনিয়েছেন একেবারে অভিষেক ম্যাচ থেকেই। চেক রিপাবলিক আর ফ্রান্সের মধ্যকার সেই প্রীতি ম্যাচে ৬৬ মিনিটের মাথায় পরিবর্তিত খেলোয়ার হিসেবে মাঠে নামলেন জিদান। নিজের দল তখন ২-০ তে পিছিয়ে পড়ে কোনঠাসা। জিদান নামলেন এবং দুই গোল করে বসলেন। খেলাটি শেষমেষ ড্র হলো ২-২ তে। লোকে বলাবলি করতে শুরু করলো মিশেল প্লাতিনি বহুদিন আগে নিজের বুটজোড়া তুলে রাখার পর থেকে ফ্রান্স এমন একজন খেলোয়াড়ই খুঁজছিলো, জিদানই প্লাতিনির পর ফ্রান্সের নতুন ” মিডফিল্ড জেনারেল “।

লোকের কথা শেষমেষ ভুল প্রমাণিত হয়নি। কিংবা বলা চলে জিদান তা হতে দেননি। ক্লাবের পাশাপাশি তাই ফ্রান্সের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জ্বলে উঠেছেন সমান ঔজ্বল্যে। কিন্তু তারপরও ৯৮ এর বিশ্বকাপের শুরুতে এরিক ক্যান্টোনার নিষেধাজ্ঞার জন্য কোচ আইমে জ্যাক যখন সিদ্ধান্ত নিলেন প্লে মেকার হিসেবে তিনি জিদানকে খেলাবেন সাথে সাথেই নানা মহল থেকে উঠলো তীব্র সমালোচনার ঝড়। এসব সমালোচনা মাথায় নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে নামলেন জিদান। সমালোচকদের মুখ বন্ধ হতে দেরি লাগলোনা অবশ্য। ফ্রান্স সেবার ফাইনালে উঠে গেল দেখতে দেখতে। মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে নেতৃত্বে রইলেন সেই “মিডফিল্ড জেনারেল”।

১৯৯৮ সালের ১৯ জুলাই “স্টাডে ডি ফ্রান্স” এর সবুজ ঘাসের উপর দাঁড়িয়ে জিদান যখন আপন মনে আওড়ে যাচ্ছেন জাতীয় সংগীত, পুরো বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ তখনো ভাবছে বিশ্বকাপ এবার ব্রাজিলেরই হবে। ক্যামেরার চোখ ঘুরতে ঘুরতে সেটি যখন জিদানের ওপর পড়লো ফুটবল ভাষ্যকার তখন ঘোষণা করলেন – ” If France has any hope tonight ,this man is it” ভাষ্যকারের কথা ফলে গেল অক্ষরে অক্ষরে। জিদানের মাথার কাছে ব্রাজিলের ১১ জোড়া পায়ের কারুকার্য হার মানতে বাধ্য হলো। জিদানের হেড থেকে আসলো দুই গোল, খেলার শেষের দিকে ইমানুয়েল পেটিট তৃতীয় গোলটি করে নিশ্চিত করলেন, ব্রাজিল এই পরাজয়ের দু:খ সহজে ভুলতে যাচ্ছেনা। ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতলো, জিদান ঢুকে গেলেন ইতিহাসের পাতায়।

