দিনলিপিঃ আলো’র বাড়ি যাবো

পশ্চিমে জন্মালে মিলি আপার নিজের টিভি শো থাকতো, একটা দুটো ম্যাগাজিন থাকতো ওপরাহ উইনফ্রির মতো, বাড়ীর পেছনে অর্গানিক ভেজি গার্ডেন থাকতো আর প্রতি বৃহস্পতিবার রেড বেল পেপার আর ব্রাসেলস স্প্রাউটের ঝুড়ি হাতে ফটো শুট করতেন তার ফেইসবুক ফ্যানদের জন্য! কিন্তু আপা পূর্বে জন্মেছেন যেখানে রান্নাবান্না করে ঠিক জাতে ওঠা যায়না, আর মনি কাঞ্চনের কথা নাইবা বললাম এখানে!

আগের দিনে পালকি পাঠিয়ে নাইওরী নিতো গ্রামের বাড়ি আর এখন কেউ ভালবাসলে নিজেই ঘন্টাখানিক ড্রাইভ করে এসে চ্যাংদোলা করে সাথে নিয়ে যান। শুক্কুরবারের অফিস ফেরত ভাইয়া আর মিলি আপা হাজির হলেন আমাদের বাড়ি। উদ্দেশ্য একটাই, আমাদের ধরে বেঁধে নিয়ে যাবেন তাদের কাছে পুরো উইকেন্ডের জন্য!

তারা প্রথমে খানিক গা মোড়ামুড়ি করলেও আপার আদরে রাজী হয়ে গেল হাসি মুখেই। আর আমার কাছে মিলি আপার বাড়ি মানেই এক টুকরো আকাশ। আপার সাথে খলবল করে কথা বলতে পারি আমি, খুনসুটি করতে পারি জগতের সব কিছু নিয়েই। আমার ঝলমলে সব আনন্দ অথবা একাকী অশ্রুর ইতিহাস আপার মত আর কেউ জানেন না!

ক্যাডেট কলেজে দু’বছরের সিনিয়র কারো সাথে ঠিক বন্ধুত্ব হয়না। কিন্তু আমাদের হয়ে গেল। আহ্লাদের আতিশয্যে আপাকে আমি নাম ধরে ডাকতাম। তার আলেয়া নামটিকে আমি অসীম স্পর্ধায় ‘আলো’ বলতাম। আপা আমার যাবতীয় ছেলেমানুষি প্রশ্রয় দিয়েছেন অনেক মমতা আর ভালবাসায়! ছিপছিপে লম্বা দীঘল কালো চুলের আপা বড়ই ধীর স্থির অন্যদিকে বয় কাট চুলের টম বয় মার্কা আমি অস্থির খুবই, হাত পা ছোড়াছুঁড়ি করে কথা বলি অনর্গল! আপার সাথে আমার কোনই মিল নেই কিন্তু দু’জনেরি হাসি রোগ আছে বলেই জুটে গেলাম এক সাথে।

সামান্য একটা পরোটা খাওয়ার মাঝেও যে শিল্প লুকিয়ে আছে সেটা মিলি আপাই শেখালেন আমাকে!

সুনীলের কবিতা পড়ে শুনানোর বিনিময়ে আপা লকার গুছিয়ে দিতেন, আর আমার সদা উস্কুমুস্কু চুল গুলোকে আঁচড়ে দিতেন বকা দিতে দিতে। আমার সব খাদ্য অখাদ্য লেখাগুলোর প্রথম পাঠক ছিলেন আপাই! অতি সামান্য সেইসব লেখা গভীর আবেগে মাথা দুলিয়ে তিরতির করে ঠোঁট কাঁপিয়ে পড়তাম আমি। আপা সব অত্যাচার সহ্য করতেন মুখ বুজে। মায়াই লাগে বেচারীর জন্য!!

