আবার কলকাতা ৭

সামনে থেকে

সামনে থেকে

ঢাকা থেকে বন্ধুরা বলে দিয়েছিল, জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ি বললে যেকোনো ট্যাক্সিওয়ালা চোখ বুজে নিয়ে যাবে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি। কলকাতায় এসে বুঝলাম এখানকার ট্যাক্সিওয়ালাদের এখন চোখ ফুটেছে। চোখ বুজে ঠাকুর বাড়ি যাবার দিন শেষ। প্রথম যে ট্যাক্সি ধরলাম তার চালক বলল, ‘দাদা, ঠাকুর বাড়িতো বুঝলাম, ঠিকানাটা বলুন’। দুই-তিন জন ক্যাবচালকের কাছে একই রকম জবাব পেয়ে, সোহাগ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস-এর (জি হ্যাঁ, আমাদের সোহাগ পরিবহনের সাথে সম্পর্কিত) সোনাভাই’র শরণাপন্ন হলাম। তিনি বললেন, বলুন সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ যাবো, গিরিশ পার্কের দিকে। এবার পাওয়া গেল একজন বয়স্ক ট্যাক্সি চালক। প্রথমেই বললেন, ‘সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে ১০০ টাকা লাগবে’। বললাম, ‘মিটার খারাপ নাকি?’, বলল, ‘দাদা মিটার ঠিক আছে, মমতা খারাপ।’
মানে?
জিনিসপত্তরের যা দাম, মিটারে পোষাবে?
এর আগে গোটা চারেক ট্যাক্সি ছুটে গেছে, আর কথা না বাড়িয়ে উঠে বসলাম। ট্যাক্সি চলতে শুরু করার পর বললাম, ‘দাদা, রবীন্দ্রনাথের বাড়ি চেনেন?’ তিনি বললেন, ‘আপনি আসলে যাবেন কোতায়? এগবার বলেন সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, এগবার গিরিশ পার্ক, এখুন আবার রবীন্দ্রনাথের বাড়ি’। বললাম, ‘দোষ আমার নয় দাদা, এতক্ষণ অন্তত চার জনকে বলেছি, কলকাতার লোক ঠাকুর বাড়ি না চিনলে রাগ হয় না! আমি আসলে ঠাকুর বাড়ি যাব’। তিনি একটু গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘ছেলে ছোকরার কাছে রবীন্দ্রনাথের কথা জানতে চাইলে হবে!’

যেন রবীন্দ্র নাথের নাতিপুতি

যেন রবীন্দ্র নাথের নাতিপুতি

এ-রাস্তা সে-রাস্তা ঘুরে আমরা যখন ৬/৪ দ্বারকানাথ স্ট্রিটে পৌঁছালাম তখন ট্যাক্সির মিটারে উঠেছে মোটে ৫৭ টাকা ৬০ পয়সা। প্রায় ৪০ টাকা বেশি গুনতে হলো কোনো কারণ ছাড়াই। এটাই ঠাকুর বাড়ির অফিসিয়াল ঠিকানা। অবশ্য এঠিকানা বললেও ট্যাক্সি ওয়ালাদের চেনার সম্ভাবনা কম। সবচেয়ে ভালো রবীন্দ্র সরণী হয়ে গিরিশ পার্ক মেট্রোর কথা বলা, রবীন্দ্র সরণীর আগের নাম চিতপুর রোড।
ঠাকুর বাড়িতে যাবার রাস্তা যেমনই হোক, বাড়িটা দেখার মতো। অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে দ্বারকানাথ ঠাকুর বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন বড় বাজারের শেঠদের জমিতে। ধীরে ধীরে এই পাড়াটি হয়ে ওঠে বাংলা সাহিত্যের বহু বিখ্যাত ঘটনার সাক্ষী। এ পাড়াতেই থাকতেন ‘হুতোম প্যাঁচার নকশার’ কালী প্রসন্ন সিংহ, ভারতবর্ষে জুলিয়াস সিজার নাটক প্রথম অভিনীত হয়েছিল যার বাসায় সেই পিয়ারি মোহন বোস, মাইকেল মধুসূদনের ‘কৃষ্ণকুমারী’ প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল যাঁর উদ্যোগে সেই জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ আরও বেশ কয়েক জন বিখ্যাত মানুষ।

