পবিত্রভূমি-প্রলয় এবং পৃথিবী

১৯১৭ সাল: ব্রিটিশ সেনাবাহিনী অটোম্যান সাম্রাজ্য থেকে আরব জনগণ অধিকৃত একটি জায়গা দখল করে। স্বাক্ষরিত হয় ব্যালফোরচুক্তি। ইউরোপ থেকে ইহুদীদের সরিয়ে নেয়া হয় এই জায়গাটিতে যেখানে অল্প সংখ্যকইহুদী অধিবাসীর আগে থেকেই বাস ( খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০) ।

১৯৪৭ সাল: জাতিসংঘ প্রস্তাব দেয় দুইটি পৃথকরাষ্ট্রের যার একটি হবে স্বাধীন ইহুদী রাষ্ট্র- ইসরায়েল, অন্যটি- ফিলিস্তিন। কিন্তু সেটি কখনও হয়নি।

১৯৪৮ সাল: আরব এবং ইহুদীদের মাঝে শুরু হয় যুদ্ধআর ব্রিটিশরা এই অঞ্চল পরিত্যাগ করে আর জন্ম হয় ইসরায়েল এর। ৭০০,০০০ এরও বেশী ফিলিস্তিনি পরিণত হয় উদ্বাস্তুতে, যা ফিলিস্তিনিদের কাছে পরিচিত- “নাকবা” বা“প্রলয়” হিসেবে। ক্রমেই একসময়ের স্বাধীন রাষ্ট্রে জীবাণুর মত বিস্তার করে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনিদের গাজার পশ্চিম তীরে হটতে বাধ্য করে।

১৯৬৭ সাল: ইসরায়েল দ্বারা ৪০০ এর মত ফিলিস্তিনিগ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস করা হয় ৩০০,০০০ এরও বেশী ফিলিস্তিনি, ইসরায়েল অধিকৃত ভূমি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী আরব দেশ গুলোতে সরে যেতে বাধ্য হয়।

প্রশ্ন জাগতেই পারে- বিশ্বযুদ্ধে উদ্বাস্তু ইহুদীরা কি করে একটি দেশে আশ্রয় নিয়ে তা পুরোটাই দখল করে ফেলতে পারে??
উত্তর- অবশ্যই বৈদেশিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য। আর এই সাহায্যের পরিমাণ? সর্বমোট ১২১,০০০,০০০,০০০ (বিলিয়ন) মার্কিন ডলার এবং যা শুধু বাড়ছেই।
প্রশ্ন- এই সাহায্যের সিংহভাগ কারা ব্যবহার করে?
উত্তর- ইসরায়েল সেনবাহিনী।
কারণ?- ইসরায়েলের নিরাপত্তা। পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘর্ষ বন্ধ করা। (জন ক্যারী, রাষ্ট্র সচিব- যুক্তরাষ্ট্র)
প্রতিবছর ইসরায়েলকে দেয়া সাহায্যের পরিমাণ- ৩,০০০,০০০,০০০ (বিলিয়ন) মার্কিন ডলার । যার পুরোটাই আমেরিকান জনগণের রক্ত শুষে নেয়া কর থেকে আসে। শুধুমাত্র ২০১৪ সালেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুগ্ন সামরিক ব্যায়ের পরিমাণ ৫০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার । আর শুধুমাত্র মিসাইল প্রতিরোধক “Iron dome” এর পিছনেই বাজেট ৭২০মিলিয়ন মার্কিন ডলার! শুধু তাই নয় ইসরায়েল বিশ্বে ৮ম অস্ত্র রপ্তানীকারক দেশ এবং এর প্রধান ক্রেতা? তা আর না বললেও হয়।
এবার আসা যাক একটি ইসলামিক রাষ্ট্রের কথায়-
শুধু মাত্র সংযম ও সাধণার মাসের প্রথম তিন দিনে ৫০০০ টন খাধ্য অপচয় হয়েছে যারমধ্যে ২৮,০০০ ভেড়ার মৃতদেহ ধরা হয়নি।
দেশটির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে বিশ্বে খাদ্য অপচয়ের তালিকায় প্রথম এই দেশটি। শুধুমাত্র রমজান মাসেই মোট প্রস্তুতকৃত খাদ্যের ৩০% ফেলা দেয়া হয়। যারমূল্য ৩২০,০০০ মার্কিন ডলার।
দেশটি তেল রপ্তানীতে বিশ্বে প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের মাথা এই দেশটি সর্বদাই যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া সিদ্ধান্তে চুপ এবং শুধু এই দেশটিই নয়, বিশ্বের প্রধান তেল রপ্তানীকারক আরব “মুসলিম” দেশ গুলোর প্রতিটিই চুপ।
সর্বশেষ তথ্য- শুধুমাত্র শেষ মাসেই মৃতদেহ ১০০০ ছাড়িয়েছে তুলব এবং বাড়তেই থাকবে।

১,০২২ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “পবিত্রভূমি-প্রলয় এবং পৃথিবী”

  1. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    বিশ্ব রাজনীতিরে ভাই এইগুলা জাহাজের খবর। আমরা আদার ব্যাপারী এইসব মাথার উপর দিয়া যাবে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আমাদের মরুভূমির ভাই বেরাদাররাই চায় নাই আর বাকিদের কথা কইয়া কি ফায়দা।

    ভুল কইলাম কিনা কেউ একটু ইতিহাস চেক মারেন তো। ইদানিং মন্ত্রী মিনিস্টারের মত দেইড়া কথা কইয়া ফাপরে পড়তাসি।

    তয় বিলাই জাতিসঙ্ঘ দেখলাম সিকিউরিটি কাউন্সিলে গর্জন করতেসে। তারপরেও একটা রেজ্যুলুশান পাস করতে পারে নাই। কি পরিমান আকাইম্যা। হাহাহাহাহাহা।


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
    • সিয়াম (০৬-১২)

      জাতিসংঘের কথা বইলা কি লাভ ভাই, আমেরিকান জিনিস।
      এখনকার ইউক্রেন পরিস্থিতিতে আমেরিকান আর ইউরোপিয়ান মিডিয়া বরাবরের মতই একপাক্ষিক জিনিস দেখাইতেছে দুনিয়ারে। ফিলিস্তিনে কি হয় না হয় তাও সেন্সর করতাছে।

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।