আপার বাড়ি যখন পৌঁছুলাম তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। আমাদের পেটে তখন ছুঁচোর কেত্তন চলছে। দু’জন মিলে ঝটপট টেবিল রেডি করি। খাবার গরম করতে করতে আমার প্রায় কাহিল দশা। কত কী না করেছেন আমাদের জন্য। হাঁস ভুনা তো মুর্গীর ঝোল, লাউ চিংড়ি, গরুর আচারী গোস্ত, রুই মাছের দোপেয়াজার সাথে আবার দেখি আলু বেগুন ভর্তাও আছে। ডেসার্টে পিঠা। তেল, মশলা আর নুন কেবল নয় আপা রাঁধেন এক চিমটি আদর আর এক মুঠো ভালবাসায় তাই খেতে এতো মজা হয় খাবার গুলো।

রাত জেগে আড্ডা দেই আমরা তিনজন মিলে। ভাইয়া খুবই সদালাপী আর আমুদে মানুষ। আমাদের গল্প শুনে যে কারোরই মনে হবে গভীর রাতে তিনজন ক্যাডেট বসে গল্প জুড়েছে মুড়ি চানাচুর নিয়ে।

আপার মেয়ে ফাইজা এলিমেন্টারিতে পড়ে অন্যদিকে আমার কন্যা তারা হাই স্কুলে, সুতরাং আমরা বন্ধুরা হাসাহাসিতে ব্যাস্ত থাকলেও তারা আর ফাইজা যে যার ডিভাইস হাতে একজন উত্তরে কাউচে বসে থাকলে অন্যজন কার্পেটে শুয়ে থাকে। মাঝেমাঝে উঁচু স্বরে হাসে ফাইজা আর তারা চমকায়!

আপার ডাকাডাকিতে ঘুম ভাংলো বেলা করে। পুরো সপ্তাহ জুড়ে সকাল বেলা গ্রিক দইয়ের সাথে ওটমিল আর আপেল-পালংশাকের স্মুদি খেতে খেতে জিভে মরচে ধরছিল আমার। খাবার টেবিলে দেখি মহা চমক! একদিকে গরম গরম চিতই পিঠা আর গরুর গোস্ত, অন্যদিকে খোলা জালি পিঠার সাথে ফ্রেশলী গ্রেটেড নারকোল আর ঝোলা গুড়। ভারী ক্যাস্ট আয়রনের প্যানে আমি নিজেই ফাটাফাটি চিতই পিঠা বানাই তাই ওতে নতুনত্ব নেই কিছুই কিন্তু অই যে খোলা জালি পিঠা সেটি তো খাইনি কখনোই! খোলা জালি পিঠা তো নয় যেন শিল্পকর্ম একখানি! কী চমৎকার দেখতে লাগছে! এই দিকে কোরা নারকোল থেকে সুবাস আসছে নাকে আর ঝোলা গুড় যে এমন করে খেতে হয় জানি না তো! একটু একটু করে তারিয়ে তারিয়ে খেতে খেতে গল্প করি আমরা। সবশেষে ভাইয়া নিয়ে এলেন মালাই চা। আহ! বেঁচে থাকবার মতো আর আনন্দ হয় না!

নাস্তা খেয়েই বেড়িয়ে পড়লাম সবাই মিলে, লং ড্রাইভে যাবো। ওদিকটাতে সিনিক ভিউ দারুণ। শনিবারের সকালে চুপচাপ চারপাশ। অর্কের গান পেছনে ফেলে ভাইয়ার জোকস শুনে হাসাহাসি করি সবাই মিলে। বাড়ী ফিরতেই কী বোর্ডে আমার ভীমপলশ্রী শুনতে শুনতে আপা কাচ্চি বিরিয়ানী রাঁধতে বসেন। দইয়ে ম্যারিনেটেড মাটনের ভাঁজে ভাঁজে রূপবতী টিল্ডা বাসমতী ছড়িয়ে দেন আপা। ঘিয়ে ভাজা আলুর সাথে, ডিম, আলু বোখারা, জাফরান আর কেওরা জলও বাদ যায় না! সাথে কিসমিস, বাদাম আর মাওয়া তো আছেই!

ক্যাডেট কলেজ থেকে আমাদের প্রাপ্তির অন্ত নেই আমি জানি। সব প্রাপ্তির হিসেব শেষে আমি বলি, আমার ‘আলো’ আপা না থাকলে আমার ক্যাডেট জীবন অসম্পূর্ণ থাকতো। অথবা অন্যভাবে বলা যায়, শুধু মাত্র আলো আপা কে পেলেও আমার ক্যাডেট জীবন ধন্য হয়ে যেতো।

৩,৫৩১ বার দেখা হয়েছে

৩৩ টি মন্তব্য : “দিনলিপিঃ আলো’র বাড়ি যাবো”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আপনার বন্ধু ভাগ্য ইর্ষনীয়, লেখা সবসময়ের মতই দারুন 🙂 মিলি আপুকেও এখানে নিয়ে আসুন না


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

      🙂 🙂 🙂 🙂

      আশা কি তুমি ভাল আছো। দিনলিপি অথবা স্মৃতিকথা লিখতে থাকো সিএমএইচে বসে বসে!

