ফেরারী (২)

পর্ব ১

 

ফ্রাঙ্কফুর্ট,জার্মানী

গত চারটা দিন জিকোর উপর দিয়ে অনেক ধকল গিয়েছে। মন্ট্রিলে ঐ কাহিনীর পর বিএসএস ওর পিছনে লাগবেই এটা ধরে নিয়ে এগিয়েছে ও।প্রথমে মন্ট্রিল থেকে নিজের নামে ইস্যু করে অটোয়ার ট্রেন টিকেট।কিন্তু ট্রেনে না গিয়ে রেন্টে কার এ বেনামে ভাড়া করে একটা টয়োটা,ড্রাইভ করে নিজেই চলে আসে অটোয়াতে।সেখান থেকে টিকেট কাটে নিউইয়র্কের।অবশ্যই নিজের নামে।কিন্তু এখানেও ও বদলে ফেলে নিজের গন্তব্য। এয়ারপোর্টে নিজের কাঠামোর প্রায় কাছাকাছি এক অল্পবয়সী ছাত্রকে ট্রেস করে ও।টয়লেটে কৌসল করে হাতিয়ে নেয় ওর পাসপোর্ট।তারপর কিছু কারিগরি ফলায় ওটার উপর।সেই সাথে ব্যাগ থেকে বের করে একটা ফটোসান চশমা।সাথে নকল গোঁফ আর জুলফি।একেবারে পাসপোর্টের ছবির মত। তারপর চলে আসে বেলজিয়ামে।সেখান থেকে বাই রোডে জার্মানীতে।তাও একটা কার্পেট বাহী লরির ভিতর ছিল প্রায় ৮ ঘন্টার মত।একটুও ঘুম হয়নি এ কয়দিনে।অবশেষে ফ্রাঙ্কফুর্টে আসার পর বিশ্রামের একটু ফুসরত মিললো জিকোর।

জায়গাটার নাম লেইপযেগ।কর্মব্যস্ত এলাকা।তবে ক্রীসমাসের সময় এ শহরের চেহারাটা হয় দেখার মত। চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জা আর বাহারী মনোহর দোকানে তখন থাকে উপচে পড়া ভীড়।চারিদিকে জার্মান ঐতিহ্যের ছাপ।ও উঠেছে একটা সস্তা হোটেলে। কাঁধে একটা ব্যাকপ্যাক আর গলায় ঝুলছে ক্যামেরা।চোখে সস্তাদরের চশমা।ছদ্মবেশে সহজেই ওকে ট্যুরিস্ট হিসাবে ধরে নেবে সবাই। উঠেছে তিনতলায়। কিছু কিছু জায়গায় ওর বন্ধু আছে যারা কেউ কেউ মাফিয়া কেউ হয়তোবা লোকাল পুলিশ।এখন যে সময় ওর যাচ্ছে তাতে এরাই ভরসা।জার্মানীতে আসার ওর উদ্দেশ্য একটাই।বিএসএস এর একজন এজেন্ট কে ও ট্রেস করে পেয়েছে। অ্যাডলার বার্থেলমস। ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস অব জার্মান বা Bundesnachrichtendienst এর একজন স্লিপার এজেন্ট সে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ।তাই বলে জার্মানীদের একদন্ডও বিশ্বাস করে না বৃটিশরা। ওদেরকে রাখেনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে,১৯৪৫ এর পর কেক ভাগ করে খাবার মতো ছিবড়ে খেয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। আমেরিকা আর বৃটেন দুটুকরো করে দিয়েছিল ,তারপরও ওদের সাধ মেটেনি। সাধে তো আর ওদের নাম বৃটিশ হয়নি!!!
তবে প্রথমে ও দেখা করবে জার্ক উইটোল্ড এর সাথে। লোকাল মাফিয়ার সাথে ওর খুব দহরম মহরম। কিছু সরঞ্জামের দরকার ওর।

“হ্যালো রুম সার্ভিস”

“জ্বি”

“রুম নম্বর ৩০৮ এ লাঞ্চ পাঠিয়ে দিন প্লিজ।”

“এখুনি পাঠিয়ে দিচ্ছি হের..”

