ফেরারী ৪

পর্ব ১

পর্ব ২

পর্ব ৩

তাকসিম স্কয়ার,ইস্তানবুল,তুরস্ক।ইস্তানবুল তুরস্কের একমাত্র শহর যেটি এশিয়া ইউরোপ দুই মহাদেশেরই অংশ।তাকসিম স্কয়ার পড়েছে ইউরোপ অংশে।

আজিমি বেলকশ।জাতিতে তুর্কী।কিন্তু মা ছিলেন বাংলাদেশী।বয়স যখন ১৫ তখন বাবা মার সাথে বিচ্ছেদ হয়ে যায়,মা চলে গেলেন নিজ দেশে মেয়েকে নিয়ে যেতে দিলো না ওর বাবা।পরের বছর আরেকটা বিয়ে করলেন।সৎ মায়ের ঘরে থাকাটা হয়ে উঠলো অসহ্য।সৎ মায়ের অভিযোগে বাবাও মারধর করতেন প্রায়ই। মেধাবী মেয়েটার পড়াশুনা বন্ধ হবার অবস্থা তখন।বেরিয়ে আসে ঘর থেকে।ভাগ্য ওকে সহায়তা করেছিল।ও বাঙ্গালী শুনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় মাসুদ রানা। বিসিআই ওকে গড়ে তোলে একজন সফল কম্পিউটর প্রোগ্রামার হিসাবে। ছোটবেলা থেকেই একটা জিনিয়াস মেয়েটা।মাঝে মাঝে টুকটাক হ্যাকিং এর কাজও করে রানা এজেন্সীর হয়ে। ইস্তানবুলেই জন্ম সবকিছুই ওর পরিচিত তাই এখানের রানা এজেন্সীতেই ওকে পোস্টিং দেয়া হয়।কিন্তু কোন এক কারণে ইস্তানবুল শাখা এখন ইনএকটিভ।সবাইকে ছুটি দেয়া হয়েছে কিন্তু জয়েনিং এর কোন সময় সীমা জানানো হয়নি।ছুটির সময় পরবর্তী তিনমাসের পেমেন্ট ও দিয়ে দেয়া হয় ওদের সবাইকে।কিন্তু প্রায় চার মাসের মতো হতে চললো।এখনও কোন খবর পাচ্ছে না এজেন্সীর ডিরেক্টর শাহেদ মাসুদ এর কাছ থেকে।বাধ্য হয়ে একটা সফটওয়ার ফার্মে কাজ নিলো ও।শেষ বিকেলের এই সময়টাতে কাজ শেষে যখন ঘরে ফেরে তখন একরাশ ক্লান্তি ভর করে ওর উপর। আজও এর ব্যতিক্রম ঘটলো না। অ্যাপার্টমেন্টে এসে কোনরকম ব্যাগটা রেখেই শাওয়ার নিতে ঢুকলো ও।গুনগুন গানের আওয়াজ আসছে বাথরুম থেকে। প্রায় আধাঘন্টা পর বের হলো শাওয়ার থেকে।গায়ে জড়ানো বাথরোব।বেরিয়েই দেখে ওর লিভিং রুমে জিকো বসে আছে। প্রথমে চিনতে পারলো না আজিমি,পরে ছোট খাটো একটা চিৎকার দিয়ে উঠলো ও আনন্দে? জিকোর ঠোটের কোনেও হাসির আভাস।
“তুমি এখানে?কি করে?এতদিন পর কোথাথেকে উদয় হলে তুমি?”
“আমাকে মনে আছে তাহলে?আমি তো ভেবেছিলাম তুমি চিনতেই পারবে না”
“পিছনের দরজা দিয়ে আসার অভ্যাস টা কি তোমার আর যাবে না?এরকম চোরের মতো এসেছ কেন? বেল বাজালে কি হতো?বাপরে ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম।”
“তুমি খুব রুটিন লাইফ লীড করছো আজকাল”
“ওহ তাই?কতদিন ধরে নজর রাখছ আমার উপর সত্যি করে বলতো?”
“৩৮ ঘন্টা প্রায়।কেমন চলছে তোমার নতুন অফিস?”
“ভালই।তবে একঘেয়েমি চলে আসে মাঝে মাঝে,কোন উত্তেজনা নেই বুঝলে।আচ্ছা তুমি একটু অপেক্ষা করো আমি চেঞ্জ হয়ে আসছি”