বাইরে থেকে

বাইরে থেকে

১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্ম শতবার্ষিকীতে পশ্চিম বাংলার তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বাড়িটি রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির কাছ থেকে অধিগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালের ৮ মে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু ৩৫,০০০ বর্গ মিটারের বাড়িটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন রবীন্দ্রভারতী মিউজিয়াম। ঠাকুর বাড়িতে প্রতিভার অভাব ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাবা ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তাঁর সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা বের হতো এ-বাড়ি থেকেই। কবিগুরুর ভাইপো অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাঙালি চিত্রশিল্পীদের অগ্রজ। এঁরা সকলেই বাংলার নবজাগরণের (রেনেসাঁ) কীর্তিমান পুরুষ। মেয়েদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের বড় বোন সৌদামিনী দেবীর লেখার হাত ছিল অসাধারণ। এঁদের সকলের কীর্তির স্বাক্ষর বয়ে বেড়াচ্ছে ঠাকুর বাড়ি। প্রতি বছর এখানে ঘটা করে পালিত হয় বর্ষবরণ, পঁচিশে বৈশাখ আর বাইশে শ্রাবণ।

সংগ্রহশালা

সংগ্রহশালা

জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি সপ্তার ৫দিন ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত (সোম-শুক্র) দর্শকদের জন্যে উন্মুক্ত। শনিবারে খোলা থাকে ১টা পর্যন্ত। রবিবার বন্ধ। নিচতলায় টিকেট কেটে, সিঁড়ি ঘরের নিচের লকারে ক্যামেরা, মোবাইল, ব্যাগ এসব রেখে, জুতো খুলে তারপর যেতে হয় বাড়ির ওপর তলায়। রবীন্দ্রনাথের আঁতুড় ঘর থেকে শুরু করে যে ঘরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন, সেটিও আছে সাজানো গোছানো। প্রতিটি ঘরেই টের পাওয়া যায় তাঁর উপস্থিতি। মোট ৪টি ভবনের ১৮টি গ্যালারি জুড়ে রবীন্দ্রভারতী মিউজিয়াম। মূল বাড়িটি আয়তাকার। দোতলায় উঠেই হাতের বাঁদিকে যে ঘরটি পড়ে সেটি ছিল রবীন্দ্রনাথের খাবার ঘর, তার সাথেই লাগোয়া মৃণালিনীর হেঁসেল। পাশে সঙ্গীতের ঘর, এর পর মহাপ্রয়াণের ঘর। ১৯৪১-এর ৩০ জুলাই মাসে এ ঘরেই কবিগুরু তাঁর শেষ কবিতা, ‘তোমার সৃষ্টির পথ’-এর ডিক্টেশন দিয়েছিলেন। এর মাত্র সাতদিন পর তিনি পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে।
দুটি আর্ট গ্যালারিও রয়েছে এই ভবনে, একটি প্রাচ্য আর একটি পাশ্চাত্যের ধারার। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যামিনী রায়, নন্দলাল বসুসহ আরও অনেক নামকরা শিল্পীর আঁকা ছবি আছে এখানে। বাংলাদেশি কারো আঁকা ছবি থাকলে খুশি হতাম। নোবেল পুরস্কারের গ্যালারিটিও চমকপ্রদ। গীতাঞ্জলি ও নোবেল পুরস্কারের টুকরা-টাকরা গল্প ছাড়াও নাইটহুড বর্জনের কারণ বর্ণনা ইংরেজ সরকারকে লেখা পত্রের কপিটিও আছে এখানে।
জাপান ও চীন সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত গ্যালারি দুটিও মনে রাখার মতো। মূল ভবনের পাশের ভবনটির নাম বিচিত্রা। ১৯৬০ সালের আগ পর্যন্ত এই ভবনটি ছিল বিশ্বভারতীর অংশ। বিচিত্রার দোতলায় ভিক্টোরিয়া হল, আর মৃণালিনী দেবীর ঘরটা ভালো লেগেছে, মৃণালিনী দেবীর কথা ভেবে। ভিক্টোরিয়া হলে শিলাইদহ কুঠিবাড়ির কিছু ছবি। রবীন্দ্রনাথ যে বোটে করে ঘুরে বেড়াতেন পদ্মায় সেই বোটের একটি চমত্কার প্রতিকৃতিও আছে এখানে, বাংলাদেশ সরকারের উপহার হিসেবে।
তিন তলায় মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ আর সারদা দেবীর ঘরসংসার। সারদা দেবী ছিলেন আমাদের যশোরের মেয়ে। ৮ বছর বয়সে তিনি ঠাকুরবাড়ি এসেছিলেন বউ হয়ে।