“হাইমরেখ”

“ইয়েস হের হাইমরেখ।”

“ও হ্যাঁ আর সাথে টেলিফোন গাইড প্লিজ”

আট মিনিটের মাথায় রুম সার্ভিস এসে হাজির হলো। দরজায় নক হলো। রুমের বাইরে খাবার রেখে যেতে বললো জিকো। দরজায় কান পেতে রইলো রুম সার্ভিস চলে যাবার ৪ মিনিট পর দরজা আলতো করে খুলে বাইরে সাবধানে ডানে বামে দেখলো কেউ খেয়াল করছে কি না। নাহ কেউ এদিকে নেই করিডোর একদম ফাঁকা। খাবারের ট্রলিটা ভেতরে ঠেলে নিল ও। খাবারের দিকে মনোযোগ দিলনা ও প্রথমেই টেলিফোন গাইডটার দিকে নজর দিল। বিভিন্ন কলকারখানার কাঁচামাল সাপ্লাই দেয় জার্ক উইটোল্ড।আসলে এটা একটা কাভার। ভিতরে ভিতরে ছোট মাপের কিছু আর্মস আর ড্রাগ ডিলিং ও করে। তবে এটা সত্য ফ্রাঙ্কফুর্টে সবচেয়ে বড় মাপের সাপ্লায়ার জার্ক এর কোম্পানী। অপারেটরকে নম্বরটা দিয়ে কানেকশন দিতে বললো।কিছুক্ষন পর বেজে উঠলো ফোন। অপর প্রান্ত থেকে জানতে চাইলো

“হ্যালো”

“হ্যালো হের উইটোল্ড”

“জ্বি বলছি”

“এখানে এখনও শীতকাল শুরু হয়নি কিন্তু আমার কম্বল দরকার”

গলায় চাপা উল্লাস উইটোল্ড এর “আমার কাছে ফারের কোট আছে তাতে চলবে তো আপনার হের..”

“হাইমরেখ”

“হের হাইমরেখ”

“তাহলে ঐ কথাই থাকছে।আজ বিকাল ৬.৩০ এ দাস লেবেন এ আসছি আপনার ফার এর কোট নিতে”

“ঠিক আছে হের হাইমরেখ”

ফোনটা রেখে খাওয়ায় মন দিল জিকো।খাওয়ার পর শাওয়ার নিয়ে ২ ঘন্টা ঘুমালো।এরপর রিসেপশনে চাবি দিয়ে বেরিয়ে এল লেইপযেগ এর কর্মব্যস্ত রাস্তায়। তখন বিকাল ৫.৩০। নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টে পৌছালো আধাঘন্টা আগেই।পথে ট্যাক্সি বদল করেছে দুবার। যদিও জানে ফ্রাঙ্কফুর্টে আছে এটা আঁচ করতে বিএসএস এর বেশকিছু সময় লাগবে তবুও সাবধানের মার নেই। এই জগতে সাবধাণ না হলে নিজের জীবন দিয়ে খেসারত দিতে হবে ওকে।

জার্ক উইটোল্ডের সাথে ঘটনাক্রমে পরিচয় গ্রীসে। বিএসএস এর এই ঝামেলার আগে জিকো গ্রীসেই ছিল।সেখানে সল্ভ করছিল ছোট কিছু কেস। উত্তর ইজিয়ান সাগরে অবস্থিত সামোস দ্বীপে কিছু ছোট ছোট গ্রুপের কাছে অস্ত্র এবং  ড্রাগ পৌছে দিত।স্থানীয় পুলিশকে সাহায্য করে রানা এজেন্সী।ঘটনাক্রমে পুলিশের এনকাউন্টার থেকে জার্ক উইটোল্ডকে বাঁচায় জিকো। সেই থেকে জিকোর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে রয়েছে সে।

জিকো এসব সাত পাঁচ ভাবছিল কোনার এক টেবিলে বসে। রেস্তোরার প্রায় সব টেবিলেই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের ভীড়। হঠাৎ ওর সামনের চেয়ারে বসে পড়লো উইটোল্ড। লম্বায় ৫ ফুট সাত হবে।কিন্তু প্রস্থে দ্বিগুন। আগের চেয়ে ওজন মনে হয় ১৫ থেকে ২০ পাউন্ড বেড়েছে ওর।