“ওকে”
ভিতরে চলে গেল আজিমি।ওরা একই সাথে বেসিক ট্রেনিং করেছে ছ মাস। এসময় ওদের দুজনের মাঝেই বেশ ভালো একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন গ্রুপ টাস্কে জিকো থাকতো ওদের লীডার,কোন কোন সময় আজিমি। জিকো ভালোভাবেই জানে মেয়েটি ওকে পছন্দ করে,ওকেও অপছন্দ করার মতো কিছু নেই,হয়তো আহামরী সুন্দরী কেউ নয় ও কিন্তু তাই বলে অগ্রাহ্য করতে পারবে না কেউ।তবুও ওকে কাছে টানেনি জিকো,আসলে টানতে পারেনি। ওদের এই জীবনে সম্পর্কে জড়ানোটাও একটা দুর্বলতা। আজিমিও বোঝে সেটা।তাই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা অন্তত নষ্ট করে নি।
মেয়েটিকে জিকোর দরকার। উইলসনের দেয়া ফাইলগুলোর মাঝে বেশকিছু এনক্রিপটেড ফাইল রয়েছে।সেই ফাইল গুলোকেও স্টাডি করা দরকার।এছাড়া যেসব তথ্য ও পেয়েছে সেগুলো যথেষ্ট যাচাইয়ের প্রয়োজন।
“তারপর বলো,হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই কি মনে করে?ডিনার করেছ?”আজিমি কখন চলে এসেছে খেয়াল করেনি জিকো।চিন্তার সুতো ছিঁড়ে গেল আজিমি কথা বলায়..
“না করিনি।আসলে তোমার কাছে ছোট কিছু কাজ ছিল”এই বলে ইউএসবি ড্রাইভটা এগিয়ে দিল জিকো…
হাসি থামাতে পারলো না আজিমি “সেই পুরানো দিনগুলোর মত?”এখনও মনে আছে আজিমির কম্পিউটর কোর্সগুলোতে জিকো কখনই ভালো করতে পারতো না।সবসময় আজিমি ওকে সাহায্য করতো।আর জিকো ওকে সাহায্য করতো ট্যাকটিকাল ট্রেইনিং এ।
নিজের ল্যাপটপ নিয়ে সামনে বসলো আজিমি।ডিসপ্লে থেকে চোখ না তুলেই বললো “জিকো এই সামান্য কাজের জন্য তুমি তো আসনি আমার কাছে।আমাকে সব খুলে বলো তুমি,তুমি কি কোন বিপদে আছ?”
এখন পর্যন্ত আজিমির রেকর্ড পুরো ক্লিন আর সেই ট্রেইনিং এর সময় থেকেই ওকে জানে ভালোভাবে। জানে ও জিকোর বিশ্বাস ভাঙ্গবে না কখনই,কিন্তু অতটা টাফ মেয়ে ও নয়।জিকো চায়না ওর নিজের জন্য আজিমির কোন ক্ষতি হোক।এখন যে অবস্থায় রয়েছে ও তাতে জিকোর সাথে সংশ্লিষ্ট সবার উপর ঝুঁকি চলে আসতে পারে যে কোন সময়।
“কি হলো কথা বলছো না কেন জিকো?”
আজিমির কথায় চিন্তার ছেদ পড়লো জিকোর।ভাবলো না আর।সব কিছু খুলেই বলবে ও।
“তুমি শুনতে চেয়েছ,কিন্তু একটা কথা প্রথমেই বলি,আমার কথা গুলো জানার পর থেকে তোমার উপর মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়ে গেল”
“মানে?”
“আমি এখন এমন ঝুঁকিতেই আছি,তুমি ভাবতেও পারবে না কিভাবে এখনও বেঁচে আছি”
তারপর শুরু করলো জিকো তার সাথে ঘটে যাওয়া একে একে সব ঘটনা…..