      আমার বন্ধু ভাগ্য সত্যি দারুণ, আকাশ! আমার মিলি আপা এখানে আসার পর আমাদের আটলান্টা আরো সুন্দরী আর আনন্দময়ী হয়ে উঠেছে! আপার বাড়ি গেলেই আমার ছোটবেলার গল্প শোনান আপা। কত কী যে গল্প আছে আপার ঝুলিতে, যদি জানতে!

      কলেজে আমাদের রুমের ভেন্টিলেটরে পাখি বাসা বানিয়েছিল। সেই বজ্জাত পাখির একটা আমাকে দেখতে পেলেই আমার চুলে এসে বসতো। একদিন একটার পা আটকে গেল আমার সদা উস্কুমুস্কু চুলে আর আমি চেঁচামেচি করে কি করে হাউস মাথায় তুলেছিলাম আপা জানেন! মিলি আপা এখনো রসিয়ে রসিয়ে এসব বলেন আমাদের পার্টিতে, জানো!

      মোটে দু'বছরের বড় আপা আমাকে মায়ের মত ভালবাসেন বললে খুব হাস্যকর শোনায় আমি জানি। মিলি আপা আমাকে প্রায় মায়ের মতোই ভালবাসেন সত্যি। মুখে তুলে খাইয়ে দেবেন এখনো সবার সামনেই। আপা টুপারঅয়ার ভরে খাবার দিয়ে দেবেন আমার বাড়ি বরাবর ফিরবার পথে। গল্প করতে করতে চোখ থেকে চশমা খুলে নিয়ে আপা কীসব যাদু মন্তরে মুছে দেবেন যে আমার চারপাশের পৃথিবী ঝকমক করে ওঠে তাতে, এমনই মমতাময়ী তিনি!

      আপার রেজিস্ট্রেশন আটকে ছিল অনেকদিন সিসিবির গ্যাড়াকলে। আপার লেখাও খুব ঝরঝরে। আশা করি মিলি আপা তার দারুণ সব গল্প নিয়ে আসবেন আমাদের জন্য।

      জবাব দিন
  2. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    "আর আমার কাছে মিলি আপার বাড়ি মানেই এক টুকরো আকাশ।"
    "সামান্য একটা পরোটা খাওয়ার মাঝেও যে শিল্প লুকিয়ে আছে সেটা মিলি আপাই শেখালেন আমাকে!"
    "তেল, মশলা আর নুন কেবল নয় আপা রাঁধেন এক চিমটি আদর আর এক মুঠো ভালবাসায় তাই খেতে এতো মজা হয় খাবার গুলো।"
    - কি করে যে এসব কথাগুলো এত সুন্দর করে বলতে পারো!
    ছোট ছোট আলাপ সালাপ, শৈল্পিক ছোঁয়ায় মূর্ত হয়ে উঠলো।

    জবাব দিন
  3. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    🙂 🙂 🙂 🙂

    আপনার মন্তব্য পড়ে খুব সম্মানিত বোধ করছি, ভাইয়া! অনেকদিন পর আবার লিখতে মন চাইছে হঠাৎ করে, জানেন! অনেক ধন্যবাদ আপনার সদয় মন্তব্যর জন্য!

    আপাকে নিয়ে একটা গল্প বলি তবে। গেল সামারে আমরা সবাই মাছ ধরতে গিয়েছিলাম লেকে। আমি মোটামুটি জেলেদের মতোই মাছ ধরতে পারি, অথবা অন্যভাবে বলতে গেলে, মাছেরা আমাকে দেখলেই হুটোপুটি করে আত্মহত্যা করতে চলে আসে! পটাপট মাছ আসছে আমার বড়শীতে সেদিন। বাকীদের কেউ কেউ খাবার নিয়ে, কেউবা গান অথবা গল্পে ব্যস্ত। আমার মিলি আপা কেবল ভাবলেন, সব খাবার ফুরিয়ে যাচ্ছে অথচ আমি খাইনি কিছুই। আমার তখন মাছের নেশা চেপে বসেছে, আমি খাবো না কিছুতেই। অতএব চিরকালের উল্লুক আমাকে আপা সবার সামনে মুখে তুলে তুলে খাইয়ে দিয়েছেন। এই হলো আমার আপা!