“কেমন আছ জিকো”

“ভালো তুমি কেমন”

“এই তো চলে যাচ্ছে লাভ লোকসানের মধ্যে দিয়ে। বোঝোই তো ব্যবসায়ী মানুষ।”

“হুম তা ঠিক।”

“তুমি এসময় এখানে কেন জিকো?শেষ জানতাম তুমি বিএসএস এ জয়েন করেছ”

“এতটুকু যখন জানো তখন বাকিটুকুও নিশ্চয়ই জানো।”

“না জানিনা।সত্যিই জানিনা”

“যত কম জানবে ততই তোমার জন্য ভালো উইটোল্ড। আমাদের পেশায় বেশি জানলে ঝুঁকি বেশি”

চুপ হয়ে গেল ওরা ওয়েটার আসতে দেখে।দুটা বিয়ারের অর্ডার দিলো উইটোল্ড। ওয়েটার চলে যেতে বলতে শুরু করলো জিকো

“এবার কাজের কথায় আশা যাক”

“হুম।বলো”

পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ বের করলো জিকো।তাতে অ্যাডলার বার্থেলমস এর নাম বয়স উচ্চতা লেখা আছে।

“এই লোককে খুঁজে বের করতে হবে।আর সেই সাথে আমার কিছু যন্ত্রপাতি লাগবে” এই বলে আরও একটা কাগজ ধরিয়ে দিল ওকে।

দ্বিতীয় লিস্টটায় এখনও চোখ বুলায়নি উইটোল্ড। “কোন ছবি থাকলে সুবিধে হতো।এত লোকের মাঝে খুঁজে বের করাটা একটু কষ্টই হবে বইকি।আর রেটটাও বেশি পড়বে।”

“ফেডারেল ইন্টেলিজেন্সের লোককে খুঁজে বের করতে তোমার সময় লাগবে একথা আমাকে শুনিয়োনা”
“ওহ আগে বলবে তো”

“যতদূর জানি এই লোক এখন ফ্রাঙ্কফুর্টে।তার সম্পর্কে একটা পুরো ডোশিয়ার দরকার আমার।”

“আর এগুলো?” দ্বিতীয় লিস্টটা ধরে বললো উইটোল্ড

“ওগুলোর মধ্যে যেগুলো দাগ দেয়া আছে সেগুলো পরশু দুপুরের মধ্যে লাগবে,বাকিগুলো তোমার স্টকে রাখ ওগুলো কোথায় কখন ডেলিভারী দিতে হয় আমি জানাবো।”

“ওকে”

“এখন তোমার প্রাইস বলো”

“ওটা এখন বলতে পারছিনা।সব জোগাড় করতে পারলে তখন তোমাকে জানাব।তবে হাজার বিশেক ইউরোর কাছাকাছি লাগবে মনে হচ্ছে”

“ও নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।” থেমে গেল জিকো।ওয়েটার বিয়ার নিয়ে এসেছে।দুটো মগ নামিয়ে রেখে চলে গেল। “তবে বার্থেলমস এর ডোশিয়ার কাল রাতের মধ্যেই আমার লাগবে”

“এত অল্প সময়ের মধ্যে জোগাড় করা সম্ভব নয়”

“যতটুকু পার।আমি জানি তোমার হাতে উপযুক্ত লোক আছে।”

“হুম” গম্ভীর হয়ে গেল উইটোল্ড। “বোঝাই যাচ্ছে বেশ বড় ধরণের ঝামেলার মাঝেই জড়িয়েছ তুমি।যাইহোক,দেখি কতটুকু কি করা যায়।”এই বলে অর্ধেক খাওয়া বিয়ারের মগটা টেবিলে রেখে ওয়েটারকে ডাকলো ও।বিল মিটিয়ে উঠে দাঁড়ালো। “তো হের হাইমরেখ।আপনার সাথে দেখা হয়ে ভালো লাগলো।আশা রাখি আবার দেখা হচ্ছে”

“শীঘ্রই”

