রিইউনিয়ন ২০০৮

রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল এক দুঃসপ্নে। আবার সেই প্যারেড গ্রাউন্ড আর আমি উপস্থিত ক্যাডেট হিসাবে। এডজুট্যান্ট গ্রাঊন্ডে এসে স্বয়ং প্যারেড তদারকি করছেন কারন রিইউনিয়নে ভাইয়ারা এসে প্যারেড সম্পর্কে মন্তব্য করে গেছেন।ভাগ্য ভাল ঘুমটা ভেঙ্গে গেল, না হলে যে আর কত কিছু কপালে ছিল। আসলে ক্যাডেটরাই ক্যাডেটদের শ্ত্রু ।১ম ইনটেকের একজন স্মৃতিচারনে তাদের সময়কার প্যারেড স্টান্ডার্ড এর কথা বলে আসলেন। শরীরের যেকোন অংশ চুলকালেও তারা নাকি প্যারেড গ্রাউন্ডে তা জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যাই হোক বর্তমান প্যারেড তার ভাল লাগেনি আর তাই এক কথায় নালিশ করে আসলেন। আমার স্বপ্নে অবশ্য উনি ছিলেন না। তবে দোয়া করি আল্লাহ যেন ওনাকেও এমন একটা দুঃসপ্নের মুখোমুখি করেন।
এবার আমাদের কলেজের ২৫ বছর পূর্ণ হল। আর তাই এক বছর আগেই আর একটি রিইউনিয়ন হয়ে গেল। ভালবাসা দিবসে রিইউনিয়ন শুরু। রিইউনিয়ন আসছে, আর দিন গুনছি। যতবার কলেজে গিয়েছি কলেজ গেট দেখার সাথে সাথে অন্তর শুকিয়ে গিয়েছে, আবারও আড়াই মাস এর বন্দি জীবন। আর এবার এই বন্দি জীবনটাই যেন তিনদিনের জন্য জন্য উপভোগ করতে চাচ্ছিলাম। সিগারেট পার্টি কলেজ গেটেই সিগারেট জ্বালিয়ে যেন জানান দিল কে ধরবি আয়। মৃত মানুষকে যদি আবার জীবিত করে বলা যায় যাও তিন দিন জীবিত বেশে ঘুরে আস, ঠিক এমনই একটা অনুভূতি যেন এই রিইউনিয়নে পেলাম।
কলেজে ঢুকেই আমি আর হাসিনুল সোজা হাউসের দিকে রউনা। অদ্ভুত এক ভাললাগার অনুভূতি। আমরা ২২ জনের মত হয়েছিলাম। ক্লাস সেভেন “এ” ফরম দখল করলাম। নিউজ বোর্ডে গিয়ে যথারীতি সেই একই খবর লেখা হল-
International: 9 US soldiers died in bomb attack.
National: The condition of Khulna is good.
Sports: এটা কখনই বানানো হয়নি, সবসময় লাইভ আপডেট থাকত। ফরম মাস্টার এনাম স্যারের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্যই এ ব্যাবস্থা।
আবারো সেই ডাস্টার দিয়ে বাস্কেটবল খেলা,আবারো একে অপরকে টিজ করা। মনে করে লিখতে গিয়েও আমার সময়গুলো আবার ফিরে পেতে ইচ্ছে হচ্ছে।
এবার রিইউনিয়নে ১৯ থেকে ২২(আমরা ২০ তম) এই ৪ ইন্টেককেই যুব সমাজ বলা যায়। কারণ ১৮ পর্যন্ত বিবাহিত সমাজ আছে। ১৮ এর মোতালেব ভাই এই যুব সমাজ থেকে তাদেরকে বহিস্কার করেছে। বউ নিয়ে তার পদচারনা এবার রিইউনিয়নের সবচেয়ে আকর্ষনীয় দৃশ্য ছিল। যুব সমাজ + ক্যাডেট সমাজের দৃষ্টির কারনে আমদের প্রেমিক সমাজের অনেককেই আবার চিন্তিত দেখা গেল। “না দোস্ত বউ নিয়া আসুম না” এমন কথায় এদের মুখ থেকে শোনা গেছে। ভাইয়াদের কিউট পিচ্চি দেখে একজন তো খুব শীঘ্রই বিবাহের শপথ নিল।
স্মৃতিচারণ পর্বটাই আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে। রাখাল স্যার এখন আমাদের কলেজের ভিপি। মির্জাপুর আর সিলেট চিনবে। প্রায় অনেকেই এসে স্যার এর কথা বলার ভঙ্গিমা অনুকরনে কিছু বলেছে আর একদম সামনে বসে এই কথাগুলো হজম করা লেগেছে স্যারের(সবাই অবশ্য পূর্ণ শ্রদ্ধাভক্তি সহকারে বলেছে!)।
এক হাউজ প্রিফেক্ট এর কাহিনী শুনলাম।হাউসে সাউট করার সাথে সাথে তার প্যান্ট খুলে যায়, আর এ অবস্থায় কি করাযায় এভেবে দৌড়ের সিদ্ধান্ত নিলে প্যান্ট পেচিয়ে সেখানেই তার পতন।
এবার রিইউনিয়নে এক্স-ক্যাডেটদের ডিসিপ্লিন দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল ১৯ এর ইয়াজদানী ভায়ের। সবচেয়ে বেশী এক্সট্রাড্রিল খাওয়ার প্রাইজটা আবার উনিই পেলেন। কুমিরের কাছে মুরগী রাখা আরকি।
কলেজ শেষে বেরিয়ে আসার দিন আমরা সবাই কেঁদেছিলাম। কলেজের প্রতিটা কোনাই যেন আমার পরিচিত। এই তিন দিনের জীবন শেষে যখন আবার মৃত্যু বরণ করতে যখন কলেজ গেট এর দিকে এগুচ্ছি তখন কেমন এক ব্যথায় যেন মনটা বিষাদে ছেয়ে গেল। আবার এই তিনদিনের মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গোনা শুরু করেছি।

