হারানো দশক

আজ সকাল থেকে নাইন-ইলেভেনের এক দশক পূর্তির দিনটিকে কেন্দ্র করে সিবিসির (কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) এফএম নাইনটি ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ রেডিও শুনতে শুনতে কেমন যেন বিষণ্ণতা ভর করলো। কোন কিছুই লেখার ঠিক ইচ্ছে ছিল না এসময়ে। তবু কেন যেন সকাল থেকে রেডিও শুনে এবং অন্তর্জালে কয়েকটি লেখা পড়ে দুটি সাক্ষাৎকার নির্ভর রচনা অনুবাদ করতে আগ্রহ জাগলো। আমাদের দেশে নিঃসন্দেহে দিনটি এভাবে মিডিয়ায়ে এসময়ে এতো বেশি আসছে না যেমনভাবে দিনটি উত্তর আমেরিকায় একটি বিশেষ জাতীয় দিবস পালন হয়ে আসছে গত এক দশক ধরে। কারণ ততো বেশি প্রাসঙ্গিক নয় বিষয়টি হয়তো সরাসরি আমাদের জীবনের সাথে। যতোটা হয়তো বর্তমানে ইরাক, আফগানিস্তান, ইরান, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, প্রভৃতি দেশের সাথে। একটি যুদ্ধ আসলে কি করে? মানুষের ভিতর ‘আমরা’ এবং ‘তারা’ বিভাজনের রেখা টেনে দেয় দৃঢ়ভাবে। একসময় যুদ্ধ শেষ হলেও এই বিভাজন টিকে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধও সেই একই প্রভাব রাখছে। বিশ্বের মানুষ এখন সন্দেহপ্রবণ রাজনীতির ছত্রতলে জীবনধারণ করে। অবিশ্বাস এবং সন্দেহের রাজনীতি বিশ্বব্যবস্থায় অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি প্রভাব রাখছে। তারওপর ভিত্তি করে পররাষ্ট্রনীতি এবং শান্তি এবং সংঘর্ষনীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। আর তার বলীর পাঠা হচ্ছে সাধারণ মানুষজন।

নাইন ইলেভেন সংঘটিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে্। কানাডা কিছু নাগরিকের [উইকিপিডিয়া তথ্যমতে ২৪জন] মৃত্যু ছাড়া তেমনভাবে নাইন-ইলেভেন ঘটনায় আক্রান্ত হয়নি তখন। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর আমেরিকার ইস্ট কোষ্টে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়া থেকে আগত সব ফ্লাইট সেদিন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং ল্যাবরাডোরের সেন্ট জোনস আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করানো হয়। নিউফিরা হাজার হাজার অনিশ্চিত বিমান যাত্রীদের সেই ভঙ্গুর দিনটিতে আতিথেয়তা জানায়। ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সবাইকে তাদের শহরে, হোটেলে, বাড়ীতে থাকার জায়গা করে দেয়। কানাডা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সবথেকে নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশ। এবং কানাডাও একটি অভিবাসী অধ্যুষিত দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো একই জাতীয় মাথাব্যথা কানাডারও রয়েছে অভিবাসীভিত্তিক মাল্টিকালচারিজমের চর্চার কারণে। পাশাপাশি কানাডার পররাষ্ট্রনীতি অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, কৌশল এবং ঘটনাবলী দ্বারা প্রভাবিত। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য মিত্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে। ২০০১ সালের পর সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এক নিকটতম মিত্র দেশ হিসেবে অংশ নিয়ে আসছে। যদিও কানাডার ভূমিকা যুক্তরাজ্যের মতো সরব না এবং কখনো তেমন ছিল না। কিন্তু কানাডার মিডিয়ায় নাইন-ইলেভেন দিনটি কোন অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কানাডার মিডিয়ায় দিনটি এতো তাৎপর্যপূর্ণ যে মনে হতে পারে ঘটনাটি যেন টরোন্টো কিংবা মন্ট্রিয়ালে ঘটেছিল। আমার অন্তত তাই ধারণা হয়েছে।

