আবোল তাবোল……..

মোটামুটি বছর খানেক হয়ে গেছে সিসিবি তে আসি। চুপচাপ ব্লগ পড়ি, চলে যাই। অনেক দিন চেষ্টা করছি কিছু একটা লিখার। কিন্তু কিছুই মাথায় আসেনা।

আজকে ঠিক করলাম যা খুশি লিখমু। কেউ তো আর গালি দিব না। চিন্তা কিসের??

কলেজ থেকে বের হলাম আজ প্রায় চার বছর। এখন আই.ইউ.টি তে ফাইনাল ইয়ার। আমাদের কলেজ এর ১৩ জন আছি আমরা এখানে। তাই আসলে এখন ও কলেজ এর মত ই লাগে। আড্ডা দিলে ই কলেজ এর গল্প। চার বছর ধরে গল্প করে ও গল্প শেষ হয় না।

এ গুলার মধ্যে যে কয়টা এখন মনে আসতেছে তা ই লিখি……………

আমাদের এক জন ছিল। সেই লেভেল এর চাপাবাজ। সারা জীবন মাইরা গেসে। কলেজ এ যেদিন ঢুকসি সেই দিনের চাপা…….
রুমমেট কে ডাইকা বলতেনে….. “ঐ যে দেখছস, যেই ভাইয়া বাঁশি বাজাইতেসে? উনি আমার গাইড…… উনি হল এই কলেজ এর বাঁশি প্রিফেক্ট….. উনি বাঁশি বাজাইলেই সবাই নামে……. ”

আমাদের এক ধর্ম স্যার ছিল। একবার পরীক্ষার খাতা দিল। একজন ৭৯ পাইসে। গেল স্যার এর কাছে। এক মার্ক বাড়ানোর জন্যে। স্যার বলল…….
“দেখ, তোমাকে যদি ১ মার্ক দেই, তাহলে যে ৭৮ পাইসে তাকে ও ১ মার্ক দিতে হয়, তখন তার ও ৭৯। তখন তাকে আবার এক মার্ক দিতে হবে। এভাবে ৭৬…… ৭৫…… ৭৪……… ” । ক্যাডেট এর আর কি বলার থাকতে পারে??

আমাদের ফর্ম মাস্টার ছিল একজন পাবলিক। খুবই ভাল মানুষ কিন্তু কিপটা হবার আপার লিমিট। ইলেভেন এর এক্সকারসন এ একবার একজন স্যার এর কাছে মোবাইল চাইল একটা কল করার জন্য। স্যার পকেট থেকে মোবাইল টা বের করে খুব মনোযোগ দিয়ে চেক করে বলল……. “আহহা! নেটওয়ার্ক নাই”…….. সবাই যখন আবার হাটা দিলাম খেয়াল করলাম ঠিক স্যার এর মাথার উপর ই টাওয়ার ছিল একটা…………

কলেজে ট্র্যাডিশন ছিল একটা যে ক্লাস টুয়েলভ শেড নীচে দিয়ে ডাইনিং হল এ যাওয়া আসা করত। হঠাৎ করে এ্যাডজুডেন্ট বলল যে এটা নিষেধ। সবার রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। কে শোনে কার কথা? আমরা যথারীতি শেড দিয়ে ই চলতে থাকলাম। এক বৃহঃ বার ডিনার এ যাচ্ছি। হঠাৎ দেখলাম অন্ধকার এ সিঁড়ি তে এ্যাডঃ বসা। সামনে যারা ছিলাম দাড়ায় পরলাম। আর পিছনের গুলা দিল উল্টা দিকে দৌড়। আর শুনতেছিলাম হারামি গুলা দৌড়াইতেসে আর সাথে চিল্লাইয়া বলতেনে…… “বয়েজ……. দৌড়া………. সাদেক… সাদেক (স্যার এর নিকনেম…… =)) )” …… হাসি চাপাইতে খুব কষ্ট হইছিল ঐ দিন।

এইচ.এস.সি পরীক্ষা। আমাদের দায়িত্বে ছিল রাখাল স্যার। হল এ একবার এক ইনভিজিলেটর দেখল যে ২ জন কথা বলতেনে। সে রাখাল স্যার কে বলল যে কেন কথা বলতেনে….. এভাবে পরীক্ষা দেয়া ঠিক না…….. ক্যাডেট দের সেন্টার আলাদা রাখা ঠিক না……. চেঞ্জ করা উচিত……. হেন তেন……

রাখাল স্যার সব মন দিয়ে শুনল……… তারপর বলল………
“জী স্যার, সেটাই। এই যে ছেলে টা কে দেখেছেন, ও কিন্তু আমাদের কলেজ প্রিফেক্ট। কলেজ এর সব কিছু ও ই চালায়। আর ঐ যে ছেলে টা। ও হচ্ছে কালচারাল প্রিফেক্ট। খুব ভাল গান গায়। আর ঐ যে……. গেমস……………….. ২ তারা ঐ টা হাউস প্রিফেক্ট……….. ” =)) =))

আর মনে আসতেছে না। এত গল্প মনে রাখা সম্ভব??

বিঃ দ্রঃ প্রথম লেখা। ভুল ত্রুটি ক্ষমা তো পরের কথা। ধরবেন ই না। O:-)

আর ফ্রন্টরোল না বলতেই দিয়া দিলাম…….. :frontroll: :frontroll: :frontroll:

২,১১৭ বার দেখা হয়েছে

৩২ টি মন্তব্য : “আবোল তাবোল……..”

  1. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    আমি যখন প্রথম প্রথম দাওয়াত দিয়ে বাইরের লোক খাওয়াতাম তখন তোমার মতই চিন্তা করতাম - খারাপ রাঁধলেও কেউ তো গালি দিবে না। বরং হেসে বলবে ভালো হয়েছে।

    সিসিবিতে সুস্বাগতম।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
  2. রায়েদ (২০০২-২০০৮)
    সবাই যখন আবার হাটা দিলাম খেয়াল করলাম ঠিক স্যার এর মাথার উপর ই টাওয়ার ছিল একটা…………

    ভাইয়া স্যার টাওয়ারের নিচে দাড়ায়ে চেক করসে এইটা বুঝতে আপনাদের লেট হিল কেন? ~x( ~x(

    উনি আমার গাইড…… উনি হল এই কলেজ এর বাঁশি প্রিফেক্ট….. উনি বাঁশি বাজাইলেই সবাই নামে…….

    আমার গাইড বাঁশি প্রিফেক্ট ছিল, আমিও ছিলাম, আমার পার্টনার ও ছিল। 😀 😀

    জবাব দিন
  3. রকিব (০১-০৭)

    সিসিবিতে স্বাগতম দুস্ত!!! যাক ধীরে ধীরে ০১-০৭ এর দলবল ভারি হচ্ছে!!
    হাত পা খুলে কীবোর্ড কাপিয়ে লিখতে থাকো মামা!!! 😀


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  4. Shafi Zaman

    চ্রম হইছে দোস্ত...
    "আর শুনতেছিলাম হারামি গুলা দৌড়াইতেসে আর সাথে চিল্লাইয়া বলতেনে…… “বয়েজ……. দৌড়া………. সাদেক… সাদেক" =)) =)) =))

    আমি মনে হয় এই দলেই ছিলাম :))

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।