গ্রীসের মিশনের পর আমি কিছু ডেস্ক জব করছিলাম।মাসুদ ভাই একদিন আসলেন। আমাকে বিএসএস চীফ মারভীন লংফেলোর কাছে নিয়ে গেলেন। বিএসএস ডঃনিয়ানঝু নামের একজন বিজ্ঞানীকে নিজের দেশে শেল্টার দেবে,উনাকে উদ্ধার করতে হবে,আমাদের কাজ ছিল এতটুকুই। আমাকে জানানো হয় উনি কিডন্যাপ হয়েছেন।আমার সাথে আরও চারজনকে ‘ভাড়া’ করে বিএসএস।আমি প্রথমে যাই বার্সেলোনায়।বিএসএস এর তথ্য মতে ওখানেই আটকে রাখা হয়েছে তাকে।আমি প্রথমে গিয়েছিলাম কারণ কিছু সার্ভে এর ব্যাপার ছিল,এছাড়া লোকেশন আর টার্গেট কে পিক করতে হলে আমাদের আরও বেশ কিছু ব্যাপার দেখার দরকার ছিল।তাই আমি আগেই চলে গিয়েছিলাম।ওখানে লোকাল কন্ট্যাক্ট এস্তেভান বার্নার্ডো এর সাথে প্রথমে আমি দেখা করি।বি.এস.এস এর লোকাল অপারেটর সেই।লোকটার বয়স ৪০ বা তার কিছু বেশিই হবে,তবে প্রথম দেখাতেই ভালো লাগেনি আমার এটুকু বলতে পারি।ওর কাছ থেকেই বিজ্ঞানীকে আটকে রাখা দলটার সম্পর্কে কিছু তথ্য পাই। পরে আমার সাথে একে একে যোগ দেয় রিকার্ডো, ফিলিপস,আইভান আর সানচেজ।রিকার্ডো আমেরিকান,ফিলিপস আইরিশ সানচেজ মেক্সিকান,আইভান ছিল রাশিয়ান।আমি তখনও জানতাম না ওরা ভাড়া করা।তবে আমার টিম মেম্বার একেক জন এক এক দেশের দেখে আমার তখন কিছুটা খাপছাড়া লেগেছিল।তবে ঐসময় অতটা পাত্তা দেইনি।

