সুন্দরবনকে ভোট দেয়ার সহজ উপায়

সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন। সমগ্র সুন্দরবন বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলে অবস্থিত যার পরিমাণ প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। এর বাংলাদেশ অংশে ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশ জীব-বৈচিত্র্য ও সম্পদে ভরপুর। যার মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার যা আমাদের জাতীয় প্রাণী। সুন্দরবনের ১,৩৯০ বর্গ কিলোমিটার UNESCO ঘোষিত ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা। অপরদিকে সুন্দরবন RAMSAR Site হিসাবে স্বীকৃত। পৃথিবীর এই অনন্য… …প্রাকৃতিক সম্পদকে নতুন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে এগিয়ে আসা আমাদের সকলের কর্তব্য। সুন্দরবন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্য নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ নিম্নলিখিত ভাবে উপকৃত হবে।
* বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সুনাম বাড়বে।
* দেশী-বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে।
* সুন্দরবন সংরক্ষণে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা বাড়বে।

ভোট দেয়ার পদ্ধতি:
১। যেকোনো মোবাইল থেকে SB লিখে 16333 এই নাম্বার এ পাঠাতে হবে ।চার্জ ২.৩০৳/ভোট
২। ইমেইল এর মাধ্যমে ভোট দিতে ভিজিট করতে হবে http://www.new7wonders.com/vote-2 এই ঠিকানা।
একটি ইমেইল ID থেকে একটি ভোট করা যাবে। আর ভোট দেয়ার পর অবশ্যই ইমেইল ইনবক্স এ গিয়ে Confirmation লিঙ্ক এ ক্লিক করতে হবে। নতুবা ভোটটি count হবেনা।
এতক্ষণ হুদাই প্যাঁচাল পারলাম, আসল কথায় আসি এখন। প্রথম পদ্ধতি অর্থাৎ এস এম এস পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ হলেও ব্যয়বহুল(!)। যারা ইন্টারনেট

থেকে ফ্রি ভোট দিতে চান তাদের জন্যে আমার এই পোস্ট।একটা একটা করে ইমেইল অ্যাড্রেস খুলে একটা করে ভোট করা অনেক সময়ের ব্যাপার। এটা থেকে মুক্তি পেতে টেম্পোরারি ইমেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করা যায়।জন্য প্রথমে যেতে হবে এখানে গিয়ে ক্লিক করতে হবে Get Temporary Email এ। একটা ইমেইল অ্যাড্রেস পেয়ে যাবেন। আরেকটা ট্যাব এ এই ঠিকানা খুলে ইমেইল অ্যাড্রেস এর জায়গায় temporary ইমেইল অ্যাড্রেস টি paste করতে হবে। দেখবেন ১০-১৫ সেকেন্ড এর মাঝে anonymbox এ new7wonders থেকে মেইল এসেছে। মেইল টি খুলে লিঙ্ক টিতে ক্লিক করুন। পেজ লোড হলেই কাজ শেষ। ১ টা ভোট কমপ্লিট। আরেকটা ইমেইল অ্যাড্রেস পেতে Delete email address এ ক্লিক করে আবার get temporary email এ ক্লিক করতে হবে। এভাবে কপি পেস্ট করে ভোট দিন…………

আসেন ভাইয়ারা, এখন ই শুরু করি… দিনে ৫ টা ভোট দিতে ১০-১৫ মিনিট লাগবে… দেশের জন্যে এই সময় ব্যয় খুব বেশি না… ;;) ;;)

১,০৬৩ বার দেখা হয়েছে

৮ টি মন্তব্য : “সুন্দরবনকে ভোট দেয়ার সহজ উপায়”