তার দুই বছর পর ফ্রান্সের ঘরে এবার উঠলো ইউরোপ জয়ের ট্রফি। সেই সাথে ফ্রান্স অর্জন করলো একই সাথে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ইউরো চ্যাম্পিয়ন হবার বিরল গৌরব। শেষবার এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছিল পশ্চিম জার্মানী, তাও আবার সেই ১৯৭৪ সালে। ফ্রান্সের এই অসাধারণ অর্জনের পেছনে আবারও অবদান রাখলেন সেই টেকো মাথার চুপচাপ মানুষটি। শুধু ফুটবল মাঠে নামলেই কেবল অদম্য হয়ে ওঠেন। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে নিলেন এক অসাধারণ ফ্রি কিক, আর সেমিফাইনালে গোল্ডেন গোল করে দলকে ওঠালেন ফাইনালে।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নের খেতাব জোটার সুবাধে ২০০২ বিশ্বকাপে হট ফেবারিট হিসেবে অংশ নিলো ফ্রান্স। কিন্তু উরুর ইনজুরিতে পড়ে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারলেন না জিদান। ফ্রান্সও থাকলো গোলশূণ্য। পরের ম্যাচে ইনজুরি স্বত্বেও দেশের কথা ভেবে মাঠে নেমে গেলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারলেন না। গত কয়েক বছরের দাপুটে দলটি মাথা নিচু করে বিদায় নিলো প্রথম রাউন্ড থেকেই। আবারও প্রমাণিত হলো, জিদান ছাড়া ফ্রান্স দল সত্যিই অসম্পূর্ণ।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার ভূত এরপর পিছু ছাড়লোনা ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপেও। কিন্তু শুরুর ম্যাচে ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করলো জিদানের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স। ফ্রান্স যখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে ০-১ গোলে পিছিয়ে জিদান গোল করলেন হেরে যাওয়ার একেবারে শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে। ৯১ আর ৯৩ মিনিটের মাথায় করা তার দুটো গোল পাল্টে দিলো খেলার গতিপথ। ফ্রান্স জিতলো ২-১ গোলে। কিন্তু শেষমেষ কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রীসের সাথে হেরে গিয়ে বিদায় নিলো ফ্রান্স। জিদানও ভাবলেন, আর নয়। এবার বুট জোড়া তুলে রাখার সময়। ঘোষণা দিলেন তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন।

জিদানের পাশাপাশি একই সময়ে অবসর নিয়ে নিলেন ফ্রান্সের আরো বেশ কয়েক জন সিনিয়র প্লেয়ার। ২০০৬ বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব থেকে ফ্রান্স তাই উঠলো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। দলের এহেন অবস্থায় কোচ রেমন্ড ডোমিনিখ জিদানের কাছে অনুরোধ করলেন আবার ফিরে আসার। দেশের ডাক জিদান ফেলতে পারলেন না। অবসর ভেঙে এসে হাল ধরলেন দলের, তার অধিনায়কত্বে মাঠে নামলো ফ্রান্স। এবারের বিশ্বকাপে জিদানের শুরুটা হলো বেশ ঢিমেতালে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে সাসপেনশনের খড়গেও পড়লেন। কিন্তু ফিরতি ম্যাচেই আবার সেই পুরনো জিদান, স্পেনের বিপক্ষে নিজে গোল করলেন, প্যাট্রিক ভিয়েরাকে দিয়ে আরেকটি করালেনও। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স এবার মুখোমুখি হলো সেই ব্রাজিলের, ৯৮ এ যাদের স্বপ্ন নিজের হাতে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছিলেন জিদান। ব্রাজিলের জন্য পুরনো সেই দু:স্বপ্ন এ ম্যাচেও আবার ফিরিয়ে আনলেন জিজু। সারা বিশ্ব বিমুগ্ধ নয়নে প্রত্যক্ষ করলো চরম উৎকর্ষময় ফুটবলের প্রদর্শনী। নাম ভূমিকায় সেই চিরচেনা জিজু। সেই নেশা ধরানো ড্রিবলিং, হঠাৎ নেয়া পায়ের মোচড়ে ডিফেন্ডারদের ছিটকে ফেলা, ডিফেন্স চেরা নিঁখুত পাস – জিদান যেন তার তূণের সব অস্ত্রের প্রদর্শনীতে নামলেন এদিন। নিজে খেললেন, দলকে খেলালেন, কোটি কোটি দর্শকের পাশাপাশি ব্রাজিল ফুটবল দলও যেন তার মায়াবী ফুটবলের দর্শক বনে গেলো। পুরো সময় জুড়ে তেমন কোন আক্রমণই গড়ে উঠলোনা ফ্রান্সের সীমানায়। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী গোলটিতেও রাখলেন প্রত্যক্ষ অবদান, তার বাড়ানো ক্রসে পা বাড়িয়ে বাকি কাজটুকু সারলেন থিয়ের অঁরি। জিদান জানালেন – তিনি হয়তো বুড়িয়ে গেছেন, কিন্তু ফুরিয়ে যাননি। সেমিফাইনালে ফ্রান্স মুখোমুখি হলো পর্তুগালের। জিদানের নেয়া পেনাল্টি আবারও ফ্রান্সের ফাইনালে ওটা নিশ্চিত করলো।

