স্বপ্নের অনেকগুলো দিন

কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম লিখব, মাগার কি নিয়ে লিখব এইটা বুইঝা উঠতে পারতেছিলাম না। এইমাত্র কামরুল এর সাথে অনলাইন এ কথা হচ্ছিলো। অফিসে বইসা অর ব্লগ পরতাছিলাম আর ভাবতাসিলাম কি লিখি। শেষ পর্যন্ত অর টাইটেলটাই চুরি করলাম (একটু পরিবর্তন কইরা আরকি, আবার কপিরাইট আইনে মামলা না খাই)। তবে উলটাপালটা লেখার সম্ভাবনাই বেশি। পাঠক সাবধান!

কামরুল এর লেখা দেইক্ষা মনে পরলো এমন স্বপ্নতো আমিও মেলা দেহি। অর মত পার্বতী না থাকলেও অনেকগুলো পরিচিত মুখ হানা দিয়ে যায়। কি অসম্ভব স্বপ্নময় জীবন ছিল তখন। তখনকার ছোট ছোট ঘটনাগুলো কি অসম্ভব আবেগ নিয়ে আমরা অনুভব করতাম। সামান্য সু পালিশ নিয়ে কি মাতামাতি। ব্রেকফাস্ট এ দুই মিনিট দেরি করে যাওয়ায় কি বিশাল প্রাপ্তি অনুভব করতাম। পাক্ষিক পরীক্ষার ২৫ নাম্বার এর জন্যে কি বিশাল আয়োজন নিয়ে পড়াশুনা করতাম। এখনো মনে পড়ে নাইনে হায়ার ম্যাথ পাক্ষিক পরীক্ষার সব প্রশ্নের না উত্তর দিয়েই (আমার একমাত্র পরীক্ষা যাতে আমি নিজ ইচ্ছায় নাম্বার ছেড়ে দিয়েছিলাম) ছুটে গিয়েছিলাম পুর্ন সূর্যগ্রহন দেখতে। ভিপি স্যার এর স্ত্রী বাংলার ম্যাডাম আমাদের জন্য ক্যামেরার ফিল্ম দিয়ে দেখার ব্যাবস্থা করে দিয়েছিলেন। আমার দেখা প্রথম এবং হয়তবা শেষ পূর্ণ সুর্যগ্রহন।

এস এস সি পরীক্ষার আগে খাতায় কোন রঙের কালির উপর কি রঙের মার্কার দিয়ে দাগালে সবচেয়ে সুন্দর লাগে তা নিয়ে কত গবেষণা। মনে পড়ে এস এস সি পরীক্ষার আগে আরিফ টেবিল ল্যাম্প এর আমদানি করল রাতজেগে পড়বে বলে। সারা বছর খোজ নাই পড়াশুনার, মাগার অই দুই পেন্সিল ব্যাটারির টেবিল ল্যাম্পের ঠ্যালায় লাইটস অফ এর পরে দশ মিনিট পড়েই যেন ও মহা উদ্ধার করে ফেলত। এমনকি হারামজাদা টয়লেটে বসেও পড়তো পরীক্ষার আগে। কিন্তু পরীক্ষার হলে সবসময় সবার পরে তার আগমন ঘটত। এস এস সি আর এইচ এস সি পরীক্ষায় যারা বোর্ড এ স্থান করে নিত তাদের নাম উঠতো অডিটোরিয়াম এর পাশে অনার বোর্ড এ। ওই বোর্ড এ নাম ওঠানোর চেয়ে সম্মানজনক প্রাপ্তি বোধহয় এ জীবনে আর হবে না। এখনকার জি পি এ সিস্টেম এ কি হয় জানিনা।

