হিন্দী সিনেমা নিয়া গপসপ: পছন্দের কিছু নামও দিলাম

পাঠক, দর্শক ও শ্রোতা হিসেবে আমি খুবই মধ্যমমানের। প্রচুর আজে বাজে বই পড়েছি, প্রচুর ফালতু সিনেমা দেখেছি, প্রচুর নিম্নমানের গানও শুনেছি। আর এভাবেই জেনেছি কোনটা ভাল সিনেমা, কোনটা ভাল বই আর কোনটা ভাল গান।
প্রচুর হিন্দি সিনেমাও দেখেছি। দেশে তখন প্রথম ভিসিআর আসলো। আমার মামার বাসায় একবার সিনেমা দেখার ব্যাপক আয়োজন। আমরা তখন ছোট। আমাদের জন্য ডন আর বড়দের জন্য ববি। আমার হিন্দি ছবি দেখা হচ্ছে ডন। কিন্তু যা দেখলাম না সেটার জন্যই আগ্রহ থেকে গেলো প্রবল। ববি দেখেছি আরও পরে। বিকিনি পড়া ডিম্পল। একারণেই মনে হয় সেটি ছিল বড়দের সিনেমা।
আমার বাবার পোস্টিং তখন মাসকাটে (ওমান)। একদিন দেখলাম বড়রা সবাই সিনেমা হলে যাচ্ছে নতুন একটা ছবি দেখতে। এটাও বড়দের বই। কুরবানি। বড় হয়ে দেখলাম। আর কিছুই না বিকিনি পড়া জিনাত আমান। তয় জোস ছিল সেই সময় জিনাম আমান।
তারপন জীবনে বহু হিস্দি সিনেমা দেখছি। এখনও দেখি, তবে জেনে শুনে। বলতে দ্বিধা নাই প্রচুর ভাল সিনেমাও হয় হিন্দিতে।
আজ না হয় আমার পছন্দের কিছু হিন্দি সিনেমার কথা বলি।
১. অর্ধ সত্য: ওম পুরি, স্মিতা পাতিল আর সদাসিব অম্রপুকার। পরিচালক গোবিন্দ নিহালানি।
আমার মনে হয় ওম পুরির সেরা ছবি এখনও এটি। পুলিশ কর্মকর্তা ওম পুরির দায়িত্ব পড়ে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনকে রক্ষা করার। আমার দেখা অন্যতম সেরা হিন্দি ছবি অর্ধ সত্য।

২. ইজাজত: নাসিরউদ্দিন শাহ, রেখা ও অনুরাধা। গুলজার পরিচালক। তথাকথিত আর্ট ফিল্ম না। রোমান্টিক এক ছবি। ৫ বছর পর রেল স্টেশনে দেখা দুজনের। তারপরে স্মৃতি রোমন্থন। সংসার ছিল তাদের একসময়। টেকেনি। ছিল তৃতীয় একজন। মেরা কুচ সামান গানটা তো অসাধারাণ। গুলজার পরিচালক হিসেবে আমার সব সময়ই প্রিয়।

৩. জানে ভি দো ইয়ারো: আবারো নাসিরউদ্দিন শাহ। আমি এখনো মনে করি এটাই হিন্দি সিনেমা জগতের সেরা কমেডি মুভি। ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবির পরিচালক কুন্দন শাহ।
কমেডি আর স্যাটায়ারের এরকম মিশ্রন হিন্দি সিনেমায় আর কখনো ঘটেছে কি না আমার জানা নাই। দুই বন্ধুর গল্প। তাদের ইচ্ছা একটা ছবি তোলার স্টুডিও করা। করলো। তারপরেই তারা মুখোমুখি হলো খুন, দুর্নীতি, রাজনৈতিক শঠতা আর বাস্তবতার সঙ্গে। কি নেই এটার মধ্যে? রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি, পত্রিকার দুর্নীতি, ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি আর ভাল মানুষের সাজা, সব কিছুই আছে। এর চেয়ে ভাল কমেডি হিন্দি সিনেমায় হয়েছে আমার জানা নাই।