ফাইনালের আগেই জিদানের গোল্ডেন বল পাওয়া নিশ্চিত হয়ে গেল। জিদানের সামনে এরপর শুধু ইতিহাস তৈরির হাতছানি। ইতালিকে হারাতে পারলেই দুবার বিশ্বকাপ জয়ের অভূতপূর্ব সম্মাননা। ফুটবলামোদী সবাই অপেক্ষায় রইলো জীবনের শেষ ম্যাচে শেষবারের মত জিদানের জাদুর ঝলক দেখার আশায়। ফ্রান্সের মানুষও টিভির সামনে খেলা দেখতে বসলো অপরিসীম বিশ্বাস আর ভালোবাসা সংগে নিয়ে – তাদের প্রিয় জিজু ঠিকই তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপটি পাইয়ে দেবেন। খেলা শুরুর সাত মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে জিদান সেই বিশ্বাসের আগুন আরেকটু উসকে দিলেন। সেই সাথে ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে অর্জন করে ফেললেন দুই বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার বিরল গৌরব । কিন্তু শেষ বেলায় এসে ইতালির ডিফেন্ডার মাতারাজ্জিকে ঢুঁ মেরে লাল কার্ড খেয়ে বসলেন জিদান। পুরো সময়ের খেলা শেষে ড্র থাকা ম্যাচে শেষমেষ ফ্রান্স ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে গেল ৫-৩ এ। লালকার্ড খাওয়ার জন্য পেনাল্টি শুটআউটে অংশ নিতে পারেননি জিদান। ফুটবলের এই মহানায়কের শেষ অধ্যায়টুকু বৈচিত্রময় হলো, কিন্তু সুখকর হলোনা। রেমন্ড ডমিনিখ ম্যাচ শেষে বললেন – জিদান লাল কার্ড না খেলে এই ম্যাচ টাইব্রেকার পর্যন্ত গড়াতোনা। বিশ্বকাপটা ফ্রান্সের ঘরেই উঠতো।

এই বিশ্বাস শুধু রেমন্ড ডমিনিখের না, ছিলো আরো কোটি কোটি দর্শকের।

শেষ বেলার এই অনাকাংঙ্ক্ষিত উপাখ্যান জিদানের ক্যারিয়ারে কালিমা লেপন করেছে ঠিকই। কিন্তু ফুটবলপ্রেমি মানুষ তিন তিনবার ফিফার “প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার” সম্মানে ভূষিত হওয়া এই ফুটবলারটিকে স্মরণ করবে তার চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং আর অতিমানবীয় ফুটবল ক্যারিশমার মধ্য দিয়ে।

জিদান সেইসব নক্ষত্রের একজন, যারা কখনোই নিভে যায়না।

২,২২৭ বার দেখা হয়েছে

২০ টি মন্তব্য : “ফুটবল লিজেন্ড: এক স্বল্পভাষী ফুটবল জাদুকরের কথা”

  1. রকিব (০১-০৭)

    এই লোকটারে নিয়ে বলার কিছু নাই। পায়ে বল আসলেই টাক মাথার এই সাধাসিধে লোকটা অসাধারণ জাদু দেখায়। ২০০৬ এর বিশ্বকাপের দলে ফিরে আসার পর অরির দেয়া ডায়লগটা এখনো কানে বাজেঃ
    ফরাসীরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এবং তারা এটাও বিশ্বাস করে ঈশ্বর অবশেষে ফ্রেঞ্চ জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেছেন।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. তানভীর (৯৪-০০)

    আহা! জিদান! ৯৮-তে এই মানুষটার কাছে ব্রাজিল হেরে যাওয়ায় অনেক কষ্ট পেলেও তার উপর রাগ করতে পারিনি।
    জাদু্করেরা এমনই হয়ে থাকেন!

