আমার বাংলা শেখা আর আমাদের হিজড়ারা

(এই লেখাটা আমার প্রথম বাংলা কিবোর্ডে লেখার অভিজ্ঞতা। কারও কাছ থেকে সামহয়ার সম্পর্কে শুনে ব্লগ লেখার একটা খায়েশ হয়েছিল। তবে সামহয়ারের তামশা খুব একটা বুঝে উঠতে পারার আগেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। প্রথম যেকোন কিছুর ব্যাপারে সবসময়ই সবার একটা বিশেষ দুর্বলতা থাকে। অনেকটা প্রথম প্রেমের মত হয়ত। তাই লেখাটা মানে নিম্ন হলেও হারিয়ে ফেলতে চাইনি। বৈদ্যুতিক অন্তর্জালের কোন এক কোনায় নাহয় পড়ে থাকুক। আমি মাঝে মাঝে চোখ বুলাব, হয়তবা আজ হতে বছর বিশেক, ত্রিশেক পরেও। )

জীবনে বোধহয় এই প্রথম বাংলা কি-বোর্ড এ কিছু লিখছি। বানান ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। বাংলা কি-বোর্ড এর যে এত তামশা আছে জানা ছিলনা। এক বাংলা লিখতে এত প্রকারের কি-বোর্ড দেখে হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছি না। এই অধমের অজ্ঞতা নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন। যাই হোক, এই তিন লাইন লিখতে মনে হয় এর মধ্যে আধা ঘন্টা পার হয়ে গেছে। সত্যি বলতে কি, হাতেও শেষ বাংলা বোধহয় লিখেছি প্রেমিকার কাছে, তাও বছর খানেক আগে। এখন চেষ্টা করে দেখলাম, হাত কাপে।

বাংলার সাথে সংস্রব নেই ভারসিটি তে ঢোকার পর থেকেই। ভারসিটির স্যাররা ক্লাস এ লেকচার বাংলায় বল্লেও বাকি সব কিছুই ছিল ইংরেজিতে। ফলে যা হবার তাই হয়েছে, বাংলা থেকে দূরে সরে গেছি। কিন্তূ ইংরেজিটাও ভাল ভাবে শেখা হয়নি তখন। লিখতে পড়তে ভালই পারতাম, কিন্তূ বলতে গেলেই যত বিপত্তি। বাতাসে শব্দ হাতড়ে বেরাই। চার বছরের আন্ডারগ্রাজুয়েট কোর্স সাড়ে পাঁচ বছরে (অনেক কম হয়ে গেল নাকি!) শেষ করে চলে এলাম বিদেশ বিভূঁয়ে। প্রথম প্রথম খুবই সমস্যা হত সাদা চামড়ার ভীনদেশিদের সাথে বাক্য বিনিময়ে। কথা বলার আগে মাথার ভিতর শব্দগুলো সাজিয়ে নিতে হত। শ্রোতা মশাই একটু বেলাইনে চলে গেলেই আবার শব্দ হাতড়ে বেরানো। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পরতাম টেলিফোনে কারো সাথে কথা বলতে। অপর প্রান্তের ভাই/বোন সাহেব তো আর বুঝতে পারতেন না যে আমি এই অধম ইংরেজির আসল শিক্ষাটাই পাইনি। গড় গড় করে মুখস্ত করে এসএসসি/এইচএসসি তে পত্রিকায় চেহারা দেখানোর সৌভাগ্য হলেও ইংরেজিতে বাক্য বিনিময়ের চর্চাটা আর হয়ে ওঠেনি। আর যদি কৃষ্ণ চামড়ার কেউ হয় তো কথাই নেই। মাথামুন্ডু কিছুই বোঝার উপায় নেই। যাই হোক, গত তিন বছর হল পরে আছি স্বপ্নের দেশে, কোনমতে ডিগ্রী একখানা বাগিয়ে চাকরিও করছি আল্লায় দিলে একখান। সারাদিন অফিস এ বসে কম্পিউটার এর বোতাম টিপি আর ভাবি ইংরেজিটা নাহয় এতদিনে মোটামুটি আয়ত্তে এনেছি কিন্তু বাংলায় তো সেই লবডঙ্কা। গত বার বছর ধরে কম্পিউটার চালাই, কিন্তু বাংলাই কিছু টাইপ করলাম এই প্রথম। দোষ্ কারো ঘাড়ে না চাপিয়ে নিজের অসহায়ত্ত মেনে নিচ্ছি।

