প্রাপ্তবয়ষ্ক – ৪

১। এইচ এস সি পরীক্ষার আগে অথবা পরীক্ষার সময়। ক্লাস গেমস সব এক্সকিউজড। সকাল বেলা বাকি সব পোলাপাইন ব্রেকফাস্টের পরে ক্লাসে যায় আর আমরা হাউজে চলে আসি। মিল্ক ব্রেকের আগ পর্যন্ত পড়া ভালই হয়, কিন্তু তারপর মনে একটা ভাব চলে আসে যেন ম্যালা পড়ে ফেলেছি। কতিপয় অতি আঁতেল পোলাপাইন পারলে টয়লেটে বসেও পড়ে (আমি না কিন্তু), কিন্তু বাকি গুলা সুরু করে বদামি নয়ত রুমে রুমে ক্রিকেট খেলা। কিন্ত এসব করেও কেমন যেন একটা একঘেয়েমি চলে আসে। নতুন কিছু চাই। ক্যাডেট মাত্র সবারই জানা কলেজে নারী চরিত্রের কত অভাব, সমবয়সি তো আরও আকাল। কিন্তু গ্রীষ্মের সেই গরমে যেন ঠান্ডা হাওয়া নিয়ে এল জনৈক স্যারের সদ্য বয়ঃসন্ধি প্রাপ্ত কন্যা। হঠাৎ আমরা খেয়াল করলাম প্রতিদিন মিল্ক ব্রেকের পরে সেই মেয়ে বেনী দুলিয়ে হাইজের সামনে দিয়ে হেটে হেটে যায়। আহা, কি সৌন্দর্য। আমরা অপলক নয়নে চেয়ে চেয়ে দেখি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলি। এই দেখতে দেখতেই আমাদের একজন তার প্রেমে পড়ে গেল। মানে সেই রকম কোন কিছু না। ফ্রয়েডিও প্রেম আর কি। কিন্তু কতিপয় বদ পোলাপাইন যখন একটু সীমা ছাড়িয়ে সেই কন্যার দৃস্টি আকর্ষনের চেষ্টা করতে শুরু করল তখন তার মৃদু প্রতিবাদ। “এই, তোরা এই রকম করিস ক্যান অর সাথে”? তা দৃস্টি আকর্ষনের প্রক্রিয়াটা আবার কিঞ্চিত আপত্তিজনকই ছিল বটে। প্রতিদিন সকালে মিল্ক ব্রেকের পর যখন কন্যার হাউজের সামনে দিয়ে গমন তখন রুমের জানালা খুলে জানালায় দাঁড়িয়ে সাথে আরো কিছু খুলে প্রদর্শন করলে যেকোন প্রেমিকেরই আপত্তি জানানোর কথা। তবে এত কিছুর পরও কন্যার প্রতিদিন হাউজের সামনে দিয়ে গমন বন্ধ হয়নি।

২। সেই টুয়েল্ভের ই ঘটনা। ঘটনা চক্রে কলেজ হাস্পাতাল থেকে কি উপায়ে যেন আমি একখানা জন্মনিরোধক গোলক হস্তগত করেছিলাম। হাউজে আনার পর তো মহা হিট। সবার চাই। সাবান ক্রিম তেলে আর কত! আসল দ্রব্যের স্বাদ নেবার এইত সুযোগ। আমিও সুযোগ বুঝে দশ টাকায় কোন এক অতিশয় বদ পোলার কাছে উহা বিক্রয় করিয়া দিলাম। আমার প্রথম ইনকাম। ঘন্টাখানেক পর জানা গেল উক্ত গোলকের সাইজ আমাদের বন্ধুমহোদয়ের ফিট করে নাই। ফলাফল দুম ফটাস। তাহাতে খুব একটা সমস্যা নাই। সাইজ না মিললে ফাটতেই পারে। কিন্তু সেইদিন হইতে কলেজের শিক্ষক মহোদয়দের সাইজ নিয়া আমরা কিঞ্চিত শংকিত হইয়া পড়িয়াছিলাম।

৬,৪০৭ বার দেখা হয়েছে

৬৭ টি মন্তব্য : “প্রাপ্তবয়ষ্ক – ৪”

  1. তানভীর (৯৪-০০)

    আহ্! অনেকদিন পর মরতুজা ভাইয়ের এই বিখ্যাত সিরিজটা পাইলাম। 😀

    ঘন্টাখানেক পর জানা গেল উক্ত গোলকের সাইজ আমাদের বন্ধুমহোদয়ের ফিট করে নাই। ফলাফল দুম ফটাস। তাহাতে খুব একটা সমস্যা নাই। সাইজ না মিললে ফাটতেই পারে। কিন্তু সেইদিন হইতে কলেজের শিক্ষক মহোদয়দের সাইজ নিয়া আমরা কিঞ্চিত শংকিত হইয়া পড়িয়াছিলাম।

    =)) =)) =))

    বস্, জটিল হইসে।

    জবাব দিন
  2. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    এইনা হইলে বড় ভাই ছোট ভাই আবদার করার সাথে সাথে লেখা হাজির 😀 😀 😀
    কিন্তু ভাই আপনি এই কাহিনি কেমনে জানলেন???
    কয়দিন আগে আমরা এইচ. এস. সি দিয়া বাইর হইছি। এক্কেরে same কাহিনি। প্রতিদিন মিল্ক ব্রেক টাইমে আমাগো ডাক্তার স্যারের মাইয়া জিন্স এর থ্রী কোয়ার্টার প্যান্ট এবং টাইট টি শার্ট পইরা হাউজের সামনে দিয়া স্কু্লে যাইত।
    আর আমাগো পোলাপান ওই সময়ে মহা গুরুত্তপূর্ণ ক্রিকেট বাদ দিয়া ওই মাইয়ারে উদ্দেশ্য কইরা গান গাইতো। পরে স্যাররা এই কাহিনি জাইনা নিয়ম করছিল কোন মাইয়া ওই রোড দিয়া স্কুলে যাইব না। স্কুলে যাবার টাইম হইলে গার্ড আইসা হাউজের সামনে দারাইয়া থাকতো। আহারে কি যে কস্টো :(( :(( :((
    ওই মাইয়ার কথা ভাইবা কতোজনের শরীরের কতো রক্ত যে পানি হইয়া গেছে একমাত্র আল্লাহ মাবুদই জানেন :(( :(( :((


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  3. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)
    ঘন্টাখানেক পর জানা গেল উক্ত গোলকের সাইজ আমাদের বন্ধুমহোদয়ের ফিট করে নাই। ফলাফল দুম ফটাস।

    কে বলে সাইজ ডাজন্‌ট ম্যাটার, হাহ্‌????????


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।