গল্প স্বল্প

গল্প স্বল্প

ন্যাশনাল জিওগ্রাফীর দিল্লীর ফটোগ্রাফার প্রলয় হাজরা তুলে দিলেন ছবিটি

ন্যাশনাল জিওগ্রাফীর দিল্লীর ফটোগ্রাফার প্রলয় হাজরা তুলে দিলেন ছবিটি

আমার মনে হয় ঠাকুর বাড়ির দুজন দুঃখী মানুষের একজন সারদা আর অন্য জন মৃণালিনী। সারদা তো তবু নিজের নামটা নিয়ে বেঁচেছিলেন, মৃণালিনীর নামটিও বদলে দিয়েছিল ঠাকুর বাড়ি। খুলনার ফুলতলার বেনীমাধব রায় চৌধুরীর মেয়ে ভবতারিনী দেবী দশ বছর বয়সে যেদিন এ বাড়িতে বউ হয়ে এসেছিলেন তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ২২। আটপৌরে ভবতারিনী নাম ঠাকুর বাড়িতে মানাবে কেন? রবীন্দ্রনাথের বড় দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথের পছন্দে তাঁর নতুন নাম হলো মৃণালিনী। এরপর যে ১৯ বছর তিনি বেঁচে ছিলেন, সেখানে তাঁর নিজস্ব ভূমিকার কথা খুব একটা জানা যায় না। সারদা দেবীর জীবন তাও মৃণালিনীর চেয়ে একটু ভালো ছিল, কর্তার দেখা খুব একটা না পেলেও সংসারের কর্তৃত্ব ছিল তাঁর। রবীন্দ্রভারতী মিউজিয়ামের লাইব্রেরিটিও সমৃদ্ধ নানান দুষ্প্রাপ্য বইয়ে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নাল এখানে নিয়মিত আসে। এখানে সানজিদা খাতুনের বই দেখে ভালো লাগল।
ওপরে যেহেতু ছবি তোলা নিষেধ, ছবি তোলার জন্যে এলাম নিচতলার অন্দরমহলে। আয়তাকার উঠোনের একদিকে স্থায়ী মঞ্চ আর একদিকে পুজোর ঘর,পরবর্তী সময়ে এখানেই হতো ব্রাহ্মসমাজের সভা। মূল বাড়ির বাইরের দিকের একটি ভবনে আছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহূত একটি গাড়ি। গাড়িটির নম্বর WGF 91.

রবীন্দ্রনাথের গাড়ি

রবীন্দ্রনাথের গাড়ি

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই মিউজিয়ামের বিভিন্ন নিদর্শনের বর্ণনার জন্যে ব্যবহূত হয়ছে, ঠাকুর পরিবারেরই কারো না কারোর লেখা বা কবিতার অংশ।
পাঁচটায় বন্ধ হয়ে যায় ঠাকুর বাড়ির দরজা। বেরিয়ে আসতে মন চাইছিল না। রবীন্দ্রনাথের বাড়ির সবকিছুই মনে হয় কোনো না কোনোভাবে আমাদের চেনা জানা। এর কারণ খুঁজে পেলাম বেরিয়ে আসার সময় মূল প্রবেশদ্বারের পাশে লেখা পরিচয় কবিতার শেষ ক’টি লাইন দেখে :
সেতারেতে বাঁধিলাম তার, গাহিলাম আরবার, মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক, আর কিছু নয়, এই হোক শেষ পরিচয়।

আমি তোমাদেরই লোক

আমি তোমাদেরই লোক

৪০ টি মন্তব্য : “আবার কলকাতা ৭”

  1. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    ঠাকুরবাড়ির এই লেখাটির জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম, ভাইয়া!