আর্মস আর অ্যামুনিশন এর ব্যবস্থা এস্তেভানই করেছিল।এরপর শুরু হয় আমাদের কাজ।প্রথম দিনে আমি আর রিকার্ডো দুধওয়ালা সেজে বিল্ডিংটাতে ঢুকে পড়ি।বিজ্ঞানীকে আটকে রাখা হয়েছিল পাঁচ তলায়।বিল্ডিং এ লিফটের ব্যবস্থা নেই।সস্তা এপার্টমেন্ট।প্রায় সবসময়ই ঐ ফ্লোরের দরজা বন্ধ থাকে।দুপুর ১.৪৫ এর দিকে একজন বের হয় সাপ্লাই আনতে,কাছের দোকান থেকে।২.০৫ এর দিকে ফিরে আসে।রেসকিউ এর জন্য আমাদের হাতে সময় ছিল ১৫ মিনিটেরও কম।পরের দিনই আমরা মিশনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাই।ঠিক হয় গলির মুখে গাড়ি নিয়ে রেডি থাকবে রিকার্ডো,সদর দরজা কাভার দেবে ফিলিপস,আইভান সানচেজ আর আমি বিজ্ঞানীকে নামিয়ে আনব।ভারী কোন আর্মস আমরা ব্যবহার করিনি,সবাই সাইলেন্সড উজি সাবমেশিনগান নিই।সাথে যার যার পছন্দ মত সাইড আর্মস।বেলা ১টা থেকেই আমরা এপার্টমেন্টের সামনে অপেক্ষা করতে থাকি।একটা কাভার্ড ভ্যান জোগাড় করে রিকার্ডো,যাতে ক্লিনিং কোম্পানীর ছাপ দেয়া।সন্দেহের উদ্রেগ ঘটবে না কারও।ঠিক ১.৪৩ এ অপহরণ কারীদের একজন এপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে গেল।সাথে সাথেই আমরা চারজন নেমে গেলাম।রিকার্ডো ভ্যান এ রয়ে গেল।ফিলিপস সদর দরজায় দাঁড়িয়ে যাবার সাথে সাথেই আমরা দৌড়ালাম সিড়ি লক্ষ্য করে।পাচতলায় পৌঁছুতে সময় লাগলো  দুমিনিট।সবার পায়ে রবার সোল বুট।তবুও আওয়াজ যে হয়নি তা নয়।আমরা প্রায় ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করলাম ওদের কেউ টের পেয়েছে কিনা তা বোঝার জন্য।সানচেজ এরপর দরজায় ছোট একটা চার্জ সেট করলো।আমাদের কাছে সঠিক কোন তথ্য ছিলনা অপহরণকারীরা সংখ্যায় কজন,আমরা তিনজন মোটামোটি আটজনের জন্য প্রস্তুত ছিলাম,চার্জ বিস্ফোরিত হবার সাথে সাথেই ঘরে প্রবেশ করলাম,আইভান ফায়ার ওপেন করলো লিভিং রুমে বসে থাকা দুজনের দিকে,ডাইনিং রুমে ছিল একজন তার হাঁটুতে ফায়ার করলাম আমি।আর ওর বুকে আরও কয়েক রাউন্ড ঢুকিয়ে দিল সানচেজ।ওরা কোন রেসপন্স করার সুযোগই পেলনা,সংখ্যায় ওরা তিনজনই ছিল।বাইরে একজন।এরপর বিজ্ঞানীকে পাওয়া গেল বেডরুমে চেয়ারে বাঁধা অবস্থায়।তাকে মুক্ত করে দ্রুত নিচে নেমে গেলাম।সামনে সানচেজ তারপর আইভান এরপর বিজ্ঞানী সবার পিছনে আমি।অপহরণকারীদের কেউ জীবিত নেই। তবুও আমরা সতর্ক ছিলাম।ঝামেলাটা ঘটে যখন বিজ্ঞানীকে ভ্যানে তুলে দিচ্ছিলাম,ওদের যে সদস্যটি বাইরে ছিল ও ফিরে আসছিল তখন ঘড়িতে ১.৫৪।এত তাড়াতাড়ি ওর ফেরত আসবার কথা নয়,ফ্ল্যাটের কেউ ওকে কোন মেসেজ দেবার ও সুযোগ পায়নি তার আগেই দোজখবাসী হয়েছে।আমাদের দেখা মাত্রই ও ফায়ার ওপেন করে,সাথে সাথে রেসপন্স করে ফিলিপস। ওখানেই মারা যায় সে।আশে পাশের লোকজন যে যেদিকে পারে আতংকিত হয়ে ছোটাছোটি শুরু করে,কিন্তু আমাদের এছাড়া কিছু করার ছিলনা।দ্রুত বিজ্ঞানীকে নিয়ে আমরা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দেই।সেখানে অপেক্ষা করছিল এস্তেভান।ওর কাছে আমরা বিজ্ঞানীকে বুঝিয়ে দেই।এরপর টিমমেম্বার প্রত্যেকে যে যার মতো করে বার্সেলোনা ত্যাগ করি।

এপর্যন্ত বলে একটু থামলো যেন জিকো।সেই সুযোগে প্রশ্ন করলো আজিমি। “সবকিছুই তো ঠিক ছিল।সিম্পল একটা রেসকিউ মিশন।এর মাঝে ঝামেলা কোথায়?”

“ঝামেলাটা শুরু হয় এরপর থেকেই।আমরা যখন ডঃনিয়ানঝুকে এয়ারপোর্টে পৌছে দেই তখন যাবার আগে তিনি সবার সাথে হাত মেলান।আমার সাথে হাত মেলাবার সময় এই মাইক্রোচিপটা হাত বদল করেন তিনি।”এই বলে পকেটের ভিতর থেকে সরু মাইক্রোচিপটা বের করে জিকো।সাথে উইলসন এর ল্যাপটপ থেকে পাওয়া ডাটাগুলো যে ইউএসবি ড্রাইভে আছে সেটাও বের করে সামনে রাখলো ও।মুখটা গম্ভীর করে আজিমি ওর দিকে চেয়ে আছে,আরও কিছু শুনবার অপেক্ষায়।

“আমি চেষ্টা করেছি,কিন্তু কোন ধরণের পাসওয়ার্ড দেয়া। ফাইলগুলো কোনভাবেই পড়া যাচ্ছে না।তুমি সাহায্য করবে প্লিজ?”