এই ব্লগটিতে মূলতঃ পল রজার্স [১] এবং ক্যাস ম্যুউডের [২] দুটি ছোট্ট সাক্ষাৎকার ‘ওপেন ডেমোক্রেসি’ থেকে অনুবাদ করে দিলাম। পল রজারস ব্রাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি অধ্যয়ন বিভাগের একজন অধ্যাপক। তিনি ওপেন ডেমোক্রেসির সাপ্তাহিক বৈশ্বিক নিরাপত্তা কলামে সেপ্টেম্বর ২০০১ থেকে লিখে আসছেন, এবং অক্সফোর্ড রিসার্চ গ্রুপের জন্য আন্তর্জাতিক-নিরাপত্তা মাসিকে নিয়মিত প্রতিবেদন লেখেন। এবং ক্যাস ম্যুউড হলেন ইন্ডিয়ানার গ্রিনক্যাসেলের ডিপউ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন হ্যাম্পটন এবং এস্থার বসওয়েল অধ্যাপক। তার পুস্তকসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘পপুলিস্ট র্যাডিক্যাল রাইট পার্টিজ ইন ইউরোপ’ (ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৭)। ওপেন ডেমোক্রেসি থেকে অধ্যাপক পল রজার্স এবং অধ্যাপক ক্যাস ম্যুউডকে প্রশ্ন করা হয়েছিল – গত এক দশকে সেপ্টেম্বর ১১, ২০০১ এর পর থেকে কি কি মূল শিক্ষা? তাঁরা সেগুলির প্রশ্নের উত্তর দেন।

ক. ৯/১১ এবং হারানো দশক – পল রজার্স

* নাইন-ইলেভেনের সবথেকে বড় প্রভাব কি পড়েছে বিশ্ব রাজনীতি এবং মানুষের জীবনে?

পল: প্রভাব বলতে, নিরাপত্তা বিষয়ক চিন্তার স্থান দখল করে নিয়েছে সাংঘাতিক ভ্রান্ত “ওয়ার অন টেররের” ধারণা এবং সেকারণে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানব-নিরাপত্তা ইস্যুগুলো গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে – যেমন দারিদ্র, পুষ্টিহীনতা এবং রোগ-মহামারী। উপরন্তু, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু পুরো একটি দশকের শুরু থেকে তার গুরুত্ব হারিয়ে বসে। অর্থনৈতিকভাবে বিভক্ত এবং জলবায়ুগতভাবে সংকটাপন্ন একটি পৃথিবী – যুগপদভাবে যা আগামী দশকে একটি মৌলিক ইস্যু, কিন্তু ৯/১১ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করতে গিয়ে যেটি হয়েছে তা হলো আমরা অতি মূল্যবান সময় হারিয়ে বসে আছি।

* এই যে এতো ক্ষয়ক্ষতি হলো। ৯/১১ এর কোন বিজয়ী কি কেউ হয়েছে?

পল: মূল বিজয়ী হয়েছে সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স (মিলিটারি-ইন্ডাসট্রিয়াল কমপ্লেক্স), বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের, যেখানে নিরাপত্তা বাজেটের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি অসংখ্য নতুন ধরণের লাভজনক ধ্বংসাত্মক প্রকল্পের দ্বার উন্মোচন করেছে। বেসরকারি নিরাপত্তা ঠিকাদারি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি অনেক নতুন নতুন ধরণের ঠিকাদারি সহজলভ্য হয়েছে, এবং এগুলো শুধুমাত্র ইরাক এবং আফগানিস্তানের ভিতরেই নয়, সমগ্র বিশ্ব জুড়ে। “সন্ত্রাসবাদ শিল্পের” (টেরোরিজম ইন্ডাসট্রি) কলেবর এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে অসংখ্য থিংক-ট্যাংকস এবং একাডেমিকস স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হবার পর যারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কঠিন সংকটে পড়েছিল, তাদেরকেও খানিকটা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দিতে পেরেছে এই প্রক্রিয়া। এসব ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য, ৯/১১ মোটেই নিকটতম কোন প্রত্যাশিত মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল না, একদম ঝড়েবক!

* সেই দিনের ঘটনাবলী কি আপনাকে কোন পরিবর্তন ইঙ্গিত করেছে যেগুলো গুরুত্বপূর্ন বলে মনে করেন?

