মেজর জিয়াঃআমার ভুল সুপারহিরো

খুব ছোটবেলা RAY-BAN এর সানগ্লাসের সাথে সাদা গেঞ্জি পড়া কোদাল হাতে মেজর জিয়ার ছবি দেখে আমার দুই মামার মতো আমিও মুগ্ধ হয়েছিলাম।আম্মা বলেছিল তার মৃত্যুতে নাকি ৪০ দিন শোকের মাতম উঠেছিল সারা দেশে,এই কথা শুনে আমার মুগ্ধতা আরও বেড়ে গিয়েছিল। বিএনপি আমলে যখন বারবার বিটিভিতে বঙ্গবন্ধুর নামটুকু বাদ দেয়া জিয়ার কণ্ঠ শুনতাম তখনও মুগ্ধ হতাম। মামারা বিএনপির রাজনীতি করায় তার খাল কাটা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা শুনে আমি তো জিয়াকে রিয়েল লাইফ সুপারহিরোই ভাবতাম,ম্যাকগাইভার,হারকিউলিস বা রোবোকপ এর মতো। আমার মুক্তিযোদ্ধা নানা বারবার মেজর জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বললেও বেল দিতাম না।

তারপর অনেক জল গড়াল,অনেক নতুন সকাল হলো।আস্তে আস্তে কিছুটা বড় হয়ে বন্ধুবান্ধব বা বড় ভাইদের কথায় আমার চোখ খুলতে লাগলো,কিন্তু এ কি আমার সুপারহিরো মেজর জিয়ার নামে এগুলো কি শুনছি? কিছু প্রমাণ পাবার পরও আমি আমার সুপারহিরোকে ঠিক ভিলেনের জায়গায় বসাতে পারলাম না। কোন না কোন ভাবে তাকে সমর্থন করেই যেতাম। একটা কমন ট্রিক ছিল এইরকম “বঙ্গবন্ধুও বড় নেতা জিয়াও কিন্তু কম না” কিংবা “জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে আমাদের স্বাধীন হইতে আরও সময় লাগতো”

কিন্তু এইভাবে আর কয়দিন? এর একটা দফারফা হওয়া দরকার। এক সহৃদয় বন্ধু সাহায্যে এগিয়ে আসলো। শুরু হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাস নিয়ে লেখাপড়া। বই,পেপার কাটিং,ব্লগ,ডকুমেন্টরি যেখানে যা পাই গোগ্রাসে গিলি আর হতাশ হই। এই এতগুলো বছর আমি কিভাবে অন্ধকারে ছিলাম? কিভাবে কিছু না জেনে না বুঝে আমি “জিয়ার সৈনিক এক হও”/”বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” শ্লোগান দিতাম? কিভাবে আমি বঙ্গবন্ধুর সাথে জিয়ার তুলনা করার দুঃসাহস দেখাতাম? পরে নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম আমি কি আর এত কিছু জানতাম নাকি?

আমি কি জানতাম মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের “on behalf of our great national leader,the supreme commander of bangladesh:SHEIKH MUJIBUR RAHMAN” অংশটুকু কৌশলে বাদ দেয়া?

আমি কি জানতাম যে মেজর জিয়া এই ঘোষণার আগে বাঙালি নিধন করা হবে জেনেও চট্টগ্রামে “সোয়াত” জাহাজ থেকে বিপুল পরিমানে অস্ত্র খালাস করেছেন ?

আমি কি জানতাম জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের “গো এ্যাহেড” বলেছিলেন,ক্ষমতায় বসে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জাতির পিতার খুনিদের বিচার করা যাবে না মর্মে আইনও পাশ করিয়েছিলেন,খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরী ও পদোন্নতিও দিয়েছিলেন?

আমি কি জানতাম যে জিয়া তার মন্ত্রীসভায় একাত্তরে পাকিস্তানের সহযোগী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী আর রাজাকার যুদ্ধাপরাধী আবদুল আলিম এবং মাওলানা মান্নানকে মন্ত্রী করেছিলেন?

আমি কি জানতাম জিয়া “বহুদলীয় গণতন্ত্রের” নামে জামাতে ইসলামকে পুনর্বাসিত করেছিলেন,গোলাম আজমকে পাকিস্তানী পাসপোর্টসহ দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন,৭১ সালে পালিয়ে যাওয়া সদ্য ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মঈন উদ্দিন ও আশরাফুজ্জামানকে দেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন?