দেশের টানে বলবনা, অন্তত মা বাবার টানে গত তিন বছরে দেশে যাওয়া আসার উপরেই ছিলাম। ছাত্র অবস্থায় এই দেশে প্লেনের টিকেটের টাকা জমানো যে কত কস্ট তা ভুক্তভোগি অনেকেই জানেন। পাই পাই করে পয়সা জমানো কাকে বলে সে গল্প আরেকদিনের জন্য তোলা রইল। যাই হোক, দেশে গিয়ে ঢাকা শহরের তথাকথিত মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তদের মাঝে যে বাংলা আর ইংরেজির অসম দৈহিক মিলন দেখেছি তাতে প্রাপ্তবয়ষ্ক চলচিত্র দেখে উত্তেজিত হওয়ার মত না হয়ে বরং রাস্তায় হিজড়া দেখে গা বাচানোর মত ভাব করতে হয়েছে। ট্রান্সসেক্সুয়াল বা হিজড়াদের যেমন নারী বা পুরূষ প্রজনন অঙ্গ কোনটাই পূর্ণ ভাবে বিকশিত হয় না, এদেরও তেমন বাংলা ইংরেজি কোনটাই ঠিকভাবে শেখা হয়নি। একটা বাক্যে গোটাকতক ইংরেজি শব্দ জুড়ে দিলেই যদি চৌকষতার পরিচয় পাওয়া যায় তাহলে এত কষ্ট করে পড়ালেখা কেন যে করলাম কে জানে। ইদানিং আবার শুরু হয়েছে এফ এম রেডিওর অত্যাচার। আরে বাবা তোর যদি ইংরেজি এতই ভাল লাগে, এতই ভাল ইংরেজি বলতে পারিস তো পুরোটাই বলনা। অর্ধেকটা বাক্য ইংরেজিতে বলে বাকিটা বাংলায় বলিশ কেন। আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে এদের কজনের পাঁচ মিনিট টানা বাংলায়, না, টানা ইংরেজিতে কথপকথনের ক্ষমতা আছে। হয় নারী হ না হলে পুরুষ হ, হিজড়া হয়ে লোকের থুতু খাবার এত শখ কেন। জিন্স টিশার্ট পড়ুয়া এই প্রজন্মের দোষ দিয়েই বা কি লাভ, যখন দেখি টিভি চ্যানেলগুলোতে দেশের গন্যমান্য তথাকথিত আঁতেল/নাট্যব্যক্তিত্তরাও হিজড়া হওয়ার প্রতিযোগিতায় মত্ত। ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় একপাতা বাংলা লিখে আমার মুখ শুকিয়ে গেছে। থুতু দেবার দায়িত্তটা আপাতত আপনারাই নিন।

৭,১৬১ বার দেখা হয়েছে

৮৮ টি মন্তব্য : “আমার বাংলা শেখা আর আমাদের হিজড়ারা”

  1. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    আপনে দেখি মিয়া ভাই পুরা ফর্মে আছেন :grr: :grr: :grr:
    বহুত ভাল লাগলো। আরো লেখা দেন। 😀 😀 😀


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  2. শোয়েব (৯৪ - ০০)
    ট্রান্সসেক্সুয়াল বা হিজড়াদের যেমন নারী বা পুরূষ প্রজনন অঙ্গ কোনটাই পূর্ণ ভাবে বিকশিত হয় না, এদেরও তেমন বাংলা ইংরেজি কোনটাই ঠিকভাবে শেখা হয়নি

    হিজড়া ভাষাভাষীদের জন্য এর চেয়ে খাঁটি কথা আর হয় না।
    চমৎকার লেখা বস, খুবই ভাল লাগল।

    জবাব দিন
  3. তানভীর (৯৪-০০)
    ট্রান্সসেক্সুয়াল বা হিজড়াদের যেমন নারী বা পুরূষ প্রজনন অঙ্গ কোনটাই পূর্ণ ভাবে বিকশিত হয় না, এদেরও তেমন বাংলা ইংরেজি কোনটাই ঠিকভাবে শেখা হয়নি।

    একদম ঠিক কথা ভাইয়া!

