একটি ক্যাডেটিয় প্যাচালঃ ডেট লাইন ১৭ জুন

ক্যাডেট কলেজে পড়ার ইচ্ছার সূত্রপাত কি কারনে তার অনেক গবেষণা করি মাঝে মাঝে। আব্বু-আম্মু’র ইচ্ছা ছিল কোন সন্দেহ নেই।এর প্রথম কারন নিঃসন্দেহে ক্যাডেট কলেজে চান্স পেলে অন্তত ভাল রেজাল্ট করতে পারব এবং দ্বিতীয়ত তারা বেশ ভাল করেই বুঝতে পারছিল আমি যদি বাইরে থাকি তাহলে আমার নষ্ট হয়ে যাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।কাজেই যে কোন মূল্যে আমাকে যদি ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করাতে পারে তাহলেই নিশ্চিন্ত। এ জন্য আব্বু অবশ্য আমার পিছনে কম লাঠি খরচ করে নি। 😛
সে যাই হোক, এটা ছিল প্যারেন্টস এর কারন কিন্তু আমার নিজের ও অনেক ইচ্ছা ছিল ভর্তি হওয়ার। কিন্তু কেন?এটা মাঝে মাঝে খুজি। কিছু কিছু ফানি কারন মাথায় আসে।
ভাইয়া যখন ক্যাডেট কলেজে পড়ে, ছুটিতে আসার সময় ওদের একটা প্যাকেট ব্রেকফাস্ট দিত। পরাটা,গরুর মাংস আর ডিম আর যারা একবার অন্তত ক্যাডেট কলেজের পরাটা আর গরুর মাংসের স্বাদ পেয়েছে তারা বেশ ভাল করেই জানে ওইটা কি জিনিস।আমার স্মৃতিশক্তি যে পর্জন্ত সময় আমাকে মনে করায়, ভাইয়া কখনো পথে ওই প্যাকেট ভুলেও খুলত না।পরম মমতায় ছোট ভাইয়ের জন্য ওই প্যাকেটটা বাসা পর্জন্ত নিয়ে এসে আমার হাতে তুলে দিত আর আমিও অতীব নির্লজ্জের মত ভাইয়ার প্রতিটা ছুটির দিনে বাসার গেটের সামনে বসে থাকতাম যে কখন ভাইয়া আসবে আর আমি নির্লজ্জের মত হাত বাড়িয়ে দেব।খুবই সামান্য একটা জিনিস কিন্তু এর মধ্যে যে আসলে কতটা ইমোশন জড়িত এখন বুঝতে পারি। ভাইয়ার তখন কতই বা বয়স ছিল কিন্তু এই সামান্য কাজটা সে কখনো ভুল করেনি বা কখনো এমন হয়নি যে ভুল করে খেয়ে ফেলেছে। নিজে না খেয়ে টেনে এনেছে বাসা পর্জন্ত ছোট ভাইয়ের জন্য। ( এই পরোটা গরুর মাংসের লোভ একটা কারন হতে পারে।)
ভাইয়ার প্যারেন্টস ডে তে গেলেও সেইম কাহিনী। নিজে না খেয়ে বসে বসে আমাকে খাওয়াতো। আমিও নির্লজ্জের মত খেতাম যেন এটা আমার অধিকার। আব্বু আম্মু ওর জন্য এতো কিছু তৈরি করছে দেখে আমার হিংসা লাগত কিন্তু প্যারেন্টস ডে তে গেলে ঠিকই আমার পেটে খাবার ঢুকত।
ওই সময়ও ভাইয়া একটা কাজ করত সবসময়। বাসা থেকে আসার সময় কিংবা আমি প্যারেন্টস ডে তে গেলে আমাকে কিছু ঠাকা দিত। বেশি না হয়ত ২ টাকা , ৫ টাকা কিংবা মাঝে মাঝে ১০ টাকা। ওই সময় ওই টাকাই অনেক তাও আবার সে নিজে ক্যাডেট। নিতান্তই আব্বু আম্মুর দেয়া পকেট মানির টাকা থেকে বাচিয়ে আমাকে দেয়া।এই সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলো কেন যেন আমাকে ক্যাডেট কলেজ মুখি করে তুলছিল।