পল: আমি যে ছোট বিশ্লেষক দলের অংশ, দুঃখজনক হলেও, সেখানে কোন সত্যিকার বড় পরিবর্তন বিগত কয়েকটি বছরে উল্লেখ করার মতো ঘটেনি। তবে বিগত দশ বছরের দিকে ফিরে তাকালে দেখতে পাই, সবথেকে ব্যথাতুর পরিণতি হলো মানুষের মূল্যবান জীবনের, প্রায় দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার মানুষ মারা হয়েছে, তার দ্বিগুণ পরিমাণ মানুষ মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে এবং মোটের উপর সত্তর লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার হলো, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমরা প্রভাব রাখার মতো কোন বলিষ্ঠ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে পারিনি, যদিও এই যুদ্ধের পরিনতি স্পষ্ট হয়ে দৃশ্যমান হচ্ছিল, যার দায় আমরা কোনভাবেই এড়িয়ে যেতে পারি না। আমরা মোটেই জোরেশোরে চেষ্টা করতে পারিনি।

খ. ৯/১১: যতো বেশি নিরাপত্তা, ততো কম নিরাপদ – ক্যাস ম্যুউড

* নাইন-ইলেভেনের সবথেকে বড় কি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব রাজনীতি এবং মানুষের জীবনে?

ক্যাস: কোন সন্দেহ নেই যে, ৯/১১ সমগ্র বিশ্বকে দুটি পরস্পর সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার অংশ করেছে (যদিও এগুলো বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং অঞ্চলভেদে ভিন্নতরভাবে ক্রিয়াশীল হয়েছে)। প্রথমত, এটি মানুষের জীবনের সকল দিককে আবশ্যিকভাবে ‘নিরাপত্তাকরণ’ প্রক্রিয়ার অংশ করেছে; দ্বিতীয়ত, এই ৯/১১ ‘নিরাপত্তার ইসলামিকীকরণ’ কৌশল এবং প্রক্রিয়ার অংশ করেছে সমগ্র বিশ্বকে। আমি মূলতঃ বোঝাতে চাচ্ছি প্রায় সবক্ষেত্রে – অভিবাসন থেকে যাতায়াত ব্যবস্থা, আবহাওয়া থেকে ইন্টারনেট – এখন প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা এবং হুমকির ডিসকোর্সের সাপেক্ষে বোঝানো হয়ে থাকে।

অন্যভাবে বললে, নিরাপত্তা এবং হুমকির ধারণা পুরোপুরি ইসলাম এবং মুসলমানদের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা হচ্ছে। এই সম্পর্ক অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে স্পষ্ট হয়েছিল আবারো যখন ২২শে জুলাই ২০১১ সালে নরওয়ে হত্যাকাণ্ড বিষয়ে “নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞগণ” তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন, যেখানে সরাসরি ইসলাম এবং আল-কায়েদার সাথে সংযোগ করা হচ্ছিল। যদিও সেই ঘটনাটি ঘটিয়েছিল বস্তুত একজন একাকী, শ্বেতাঙ্গ, ডানপন্থী খ্রীষ্টান চরমপন্থি। এই ‘নিরাপত্তাকরণের রাজনীতি’ এবং ‘নিরাপত্তার ইসলামিকীকরণ’ শুধুমাত্র ডানপন্থী শক্তিগুলোর ক্ষতিকর মিথস্ক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়, কমবেশি মধ্যম ধরনের, এবং এমনকি বেশি উদারপন্থী মিডিয়ায়ও, এই বিষয়গুলি রাজনীতির আলোচনা জুড়ে স্থান পায়।

* এই যে এতো ক্ষয়ক্ষতি হলো। ৯/১১ এর কোন বিজয়ী কি কেউ হয়েছে?