পিছন ফিরে তাকালো না আর উইটোল্ড।রাস্তার পাশে পার্ক করা গাড়ির পাশে দাঁড়াতেই ষন্ডামার্কা একটা লোক দরজা খুলে দাঁড়ালো।বডিগার্ড। তারপর বডিগার্ড উঠলো সামনে ড্রাইভারের পাশে।গাড়িটা একটা ধূসর রঙ এর মার্সিডিজ এসএলকে ২৩০ ১৯৯৮ মডেল।গাড়ির নম্বর প্লেটটা মুখস্থ রাখলো জিকো।

পরের দিনটা প্রায় কিছুই করলো না জিকো।বলতে গেলে শরীরকে বিশ্রাম দিয়েছে আর অপেক্ষা করেছে উইটোল্ডের ফোনকলের। আর টাকার ব্যবস্থা করেছে ও। নিজের সুইস অ্যাকাউন্ট থেকেই টাকাটা তুলতে হয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্টের ড্রেসডনার ব্যাঙ্ক এ একটা অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে ট্রান্সফার করলো সেই টাকা। এছাড়া অন্যকোন উপায় ও নেই।তবে লাভ একটা আছে।রানা এজেন্সীর অ্যাকাউন্ট সেকশনে কোন কাজ হলে ওর এই ট্রাঞ্জেকশনটা চোখে না পড়েই যায় না।তাতে অন্তত ওরা জানতে পারবে জিকো এখন কোথায় আছে।

রাত সাড়ে নটার দিকে ফোন আসলো উইটোল্ডের।সেই একই রেস্তোরায় দেখা করলো ওরা দুজন।

“তোমার লোককে পাওয়া গেছে।এখন খুবসম্ভবত ছুটিতে আছে সে।এই হলো তার বর্তমান ছবি আর বাসার ঠিকানা” এই বলে একটা ফাইল এগিয়ে দিল উইটোল্ড

“ব্যস এটুকুই?”

“ওর এখনকার বাসায় ওর সাথে ওর এক গার্লফ্রেন্ড আছে বারে নাচে মেয়েটা।দেখতে অপূর্ব সুন্দরী,শরীরের সাইজটাও চরম…” হাত তুলে থামিয়ে দিল ওকে জিকো,
“মেয়ের বর্ণনা দিতে হবে না,বার্থেলমস এর ডেইলি শিডিউলটা কি নোট করা হয়েছে?”

“হুম”

“আমার জিনিসপত্রগুলো কি জোগাড় করতে পেরেছ?”

একটা বড় পলিথিনের ব্যাগ এগিয়ে দিল উইটোল্ড।“যেগুলো চেয়েছ মোটামোটি সব আছে,তবে ভারী জিনিসগুলো এখন দেইনি।”

“সমস্যা নেই ঐগুলো আমি পরেই নেব।এই যে তোমার পেমেন্ট।বাকিটা সব জিনিস পাবার পর দেব।”এই বলে একতাড়া নোট এগিয়ে দিল জিকো

“সরি দোস্ত আমি এটা নিতে পারবো না”

“তোমার সাথে তো আমার এমন ডিল হয়েছিল।”

“তা ঠিক হয়েছিল কিন্তু তুমি আমার জায়গায় তোমাকে রিপ্লেস করো।যে তোমার প্রাণ বাঁচিয়েছে তাকে ছোট কোন উপকারের বদলে তুমি কত নেবে?”

চুপ করে থাকলো কিছুক্ষন। ঠিক এভাবে চিন্তা করেনি ও।

“বাকি জিনিসগুলো কখন লাগবে জানিও।তুমি জানো আমাকে কোথায় পাওয়া যাবে।”

চলে গেল উইটোল্ড।এবার বাকি কাজ জিকোর।

পরদিন সকাল বেলা। ব্রেকফাস্ট করেই ব্যাকপ্যাক নিয়ে হোটেল থেকে বের হলো জিকো। ব্যাকপ্যাকে আছে গতকাল উইটোল্ডের দেয়া জিনিসপত্র।জিনিসপত্র বলতে মিউনিসিপ্যালিটির একসেট ড্রেস,প্ল্যায়ার্স,রেঞ্চ,ছোট করাত,হাতুড়ি স্ক্রু ড্রাইভার এসব।সাথে একটা স্মিস এন্ড ওয়েসন .৩৮।সাথে ২০রাউন্ড অ্যামুনিশন আর সাইলেন্সর।