আমি কি জানতাম যে জিয়া সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৭২ এর সংবিধানে ৪০ জায়গায় সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সম্পৃক্ত বাক্য,শব্দ বা অনুচ্ছেদগুলোকে ছুড়ে ফেলেছিলেন?

জীবনে একবার না একবার সবাই বিপ্লবী হতে চায়। হাজার হলেও ক্ষুদিরাম,প্রীতিলতাদের রক্ত আমাদের শরীরে। আমিও হতে চাইতাম, তাই “বিপ্লব ও সংহতি দিবসের” কথা মনে হতেই ভাবলাম যাক এইবার হয়তো আমার সুপারহিরোর মান ইজ্জত কিছু বাঁচে। কিছু বই,পেপার কাটিং,ইউটিউবের ভিডিও আমার আশায় জল ঢেলে দিল। যে বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে চে বা ক্যাস্ট্রোর রিভলুশন টাইপ কিছু ভাবতাম তা যে নিতান্তই বেঈমানি আর মুক্তিযোদ্ধা নিধনের চক্রান্ত তা বুঝতে আমার অনেক বসন্ত পেরোতে হলো। কিইবা করার ছিল আমার?

জানতাম না যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহেরকে প্রহসনের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন জিয়া,৭ই নভেম্বর মুক্তি পাওয়ার ৮ ঘণ্টা পর তিন বীরউত্তম জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা এবং লে. কর্নেল হায়দারকে হত্যা করা হলে টু শব্দটিও করেননি জিয়া। জানতামনা ৭ই নভেম্বর সকালে কিছু সৈনিকের সাথে কিছু বেসামরিক লোকও “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ”/”পাকিস্তান জিন্দাবাদ” বলে শ্লোগান দিচ্ছিল। আচ্ছা শুধুমাত্র রাজধানীতে কয়েকটি ট্যাঙ্ক আর লরি নিয়ে,আইএসআই কর্তৃক প্ররোচিত লোকজন দিয়ে মিছিল করালেই কি বিপ্লব হয়?

হয়তো কর্নেল তাহেরের বিপ্লব গণমানুষের কল্যাণেই ছিল কিন্তু জিয়ার পরবর্তী ব্যাবহারে কি প্রমাণ হয় না যে ক্র্যাচের কর্নেলের এই বিপ্লব জিয়া আরও আগেই বিক্রি করে দিয়েছিলেন কোন ভিনদেশী শক্তির কাছে?সেই শক্তির কাছে যারা ১৫ই আগস্ট ঘটিয়েছে,জেলহত্যার মত নিকৃষ্ট কাজ করেছে,স্বাধীন বাংলাদেশের কারণে যারা প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

৪,৯৯৩ বার দেখা হয়েছে

৫১ টি মন্তব্য : “মেজর জিয়াঃআমার ভুল সুপারহিরো”

  1. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    এই ডকুটা খুব ইন্টারেস্টিং
    জিয়া নিজ মুখে বলছেন ২৭ তারিখ
    আমেরিকাকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন ৭১ এ আমাদের হেল্প করার জন্য


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
    • এখানে তো আমি কোনো সমস্যা দেখছি না - জিয়া আমেরিকার 'জনগন'কে ধন্যবাদ দিচ্ছেন ৭১এ বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্যে, যেটা তো খুবই সঠিক। আমেরিকার সরকারের কথাতো বলছেনা।

      হঠাত কাউকে ভিলেন মনে হলে তার সবকিছুই নেগেটিভ মনে হতে পারে।

      আমার কেনো জানি ধারনা হচ্ছে নতুন প্রজন্ম ৭০-৮০ দশককে না দেখে first-hand experience এর বাইরে শুধু বই পড়ে অনেক কিছু বিবেচনা করছে। এর পজিটিভ-নেগেটিভ দুটো দিকই আছে।

      জবাব দিন
      • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

        জালাল (ভাই),
        '৮৬ দেখে অনুমান করছি, আপনি এক্সক্যাডেট এবং ১৯৮৬ সালে ক্যাডেট কলেজে গেছিলেন বা সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন।
        আপনিই তাহলে কিছু আলোচনা করুননা আপনার ৭০-৮০ দশকের first hand experience নিয়ে! অন্তত আমি যখন নতুন প্রজন্ম ছিলাম, তখন পুরো সময়টাই কেটেছে জিয়া এবং এরশাদ বন্দনা দেখতে দেখতে -- 'প্রথম বাংলাদেশ' আর 'নতুন বাংলাদেশ' দেখে ঘুম ভাঙতো আর ঘুমাতে যেতাম। আপনি বরং আমাকে (আমাদের) নতুন কিছু পজিটিভ কাহিনী শোনান এই সেনানায়কদের।