ক্যাস: প্রতিটি ঘটনার বিজয়ী এবং পরাজিত পক্ষ থাকে এবং ৯/১১ তার কোন ব্যতিক্রম নয়। আরো খোলাখুলিভাবে বললে, বৃহদাকার ‘গোয়েন্দা-নিরাপত্তা কমপ্লেক্স’ হলো সবথেকে বড় বিজয়ী পক্ষ। বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সংস্থাসমূহ এবং এই সম্পর্কিত নিরাপত্তা ফার্মগুলোর (প্রায়শই যেগুলো বেসরকারী) কারণে নিরাপত্তা বাজেটসমূহ গগনচুম্বী হতে বাধ্য হয়েছে। এক অস্ট্রেলিয়াতেই, এই বৃদ্ধি ২০০১ সাল থেকে কম করে হলেও দশগুণ বেড়েছে! একইভাবে, এসব সংগঠনগুলোর প্রভাব গাণিতিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেটি সম্ভব হয়েছে মূলতঃ নিরাপত্তাকরণের রাজনীতি এবং তড়িৎভাবে প্রণীত নতুন কেতাদুরস্ত এবং একইভাবে সুদূর প্রসারী আইনের সূচনার মাধ্যমে।

অন্য উপাত্ত ঘটনার আরেকটি দিক উন্মোচন করে। ২০০১ সালের আগে, শুধুমাত্র কয়েকশত মানুষ প্রতি বছর সন্ত্রাস সম্পর্কিত অপরাধের জন্য দোষী অভিযুক্ত হতো। ২০১১ সালে বার্তাসংস্থা এ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) একটি গবেষণা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়, “কমপক্ষে পঁয়ত্রিশ হাজার মানুষ বিশ্বব্যাপী গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর এগারোর আক্রমণের পর সন্ত্রাসী হিসাবে অভিযুক্ত হয়েছে”।

প্রতিবেদনটি গুরুত্বারোপ করেছে যে অনেক আধা এবং অগণতান্ত্রিক সরকারগুলো ৯/১১ পরবর্তী সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক এবং অহিংস অভ্যন্তরীণ বিরোধী আন্দোলন দমন করেছে, যদিও প্রতিবেদনটি উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছে যে প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রেও একই ধরণের অসংখ্য গ্রেফতার এবং নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে (যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি কর্মীদের তারবার্তা ট্যাপ করা সম্পর্কিত স্ক্যান্ডাল)।

* সেই দিনের ঘটনাবলী কি আপনাকে কোন পরিবর্তন দেখিয়েছে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?

ক্যাস: নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উত্তর টাওয়ারে যখন প্রথম প্লেনটি আঘাত হানে আমি তখন এডিনবার্গের একটি রেস্তোরায় বসে ডিনার করছিলাম, মানে সেইসময় আমি যেখানে থাকতাম। আমি ইউরোপীয় প্রেসের ৯/১১ প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করছিলাম এবং দেখলাম যে মিডিয়া বাতচিত এবং রাজনীতি সমগ্র ইউরোপে রাতারাতি পাল্টে গেল; বিশেষভাবে আমার নিজভূম নেদারল্যান্ডে।

আমি যখন ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চলে এলাম, ৯/১১ তখন ইউরোপের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র থেকে সরে এসেছে, যদিও ‘নিরাপত্তাকরণের রাজনীতি’ এবং ‘নিরাপত্তার ইসলামিকীকরণ’ তখনও গুরুত্বপূর্ন এবং প্রাসঙ্গিক।। যুক্তরাষ্ট্রে, যদিও, ৯/১১ এখনো একটি প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ন সময়কাল; এমনকি আমার ছাত্র-ছাত্রীরা, যারা সেসময় ৮-১০ বছর বয়সের ছিল, তারাও মনে করে সেই দুর্ভাগা দিনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব বর্তমানে একটি ভিন্নতর কালে এসে পড়েছে (যেসময়টার কথা তারা সামান্যই স্মরণ করতে পারে যদিও)। এবিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে এখন অনেকটা সমগ্র জাতির সাংস্কৃতিক কাঠামোর অংশ পরিগণিত হয়েছে যেন, এবং এটি নিঃসন্দেহে সাধারণ এবং আশাবাদী জনগণকে উদ্বিগ্ন এবং ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ এখন বর্তমান বিশ্বকে একটি সংঘাতপূর্ন স্থান হিসাবে দেখে, যে বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করে; তারা এমনকি অসহিষ্ণুতাকে (মুসলমানদের অথবা ইসলামফোবিয়া, অথবা উভয়কে) তাদের রাষ্ট্রের এবং বিশ্বের জন্য হুমকি হিসাবে অনুধাবন করে। সত্যাসত্য বললে, এই ব্যাপারটি অনেক ওলন্দাজদের মানস থেকে দূরের কোন বিষয় নয়, যদিও তাদের ৯/১১ এসেছিল পিম ফরটুইন এবং থিও ভ্যান গগের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। এখানে আবারো, অনেক মিলের ব্যাপার আছে যেগুলি ভিন্নভাবে ক্রিয়াশীল।