এস এস সির টেস্ট পরীক্ষার আগে সারারাত জেগে ২৯ খেলা, তাও আবার অবজেক্টিভ এর ৫০০ প্রশ্নের আদলে ৫০০ পয়েন্টের খেলা। সেই খেলার বাকি তিনজনের দুইজনের কোন খোজ নাই আজকে। একজনরে রাস্তায় মাঝে মাঝে নাকি দেখা যায়, কিন্তু হালার*ত সবসময় বিজি। একবার কইলো হে নাকি তার কোন দোস্তের লগে এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট এর বিজনেস করবো, কি এক্সপোর্ট করবি? কয় মানুষে চুল! আমি আর কিছু কই নাই, কোন যায়গার চুল জিগাইলে না জানি আবার কি কয়। টুয়েল্ভ এ এইচ এস সির আগে তার হঠাৎ ইচ্ছা হইল তার রুম মার্ক টোয়েন এর লাইব্রেরী বানাবে। যে কথা সেই কাজ, মার্ক টোয়েনের ধার করা বই রাখার কোন ধার করা আলমারি নাকি ছিলো না, তো সেও সব বই খাতা টেবিল থেকে মাটিতে ফেলে পড়াশুনা শুরু করলো। ফলাফল বোর্ড+সারাদেশ এ প্রথম স্থান।

যাই হোক লিখতে চেয়েছিলাম পার্বতী নিয়ে। আবোল তাবোল অনেক কিছু লিখলাম। পার্বতী নিয়া কিছু বলি। এস এস সির পরে মাহমুদ এর পার্বতী যোগ হইল। দিনরাত বেচারা খালি কোব্‌তে লেখা শুরু কোরলো। দিস্তা দিস্তা কাগজ শেষ হয়া গেল, পড়াশুনা গেল, এস এস সির সিক্সথ স্ট্যান্ড করা পোলা এইচ এস সিতে কোনমতে ফার্স্ট ডিভিসন পাইল। তারপর কোই গেল সেই পার্বতী! কলেজ থিকা বাইর হয়া হালায় নাকি একসময় কল্কে দিয়া গাঞ্জা টানতো। যাই হোক, বেচারা এখন মহা সুখে ঘর সংসার করছে আরেক পার্বতীর সাথে, মাস খানেক পরেই নতুন অতিথির অপেক্ষা চলছে এখন। আমার পার্বতীর কথা বলি। প্রথম যেদিন পার্বতীর কাছে আমার মনের কথা বললাম সেদিনের কথা আজো সে বলে, আমি নাকি ছেড়া আর ঝোল লাগা শার্ট পরে গিয়েছিলাম। টার্নআউট ঠিক করে পার্বতীর কাছে কয় জন যায় এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে। তবে আমার কপাল ভাল, আমার পার্বতী আমারে ফিরায়ে দেয় নাই, সরি কামরুল।

২,০০৫ বার দেখা হয়েছে

১৬ টি মন্তব্য : “স্বপ্নের অনেকগুলো দিন”

  1. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)

    মরতুজা ভাই,
    আপনার লেখাটা ভালো লাগল :clap: ।
    পুরনো অনেক কথাই মনে পড়ে গেল।
    গত রি-ইউনিয়নে যেয়ে অনার বোর্ডে আমাদের ব্যাচের স্ট্যান্ড করা
    পোলাপানের নাম লেখা অংশটুকু ক্যামেরায় তুলে নিয়ে এসেছি।
    অনেক দিন পরপর কম্পিউটারের স্ক্রিনে একনজর দেখতে খুবই ভালো লাগে।


    Life is Mad.

    জবাব দিন
  2. ১.

    একবার কইলো হে নাকি তার কোন দোস্তের লগে এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট এর বিজনেস করবো, কি এক্সপোর্ট করবি? কয় মানুষে চুল!

    আমারও একবার কম্বলের বিজনেস করার খুব শখ হইসিলো। তার কয়দিন পরে সেইটা চইলা গিয়া শুটকি ব্যবসা করার ইচ্ছা হইল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুতেই কিছু হইলো না। ~x( ~x(
    ২.