“হুম।আচ্ছা আমাকে কিছু সময় দিতে হবে।দেখি কি করা যায়।আগে একনজর দেখে নিই তোমার ডাটাগুলো।” ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো আজিমি।আপাততঃ জিকোর কোন কাজ নেই।আশে পাশে নজর বুলাচ্ছে অলসভাবে।ভাবছে পরবর্তী প্ল্যান নিয়ে।অন্যমনস্ক হয়েই টেবিল ল্যাম্পটার দিকে তাকিয়ে ছিল ও।উপরের কভারটা একটু বেঁকে আছে না?ঠিক করার জন্য হাত বাড়ালো ও।এইসময় আবিষ্কার করলো ও জিনিসটা।ছারপোকা!!!

আজিমি একমনে কাজ করে চলেছে।ওকে ব্যাপারটা জানাতে চাইলো না এক্ষুনি।নিজেই খুঁজে দেখলো আরও কয়েক জায়গায়।ল্যান্ড ফোন ব্যবহার করে না আজিমি।তা ফোন বাদ। আয়না,শাওয়ার,ঝাড়বাতি সবকিছুতেই খুঁজতে শুরু করলো ও ক্ষুদে এই মাইক্রোফোনের অস্তিত্ব।ওর কাছে প্রয়োজনীয় কোন ইকুইপমেন্ট নেই।খালি হাতে খুঁজে পাওয়া সবসময় সম্ভব নয়।তবে এখন পর্যন্ত দুটো পেয়েছে।ওর অতি সতর্কতা নজর এড়ালোনা আজিমির।মুখ তুললো ল্যাপটপের ডিসপ্লে থেকে…
“খুঁজছ টা কি বলবে আমাকে?ঘরের তো বারোটা বাজিয়ে ফেলবে”

ঠোটের মাঝে আঙ্গুল রেখে চুপ থাকার ইঙ্গিত দিল জিকো।সাথে সাথে সতর্ক হয়ে গেল আজিমিও।কাছে এসে কাগজে লিখলো “ছারপোকা তোমার ঘরে।এখানে কথা বলছি না।বাইরে চলো।প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নাও আজ আমরা ফিরছি না।”

দ্রুত প্রস্তুত হয়ে নিল আজিমি।সাথে ছোট একটা ব্যাগ কয়েকপ্রস্থ পোষাক আর কিছু টাকা,ল্যাপটপ এগুলো।ওকে প্রস্তুত হতে সময় দিল জিকো।চুল বাঁধতে বললো ও।এরপর একটা বেসবল ক্যাপ দিয়ে ঢেকে দিল খোঁপা করা চুল।ছদ্মবেশ হিসাবে তেমন টেকশই নয় তবে এখন এতে সন্তুষ্ট থাকা ছাড়া উপায় নেই।বেরিয়ে এল ওরা এপার্টমেন্টের পিছনের দরজা দিয়ে। একটা ট্যাক্সি নিয়ে চলে এল কাছের একটা হোটেলে।

পাঁচ তলায় রুম নিল ওরা। রিসেপশনে ওরা নাম রেজিস্ট্রি করালো স্বামী স্ত্রী হিসাবে।জিকোর সাথে নকল কাগজপত্র ছিল ওগুলো দিয়েই কাজ চালিয়ে দেয়া গেল।ট্যুরিস্টের ভূমিকায় দিব্যি পাস করে গেল ওরা।রুমে পৌছাবার পর জিজ্ঞেস করে পারলো না আজিমি।

“ব্যাপারটা কি আমাকে একটু খুলে বলবে?”

“রানা এজেন্সীর অফিস বন্ধ হয়েছে কতদিন হলো?”

“তা তো প্রায় চার মাসের মতো হয়ে গিয়েছে।কেন বল তো”

“আজিমি তুমি খুব রুটিন লাইফ লীড করো।তোমার রুমে ছারপোকা রাখার মতো কিছুই হয়নি।সহজেই ওরা তোমার খবর জানতে পারবে।তারপরও ওরা সতর্ক…”

“ওরা কারা?”

