কতিপয় ওয়েবসাইট ব্লক ও কিছু আজাইরা প্যাচাল

আমাদের সাবমেরিন ক্যাবল সংযুক্তির ইতিহাস আশা করি সবার মনে আছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো সরকারের প্রথম ডিজিটাল পদক্ষেপ দেখে বুঝলাম, আমাদের সরকারের তথ্য উপদেষ্টাদের মানের তেমন বেশকম হয় নাই। হাজারটা প্রক্সি সার্ভার আছে, কোটি কোটি ওয়েবসাইট আছে, কয়টা ব্যান করবেন? আইটি একটা জাউরা টেকনোলজি – আপনে কঠিন মাপের এক্সপার্ট দিয়া কোনো কিছু সিকিউর করলেও দেখা যাইবো চাইর আনা সাইজের এক পিচ্চি ঐটা ক্র্যাক কইরা বগল বাজাইতেসে – কারন রিসোর্সের অভাব নাই। এই অবস্থায় বিটিটিবিতে সামান্য ওয়েবসাইট ব্লক দেওয়া ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের যুদ্ধে যাওয়ার মতোই ঘটনা।

এছাড়া আমি এখনো বুঝি নাই ঐ অডিও ফাইলগুলাতে দেশ ও জাতির “সংহতি” নষ্ট হওয়ার মত কি ছিল। যদি সত্যিই থেকে থাকে তাহলেও আপনি ইউটিউব/ইস্নাইপ্স/মিডিয়াফায়ারের মত জনপ্রিয় সাইট ব্যান করতে পারেন না। সেনসিটিভ ম্যাটেরিয়াল ব্লক করার জন্য এদের সবারই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে, যার সারমর্ম হইলো কেউ আপত্তি করলেই ওরা ঐসব ফাইল ডিলিট করে দেয়।

আমি খুব ভালো করে এইটা জানি কারন প্রায়ই উল্টাপাল্টা জিনিশ আপলোড করে ধরা খাই; বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ারে হারানোর পর পরই আমি পুরা খেলার হাইলাইট আপলোড করে দিছিলাম; ২০ মিনিটের মধ্যে ঐটা ডিলিট হয়ে যায় আর ২ দিন পরে আইসিসির আপত্তি এবং সম্ভাব্য জরিমানা উল্লেখ করে ইউটিউব থেকে একটা ইমেইল আমার ইনবক্সে হাজির হয়।

অলিম্পিক চলাকালীন সময় আয়োজকরা আলাদাভাবে ইউটিউব মনিটরিং টিম রাখছিল, যারা আলাদাভাবে খেয়াল রাখতো গেমসের কোনো হাইলাইট যাতে ঐখানে আপলোড না হয় (আমি এইটা জানি কারন আমার এক ভিয়েতনামিজ কলিগ ঐ টিমে ছিল)। মোটামুটি ভাবে এইটাই এখন স্ট্যানডার্ড পদ্ধতি, যেখানে আপনার একটা বিশেষ মনিটরিং সেল বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নজর রাখবে, আর যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে। তা না করে গন্ডারের মতো পুরো ওয়েবসাইট ব্যান করা আমাদের সরকারের অজ্ঞানতা প্রমান করা ছাড়া আর কিছুই করে না।

১,৫০০ বার দেখা হয়েছে

১৭ টি মন্তব্য : “কতিপয় ওয়েবসাইট ব্লক ও কিছু আজাইরা প্যাচাল”

  1. সাজিদ (২০০২-২০০৮)

    আরমির অডিও ফাইলের জন্য ব্যান কোরে নাই, শেখ সেলিমের একটা স্বীকারক্তি আপলোড করসে কেজানি, ঐটার জন্য ব্যান করসে, ডিজিটাল বাংলাদেশে সরকারের কুকর্ম ডিজিটালি ফাস হবে এটা সরকার চাইনাই

    জবাব দিন
    • সাল্লু (৯২/ম)

      এইটা জানতাম না। এখন পর্যন্ত যত রিপোর্ট দেখছি তাতে কারন হিসেবে সেনাকুঞ্জের অডিও টেপের কথাই বলা। প্লাস তোমার মন্তব্যের পর ইউটিউবে ঢুকে শেখ সেলিমের জবানবন্দী দেখলাম। যেগুলা আছে সেগুলা ২০০৭ এর মাঝামাঝি সময়ে আপলোড করা। প্রায় ২ বছর আগের জিনিশ নিয়া সরকারের এখন চুলকানি হইবো কেন?