৪. সতরঞ্জ কি খিলারি: সত্যজিত রায়ের একমাত্র হিন্দি ছবি। সঞ্জিব কুমার আর সায়েদ জাফরী। বাহদুর শাহ জাফরের শেস সময়ের ঘটনা। সে সময়ের আয়েশী দুই জমিদারের কাহিনী। অসাধারণ এক ছবি

৫. এক পল: আবারো নাসির উদ্দিন শাহ। সাথে শাবানা আজমী ও ফারুক শেখ। মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা, কল্পনা লাজমি পরিচালক।
সম্পর্ক থাকে শাবানার সাথে ফারুক শেখের। কিন্তু বিয়ে করে না ফারুক শেখ। শাবানার বিয়ে হয় নাসিরউদ্দিন শাহের সাথে। তারপর ফিরে আসে ফাররুক শেখ। ভুপেন হাজারিকার অসাধারণ কিছু গান আছে।

৬. নামকিন: গুলজারের আরেকটি ছবি। আমার অনেক প্রিয়। সঞ্জিব কুমার, শাবানা, ওয়াহিদা রেহমান ও শর্মিলি ঠাকুর।
ট্রাক ড্রাইভার সঞ্জিব। ভাড়া নেয় ওয়াহিদার বাড়ি। ওয়াহিদার তিন মেয়ে। সম্পর্কের জটিলতা শুরু হয় সেখান থেকেই।

৭. সোলভা সাল: আমার দেখা সেরা এন্টারটেইনমেন্ট ছবির একটা। দেব আনন্দ আর ওয়াহিদা রেহমান।
এক রাতের ছবি। প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায় ওয়াহিদা। পথে তার সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যায় ছেলেটা। এক রাতের মধ্যে সেই গহনা উদ্ধার করে ঘরে ফেরার গল্প। পথে পরিচয় মেয়ে দেখতে যাওয়া দেব আনন্দের সাথে।

৮. তিসরি কসম: রাজকাপুরের অনেক ছবির নাম বলা যায়। তবে আমার পছন্দ তিসরি কসম।
সাথে আছে ওয়াহিদা রেহমান। খুব সাধারন এক কাহিনীর অসাধারণ চিত্ররূপ। গরুর গাড়ি চালায় রাজকাপুর। আর একজন ড্যান্সার ওয়াহিদা। রাজ কাপুরের গরুর গাড়িতে করে ওয়াহিদা যাচ্ছে মেলায়। এটাই সিনেমা। …….তারপর……

৯. মধুমতি: দিলীপ কুমারের অসংখ্য ছবি আছে। কিন্তু আমার কাছে সেরা মনে হয় মধুমতিকে।
সাথে আছে বৈজয়ন্তী মালা। চমৎকার কিছু গান আছে। আর আছে দারুণ এক গল্প। বিনোদন হিসেবে যারা ছবি দেখেন তাদের পছন্দ হবে।

১০. আর্থ: মহেশ ভাটের অনেক ছবি আছে। শেষ দিকে অসংখ্যা আজে বাজে ছবিও করেছেন। কিন্তু সে যে কত শক্তিশালী পরিচালক তা বুঝা যায় আর্থ ও সারাংস দেখলে।
শাবানা, স্মিতা পাতিল ও খুলভুষন। জগজিতের অসাধারণ কিছু গজল আছে। খুলভুষন শাবানাকে ছেড়ে নতুন করে সংসার করে স্মিতাকে নিয়ে। তারপর শুরু হয় নানা জটিলতা। অসাধারণ এক ছবি।

১১. দৃষ্টি: গোবিন্দ নিহালানির আরেকটি পছন্দের ছবি। শেখর কাপুর ও ডিম্পল।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে আরেকটি ভাল ছবি। আমার বেশ পছন্দের ছবি।

১২. আবিস্কার: সংসার ও সম্পর্ক নিয়ে আরেকটি ছবি। রাজেস খান্না ও শর্মিলা ঠাকুর।
কাউকে পরোয়া না করে তুমুল প্রেম করে বিয়ে করেছিল ওরা। ৭ বছর পর বুঝতে পারছে না সেই প্রেম কোথায় গেলো। বিয়ে বার্ষিকীর দিন সেটাই আবিস্কার করার চেষ্টার ছবি।

১৩. ক্যারাভান: নাচে গানে ভরপুর এক ছবি। জিতেন্দ্র আর আশা পারেখ।
এই ছবি আমি বার বার দেখতে চাই হেলেন ও আশা পারেখের নাচ আর আশার গানের জন্য। পিয়া তু আবতো আজা………….