    জবাব দিন
  4. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    🙂 🙂 🙂 🙂

    আমার মা দেশে গেলে খুব মুখে তুলে খাইয়ে দেন এখনো, ভাইয়া। আমারও পছন্দ খুব আমার ভালবাসার মানুষদের মুখে তুলে খাইয়ে দেয়া। আমার মনে হয় এটি একান্ত বাঙালীদের সংস্কৃতি। অথবা অন্যভাবে বলতে গেলে আমাদের ভালবাসার সংস্কৃতি এমনই!

    জবাব দিন
  5. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    ফা-টা-ফা-টি-ই-ই-ই-ই
    তুমি প্রথম যখন এলে, ঝুলে পড়া সিসিবিতেও ছোট খাটো একটা ঝড় তুলে দিয়েছিলে বোন।
    তুমি চলে যাওয়ার (সাময়িক) কারনেই হয়তোবা আমার মনে হয়েছিল সিসিবি আরেকবার ঝুলে গিয়েছিল।
    এইবারের সিসিবি আগের চেয়ে অনেক অ-নে-ক বেশী সপ্রতিভ।
    আর তোমার উপস্থিতি একে আ-র-ও অনেক বেশী প্রস্ফুটিত করছে, করবে - আমি নিশ্চিত।
    আর যাও না কিন্তু......
    "ঐখানে যেও নাকো তুমি, বল নাকো কথা ঐ যুবকের সাথে......"
    (কনটেক্স ভিন্ন, তাও বলতে ইচ্ছা হলো)


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

      :boss: :boss: :boss: :boss:

      চোখ গোলগোল করে তুমি 'ফা-টা-ফা-টি-ই-ই-ই-ই' না বললে আমার লেখার আনন্দ সব মাটি হয়ে যায়, পারভেজ ভাইয়া!

      অনেক ধন্যবাদ পড়বার জন্য তোমাকে। যদিও আমার হামেশাই মনে হয় সিসিবিতে তোমাদের সবাইকে আমি খুবই জ্বালাচ্ছি লিখে লিখে। তোমার প্রশংসায় লাল নীল হয়ে যাচ্ছি। সিসিবি আবার জ্বলে ওঠার পেছনে আমার ভূমিকা খুব সামান্য, ভাইয়া। তবে আমি এসেই তোমাদের থেকে যে ভালবাসা পেয়েছি তার তুলনা হয়না সত্যি। 🙂 কেউ না জানুক আমি জানি, তুমি সবাইকে কতটুকু উৎসাহ জোগাও সিসিবিতে লিখবার জন্য। কত যে সব নতুন মুখ দেখতে পাচ্ছি প্রতিদিন এখানে... সেই আগের মত হাসি আনন্দে মেতে উঠুক আমাদের ব্লগ এই প্রত্যাশা করি।

      অফ টপিকঃ যুবকের সাথে কথা বলবার জন্য প্রাণ আইঢাই করছেগো!

      জবাব দিন
      • পারভেজ (৭৮-৮৪)

        যেখানে খুশি যাও, যার সাথে কথা বলতে মন চায় - বলো।
        কোন সমস্যা নাই।

        কিন্তু দিনের শেষে :
        "ফিরে এসো সুরঞ্জনা (সাবিনা),
        নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;
        ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে;
        ফিরে এসো..."
        আমাদের একান্ত আপন এই ব্লগস্ফেয়ারে...
        😀 😀 😀 😀 😀 😀 😀 😀


        Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

        জবাব দিন
  6. সামিউল(২০০৪-১০)

    আফা, লেখা বরাবরের মতই মাশাআল্লাহ। :boss: :clap:
    আপনে আর মিলি আফা দুজনের হাতের রান্নাই খাওয়া লাগবে।

    আর দেরি করে ব্লগ পড়তে আসার জন্য :frontroll: :frontroll:


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন
  7. Madam Sabina, in this piece, you have brought the themes of love for your sister Milli, her wonderful cooking, and her beautiful soul and have woven this beautiful tapestry. While Milli is not a celebrity cook or a grandiose person like Oprah in real life, she is exactly that if not more in your eyes. I speak subjectively when I say cooks are awesome people. I believe, no one who cooks, cooks alone or is ever alone. Even at her most solitary, a cook in the kitchen is surrounded by generations of cooks past, the advice and menus of cooks present, and the wisdom of the cookbook writers.