“কারা সে আমি ও জানিনা তবে যেই হোক না কেন,আমার সম্পর্কে বেশ ভালভাবেই জানে।রানা এজেন্সীর সব রকমের কার্যক্রম এখন নজরদারীর মাঝে।এখানে তো অফিসই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।তারপরও ওরা তোমার উপর নজর রাখছে।তার মানে ওরা জানতো আমি তোমার কাছে আসব।নিশ্চয়ই আমার পারসোনাল রেকর্ড ফাইল ওদের কাছে আছে।তোমার রুমে যে দুটো পেয়েছি ওগুলো ইসরাইলের জিনিস।কাজ দেখে মনে হয় মোসাদ।কিন্তু এমনটা ভাবানোর জন্য অন্য কেউ প্ল্যান্ট করতে পারে।তাই কিছুই বলা যাচ্ছে না।”

“তুমি একটা রেসকিউ মিশনে ছিলে।তার জন্য সবাই তোমার পিছনে লাগবে কেন?আর এখন আমার পিছনেই বা কেন লাগল ওরা?”

“জানিনা আমি।বিজ্ঞানীকে এস্তেভান এর হাতে তুলে দেবার পর আমি ওঁর কোন খোঁজ পাইনি।একদম কর্পূরের মতো গায়েব হয়ে গেল লোকটা।এই মাইক্রোচিপটা হতে পারে বিশেষ কিছু।”(মনে পড়ে গেল রিকার্ডো মারা যাবার সময় বলে গিয়েছিল জিকো অনেক বেশি জেনে গেছে)

মাইক্রোচিপটার দিকে তাকিয়ে আজিমি।“এটার ভিতর কি এমন আছে জানার জন্য অস্থির হয়ে আছি আমি”

“আপাততঃ কাজ শুরু করে দাও।আমি ডিনারের অর্ডার দিচ্ছি।আর দু একদিনে তোমার এপার্টমেন্টে ফিরছিনা।তোমার এপার্টমেন্টে যারা ছারপোকা লাগিয়েছে তাদের কাউকে এর মাঝে দেখতে পারবো বলে মনে হচ্ছে”

কিছু কথা মনের মাঝে খচখচ করে যাচ্ছে।বিজ্ঞানীর ওকে চেনবার কথা নয়।তারপরও এই মাইক্রোচিপটা ওর সাথে কেন হাতবদল করলেন?কেন যেন মনে হচ্ছে বিজ্ঞানী ওকে আগে থেকেই চেনেন।

মাথা থেকে আপাততঃ চিন্তাটা বাদ দিলো জিকো।আগে বর্তমান সমস্যার সমাধান করতে হবে ওকে।আজিমির পিছনেও ফেউ লেগে রয়েছে।এর কারণকি?কারা ওর প্রত্যেকটা পদক্ষেপ নজরদারীতে রেখেছে?জানতে হবে ওকে…..

 

১,৪২৫ বার দেখা হয়েছে

৮ টি মন্তব্য : “ফেরারী ৪”

  1. আসিফ মাহমুদ

    ইমরান,তুই এখানে লিখিস জানটাম না তো,ভালো হয়েছে,আর একটু ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে... :clap:


    ...একদিন সবকিছু মুছে যায় হিমেল হাওয়ায়, স্মৃতিমাত্র লিখে নাম...সেইখানে আমিও ছিলাম...

    জবাব দিন
  2. তাওসীফ হামীম (০২-০৬)

    তুরস্ক থেকে এখন রাশিয়া আসা চাই। সেন্ট পিটার্স মস্কো থাকতে হবে। লেখা বরাবরের মতই ভালো হয়েছে।


    চাঁদ ও আকাশের মতো আমরাও মিশে গিয়েছিলাম সবুজ গহীন অরণ্যে।

    জবাব দিন
  3. ইমরানুল হক

    অসাধারণ লেখা। উত্তেজনা ছিল। আপনার নায়ককে হামিম ভাই রাশিয়া নিতে চায়। ঘুরে আসেন একবার। আর এর পরের বার নায়ককে লন্ডন আনতে ভুল করেন না ভাই। 😀 আপনি এই সিরিজটা চালিয়ে যান। :clap:


    বিশ্ব মেতেছে আজ 'আগুন-ঝরা-ফাগুন'-এর উৎসবে। রক্তস্নানে তুষ্ট হৃদয়। প্রতিটি নিঃশ্বাসে শকুনের আনাগোনা অনবরত।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।