    কবিপত্নী মৃনালিনীকে আমার ঠাকুরবাড়ির নিত্য ব্যবহাযর্ আটপৌরে বসন বৈ অন্য কিছু মনে হয়না। মৃনালিনীর না ছিল বাপের বাড়ির জৌলুস, না ছিল রূপের ঠমক অথবা বিদ্যের দৌরাত্ম্য। অপ্রিয় সত্য হলো, জগতে এই তিনটের একটি না থাকলে তাকে কেউ পোছে না। প্রবলপ্রতাপশালী শ্বশুরবাড়িতে মৃনালিনীর নিজের বলে কিছু কি ছিল, অথবা কেউ কি ছিল? সন্তান উদপাদন আর তাদের পরিচযর্া ব্যতিত ঠাকুরবাড়িতে মৃনালিনী দেবীর অন্য কোন ভূমিকার কথা আমরা কখনোই শুনিনি। জগতব্যাপি সংসারে একজন গুণী হলে অপরজনকে হতে হয় গুনগ্রাহী। আমি ভাবি, মৃনালিনী কি শেষাবধি কবির গুনগ্রাহী হতে পেরেছিলেন? রবিঠাকুর আজকের যুগে জন্মালে আমরা কি বলতাম তাও ভাবি, জানেন! কবিপ্রিয়া হলে তার চুলের সুবাস অথবা ভুরুর ধনুতেও লেখা হয় কালজয়ী সব লেখা, অথচ কবিপত্নীকে তখন হেঁশেলে সোনামুগ ডালে ঘিয়ের ফোড়ন দিতে ব্যস্ত থাকতে হয়!

    কলকাতা ভ্রমণ দীর্ঘদিন জারী থাকুক!

    জবাব দিন
    • সাইদুল (৭৬-৮২)

      কবিপ্রিয়া হলে তার চুলের সুবাস অথবা ভুরুর ধনুতেও লেখা হয় কালজয়ী সব লেখা, অথচ কবিপত্নীকে তখন হেঁশেলে সোনামুগ ডালে ঘিয়ের ফোড়ন দিতে ব্যস্ত থাকতে হয়!

      দারুণ অথবা নিদারূণ উপলব্ধি


      যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

      জবাব দিন
  2. মোঃ গোলাম মোস্তফা

    বাহ! ভাবনাহীন পথচলা ও ঝরঝরে বর্ণনা। দুই-ই স্বচ্ছতোয়া ও নির্মল আনন্দদায়ক!

    অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে দ্বারকানাথ ঠাকুর বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন বড় বাজারের শেঠদের জমিতে।

    হুম! সুনীলের 'সেই সময়'-এ এ বেত্তান্ত কিছুটা আছে। কতটুকু সত্যি আর কতটুকু নিন্দা, জানি না।

    আমার মনে হয় ঠাকুর বাড়ির দুজন দুঃখী মানুষের একজন সারদা আর অন্য জন মৃণালিনী।

    একটু দ্বিমত করি। আমার মনে হয় কাদম্বরী দেবীর নামটিও নেয়া যেতে পারে। বড় বৌঠানকে তো আত্মহত্যাই করতে হয়েছিল, নয় কি?

    জবাব দিন
    • সাইদুল (৭৬-৮২)

      দ্বিমত না থাকলে ঠিক আলোচনা জমে না।
      আমি যে অর্থে মৃণালীনিকে দুঃখি বলছি কাদম্বরীকে সে অর্থে বলতে পারছি না। ঠাকুর বাড়ির বাজার সরকার শ্যাম গাঙ্গুলীর মেয়ে 'মাতঙ্গিনী" ঠাকুর বাড়ির বঊ হয়ে কাদম্বরী হয়েছিলেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে তার যখন বিয়ে হয়, রবীন্দ্রনাথের তখন ৭। এক সঙ্গে তাঁরা গান শিখতেন।
      রবীন্দ্রনাথের বারো বছরের বড় দাদা জ্যোতিরিন্দ্র নাথ তাঁর স্ত্রী ( কাদম্বরী) কে লেখা পড়া শিখিয়েছিলেন। কঠিন পর্দা প্রথা উপেক্ষা করে ঘোড়ায় চড়া শিখিয়েছিলেন।
      তাঁকে মৃণালীনির মত অবরোধ বাসিনী হয়ে থাকতে হয়নি। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন। স্বামীর বন্ধুদেরও তিনি অপরিচিতা ছিলেন না। বিহারীলাল চক্রবর্তী কাদম্বরীকে স্মরণ করে তাঁর একটি কবিতার নাম করণ করেছিলেন। মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে তিনি আফিম খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। করেছিলেন। আত্মহত্যার সমস্ত প্রমাণ লোপাট করে দেওয়া হয় ঠাকুর পরিবারের মান রাখতে


      যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

      জবাব দিন
  3. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    কাদম্বরী দেবীকে কিন্তু আমার ঠিক দুঃখী টুঃখী মনে হয়না, জানেন। বৌঠানের যেমন ছিল রূপমাধুরী তেমনি ছিল তার দু্যতিময় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য। ঠাকুরবাড়িতে তাঁর মনোরঞ্জনের জন্য ভৃত্যবর্গ ছাড়াও কতর্ারাও সচেষ্ট ছিলেন বলে শোনা যায়। জ্যোতি দাদার অবহেলার কথা আমরা জানতে পারলেও রবিঠাকুর কি তাকে কম ভালবেসেছিলেন?