ট্যুরিস্ট সাজেই বেরিয়ে গেল বার্থেলমস এর বাড়ির দিকে। বার্থেলমস এর বাড়ির থেকে একটু দূরেই একটা পার্ক,আর হাঁটার রাস্তা।পাশের এক বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো আর খেয়াল করতে লাগলো কখন বার্থেলমস বাসা থেকে বের হয়।

প্রায় সাড়ে বারোটার দিকে বের হলো বার্থেলমস।দরজায় দাঁড়ানো সঙ্গিনীর গালে আলতো করে চুমু খেয়ে বিদায় নিল সে। গ্যারেজ থেকে গাড়ী বের করে চোখের আড়াল হবার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে রইলো ওর বান্ধবী।শেষ সময়ে হাত নাড়লো। তারপর দরজা আটকে ঘরের ভেতরে চলে গেল মেয়েটি।

ঠিক ৩০ মিনিট পর বার্থেলমস এর বাড়ির দরজায় নক করলো জিকো। এখন সে আর ট্যুরিস্ট নয়।মুখে দাড়ি লাগিয়েছে পরনে মিউনিসিপ্যালিটির কর্মীর পোষাক,হাতে টুলবক্স।

“কি ব্যাপার?”বিরক্ত যেন একটূ মেয়েটি।

“মিউনিসিপ্যালিটির অফিস থেকে এসছি মাদাম, এই বাসার বাথরুমের লাইন নষ্ট হয়েছে বলে কমপ্লেইন করা হয়েছে দুদিন আগে”

“কই নাতো,নিশ্চয়ই কোন ভুল হয়েছে আপনার”

“কি বলেন?এই দেখুন আমার কাছে কাগজ আছে,এটা তো আপনাদেরই ঠিকানা তাই না?” এই বলে উইটোল্ডের সাপ্লাই দেয়া ভুয়া কাগজপত্র আর সাথে আইডি কার্ড এগিয়ে দিল জিকো।

“তাইতো।কিন্তু আমাদের তো এমন কোন সমস্যা নেই।”

“মাদাম,আমাকে একটু দেখতে দিন।ভালভাবে চেক করলেই বুঝা যাবে”

“ঠিক আছে”এই বলে মেয়েটি সরে জিকোকে ঢোকার জন্য জায়গা করে দিল।

জিকো ঢুকেই চারপাশে ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিল।নিশ্চিত হয়ে নিল বাড়িতে মেয়েটি ছাড়া আর কেউ নেই।

“বাথরুম কোনদিকে মাদাম?”

“সামনে এগিয়ে বামে”

বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেল ও ঢুকে দরজা আটকে দিল।এরপর টুলবক্স থেকে স্মিথ এন্ড ওয়েসন বের করে তাতে সাইলেন্সর লাগিয়ে নিল। আর কতক্ষন খটাং খটাং আওয়াজ করলো।ভাবটা এমন যেন বেশ কাজ চলছে ভিতরে।বাথরুম থেকে বের হয়ে মেয়েটিকে ডাকলো জিকো।কাছে আসতেই বিদ্যুৎ গতিতে পিস্তলটা মেয়েটির কপাল বরাবর তাক করলো।

“আমি খুব দুঃখিত মাদাম,তবে আমি কথা দিচ্ছি আমার কথা শুনলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না”

মেয়েটি প্রচন্ড নার্ভাস হয়ে গেল।অনেকটা কাঁপতে লাগলো সে।“আ-আপনি কি চান,বাড়িতে অল্প কিছু ক্যাশ রয়েছে সেফ এ।আমি কম্বিনেশন লক বলছি,আপনি প্লিজ আমাকে মারবেন না”

“চুপচাপ ঐ চেয়ারে বসুন” ধমক লাগালো জিকো।বাধ্য মেয়ের মতো বসে পড়লো সে।চেয়ারের সাথে পিছমোড়া করে মেয়েটির হাত বাঁধল ও। আর মুখেও স্কচটেপ লাগিয়ে দিল।বলা যায়না।চিৎকার চেঁচামেচি করলে শেষে সব গুবলেট হয়ে যাবে।

পাশের কর্ডলেস ফোনটা নিয়ে আসলো জিকো।মেয়েটি সামনে চেয়ার টেনে বসলো ও।

“আমি যা বলছি এখন মনোযোগ দিয়ে শুনুন।আপনি এখন আপনার বয়ফ্রেন্ডকে ফোন দেবেন।দিয়ে তাকে বাসায় ডাকবেন।তার জন্য একটি সারপ্রাইজ আছে।আমি কি বলছি বুঝতে পারছেন?”