১৪. অংকুর: আর্ট ফিল্ম ঘরানার ছবি। শাবানা আজমির অসাধারণ অভিনয় আছে। একদমই নতুন ধরণের এক ছবি।

১৫. খন্ডহার: আবারো শাবানা ও নাসিরউদ্দিন শাহ। মৃনাল সেনের হিন্দি ছবি।
প্রেমেন্দ্র মিত্রের বিখ্যাত এক ছোট গল্পের ছবি। আমি এই ছবির বিশাল ভক্ত।

১৬. মাসুম: শেখর কাপুরের ছবি। শাবানা, নাসিরউদ্দিন শাহ। আর আছে ছোটবেলার উর্মিলা। অসাধারণ এক ছবি।

১৭. গোলমাল: কমেডি ছবির সেরা হচ্ছে অমল পালেকার। তার অসংখ্য ভাল ছবি আছে। কিন্তু গোলমালই আমার কাছে সেরা। সাথে উৎপল দত্ত।

১৮. অভিমান: স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব আর গানের ছবি। স্বামীকে ছাড়িয়ে গেলে কি অবস্থা হয় সেটা নিয়েই ছবি। অমিতাভ আর জয়া ভাদুরি।

১৯. খামোশি: রাজেস খান্না আর ওয়াহিদা: দ্বীপ জেলে যাই ছবির হিন্দি সংস্করণ। অসাধারণ কিছু গান আছে।

২০. দো বিঘা জমিন: বাই সাইকেল থিপ ঘরানার ছবি। বলরাজ সাহানী মুল অভিনেতা। আমার ধারণা এখন পযর্ন্ত সিরিয়াস ছবি হিসেবে এটাই সেরা।

আরো এরকম অসংখ্য ছবি আছে। যেমন, দেব আনন্দের গাইড, কালাপানি ও তেরে ঘরকে সামনে, গুরু দত্তের পিয়াসা ও কাগজ কি ফুল, রাজকাপুরের সংগম ও চোরি চোরি, অমিতাভের মিলি, চুপকে চুপকে কিংবা সওদাগর, কামাল হাসানের পুস্পক, গানের ছবি হিসেবে তিসরি মঞ্জিল ও ইয়াদো কি বারাত, শ্যাম বেনেগালের মান্ডি, ভুমিকা, শাবানা আজমির স্পর্শ ও খামোশ, রাজেস খান্নার আনান্দ ও নেমক হারাম, নাসিরউদ্দিন শাহ-এর আক্রোস ও মিরিচ মশল্লা। এরকম অনেক ছবি আছে। নাম সব মনে পড়ছে না। আর সোলের কথা নাই বা বললাম।

এইটা ৪/৫ দিন আগে সামুতে দিছিলাম। কামরুলের প্ররোচনায় এখানেও দিলাম। তবে কিছু বাড়ানো হয়েছে সিসিবির জন্য।

৬,৮৭৪ বার দেখা হয়েছে

৬০ টি মন্তব্য : “হিন্দী সিনেমা নিয়া গপসপ: পছন্দের কিছু নামও দিলাম”

  1. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    হুমমম ...... অনেকগুলোই দেখিনি। আমি তেমন একটা হিন্দি দেখিনা অবশ্য। তবে যেগুলো দেখেছি সেরা লেগেছে দার্দ কা রিস্তা। নায়িকা ছিলো স্মিতা প্যাটেল এবং নায়ক সম্ভবত সুনীল দত্ত।

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    বেশির ভাগই তো মনে হচ্ছে আমার জন্মের আগের ছবি 😛