    জবাব দিন
    • সাইদুল (৭৬-৮২)

      এক এক জনের দুঃখ এক এক রকম। কাদম্বরীর দুঃখের অনেক কারণ থাকতে পারে।

      কাদম্বরী ছিলেন নিঃসন্তান।
      জ্যোতিরিন্দ্র ছিলেন বহিঃর্মুখী।
      আরও কতকিছু থাকতে পারে!


      যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

      জবাব দিন
      • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

        সত্যি তো, সন্তানহীনতার মত দুঃখ আর কী হতে পারে! স্বামীর বহির্মুখী চরিত্রের জন্য নয় কেবল, জ্যোতিদাদার এক বা একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কগুলোও কাদম্বরী দেবীর কষ্টের কারণ হতে পারে। রবি ঠাকুরের সাথে তাঁর আত্মার যে গভীর যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল তা অস্বীকার করবার কোন উপায় নেই। সমবয়েসী বৌঠান যে কখন তাঁর বন্ধু থেকে আত্মার আত্মীয় হয়ে উঠেছিলেন তা কেউ জানেনা। অন্যদিকে, মৃণালিনী দেবী একান্ত অন্তঃপুরেও তটস্থ ছিলেন তাঁর পারিপার্শ্বিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারীকুলের মাঝে। কবিজায়া কখনোই কবির প্রেমিকা হতে পারেননি, অথবা তাঁর আত্মার আত্মীয়! কারো জীবনের সাথে অন্য কারোর তুলনা হতে পারেনা জগতে এটুকুই বুঝি।

        জবাব দিন
        • খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

          সাবিনা, এই পাতায় তোমার পর্যবেক্ষণগুলো অসাধারণ হয়েছে। মুগ্ধ হ'লাম।
          একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি যে তোমার রেফ সংযুক্ত বানানগুলো লিখতে অসুবিধে হচ্ছে, যেমন, পর্যবেক্ষণ, কর্তা, মার্জিন, ইত্যাদি। অভ্র প্যানেলের "বাংলা" লেখাটার পর ৩য় আইকনটাতে ক্লিক করলে যে কীবোর্ড টা ভেসে উঠে, সেখান থেকে বেছে নিয়ে র এর পর হসন্ত ক্লিক করলে বানানটা ঠিকভাবে উঠে আসবে। যেমনঃ প-র-হসন্ত-য-বে-ক্ষ-ণ, ক-র-হসন্ত-তা, ইত্যাদি। হসন্তটা আগে পিছে করে ক্লিক করলে ওরকম ভুল হবে যেমন তোমারটা হয়েছে।

          জবাব দিন
          • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

            আমার কাছে রবীন্দ্রনাথ মানেই হলো উষ্ণ প্রেমের প্রতিচিত্র। তাঁর গানে ও কবিতায় মিলন ও বিচ্ছেদের যে ছবিটি দেখেছি সেই একই ছবি বিভিন্ন বয়েসে ভিন্ন ভিন্ন রূপে উন্মোচিত হয়েছে আমার কাছে। শৈশবে ঝুটি দুলিয়ে না বুঝে মুখস্ত করা কবিতাটি নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি কৈশোরে। আবার কৈশোরের ছবিটি বদলে গেছে যৌবনে পা দেবার পর। চিরযৌবনের অকথনীয় কথাগুলো একজনই বোধকরি অমন করে বলতে পেরেছেন।

            চিরপ্রেমিক রবি ঠাকুর ফুল, পাখি, লতাগুল্ম ছাড়াও রক্ত মাংসের মানবীগনের প্রেমে পরেছেন জীবনভর। মনোজাগতিক অথবা আরো মোড়কহীন ভাষায় বলতে গেলে মনোদৈহিক প্রেম ব্যতীত রবি কবির সাধনযোগ্য এইসব ঠাসবুনান লেখা কি আদৌ সম্ভবপর হতো? ঠাকুর তো ঈশ্বর ছিলেন না, ছিলেন আমাদের মতই মমতায়, ক্ষুধায়, প্রেমে বা কামে, অথবা ভালবাসায় পরিপূর্ণ একজন মানুষ।