মেয়েটি উপর নিচে মাথা নাড়লো।তার মানে বুঝেছে।

“গুড” এবার হ্যাঁচকা টানে মুখে লাগানো স্কচটেপ খুলে ফেললো জিকো।ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো মেয়েটি।কিন্তু ওদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই জিকোর।বার্থেলমস এর মোবাইলে ডায়াল করলো সে। উইটোল্ড জোগাড় করেছে এই নম্বর। রিং হচ্ছে।রিসিভ করা মাত্রই স্পীকার অন করলো জিকো।পিস্তলের নল দুলিয়ে ইঙ্গিত দিলো কথা বলতে।

“হ্যালো,কি হল সাতয?(ইংরেজীতে সুইটহার্ট),”

মেয়েটি বললো “তুমি কি অফিসে পৌছেছ?”

“না এখনও পৌছাইনি।কেন”

“আজ অফিসে না গেলে হয়না?তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে”কথাটি বলার সময় ভীরু চোখে জিকোর দিকে তাকালো মেয়েটি।জিকো ইঙ্গিত করলো কথা চালিয়ে যাবার জন্য।

“কিন্তু আমার যে খুব জরুরী কাজ”

“প্লিজ তুমি তাড়াতাড়ি চলে আস,প্লিজ,নইলে ও আমাকে….”কথা শেষ করতে পারলোনা মেয়েটি তার আগেই পিস্তলের বাট ওর মাথায় আঘাত করলো।জ্ঞান হারালো মেয়েটি।সাথে সাথে লাইনটাও কেটে দিল।

মেজাজটাই খিচড়ে গেল জিকোর।রক্তারক্তি চেয়েছিল না।কিন্তু বাধ্য হলো ও।অজ্ঞান দেহ টা নিয়ে বেডরুমে শুইয়ে দিল।তবে হাতের বাঁধন খুলেনি।

এখন অপেক্ষা অ্যাডলার বার্থেলমস এর জন্য। চোর পুলিশের এই খেলায় যে হতে যাচ্ছে ওর প্রথম শিকার………

১,১৯০ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “ফেরারী (২)”

  1. তানভীর (২০০০-২০০৬)

    নায়িকা কখন আসবে?? নাকি অলরেডি এসে গেছে??... 😛

    ভাল হচ্ছে, চলুক... তবে আপনি সেবা প্রকাশনীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন...রানা সিরিজের পরের বইগুলা লেখার দায়িত্ব পেয়ে যাবেন মনে হয়... 😉

    জবাব দিন
    • ইমরান (২০০০-২০০৬)

      ধন্যবাদ তানভীর।বাংলা সাহিত্যে থ্রিলার বলতে কাজী আনোয়ার হোসেন ছাড়া আর কেউ নেই।তিনি যতই অনুবাদ কিংবা কাহিনী অনুকরণ করে লিখুন না কেন বাংলা থ্রিলারে তিনিই এক এবং অদ্বিতীয়।ইংরেজী সাহিত্যে সেই প্রাচীন কালের আর্থার কোনান ডয়েল ইয়াং ফ্লেমিং থেকে শুরু করে বর্তমানের সিডনী শেলডন ড্যান ব্রাউনরা আছেন।কিন্তু বাংলা লেখক নেই কাজীদা ছাড়া।তাই লিখতে গেলে অবচেতন মনে তার লেখার ধরণটাই চলে আসে।
      পড়ার জন্য ধন্যবাদ
      চেষ্টা করবো পরবর্তী অংশগুলো আরও ভাল করার

      জবাব দিন
  2. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    লেখা পুরা :gulli2: :gulli2: :gulli2:
    চলুক ::salute::


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।