      ইউটিউব স্ক্রীনশট

      জবাব দিন
    • আরমির অডিও ফাইলের জন্য ব্যান কোরে নাই, শেখ সেলিমের একটা স্বীকারক্তি আপলোড করসে কেজানি, ঐটার জন্য ব্যান করসে, ডিজিটাল বাংলাদেশে সরকারের কুকর্ম ডিজিটালি ফাস হবে এটা সরকার চাইনাই

      এত নিশ্চিতভাবে কেমনে বুঝলা? তোমার কাছে যদি এইটার স্বপক্ষে কোন তথ্য থাকে সেইটা দাও, না থাকলে বল এইটা একটা সম্ভাবনা ... তুমি যেমনে লিখলা সেইটা একটা প্রপাগান্ডা ছাড়া আর কিছু হইল না ...

      শুধু ইউটিউব ব্যান করলে অনেক কিছুই চিন্তা করা যাইতো, কিন্তু সাথে সাথে যখন ইস্নিপ্স, মিডিয়াফায়ার, আপ্লোড-এম্পিথ্রী এইসব সাইটও ব্যান করে তখন সরকার যে অডিও ফাইল নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তিত এইটা বুঝতে আইন্সটাইন হওয়া লাগে না ...

      সাম্প্রতিক সময়ে একটা অডিও ফাইলের কথাই আমরা জানি যেটার ডিস্ত্রিবিউশন নিয়ে সরকার/ সেনাবাহিনী চিন্তিত হইতে পারে ...

      আমার খালি একটাই প্রশ্ন, একটা কনফিডেনশিয়াল মিতিংয়ের তথ্য যখন ইউটিউবে চলে যায় তখন কোনটা আগে করা উচিত? মিটিংয়ে মোবাইল নেয়া বন্ধ করা, নাকি ইউটিউব ব্যান করা?

      এত ঝামেলা না করে সাবমেরিন ক্যাবলটা কেটে দিলেই হইতো x-(

      জবাব দিন
      • এইখানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান রিটায়ার্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়া আহমেদের সাক্ষাতকার আছে, যেখানে তিনি ক্লিয়ারলি জানাচ্ছেন যে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং সেনা কর্মকর্তাদের মিটিংয়ের অডিও ফাইল ডিস্ট্রিবিউশন "জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট" করায় ইউটিউব ও ইস্নিপ্স ব্যান করা হচ্ছে ...

        এই ফাইলগুলি রিমুভের জন্য এই সাইটগুলির কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন "প্রয়োজন হলে" অবশ্যই করা হবে ...

        আশা করি কেন ব্যান করা হইছে সেটা নিয়ে জল ঘোলা করা বন্ধ হবে ...

        ফাইলটা ইস্নিপ্সে আপলোড করা, দেশ থেকে শুনতে চাইলে কিছু সিস্টেম করতে হবে, আশা করি সেটা সবাই জানে ...

        আর সাজিদ শফিকের জন্য ছোট্ট উপদেশ, কোন কিছু না জেনে প্রপাগান্ডা ছড়ানো ঠিক না

        জবাব দিন
  2. ইফতেখার (৯৫-০১)
    সেনসিটিভ ম্যাটেরিয়াল ব্লক করার জন্য এদের সবারই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে, যার সারমর্ম হইলো কেউ আপত্তি করলেই ওরা ঐসব ফাইল ডিলিট করে দেয়।

    ......

    ডিজিটাল বাংলাদেশে সরকারের কুকর্ম ডিজিটালি ফাস হবে এটা সরকার চাইনাই

    এ তো মাথা ব্যাথা হইলে মাথাই কেটে ফেলার মত চিকিৎসা।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।