            কবিগুরুর শেষ জীবনের লেখনীতে বিজয়া নামটি এসেছে বহুবার। কবির এই বিজয়া আজর্েনটিনার নাগরিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো যার দীঘর্ আতিথ্য কবি গ্রহণ করেছেন ইউরোপে। রবি ঠাকুর যখন পূরবী কাব্যগ্রন্থটি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে উৎসগর্ করেন; কবি তখন প্রায় মধ্য ষাটে আর তাঁর বিজয়া ছত্রিশে! জীবনের শেষভাগে এসেও কবি ছিলেন ভালবাসা, সৌন্দর্য অথবা মাধুর্যরসে পরিপূর্ণ! কবি বিজয়াকে লিখলেন,

            এ পারের যত পাখি
            সবাই কহিল ডাকি,
            ‘ও পারের গান গাও দেখি।’
            ভাবিলাম মোর ছন্দে
            মিলাব ফুলের গন্ধে
            আনন্দের বসন্তবাহার।
            খুঁজিয়া দেখিনু বুকে
            কহিলাম নতমুখে,
            ‘বীণা ফেলে এসেছি আমার’।
            🙂 🙂 🙂 🙂

            জবাব দিন
  4. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    আহহহ !
    তত্ত্ব তথ্য বর্ণনার রঙ...
    সব মিলিয়ে একখানা সুখপাঠ্য লেখা।
    সাহিত্য আর পর্যটন দুয়ের আংগিকেই নিদারুন ভ্রমণ বৃত্তান্ত ।

    অপেক্ষা ডানা মেলেই আছে সেই প্রথম পর্ব থেকে প্রতিটি পরবর্তীর জন্য ।

    জবাব দিন
  5. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    সাইদুল ভাই,
    আগেরগুলো পড়ে আপ-টু-ডেট হয়ে তবেই এই পর্বটি পড়লাম। O:-)

    একটি অনুরোধ করি- কোন সমস্যা না থাকলে আগের পর্বগুলোর লিংক প্রতি পর্বের শুরুতে জুড়ে দিয়েন। কেউ আগের পর্ব পড়তে চাইলে তার জন্য সুবিধে হবে। :-B

    পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম! 😀


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  6. সাইদুল (৭৬-৮২)

    জুনায়েদ কবীর
    ভালো কথা মনে করিয়ে দিয়েছো। লিংক কীভাবে দিতে হয় আমি তাই জানতাম না। আজ একটু পরীক্ষা করে দেখিঃ আবার কলকাতা ১


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
    • সাইদুল (৭৬-৮২)

      জুনায়েদ, হলোনা। পদ্ধতিটাই বুঝিনা। সামুতে একবার লিংক দিতে গিয়ে কী একটা করে ফেলেছিলাম, পুরো লেখাই নীল হয়ে গিয়েছিলো


      যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

      জবাব দিন
      • জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

        সাইদুল ভাই,
        ১। প্রথমে আবার কলকাতা ১ লিখুন
        ২। এবার 'আবার কলকাতা ১' সিলেক্ট করে ব্লগ এডিটর (ব্লগ লেখার সময়), বা কমেন্টের উপরে (কমেন্ট করার সময়ে) 'লিংক' ক্লিক করুন।
        ৩। ছোট্ট একটি উইন্ডো আসবে এবং 'Enter the URL' দেখাবে
        ৪। আবার কলকাতা ১ এর পারমানেন্ট লিংকটি (এক্ষেত্রে //www.cadetcollegeblog.com/saidul/50349, অর্থাৎ যা ক্লিক করলে ঐ ব্লগের পেজে যাবে) কপি করে ধাপ ৩ এর 'Enter the URL' নিচে পেস্ট করুন
        ৫। OK ক্লিক করুন।

        উদাহরণ- আবার কলকাতা ১

        ব্যাস! 😀


        ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

        জবাব দিন
  7. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    যেহেতু বেশ কয়েকটি পর্ব হয়ে গেছে, আপনি এরপরের ব্লগের শুরুতে এভাবে দিতে পারেন-
    আগের পর্বগুলোঃ


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  8. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    বেশ কয়েকবার কলকাতা গেলেও এ তীর্থে আমার যাবার সৌভাগ্য ঘটেনি।
    এখানে দর্শন পেয়ে তাই ভালো লাগছে।
    আর সেইসাথে মন্তব্যের ঘরে কবিজীবন আর নানান অনুষঙ্গ নিয়ে আলোচনার একটা চকিত চমক। দারুণ!