    তবে আমাকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে 'রং দে বাসন্তী'


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  3. দুর্ভাগ্য একটাও দেখতে পারি নি এখনো। তবে দেখে ফেলবো আস্তে আস্তে।

    একটা সময় মনে হয়েছিল, পৃথিবীতে আমার শুধু একটাই কাজ মুভি দেখা।
    কিন্তু ভুল ভাঙতে টাইম লাগে নাই। প্রতিদিন চারটা করে দেখলেও শেষ করা সম্ভব না।
    তাই এখন ক্ষ্যামা দিছি।

    পুরাতন হিন্দি ছবি খুব বেশি দেখা হয় নি আমার। সাম্প্রতিকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হল "রঙ দে বাসান্তী", "রক অন"।

    দারুণ পোস্ট।
    ফ্রেন্ডস ইউ নো... শওকত ভাই অন্নেএএক রক করে... :salute:

    জবাব দিন
    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

      একমত।
      এবং আমার প্রিয় হিন্দী ছবির পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা। 'সত্য' যতবার দেখি মুগ্ধ হই। মনোজ বাজপেয়ী আর চক্রবর্তী দু'জনেই তখন নতুন, অথচ কতো দারুন অভিনয় করিয়েছেন এই দু'জনকে দিয়ে। এই ছবিতে মনোজ বাজপেয়ী'র একটা সংলাপ খুব পছন্দ হয়েছিলো -' মুম্বাই কা কিং কন? ভিকু মাত্রে'।

      রামগোপাল ভার্মার 'কোম্পানী'ও তেমন একটি থ্রিলার। আমার মনে হয় ভারতে মাফিয়া ছবি নির্মানে ভার্মার ধারে কাছে কেউ নেই।


      ---------------------------------------------------------------------------
      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

      জবাব দিন
  4. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    'দো বিঘা জামিন', 'সোলবা সাল' আর 'অর্ধ সত্য' এই তিনটা ছাড়া আপনার নাম বলা সব ছবি দেখেছি।

    আসলে আমার সিনেমা দেখা শুরু হয়েছেই হিন্দী ছবি দেখে এবং আরো ভালো করে বললে অমিতাভ বচ্চন দিয়ে। 'কুলি'। অনেক ছোটবেলায় ভিসিআরে অমিতাভ, রতি অগ্নিহোত্রী আর হৃষিকাপুরের সেই ছবি দেখে আমি দিওয়ানা হয়ে গিয়েছিলাম। একটা গান ছিলো 'এক্সিডেন্ট হো গায়া, রাব্বা রাব্বা'। এখনো মাঝে মাঝে গুন গুন করি। সেই অমিতাভ মুগ্ধতা এখনো আছে। এখনো তার সব ছবি আমি খুব আগ্রহ নিয়ে দেখি।

    পুরোনো ছবি নিয়ে যেহেতু কথা হচ্ছে আমিও বলি। হৃষিকেশ মুখার্জি'র অনেক ছবি আপনার মতো আমারো খুব পছন্দের। মিলি, চুপকে চুপকে , গুড্ডি, অভিমান (এই ছবিতে 'তেরি বিন্দীয়া রে' বলে একটা গান আছে, যারা শুনেননি তারা নিশ্চিন্তে আফসোস করতে থাকেন 😀 ) বারবার দেখা যায়। আর 'আনন্দ'। শুধু রাজেশ খান্নার গলায় 'বাবুমশাই' ডাকটা শোনার জন্যে যতবার ইচ্ছে দেখা যায়। খুব সম্ভবত অমিতাভ সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরষ্কার পেয়েছিলেন এ ছবি করে।

    শক্তি সামন্তের অনেক ছবি ভালো লেগেছে। 'অমানুষ' 'আরাধনা'(আহা!! রুপ তেরা মাস্তানার শর্মিলা ঠাকুর) আর আনন্দ-আশ্রম(এটা অবশ্য প্রথম দেখেছিলাম বাংলায়)।