ভাইয়া যেদিন কলেজে চলে যেত আমি বাসায় বসে কাঁদতাম, ভাইয়া কোনদিন জানেনি হয়ত কিন্তু জানিনা কেন প্রচুর কান্না পেত। প্যারেন্টস ডে থেকেও আসার পর সেইম কাহিনী।মনে হত দৌড় দিয়ে কলেজে চলে যাই।ওই সময় মনে হত, আমিও যাবো ওখানে। একবার ভাইয়া নিয়ে গেল হাউজে ওর রুমে। আমার সে কি আনন্দ। মনে হল অনেক কিছু পেয়ে গেছি এবং একই সাথে ইচ্ছা আরো দৃঢ় হল যে এখানে আমাকে আসতেই হবে।
ভাইয়ার খাকি ড্রেসের প্রতিও একটা দুর্দমনীয় আকর্ষণ কাজ করত আমার। কেন জানি না। ভাইয়াকে খাকি ড্রেস পড়া দেখলেই মনে হত যে না আমারো জিনিসটা পড়া দরকার।
যাই হোক সব মিলিয়ে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির ব্যাপারে মোটামুটি আমি রেডি ইচ্ছার দিক থেকে। কিন্তু চান্স পাওয়া তো আর এতো সোজা না।যে বললাম আর চান্স পেয়ে গেলাম।শুরু হল পড়ালেখা। গুরুগৃহ প্রকাশনীর গাইড নিয়ে কাটে আমার দিন রাত।কোচিং কোথাও করিনি কারন আমার গৃহ আমার বড় কোচিং আর আব্বু আমার বড় শিক্ষক। চলল প্রিপারেশন আর গাছের ডালের উপর নির্মম অত্যাচার। মাঝখানে একদিন ভাইয়ার হাতেও খেলাম স্মরন কালের সেরা মাইর।
রিটেন দিতে গেলাম, পাশের সিটে দেখি গোলগাল সাইজ এক ছেলে বসে আছে দেখতে কিছুটা চাকমা টাইপ। হাই হেলো বলে জিজ্ঞেস করলাম যে কোন স্কুলে পড়ে? উত্তর দিলো রাঙ্গামাটি জেলা স্কুল। সিউর হয়ে গেলাম এটা চাকমা। পরিক্ষা শুরু হল প্রথমে অংক। সব অংকই দেখি পাড়তেছি কিন্তু সরল এর গরল আর মেলে না। অনেক কাটাকুটির ফাকে ওই চাকমারে জিজ্ঞেস করলাম যে সে সরল করেছে কিনা? সে কইলো যে হ্যা এবং আমাকে দেখালো যে সে সুন্দর করে মিলিয়ে ফেলেছে। মনে মনে বিশাল এক Respect দিয়া কইলাম যে এইটা আসলেই একটা জিনিস (যা পড়ে আমি আসলেই টের পেয়েছি যে সে আসলেই কি জিনিস)। কিন্তু উত্তরপত্রে সরল করার জন্য যে জায়গা বরাদ্দ ছিল তা সম্পুর্ন খেয়ে ফেলায় আমার আর পুনরায় চেস্টা করার কোনই সুযোগ ছিল না। বাকি পরিক্ষা মোটামুটি দিলাম বের হওয়ার পড়ে ভাইয়া জিজ্ঞেস করলো অংক পরিক্ষা কেমন হইছে? কত পাবি?
আমি বললাম সরল বাদে সবই তো পারলাম। আশা করি অন্তত ৮০ পাব। ভাইয়া কইলো তোর ৮০ পাওয়া লাগবে না , ৬০ পাইলেই চান্স পাবি।পরে বাসে আসতে আসতে একেকটা অংকের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে আর আমি দেখি কোন না কোন ভুল করে রেখে আসছি। শেষে দেখি আমার তো পাশ নিয়াই টানাটানি। মনটা গেল খারাপ হয়ে,ভাইয়া ঘোষণা দিল আমি চান্স পাচ্ছি না। কিন্তু ক্যামনে ক্যামনে যেন রিটেন উতরে গেলাম(পরে শুনেছিলাম, মোল্লা স্যার এর ভয়ানক প্রশ্নের কারনে মারাত্মক ফলাফল বিপর্জয় দেখা দিয়েছিল,অই কারনে বোধহয়)।
ভাইভা দিতে গেলাম যেদিন , দেখি আমার সিরিয়াল ৩ নাম্বার আর ১ নাম্বার সিরিয়ালে আবার ওই চাকমা। হালকা কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম হয়ত ঠিক মনে নেই, হাসপাতালে বিমল দা আর হাশেম ভাইয়ের উপস্থিতিতে ২ খানা কাশি সমেত ইজ্জত লুন্ঠিত মেডিক্যাল শেষে এলাম ভাইভাতে। ওইটাও একদম খারাপ হয়নি কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি যে চান্স পাওয়ার মত ভাইভা দিয়েছি কিনা।