    জবাব দিন
  9. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    বাহ, কি চমৎকার একটা কাব্যিক ধারা বর্ণনা দিয়ে গেলে সাইদুল! আমার মতে এটাই এ যাবত প্রাপ্ত সাতটি পর্বের মধ্যে সর্বোত্তম। মূল লেখা আর ঋদ্ধ মন্তব্যগুলো পড়ে খুব আনন্দ পেলাম। বলতে লজ্জা নেই, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমার পড়াশোনা নেহায়েতই অল্প। স্কুল কলেজের পাঠ্যক্রম ব্যতীত কয়েকটি কালজয়ী কবিতা আর গল্পপাঠ ছাড়া বলতে গেলে আমার সঞ্চয়ে আর কিছুই নেই। এমনকি 'গল্পগুচ্ছ'ও নয়, যা আমার বন্ধু বান্ধবেরা অনেকেই বিশ্বাস করেনা। কবিগুরুকে আমি যতটা না চিনেছি তার গল্প, কবিতা, নাটক আর প্রবন্ধের মাধ্যমে, তার চেয়ে অনেক বেশী তার গানের মাধ্যমে। এখানে পাঠকের ও লেখকের মন্তব্যগুলো পড়ে মনে হলো, কত অল্পই না জানি আমি! মৃণালিনী দেবী, সারদা দেবী, কাদম্বরী দেবী প্রমুখ রমণীকূল সম্পর্কে এখানে যতটুকুই ধারণা পেলাম, সেগুলো যে কবিগুরু সম্পর্কে অনেক পড়াশোনার পরই এমনভাবে বলতে পারা যায়, তা বেশ বুঝি। আলোচনাটি বেশ জম্পেশ জমে উঠায় উপভোগ্য হয়েছে।
    "১৯৪১-এর ৩০ জুলাই মাসে এ ঘরেই কবিগুরু তাঁর শেষ কবিতা, ‘তোমার সৃষ্টির পথ’-এর ডিক্টেশন দিয়েছিলেন। এর মাত্র সাতদিন পর তিনি পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে।" - কবিতাটি খুঁজে বের করে আমার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে পোস্ট করলাম।
    "একবার লিংক দিতে গিয়ে কী একটা করে ফেলেছিলাম, পুরো লেখাই নীল হয়ে গিয়েছিলো" - 🙂 আমারও কয়েকবার এরকম হওয়াতে এখন আর লিঙ্ক টিঙ্ক দিতে যাই না। তবে এ লেখায় বাড়তি পাওনা হিসেবে পাওয়া জুনায়েদ এর বাৎলে দেয়া পরামর্শটাকে টুকে রাখলাম ভবিষ্যতের জন্য।
    বরাবরের মতই লেখার সাবলীলতা আর এবারে সাথে কিছু স্বচ্ছ ছবির সহযোগ লেখাকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে।

    জবাব দিন
  10. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    সবগুলোতে জানান না দিলেও সিরিজটা নিয়মিত পড়ছি।

    চলতে থাকুক 🙂


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  11. সাইদুল ভাই , জমাট লেখা। সেদিনই বলতে পারতাম যে Humayn Ahmed এর লেখার কথা মনে হচছিল। পারিনি সঙকোচে। সাবিনা অাপু অার অাপনার লেখা অবাক ভালোবাসাকে সাথে করে পরি।

    জবাব দিন
  12. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    এই লিখাটা যখন আসে, কি কি সব ব্যস্ততার কারনে তখন পড়তে ঢোকা হয়নি।
    প্রিভিউ দেখেই বুঝেছি এটা অন্যত্র পড়েছি, পরে পড়লেও চলবে...

    আজ পড়তে ঢুকে বুঝলাম, তখন না পড়ে খারাপ কিছু করি নাই। এখন পড়তে বসে অসাধারন এক আলোচনাও পেলাম মূল লিখার সাথে সাথে।
    আর এই কারনে বাড়তি আনন্দের যোগান দেয়ায় লেখকের সাথে সাথে সকল অংশগ্রহনকারী আলোচককেও ধন্যবাদ।

    যাই এবার অষ্টম পর্বটাও পড়ে আসি গিয়ে.........


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।