  1. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    সর্বোনাশ, ফেক আইডি দিয়ে ভোট দিতে বলছো? ধরা পড়ার চান্স কিন্তু আছে, তুমি জান কিনা প্রথম পর্যায়ে কক্সবাজার এবং সুন্দরবন কিন্তু ব্ল্যাক লিস্টেড হয়েছিল এই কাজ করতে গিয়ে, এবং বেশ কয়েকদিন ব্যান্ড ছিল, যতদূর মনে পড়ে। তাই আমার মনে হয় এভাবে ভোট না দেয়াই ভালো।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    ফয়েজ ভাইয়ের সাথে একমত, ফেক ই মেইল দিয়ে ভোট দেয়া নিরুৎসাহিত করা উচিৎ।
    আর একটা জিনিষ দেখলাম সুন্দরবন জাতীয় ভোটে ১ নম্বরে থাকলেও আন্তর্জাতিক ভোটে বেশ পিছিয়ে আছে, ফলাফল মনে হয় দু ধরনের ভোটের গড় করে হবে, তাই আমাদের আন্তর্জাতিক প্রচারনা বাড়ানো প্রয়োজন।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  3. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য্য নির্বাচন: কতবড় ধান্দাবাজী!!!
    by Ozair Ibne Omer on Saturday, 09 July 2011 at 08:48
    তথাকথিত প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে বিজয়ী (?) করতে দেশে এখন মাতোম চলছে। বিষয়টা অনেকটা 'কান নিয়ে গেছে চিলে'র মতোই ঘটনা। সবাই এই ভোটাভুটি নিয়ে দারুন ব্যস্ত। কিন্তু কেউ একবারও প্রশ্ন করছে না যে কে বা কারা কাদের এই দায়িত্ব দিয়েছে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য্য নির্বাচন করার?
    সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউনেন্ডশন মূলত নেদারল্যান্ডের কিছু ধান্দাবাজ মানুষের সংগঠন। বিশ্ব নিজেদের পরিচিত করাতে বেশ কয়েক বছর আগে এরা প্রথমে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য্য (যা আমরা ছোটবেলায় সাধারণ জ্ঞানের বইতে শিখেছি--তাজমহল, পিরামিড ইত্যাদি) কে পুন:নির্বাচন করলো। আর এটাই তাদের পথ করে দিলো বিশ্বজুড়ে ধান্দাবাজী করার।
    মনে হতে পারে একটি সংগঠন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য্য নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সমস্যাটা কী কিম্বা ধান্দাটা কী?
    সমস্যাটা হচ্ছে....প্রথমত তাদের এই নির্বাচনের কোন আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। কারণ এটি কোন আন্তর্জাতিক সংগঠন নয়। এটা হলো ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি ভূইফোড় সংগঠন। যার ফলে তথাকথিত এই ফাউন্ডেশনের তথাকথিত নির্বাচনে (কারণ এই নির্বাচনে যেসব প্রাকৃতিক স্থানের নাম প্রথম দিকে রয়েছে যেমন: আমাজন, এভারেস্ট...ব্যক্তিগত ফেসবুক আলাপচারিতায় আমি জেনেছি এসব দেশের সাংবাদিকরা এই প্রতিযোগিতার নামও শোননি আজ পর্যন্ত) যদি আমাদের প্রিয় সুন্দরবন ৭টি স্থানের একটিও হয় তাতেও কোন কিছু যাবে আসবে না। কারণ এই সেভেন ওয়ার্ন্ডস ফাউন্ডেশন নামের সংগঠনটির কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। যে সংগঠনের কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই নেই তারা কী করে পৃথিবীর সাতটি স্থানকে স্বীকৃতি দেবে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য্য হিসেবে???????????
    আর ধান্দাটা হলো এরা মানুষকে ধোকা দিয়ে এবং দেশেপ্রেম এর সেন্টিমেন্টকে এক্সপ্লয়েট করে স্রেফ ব্যবসা করছে। এসএমএস এর মাধ্যমে যে ভোট দেয়ার সুবিধা তারা বাংলাদেশ পর্যটন কপোর্রেশন এর কাছে বিক্রি করেছে মোটা টাকার বিনিময়ে। আর এই এসএমএস-এ সুযোগ দেয়া হয়েছে যত খুশি তত ভোট দেয়ার। মনে রাখবেন কোন এসএমএস প্রতিযোগিতায় একজন মানুষকে যখন যত খুশি তত ভোট দেয়ার সুযোগ করে দেয় তখন সেটি আসলে কোন সুষ্ঠু নির্বাচনই নয় বরং সেটি স্রেফ পয়সা কামানোর ধান্দা। এ ধরণের যে কোন প্রতিযোগিতায় প্রতি এসএমএস-এ কমিশন পায় আয়োজকরা।
    এছাড়া গত তিন বছর ধরে এই প্রতিযোগিতার জন্য ওয়েবসাইট খুলে বিভিন্ন সুভিনির বিক্রি করছে। তারা নিজেদেরকে ব্যাপক পরিবেশ দরদী হিসেবে তুলে ধরে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য চাদাও তুলছে।
    এক কথায় বলতে চাই, আমাদের সুন্দরবনের জন্য কারো সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। কারণ সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আর জাতিসংঘ সুন্দরবনকে বহু বছর আগেই ওয়ান্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাই আমাদের সুন্দরবন সেভেন ওয়ান্ডর্স ফাউন্ডেশনের মতো একটি ভুইফোড় এবং অস্বীকৃত সংগঠনের ব্যবসার উপাদানে পরিণত তা কোনভাবেই মেনে নিতে পারিনা।
    .


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      ভূইফোড় কম্পানির ধান্দাবাজি বা ব্যবসা হলেও জিনিষটা কিন্তু একটা দারুন পাবলিসিটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত এসব তথ্য শুধু ট্রিভিয়া হিসেবেই রয়ে গিয়েছে, পর্যটন খাতে মনে হয় না খুব একটা উপকার করছে। সেভেন ওয়ান্ডার্সে নির্বাচিত হলে সেটা বড় একটা পাবলিসিটি হবে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের পর্যটন শিল্পে গতি আনা সম্ভব (যদিও এ নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে)। আর কিছুদিন আগ পর্যন্তও এই ভোটিং ছিল প্রায় সম্পূর্ণ বিনামুল্যে।

      আর এর সাথে বাই প্রোডাক্ট হিসেবে থাকছে আমাদের নিজেদের মাঝে সুন্দরবন এবং কক্সবাজার নিয়ে সচেতনতা আর আগ্রহ বৃদ্ধি।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।