যেদিন রেজাল্ট দিলো সকালে খবর পেলাম যে রেজাল্ট বের হয়েছে এখন শুধু পেপার আসার অপেক্ষা। আমি আমাদের টিনের বাসার ২ তলা থেকে আর নামি না নিচে ভয়ে। ফাইনাল খবর এলো দুপুরের দিকে আমি তখন বাসার পানির কলের কাছে বসে গোসল করছি। আমার এখনো মনে আছে আমি আব্বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছিলাম চান্স পাওয়ার আনন্দে কারন একমাত্র আব্বুই বলছিল যে আমার বিশ্বাস যে রায়হান চান্স পাবে।
এর পর আর কি আমার খুশি টাইম শুরু।কলেজে যাওয়ার আগা পর্জন্ত কেউ আমাকে কিছু বলে না খাই দাই ঘুমাই। আদর আপ্যায়ন বেড়ে গেল আর আমিও ভাইয়ার মত খাকি ড্রেস গায়ে চাপানোর সপ্নে বিভোর। আরো চিন্তা করতে লাগলাম যে ওইখানে গেলে তো আর কেউ আমাকে জোড় করে পড়ার টেবিলে বসাবে না। কি মজা। এই করতে করতে এসে গেল জয়েনিং এর দিন।
১৭ জুন,১৯৯৮। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল সেদিন। এক মাইক্রোবাস সহযোগে আব্বু আম্মু ভাই বোন সহযোগে কলেজে পোউছালাম। দিদার ভাই এলো রিসিভ করতে নিয়ে গেল ২৩৩ নাম্বার রুমে। শের-ই-বাংলা হাউজে পড়ায় আগে থেকেই একটু এক্সসাইটেড ছিলাম কারন ভাইয়াও ছিল শের-ই-বাংলা হাউজে আর তখন ভাইয়ার কাছে অনেক গল্প শুনেছি হাউজ সম্পর্কে। আর কলেজের ম্যাগাজিনগুলো পড়ে জেনেছি তখন সব কিছুতে চ্যাম্পিয়ন হয় এই হাউজ। কাজেই আমি তো মহা আনন্দে।রুমে গিয়ে দেখি ওই চাকমা আমার রুমমেট।যদিও বেচারা চাকমা ছিল না। 😛
এরপর আর কি? শুরু হল আমার ক্যাডেট জীবন। নামের সাথে সিল হয়ে গেল আজীবনের এক নাম্বার যা মরনের আগ পর্যন্ত নামের সাথে ঝুলবে – ১০৫০।
বাসার সবাইকে বিদায় দিয়ে মনে খারাপ তার উপর রিপন ভাইয়ের হাতে চড় খাওয়ার মাধ্যমে শুরু (এই গুলো নিয়ে আরেকদিন লিখবো)। এই মন খারাপের হাজারো উপলক্ষ কেটে জেতেও ঠিক সময় লাগে নি। পেয়ে গেলাম আমি ছাড়াও আমার মত আরো ৫০টি বালক। বরিশাল ক্যাডেট কলেজের ২১ তম ব্যাচ হিসেবে যারা জন্মগ্রহন করে ১৯৯৮ সালের ১৭ জুন।
সর্বমোট ৫১ জন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। ক্লাস ৮ এ রাকিব চলে গেল USA যাওয়ার জন্য ফ্যামিলির সাথে। এর পর বিভিন্ন পরিক্রমায় আরো কিছু নাম হয়ত ঝরে পরেছে authority র ফাইল থেকে কিন্তু ২১ তম ব্যাচের লিস্ট থেকে নয়। তবে আফসুস থেকে যায় পুরো ৬ বছরের পথ চলায় এদের সঙ্গি হিসেবে রাখতে না পেরে। আরিফ,ফাহিম,অভিজিত, মাহমুদ আর রাকিব।ক্লাস ১২ এ যখন বের হব এই ৫ জন নেই আমাদের সাথে সশরীরে। কিন্তু আজো ২১ তম ব্যাচের প্রতিটা ক্যাডেটের সব কিছু মনে পড়ে। সামি থেকে শুরু করে শিহাব পর্জন্ত একেকজন ছিল একেক টাইপ। হাসি ঠাট্টা আর দুষ্টামি করে কাটিয়েছি এতোটা দিন।