১,১৮৮ বার দেখা হয়েছে

১১ টি মন্তব্য : “রিইউনিয়ন ২০০৮”

  1. রিইউনিয়ন এর ব্যাপারটা আসলেই joss.
    দুঃস্বপ্নগুলোই কিন্তু বাস্তবে আমরা খুব বেশি করে চাচ্ছি।না হলে এই ব্লগ সাইটটার জন্ম কখনোই হতো না।কলেজকে যে এখনও কতটা মিস করি এই ব্লগের মানুষগুলোর স্মৃতিচারণ থেকেই সেটা হৃদয়ঙ্গম করা যায়।
    রাখাল স্যারের ভি পি হওয়ার কথা শুনে এক প্রস্থ হেসে নিলাম।আমরা হাউস মাস্টার হিসেবে পেয়েছিলাম।তার সময়ের হাউস ইন্সপেকশন প্রিন্সিপাল ইন্সপেকশন এর চেয়েও ডেঞ্জারাস ছিল।যতদিন ছিল ততদিন শান্তিতে থাকতে দেয়নাই।ক্লাস এইটে থাকতে আমাদেরকে দিয়ে রোজ শুক্রবার হাউস গার্ডেন এ কমিউনিটি ওয়ার্ক করাতো।সেই জিনিসটার অস্তিত্ব বাকি ক্যাডেট লাইফে কেবল কলেজ প্রসপেক্টাস ছাড়া আর কোথাও পাইনি।
    আমাদের রিইউনিওয়ন আবার ২০১১ তে।ধূর...এখনো তিন বছর... 🙁

    জবাব দিন
  2. রাখাল চন্দ্র ধর? হুমমম। কাউবয় ক্যাচেস দ্য মুন।
    রিইউনিয়ন চলাকালে বন্ধুদের ফোন করেছিলাম, ওদের মজা করার কাহিনি শুনে রাগে দুঃখে গা জ্বলে গেছে।
    আরেকটু বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যাবে? প্রতিদিনের?

    জবাব দিন
  3. রিইউনিয়নের কোন তুলনা নাই। এক্স ক্যাডেট হিসেবে আমরা একটা রিইউনিয়নেই গেছি। মির্জাপুরের ১০ম রিইউনিয়ন। আমাদের ব্যাচ সবচেয়ে বেশী হৈ হুল্লোড় করেছিল। প্রায় ৩০ জন একবার একত্র হয়েছিলাম। রিইউনিয়ন শেষে তো ৩৭তম ব্যাচের নামে মেকা অফিসে প্রিন্সিপাল কমপ্লেন করেই বসল। কি আর করা!

    কুমিল্লার হাসনাইন, ইশতিয়াক তো আছেই। আর তাছাড়া আইইউটিতে আমাদের ব্যাচে কুমিল্লার ৮-১০ জন আছে। সবাই মিলে পুরো রিইউনিয়নের কাহিনী লিখে ফেল! তারেক ভাইয়ের মত আমিও তা-ই চাচ্ছি।

    জবাব দিন
  4. ইশতিয়াক,
    যুব সমাজের তত্বটা কি তোমার দেয়া? আমরাও কিন্তু ওই সমাজের লোক। বিকজ exception (মোতালেব) can't be example.
    শুধু তাই নয়, আমাদের জুনিয়রও দু'একজন বিয়ে করে ফেলেছে। হয়তো তুমি জাননা।

    Alam, ১৮তম।

    জবাব দিন
  5. @alam vai,
    এটাকে তত্ব বল্লেন......যাই হোক যুব সমাজের প্রতিনিধিত্ব আসলে সবাই করতে চায়।এত কিছু ভেবে আসলে লিখি নাই। আপনার জুনিয়র দুই একজন কে কে?? আমি জানি না। আশাকরি জানাবেন। আসলে ক্যাডেট কলেজে সবসময় গ্রুপ ধরে পানিশমেন্ট দেয় তো তাই এক গ্রুপে পড়ায় এই সমস্যা। We need to count exception also. just think positively......... এটা রিইউনিয়নের কিছুদিন পরের লেখা।অনেকদিন পর আপনি বিষয়টা বললেন। আমার লেখায় আপনি কিছু মনে করলে দুঃখিত।
    Ishtiaque 20th

    জবাব দিন
  6. ভাইয়া, ১)আমি এই সাইটে আসছি লেইটে, পড়ছি লেইটে, তাই কমেন্টও করছি লেইটে।
    ২)তোমার জবাবটাও সুন্দর হইসে। রাগ করার কিছুই নাই। 'এক্স' হিসেবে এখানে আমরা একটু freely কথাই বলতে পারি। এটাই বরং ভাল।
    ৩)exceptionটাও আমাদেরি অংশ, অতএব এটাও আমরা আলোচনা করতে পারি। right. but "যুব সমাজ" থেকে বের করে দিলে আমরা বাকিরা যাব কই?
    thnx.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।