    'পুষ্পক' ছাড়াও কমল হাসানের আরো কয়েকটা ছবি আমার খুব পছন্দের। 'সাদমা' 'লামহে' আর 'এক দুজে কে লিয়ে' (যারা দেখেন নাই তাদের জন্য ছোট্ট একটা ইনফরমেসন- এই ছবিতে রতি অগ্নিহোত্রী'র নাভিতে লাঠিম ঘুরিয়েছেন কমল হাসান) 😉

    নাসিরুদ্দিন শাহ'র একটা খুব মজার ছবি আছে, 'মালামাল'। হাসতে চাইলে এ ছবি বারবার দেখা যায়।ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার অভিনয় করেছেন এই ছবিতে।

    বিধু বিনোদ চোপড়ার একটা ছবি আছে, 'পারিন্দা'। আমার দেখা ভারতের সেরা আন্ডার ওয়ার্ল্ড ছবিগুলির একটা। এই ছবিতে প্রথমবার নানা পাটেকরের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম।

    এই মুহুর্তে এই কটাই মনে পড়ছে। পরে আরো জমজমাট আলোচনায় যোগ দেবো। তবে যাবার আগে 'শোলে'র কথা না বলে গেলেই নয়। এই ছবিটা এতো বেশি দেখেছি যে সংলাপ গুলি আমার প্রায় মুখস্থ গেছে। আমজাদ খান হিন্দী ছবি'র ভিলেনের ধারনাটাকেই বদলে দিয়েছেন এ ছবি করে। কেউ বলে এটা রমেশ সিপ্পির ছবি, কেউ বলে অমিতাভের ছবি, কেউ বলে ধর্মেন্দ্র-হেমামালিনির ছবি।
    আমি বলি এটা শুধু আমজাদ খানের ছবি।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  5. এহসান (৮৯-৯৫)

    সতরঞ্জ কি খিলারি, আর্থ, মাসুম, গোলমাল, অভিমান, গাইড, কালাপানি, সংগম, মিলি, চুপকে চুপকে, সওদাগর, পুস্পক, ইয়াদো কি বারাত, মান্ডি, স্পর্শ, খামোশ, আনান্দ ও নেমক হারাম দেখেছি।

    কিন্তু আমার কিছু প্রিয় সিনেমা যোগ করি। অমিতাভের Deewaar, Kabhi Kabhie, Silsila, Khuda Gawah, Sharaabi, Muqaddar Ka Sikandar, এছাড়াও Sadma, Ek Duuje Ke Liye, Pakeezah, Kora Kagaz, Aandhi ও Anamika(সঞ্জিব কুমার )

    আমারও এরকম অনেক ছবি আছে। নাম সব মনে পড়ছে না।

    জবাব দিন
  6. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    শওকত ভাই, সব দেখি সেই আমলের ছবি, বিলাক এন্ড হোয়াইট। 🙂

    ধুম, কৃষ, রেস এইগুলা দেখি কিছু নাই। 🙁

    ক্যায়ামত সে ক্যায়ামত তক, আহারে জুহি বিবির হাসি, আমার হার্টের অসুক অদ্দেক ভালো হই গেছিলো ওরে দেইখ্যা। আর হইতেছে চিনি কম, টাবু ভইন, বুইড়ার লগে প্রেম, আরেক টার কথা কইছিলাম আগে, যে পাংগানি দিছে ব্লগের গুরু না, তাও কই, কাভি আল বিদা না ক্যাহনা 😀 ।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  7. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    অনেক ধন্যবাদ শওকত ভাই। :salute:
    এই ছবিগুলো আমারো পছন্দের তালিকায় আছে,
    দুয়েকটি দেখা হয়নি যদিও।
    আপনি কি "সুরয্ কি সাতোঁয়া(৭ম)ঘোড়া" দেখেছেন?
    অসাধারণ একটি ছবি।

    জবাব দিন
  8. তানভীর (১৯৯৫-২০০১)