তাইতো এখনো ভুলতে পারিনা আসাদের সেই বাথরুমে ভুঁড়ি দোলানো নাচ কিংবা বাজি ধরে মাহিমের শীতের রাতে সেকেন্ড প্রেপের পরে কলেজ ফোয়ারাতে দেয়া ১০১টা ডুব।হকের কোরান তিলাওয়াত আর নাফিসের তাহার ইংরেজি তরজমা যা দিয়ে শুরু হত প্রিন্সিপাল এসেম্বলি। তাহসিনের ICCLM এর বিতর্কের জন্য অক্সফোর্ড ডিকশনারি থেকে এক শব্দের ৩০ টি মিনিং খুজে বের করা,ফাহাদের ৩ কিলো দৌড় শেষে যেন কিছুই হয়নি এমন ভাবে ফিনিশিং পয়েন্টে এসে চেক মারা,আশিফের টোকা দেয়া আর জানালার গ্লাস ভেঙ্গে ফেলা আর এটা নিয়ে পলাশ আফতাবের ক্রমাগত টিজ করা ও মাইর খাওয়া ভোলার নয় কোন কিছুই।
এখনো মনে পরে গ্লামার বয় রুসাইয়াত এর পাওয়া চিঠির কথা,আর কাওসার , মেহেদি এদের কাছে ক্রমাগত MABS এর গল্প শোনা।
আর ছিলো এক ঝাক ভদ্রঃ মাশকুর,আন্দালিব(পরে নষ্ট হইছে 😛 ) , মরিয়া আরেফিন, ইসলাম, শাহরিয়ার, নয়ন, তারিক।
লাইব্রেরি সংঘটক সামস এবং উহার কিছু নিয়মিত পাঠক (আমিও একজন) যাদের নাম না বলি। কাওসার আজীবন ত্যাড়ামি করেই কলেজ লাইফ পার করলো, মেহেদি আর রহমান পার করলো রুম ক্রিকেটে টেন্ডুল্কার আর ব্রায়ান লারা’র সকল রেকর্ড পদদলিত করে। বোম্বে সুইটস এর ব্র্যান্ড এম্ব্যাসাডর শাহরিয়ার যার ইচ্ছা ছিল ওই কোম্পানির মালিকের মেয়েকে বিয়ে করে আজীবন ফ্রি চানাচুর খাবে,খেলারী কোঠায় ভর্তি আমার রুম মেট আরফাক(কোন খেলা যে ও খারাপ খেলে জানতে মন চায়) ,আর রুবায়েত-ফাহাদ আল্লাহ এদের যে জায়গার মাটি দিয়া বানাইছে ওই জায়গার মাটি পাইলে একটু কপালে মাখতাম।পরালেখা , খেলা –ধুলা , স্টেজ কই নাই ? ফাহাদ একটু বেশি আছিল অবশ্য। মইন আরেকখানা – এই বরিশাল পার্টি ই আসলে বাচিয়ে রাখছিল শের-ই-বাংলা হাউজের একাডেমিকস।যেটা করত আমার আরেক রুমমেট আরেক বরিসাইল্লা সেই চাকমা রিয়াজ।আর আমার বন্ধু ইমোশনাল আওলাদ।
অল্টাইম লেইট সাজ্জাদ যার কমন ডায়লগ ছিল আমি তো লেইট করিনা তোরা আগে যাস, নাহিদ নিশাচর আর মুখস্থ বিদ্যার জনক, আরিফুল আজীবন ভালো একটা চেহারার ভাব ধরে রাখত এখন টের পাই। রোমান পিচ্চি সাইজের এই পোলাটা এতো ভালো কেন বুঝতে আমার অনেক টাইম লাগছে কিন্তু আফসুস কলেজ থেকে আসার পরে কখনো দেখা হয় নাই তাও ফেইসবুকের কল্যানে কিছুদিন আগে খুইজা পাইছি। শরিফ ছিল আরেক বিশেষ প্রজাতি যা এই মুহুর্তে বর্ননা করতে পারতেছি না বিশেষ কারনে তবে আমি হাসতে হাসতে শেষ মনে করে। মাহমুদ ক্লাস ৭ এ আমার দেখা সব চাইতে ভদ্র বালক বসত আমার পিছনের ডেস্কে, অল্টাইম প্রেপে গল্প করতাম (এই মাহমুদ আর সেই মাহমুদ 😛 ) , বিশিষ্ট তর্কবিদ কবির যার সাথে কেউ কথা শুরু করতেই ভয় পাইত, নয়ন আমার পায়ে অপারেশন করাইয়া ছাড়ল – অসাধারন সুন্দর হাতের লেখা আর সেই লেভেলের স্টুডেন্ট , তারিক ওরফে বক, শাহনেওয়াজ এক চলমান ক্যালকুলেটর এবং শাহী জোকস এর উদ্ভাবক, ড্রামার অভিজিত,ভদ্র পোলা রব স্যার এর চোখের মনি হাসান ( যদিও পরে নষ্ট হইছে ১০০%), ফাহিম সাইন্স না পেয়ে কলেজ থেকে চলে আইলো আর পরে আইসা বুয়েট থাইকা পাশ করলো।