    লেখাটা খুব ভালো হইসে! :salute: :salute: :salute:

    জবাব দিন
  4. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    ইয়ো ম্যান, ঠিকই বলেছেন...হিন্দী চ্যানেল্‌স, গড-ড্যাম আরজে-ডিজে'দের কারনেই টুডে আমাদের কন্ট্রিতে এই কান্ডিশান...এই ট্রেন্ড কান্টিনিউ করতে থাকলে আমাদের কলচার কিন্তু এক্সটিংট হয়ে যাবে... :-B
    (আরে ইয়ার, আই কুড সে দ্যাট টোটালি ইন বেংগলি...মম-ড্যাড উইল বি সো প্রাউড অফ মি... 😉 )


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  5. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    চরম একটা টপিক। আমিও লিখবো ভেবেছিলাম।

    এই ব্লগে সানাউল্লাহ ভাইকে :salute: জানাতে হয়। কারণ ওনার ABC রেডিও এর কথা বন্ধুরা (রেডিও জকি) সবাই বাংলায় কথা বলে। বাংলিশ এ না।

    জবাব দিন
  6. আরিফ (৯৫-০১)

    মরতুজা ভাই একদম ২৪ ক্যারেট গোল্ড মার্কা খাটি কথা কইলেন, কি আর করবেন কন এখনতো আবার djuce পোলাপানের যুগ..আর আমরা হইলাম গিয়া djuce পোলাপানের কাছে জেনারেশন গ্যাপের পোলাপাইন. 😛

    জবাব দিন
  7. মামা আমার নসুতে অবশ্য বাংলিশ পুলাপাইনের সংখ্যা একটু কইমা গেছে-আমি যেই ডিপার্টমেন্টে কাজ করি ওইখানে পুলাপাইন পুরা ইঞ্জিরিতেই কথা কয়,আমি ভুল ভাল উত্তর দেই আর আড়ালে বইসা থাকি।খুব একটা সমুস্যা হয়না।এইটা এক অর্থে ভালা,পুরা বাংলা নাইলে পুরা ইংলিশ।কিন্তু দুঃখের বিষয়,দেশের সেরা বিদ্যাপীঠের অনেক পুলাপাইনও পেরাইভেটের লগে তাল মিলায়া এইগুলারে "এস্মার্টনেসের" সংজ্ঞা ভাবতে শুরু করছে।ওদের ক্যাম্পাসে বেরাইতে গেলে চারপাশ থিকা "লাইক","ইউ নো ওয়াট","ওহ শিট" এর দ্রুতস্খলন দেইখা মনে হয় আসলেই "ব্যাধিই সংক্রামক,স্বাস্থ্য নয়" কথাডা কিছুডা হইলেও সত্যি। বাপের পয়সায় ভাব *দানো তথাকথিত উড়াধুড়া ডিজুস পোলাপাইন্রে দেইখা যুদি দেশের সেরা ছেলেমেয়েগুলার খুব অল্প একটা অংশও এই লাইন ধরে-বুইঝা নিতে হবে যে আমাদের সমাজের পচনটা খুব ভালভাবে ধরছে।