    আমার পার্বতী আমারে ফিরায়ে দেয় নাই, সরি কামরুল।

    আপনে ভাইজান খুব খারাপ। :grr: কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেন। যাউকগা...
    মনের দুঃখ মনে থাকুক, চিনলি নারে সোনার চান
    চন্দ্র সুর্য যত বড় আমার দুঃখ তার সমান।

    ৩.
    লেখা মজাদার হইসে। :gulli: তয় আপনার বাচ্চাদের সিরিজটার কি হইলো? ওইটা না হইলে ক্যাম্নে কী? 😀
    ৪.
    পার্বতী ভাবিরে আমার সালাম দিয়েন। এই গরীবের জন্য একটু দোয়া করতে বইলেন। আর উনার পরিচিত অন্য কোন পার্বতী(চন্দ্রমুখী হইলেও চলবে)থাকলে অধমের নামটা একটু সুপারিশ করতে বইলেন। 😉 😉
    ৫.
    যাইগা । ঘুমাই। কাউয়া ডাকতেছে। :dreamy:

    জবাব দিন
    • মরতুজা (৯১-৯৭)

      পোলাপাইন জাতে মাতাল তালে ঠিক। আইচ্ছা তোমার এক্কান বায়োডাটা পাঠাইয়া দিয়ো, ফরয়ার্ড কইরা দিমুনে। আর বাচ্চাদের সিরিজরে লেম্বুচিপা করতে ইচ্ছা করতেছে না। ভাল জিনিস আবার বেশি থাকে না, বুজলা না!

      এইবার মনে হইতাসে "ঘুরে এলাম নেপাল" টাইপ কিছু লিখতে হইব। ঝুলিতে আইডিয়া কইমা যাইতাসে। আগে এই টাইপ লেখা পত্রিকায় মেলা দেখা যাইত। বাংগালির দৌড় তখন মসজিদ পর্যন্তই ছিল। এহন তো মানুষ কিছু হইলেই সিঙ্গাপুর অস্ট্রেলিয়া চইলা যায়।

      জবাব দিন
  3. আহ্সান (৮৮-৯৪)

    মরতুজা,
    বরাবরের মতই ভালো লেখা। পড়ে সুন্দর লেগেছে। চির পরিচিত সব ঘটনা, যেন আমার জীবনেই ঘটে গিয়েছে। লেখক হিসেবে এর পুরো কৃতিত্ত্বটাই তোমার।

    ভালো থেকো। পার্বতী ভাবীকে সালাম দিও।

    জবাব দিন
  4. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    আপনেরা সবাই মিলা তো আমারে কনফিউজ কইরা দিলেন... ~x(
    বুঝতাছিনা পার্বতীর কাছে যাওনের আগে(যদি যাওয়া হয়...) টার্ন আউট কেমন করতে হইব... :bash:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  5. আহ্সান (৮৮-৯৪)
    বুঝতাছিনা পার্বতীর কাছে যাওনের আগে(যদি যাওয়া হয়…)

    মানে কি? তোমারে নিয়া নাকি পার্বতী আর চন্দ্রমুখীর মাঝে নিয়মিত চুলাচুলি হয়......
    চাপা মারার জায়গা পাওনা না? x-(

    জবাব দিন
  6. তৌফিক (৯৬-০২)

    আমার পার্বতী আমারে ফিরায়ে দেয় নাই, সরি কামরুল।

    মরতুজা ভাই কি পাট লইলেন নাকি? 😛

    পারু ভাবীরে সালাম দিয়েন। আর আমরা পারু-দেবুর মরতুজা ভার্সন শু্নতাম চাই। ;;)

    জবাব দিন
  7. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    এতদিনেও কুনু পার্বতীরে পাইলামনা :(( :(( লুজার হয়া শেষ মেষ চুনীলাল খুজন লাগে কিনা কে জানে 😕 [ডায়লগটাকি একটু পিসিসি টাইপ হয়া গেলো মনে লয় :shy: ]


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  8. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    @ ফৌজিয়ান ভাই,গাছের কসম কইতাছি ডায়ালগটা পুরা পিসিসি মার্কা হইছে।তয় ছিঃনেমার জ্যাকি শ্রফরে চুনীলালের ভুমিকায় দেকলে ডর লাগে এর চেয়ে বরং "জানে তু ইয়া জানে না" এর ইমরান খান(আমীর খানের ভাতিজা)এর পাতা লাগান... 😀

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।