শোয়েব বর্তমান এসিস্টেন্ট প্রফেসর সাহেব ছিল আমাদের ছড়া গানের গায়ক ছোট্ট বাবু। আহাদ এবং তার টেম্পু ভাড়া করার কাহিনী, মটু নাজমুল আর শিহাবের রেস্লিং আর সারাদিন খোচাখুচি, কিংবা ধরা জামানের কোন কিছু না করেই ধরা খাওয়া আর ছিল হাউজ প্রিফেক্ট মাজহার।তবে সব চাইতে মিস করি এখন রফিককে। কলেজের পরে এই ছেলেটার সাথে কারো যোগাযোগ নেই। ঠান্ডা মাথায় এমন ভাবে চলত দেখে হাসি না পেয়ে উপায় নেই। একদিন adjutant ধরলো ও শোল্ডার টাইটেল পরে নাই এই জন্য। জিজ্ঞেস করলো,”Rafiq, where is your BCC?”
রফিক ধিরে সুস্থে তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে জবাব দিলো, “ভাইঙ্গা গ্যাছে স্যার”
এই কাহিনী আমি জীবনেও ভুলবো না।
এমন কাহিনী লিখতে থাকলে একটা মহাকাব্য রচনা করা যাবে।পুরো এলোমেলো একটা লেখা লিখলাম। কই শুরু করেছিলাম আর কই শেষ করলাম। ক্যাডেট কলেজের লেখা গুলো এরকমই। তবে এটুকু বলতে চাই আজ এই ১৬ বছর পরে ১৯৯৮ সালের এই দিনটিকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে পুনর্জন্ম দেয়ার জন্য। না হলে অসাধারন এই ৫০ টা ফ্রেন্ড কই পেতাম। পথ পরিক্রমায় আরো পেয়েছি অন্যান্য ক্যাডেট কলেজের আরো অনেক ক্যাডেট ফ্রেন্ড। এই ১৭ জুন তাই ভুলার নয় ভুলতেও পারবো না।
তবে আবারো যদি জন্ম নেয়ার সুযোগ থাকে আমি আবারো ক্যাডেট হতে চাই, আবারো বরিশাল ক্যাডেট কলেজের ২১ তম ব্যাচের ওই শয়তানগুলোর সাথে বিশেষ করে শের-এ-বাংলা হাউজের ওই ১৭ বান্দরের সাথে থাকতে চাই।
Miss you all my Friends from all cadet colleges of intake 1998-2004, and specially my dearest 21st Batch BCC and none other than my Sherians.

১,৬৫৭ বার দেখা হয়েছে

১৭ টি মন্তব্য : “একটি ক্যাডেটিয় প্যাচালঃ ডেট লাইন ১৭ জুন”

  1. রায়হান (১৯৯৮-২০০৪)

    সিনিয়র জুনিয়র আসবে
    আজকে ইনটেক ডে উপলক্ষে ক্লাসমেট দের একটু স্মরন করিলাম 😛


    একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার,সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার

    জবাব দিন
  2. সাজেদ (২০০৪-২০১০)

    ভাই আপনাদের ছিল ইনটেক বার্থডে, আর আমার হল জেনুইন বার্থডে 😛
    অনেক নস্টালজিক ফিল করছি আপনার লেখাটা পড়ে 🙂
    :just: :boss:


    "মরনের বীথিকায় জীবনের উচ্ছ্বাস,

    জীবনের যাতনায় মৃত্যুর মাধুরী"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।