    লেখাটা চমৎকার জিহাদ। :thumbup:

    জবাব দিন
  3. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    ইশ ! আমি জিজুকে নিয়ে লেখার কথা চিন্তা করেছি কাল।কেউ লিখে ফেলেছে কিনা আশঙ্কা প্রকাশ করে চেক করতে গিয়ে দেখি ধরা। :bash:
    তবে জিহাদ যখন লিখেই ফেলেছ তাই আর আমার মত ফাঁকিবাজ বেঁচে গেল।আর আমি তোমার মত লিখতে পারতামনা।আবারো জিজুর পায়ের স্কিল দেখে মাতাল হইলাম। :salute: :salute:
    ৫ তারা দাগাইলাম। :hatsoff:

    জবাব দিন
  4. সাব্বির (৯৫-০১)

    ৯৮ এ আর্জেনটিনা বাদ পরার পর ফ্রান্স এর পক্ষ নিছিলাম এই জিদান এর কারিশ্মায় মুগ্ধ হয়ে। তারপর ব্রা জিল রে হারানোর পর রাস্তায় মিছিল করেছিলাম ভোর রাতের দিকে। কলেজ তখন ছুটি ছিল। আমার এক বন্ধুর বাসায় আমরা সব বন্ধুরা মিলে খেলা দেখেছিলাম। :dreamy: :dreamy:

    জবাব দিন
  5. আন্দালিব (৯৬-০২)

    এই লোকটারে আমি যে কতো ভালা পাই! যেই ব্রাজিলকে চুরানব্বুইয়ে ইতালি হারাইতে পারে নাই, সেই থেকে আমি ব্রাজিলের বিপরীতে। আটানব্বুইয়ে যখন ইতালি বাদ পড়ছিলো (এই ফ্রান্সের কাছেই), তারপর দেখি ফাইনালে ফ্রান্স আর ব্রাজিল। খেলা দেখতে বসছিলাম মোটামুটি নিরপেক্ষ হয়ে, তারপরে যে জাদু দেখলাম জিদানের, তারপরে আর বলার অপেক্ষা রাখে না কেমন খুশি হইছিলাম! 😀

    এমনকি গত বিশ্বকাপে ফাইনালেও আমি ডরে ডরে ছিলাম আবারও জিদানের ক্যারিশমা দেখবো বলে। এবং এটাও আমি বিশ্বাস করি যে মাতেরাজ্জির করা জঘন্য কাজটা না ঘটলে হয়তো ফ্রান্সই জিততো।

    জয়তু জিদান!

    লেখাটা খুব ভালো হইছে জিহাদ!

    জবাব দিন
  6. রাশেদ (৯৯-০৫)

    যদিও ব্রাজিলের সমর্থক তবুও ২০০৬এর কোয়ার্টার ফাইনালে জিদানের খেলা দেখার পর হাত তালি না দিয়ে উপায় ছিল না 🙂
    লেখাটা ভাল হইছে জিহাদ মিয়া :clap:


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন
  7. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    ব্রাজিলের সমর্থক হবার কারনে জিজুকে পছন্দ করতাম না...তবে ও রিয়ালে যাবার পর রীতিমত ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম...চ্যাম্পিয়ন্‌স লীগের সেই গোলটা এখনো চোখে ভাসে...রবার্তো কার্লোসের উঁচু করে তুলে দেয়া বলে ভলি করে দেয়া গোলটা তো চ্যাম্পিয়ন্‌স লীগের সেরা গোলের একটি... :dreamy:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  8. মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)

    ২৫ জুন দক্ষিন ফ্রান্স যাচ্ছি , গন্তব্য টুলোন, পথে মার্সেই না নেমে কি পারি ? জিদানের নাম জানার সাথে সাথেই যে মার্সেই নামটাও জানা হয়ে গিয়েছিল।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।