    শওকত ভাইয়ের লিস্টের অনেকগুলোই দেখিনি, তবে "জানে ভি দো ইয়ারো" টা দেখেছি। অনেক ছোট বেলার কথা, টিভির সামনে তিন ভাইবোন মিলে মুভিটা দেখছি আর একজন হাসতে হাসতে আরেকজনের উপর গড়িয়ে পরছি :goragori: ... ওফ কি যে একটা মুভি ছিল।

    তবে এই মুভিগুলো এখন ভাল লাগবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তখনকার মুভি আর এখনকার মুভির মেক-আপ, লাইটিং, ইফেক্টস এবং আরো কিছু কিছু ব্যাপারে বিশাল ফারাক চলে এসেছে। লালচে প্রিন্টের পুরোনো সিনেমাগুলো এখন কেন জানি আর ভাল লাগে না।

    একটা উদাহরণ দেই, আদিত্য পাঞ্চেলীর "ইয়াদ রাখেগি দুনিয়া" যখন মুক্তি পেল। তখন দেখতে ফাটাফাটি লেগেছিল। "তেরে লিয়ে সারি উমার যাগু"... গানটা কতবার যে শুনেছি ইয়াত্তা নেই। অথচ কিছুদিন আগে youtube এ search দিয়ে এই গানটা শোনার try করলাম...। এত বিরক্ত লাগলো, এত বিরক্ত লাগলো যে কি বলবো।

    যাই হোক, ভাইয়ার বাকি সিনেমাগুলো দেখার চেষ্টা করব। থ্যাংক্স ফর দা চোথা। 🙂

    জবাব দিন
  9. সামীউর (৯৭-০৩)

    হিন্দী সিনেমা নিয়ে রাজ্যের কমেন্ট পড়ে নিজের মতটা না দিয়া থাকতে পারতেসি না! ভালো লাগসে অনেক মুভিই, দিল চাহতা হ্যায়, রঙ দে বাসন্তী, স্বদেশ, কাল হো না হো, কিন্তু এখনো সু্যোগ পেলেই দেখি মাধবনের র‌্যাহনা হ্যায় তেরে দিল মে
    কলেজে ৭ দিনের এক্সকারসনে যাবার আগে দেখসিলাম এরপর থেকে ঐ মুভির গান গুলা আমাদের ট্যুর এর এ্যন্থেম এ পরিণত হয়, কলেজে ওয়াকম্যানে সুযোগ পাইলেই শুনা হইতো আর ডায়লগ গুলা... ফাটাফাটি। যে কোন চ্যানেলে প্রতিদিন কোন না কোন সময়ে এই মুভিটা চলবেই, আর রিমোটের বোতাম চাপতে চাপতে এই মুভিতে আসলেই আটকে যাই।

    জবাব দিন
  10. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    নাসিরুদ্দিনের বেশিরভাগ ছবিই আমার প্রিয়।
    ভাইয়া সরি, কিন্তু সত্যজিতের হিন্দি আরেকটা ছবি আছে; স্মিতা পাতিল, অম্পুরীর; নাম খুব সম্ভবত সদ্গতি।
    শতরঞ্জ কি খিলাড়ী জটিল ছবি। কে নাই এই ছবিতে। অমিতাভের ভয়েস ব্যাবহার ১০০% কারেক্ট হইছে।
    সোলভা সাল আমারও খুব প্রিয়। তবে দেব আনন্দের গাইড আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।
    রাজ কাপুরের শ্রী ৪২০ আমার বেশি প্রিয়।
    দিলীপ কুমারের দাগ
    অন্যান্য সব ছবি অসাধারন।
    পুরান দেবদাস কেনো আসলো না আপনার লিস্টে, বুঝলাম না। নতুনটার চাইতে ১০০০ টাইমস বেটার।
    মিনাকুমারির সাহেব, বিবি, গোলাম, আর পাকিজা কেন আস্লো না ভাইয়া?
    ভারতভূষণের বইজূ বাওরা
    ওয়াহিদা রেহমানের চউদনি কি কা চাঁদ

    নার্গিসের মাদার ইন্ডিয়া

    আমাদের নভেরা বৈজয়ন্তী মালার কাছে কিছুদিন নাচ শিখেছিলেন।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।