* শিরোনামটি পল রজার্সের শিরোনামের সাথে মিল রেখে।

তথ্যসূত্র: ওপেনডেমোক্রেসি ডট নেট
১. পল রজার্সের সাক্ষাৎকার-নির্ভর রচনা।
২. ক্যাস ম্যুউডের সাক্ষাৎকার-নির্ভর রচনা।

১,০৭৮ বার দেখা হয়েছে

৯ টি মন্তব্য : “হারানো দশক”

  1. নাফিজ (০৩-০৯)

    ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার হচ্ছে, নরওয়ের হত্যাকান্ডের ঘটনাটা নিয়ে মিডিয়া কিন্তু প্রায় চুপ। কোন খবরই পাইনা এদেশে বলতে গেলে, যেন কতকাল আগে হয়েছে ঘটনাটা- যেন ভুলেই গেছে ৯১ টা নিরস্ত্র মানুষের মৃত্যুর কথা। আল-কায়েদা তো অনেক পরে, ওই লোক যদি মুসলিমও হতো- রিঅ্যাকশন যে কি হতো কল্পনাও করা যায় না।


    আলোর দিকে তাকাও, ভোগ করো এর রূপ। চক্ষু বোজো এবং আবার দ্যাখো। প্রথমেই তুমি যা দেখেছিলে তা আর নেই,এর পর তুমি যা দেখবে, তা এখনও হয়ে ওঠেনি।

    জবাব দিন
  2. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    রাব্বী, একবিংশ শতাব্দীর প্রথম এই দশ বছরকে "হারানো দশক" নয়, আমি মনে করি "কুখ্যাত দশক"। সভ্যতাকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে এই সময়টা। মানুষে মানুষে অবিশ্বাস, ধর্মের খোলসে 'অধর্ম', আগ্রাসন, হত্যা, নির্যাতন কতো অপকর্মই না হয়েছে এই দশ বছরে। আমাদের জীবন থেকে এই কালো অধ্যায়টা যদি মুছে দেওয়া যেত!! (সম্পাদিত)


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  3. রকিব (০১-০৭)

    বস, পার বানান এক ডলার কইরা দিয়েন 😀

    বিষন্নতা>বিষণ্ণতা
    আফগানিস্থান >আফগানিস্তান
    পাকিস্থান>পাকিস্তান
    নিউফিসরা>নিউফিরা
    গুরুত্বপূর্ন>গুরুত্বপূর্ণ
    তাৎপর্যপূর্ন>তাৎপর্যপূর্ণ
    বেসরকারী>বেসরকারি
    সহজলোভ্য>সহজলভ্য
    অস্থিত্ব>অস্তিত্ব
    মাহেন্দ্রক্ষন>মাহেন্দ্রক্ষণ
    পরিনতি>পরিণতি
    দ্বিগুন>দ্বিগুণ
    পরিমান>পরিমাণ
    কন্ঠস্বর>কণ্ঠস্বর
    পরষ্পর>পরস্পর
    হত্যাকান্ড> হত্যাকাণ্ড
    শেতাঙ্গ> শ্বেতাঙ্গ
    খ্রীষ্টান> খ্রিষ্টান
    চরমপন্থী> চরমপন্থি
    দশগুন>দশগুণ
    কেতাদুরস্থ>কেতাদুরস্ত
    পয়ত্রিশ>পঁয়ত্রিশ
    আক্রমনের>আক্রমণের
    অভ্যন্তরীন>অভ্যন্তরীণ
    বানিজ্য>বাণিজ্য
    দূর্ভাগা>দুর্ভাগা
    সংঘাতপূর্ন>সংঘাতপূর্ণ
    ঘৃনা>ঘৃণা
    অসহিঞ্চুতাকে>অসহিষ্ণুতাকে
    হত্যাকান্ডের>হত্যাকাণ্ডের


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।