    ২১ ফেব্রুয়ারির দিন বইমেলা থিকা ফিরতেছিলাম।ফ্ল্যাটের নিচে ইংলিশ মিডিয়ামের দুই পোলা কথা কইতেছিল।মজার ব্যাপার হইল,এরা দুই লাইন শুদ্ধ বাংলা কইতে পারেনা কিন্তু বাংলা গালাগালিতে এমনকি ড্রিল স্টাফও এদের সাথে পাল্লা দিতে পারবে কিনা সন্দেহ।দুই পোলাই আমার চেয়ে ছোট,আমারে দেইখা সালাম দিল।আমি কইলাম-একটা কবিতা শুনবা? কইয়া দুই লাইন আউড়াইলাম-"আজ তোমাকে ঘিরে খিস্তি খেউড়ের মেলা বসে,তোমার মুখের দিকে আর তাকানো যায়না-বর্ণমালা,আমার দুঃখিনী বর্ণমালা"
    পোলা দুইডা হা কইরা তাকায় থাকা অবস্থায় মুচকি হাসি দিয়া লিফট ধরলাম 🙂

    জবাব দিন
  8. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    মরতুজার লেখাটা পড়ে ভয় পেয়েছিলাম, এবার বোধ হয় আমার পালা। পোলাপাইনের গালি মাটিতে একটাও পড়বো না!!

    কিন্তু মন্তব্য পড়তে পড়তে দেখলাম আমার পক্ষেও জনমত খারাপ না। ধন্যবাদ তোমাদের। এফএম-এর গতি, প্রাণ ঠিক রেখে বাংলায় কথা বলার চেষ্টা হচ্ছে এবিসিতে। আরজেদের নামও বাংলা হয়েছে, সেটা শুনেছ? "কথাবন্ধু"। এসএমএসের বদলে বলছে "উড়োচিঠি। ক্ষুদেবার্তা। ছোটচিঠি।" মোবাইলের বদলে বলছে 'মুঠোফোন'। ইত্যাদি।

    আর এবিসির নামটা নিয়ে কিছু করার ছিল না। কারণ বিএনপি বা আওয়ামী লীগ কেউ আমাদের রেডিও বা টিভির লাইসেন্স দেবে না। অন্য একজন 'এবিসি' নামের লাইসেন্স নিয়েছিল। সেটা কিনে নিয়েছে ট্রান্সকম। নামটা বাংলায় রাখতে পারলে আমরাও ভীষণ খুশি হতাম।

    মরতুজা এবং বাকি সবাইকে ধন্যবাদ। ভালো থেকো।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  9. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)
    .....যে বাংলা আর ইংরেজির অসম দৈহিক মিলন দেখেছি তাতে প্রাপ্তবয়ষ্ক চলচিত্র দেখে উত্তেজিত হওয়ার মত না হয়ে বরং রাস্তায় হিজড়া দেখে গা বাচানোর মত ভাব করতে হয়েছে। ট্রান্সসেক্সুয়াল বা হিজড়াদের যেমন নারী বা পুরূষ প্রজনন অঙ্গ কোনটাই পূর্ণ ভাবে বিকশিত হয় না, এদেরও তেমন বাংলা ইংরেজি কোনটাই ঠিকভাবে শেখা হয়নি।

    মরতুজা ভাই,
    তুলনাটা জটিল পছন্দ হইছে :clap: :clap: ।


    Life is Mad.

    জবাব দিন
  10. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    মুখে যত কথাই বলি আর ফট ফট করি আমি নিজেও দাবি করতে পারব না যে হিজরা কথা আমি কখনও বলি নি। আমি নিজেও এর খারাপ দিকটা উপলব্ধি করতে পারি। আমি জানি না ভাই আপনাদের সময় পরিস্থিতি কেমন ছিল কিন্তু আমি আমাদের মুখের এই বাংলিশ ভাষার জন্য ক্যাডেট কলেজকেই দায়ি করব। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি(অন্তত আমার ক্ষেত্রে)। আমি কোনোদিনই ইংরেজিতে ভালো ছিলাম না। আমি যখন কলেজে গেলাম এবং আশেপাশের সবাইকে "callus,tease,shit,****,shoot,double up" ধরনের শব্দ ব্যাবহার করতে শুনি এবং এডজুটেন্টের ইংরেজি শুনি তখন মনে হতে লাগলো যে কিছু ইংরেজি শব্দ ব্যাবহারের মানেই ইংরেজি পারা। সেই যে অভ্যাস হল আর পরিবর্তন করার চেষ্টা করি নি কারন এই অভ্যাসটা খুব অস্বাভাবিক মনে হয় নি। আমি পরবর্তিতে আইন বিষয়ে পড়াশুনার বদৌলতে ইংরেজি শিখতে বাধ্য হই কিন্তু কথা সেই একই ভাবে বলতে থাকলাম। আজ পোস্টটা পড়ে মনে হচ্ছে এতদিন ভুল করে আসছিলাম। মরতুজা ভাই অনেক ধন্যবাদ। :clap: :boss:

    জবাব দিন
    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      শার্লী,ব্যাপারটা ঠিক তা না। প্রাকৃতিক বা পরিবেশগতভাবে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা এক জিনিস আর ইচ্ছাকৃতভাবে এক লাইনে ৫ টা ইংরেজি শব্দ ঢুকিয়ে "আমি ব্র্যাড পিট" ধরণের উন্নাসিকতা আরেক জিনিস।প্রথমটা সাধারণত খুব একটা প্রশংসনীয় না হলেও অন্তত মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়না কিন্তু দ্বিতীয়টা একেবারেই অসহনীয় বলে মনে হয় আমার কাছে।ডর্মে আমি "শিট","*কার" এগুলো বলে জুনিয়রকে(এখানে দেখ-জুনিয়র শব্দটা কিন্তু আপনা থেকেই চলে এসেছে) বকাবাজী করতে পারি কিন্তু বাংলা উপস্থিত বক্তৃতার প্রতিযোগিতায় যদি আমি জগাখিচুড়ি ভাষা ব্যবহার করি তাহলে সেই প্রতিযোগিতায় ভরাডুবি তো নিশ্চিতই,সেই সাথে ইডি খাবারও সমূহ সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ ক্যাডেট কলেজ কিন্তু আমাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছে কোনটা প্রমিত উচ্চারণ আর কোনটা নয়-সেই সাথে এই বোধটুকুও ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে(বক্তৃতা,আলোচনা,অনুষ্ঠান ইত্যাদি-যার মধ্যে টিভি,রেডিও ও পড়ে)কোন ধরণের ভাষা ব্যবহার করা
      শোভন আর কোন ধরণের ভাষা ঠিক রীতিশুদ্ধ নয়। কিশোর বয়েসে আমাদের এই ঔপনিবেশিক মনোভাবের (ইংরেজি বলা মানেই "স্মার্টনেস") জন্যে আমাদের সমাজকে কিছুটা দায়ী করা যায় কিন্তু কৈশোর পেরুবার পর বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন কোন মানুষ যদি তা করে, আর সেটাকে যদি সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের পরিচায়ক হিসেবে ধরে নেয়া হয় তবে তা সত্যিই দুঃখজনক। আর ঠিক এ কাজটাই করে থাকে সেই তথাকথিত ভুল বাংলা আর বিকৃত উচ্চারণের বেসাতি সাজানো "আর-জে" সম্প্রদায়(সানাউল্লাহ ভাইয়ের চ্যানেল এবং আরো কিছু সত্যিকারের সংস্কৃতিমনা রেডিওবন্ধুদের এখানে অন্তর্গুক্ত করা হয়নি)। আমার এক "আরজে"বান্ধবীর কাছে শুনেছি যে কলকাতা থেকে ট্রেনার আনিয়ে নাকি এভাবে কথা বলা শেখানো হয়েছে, তাও আবার বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে।শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম-এ যেন ঠিক ভাষাকে ধর্ষণ করার জন্যে পয়সা দিয়ে লম্পট ভাড়া করে আনা। তুমি নিখুঁত বাংলা বলার অনুপ্রেরণা পেয়েছ এটা খুব আনন্দের কথা-কিন্তু তোমার মনে যাতে ভুল একটা কারণে কোন অপরাধবোধ না থাকে সেজন্যে এ কথাগুলো বললাম। ভাল থেক ভাইয়া।

      জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : রায়হান আবীর

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।