    I was particularly impressed by the statement that you did not know that a simple paratha could have this much art hidden in it and it was your sister Milli imparted that secret to you. Like the wonderful layers of a paratha, your sister Milli has many layers of wonderfulness as well! Certainly when one says that man cannot live by bread alone, never heard of a paratha, especially one made by your sister.

    If home is where your heart is, then your images of the kitchen , the different foods, the recipes, and the people, paint a picture where the kitchen is the throbbing vibrant heart of the house and the epicenter of love in the household. And your sister Milli is the Captain of it’s soul.

    জবাব দিন
  8. জিয়া হায়দার সোহেল (৮৯-৯৫)

    কি সুন্দর না মিলি আপু। অনেক ভালো এবং অনেক সুস্থতার মধ্যে কাটুক আপুর সময় আর সাবিনা আপু সব আদর খেয়ে যাক। অনেক সুন্দর করে লিখছ, সাবিনা আপু। এক ভালবাসার মানুষ অন্য এক ভালবাসার মানুষ সম্পর্কে লিখেছে, সুন্দর তো হবেই। ভালবাসা। :clap: :clap:

    জবাব দিন
    • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

      🙂 🙂 🙂 🙂

      উইকেন্ডে আমার এক জুনিওর বন্ধু আসছে এমজিসিসি থেকে। আমার প্রায় আধা বয়েসী বন্ধুর সাথে দেখা হয়নি কখনোই। ফেইসবুকেই পরিচয় আর ভীষণ ভালবাসা। নিউ অরলিন্স থেকে নয় ঘন্টা বাসে চড়ে আসবে ও ক'টা দিনের জন্য। মিলি আপা আর আমরা আড্ডা দিবো জমাটি আবার। বেঁচে থাকবার মত আনন্দ আর হয় না, জিয়া!

      জবাব দিন
  9. জানালা খুললে যেমন দখিনা বাতাস ঘরের জমাট গুমোট দূর করে দেয়, নিয়ে আসে অচেনা সৌরভ আর পাখিদের গান, শোনায় তেপান্তরের ডাক...তোমার লেখা গুলো তেমনই!

    জবাব দিন
  10. সাবিনা, লেখাটি বরাবরের মতই দারুণ! এ লেখাটি কেবল আমাদের গল্প নয়, বাণিজ্যিকীকরণের এই যুগে মানুষের অনাবিল মানবীয় সম্পকর্গুলোর এক সরল চিত্রায়ন! লেখাটি পড়তে পড়তে আবেগে আপ্লুত হয়েছি, কখনোবা চোখের সামনে মেলেছে কুয়াশার চাদর! খুব সাধারণ আতিথেয়তা, বন্ধুত্ব, প্রাত্যহিক জীবনাচার তোমার মায়াবী লেখায় হৃদয় ছূঁয়ে গ্যাছে...............

    জবাব দিন
  11. এস এম আফজালুর রহমান (মকক ৯৫-০১, ৩৩ তম)

    সাবিনা আপার লেখা বরাবরই ভাল, তাই উনার লেখা নিয়ে আমি আর বেশি কিছু বলতে চাই না, এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলি, এবার এত খাবার-দাবার এর কথা পড়ে একটু সময় লাগল, কারন বারবার করে খাবারের নামগুলো পড়ছিলাম আর নিজেকে ঐসব খাবারের সামনে চিন্তা করছিলাম 🙁
    আপু মিলি আপাকে ১৯তারিখের জন্য যত্নসহকারে তৈরি হওয়ার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানানো হইল। হাঁস ভুনা, মুর্গীর ঝোল, লাউ চিংড়ি, গরুর আচারী গোস্ত, রুই মাছের দোপেয়াজার সাথে আলু বেগুন ভর্তা। ডেসার্টে পিঠা ও দই।সকাল বেলার নাস্তায় চিতই পিঠা আর গরুর গোস্ত, খোলা জালি পিঠার সাথে ফ্রেশলী গ্রেটেড নারকোল আর ঝোলা গুড়। এইসবই যেন তৈরি থাকে (অনুরোধের সুরেই বলছি) তাই বলে অনুরোধ না রাখার চেষ্টা করলে কিন্তু......... 😛

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।