        ও হ্যাঁ, রাজীবের যে লিঙ্কগুলো এখানে দেখলাম, সেখানে কিন্তু বক্তারা তাঁদের first hand experience-ই বর্ণণা করছিলেন। আর তাঁদের কাউকেই নতুন প্রজন্মের মনে হলোনা।

        ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা। লাশ চাপা দেয়া যায়, কিন্তু তার ঘ্রাণ সবকিছুকে ছাপিয়ে কথা বলে উঠবেই। নতুন প্রজন্মকে ঠেস না মেরে নিজের ইতিহাসজ্ঞান পোক্ত করুন, পারলে তারা যা বলছে তাকে ভুল প্রমাণিত করুন।

        জবাব দিন
      • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

        জালাল ভাই অতীত জানার জন্য যেহেতু টাইম মেশিন এখনো আবিষ্কার হয়নি, বই, লিপিবদ্ধ ইতিহাস, সেই সময়কার ব্যক্তিবর্গের স্মৃতিচারণ ছাড়া জানার আর কোন উপায় কি আছে? ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স না থাকার দরুণ যে একপেশে দৃষ্টিকোণ তৈরী হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় সেটাকে কমিয়ে আনতেই ইতিহাসবিদ, লেখকেরা চেষ্টা করেন ইতিহাসকে সত্য ও সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করে রাখতে। কিন্তু ১৯৭৫ থেকে শুরু করে ১৯৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশের যে ইতিহাস সেটা কি কোথাও ঠিক মত লিপিবদ্ধ করা আছে? এই সময়ের ফ্রেমটাকে আমি দেখেছি সবসময় লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নিশ্চই সমস্যা ছিল। মানুষ তখনই লুকানোর চেষ্টায় মেতে উঠে যখন খারাপের তালিকা ভালোর তালিকা ছাড়িয়ে যায় বহুগুণে। এটাই তো স্বাভাবিক।

        যদি ভালো কিছু জেনে থাকেন তাহলে সেটা তুলে ধরবেন এই আশাবাদ রইলো।


        \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
        অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

        জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    লেঃ কর্নেল (অবঃ/ বরখাস্ত) নুরুননবী খান বীর বিক্রম
    এর জবানীতে জিয়ার সময়ে ক্যুয়ের কিছু বিবরণ


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  3. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    স্বাধীন বাঙলা বেতার
    জিয়ার ভাষণ ও অন্যান্য
    সব লিঙ্ক পাওয়া যাবে


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  4. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    উপরে অনেকগুলো লিঙ্ক দিয়ে দিলাম।
    উৎসাহী পাঠকের উপকারে আসবে আশা করি।

    হুমায়ুন দেখা হইলে বিরিয়ানি খাওয়াবি।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
    • হুমায়ুন (২০০২-০৮)

      রাজীব ভাই ধন্যবাদ,আমাকে অনেক অযথা প্রশ্নের উত্তর দেয়া থেকে বাচিয়ে দেয়ার জন্য :clap: :clap:
      আর বিরিয়ানির ব্যাপারে ভাবছিলাম লন্ডন গেলে আপনি খাওয়াবেন।আপনি পোলাপাইনদের ডাইকা খাওয়ান আর ফেবুতে সেই ছবি দেইখা আমার কষ্ট লাগে 😀 😀


      তুমি গেছো
      স্পর্ধা গেছে
      বিনয় এসেছে।

      জবাব দিন
      • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

        খাওয়াবো, খাওয়াবো।
        তাই বইলা কি আমি অন্যের কাছ থেকে খাবো না!
        আমার দাওয়াত দিতে ও খাইতে দুইটাই ভালো লাগে। নবিজি ও দাওয়াত পেতে পছন্দ করতেন।


        এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

        জবাব দিন
  5. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    হুমায়ুন
    সানগ্লাস পড়া জেনারেল সাহেবের একটা ছবি দিয়া দিও।
    অসম্পূর্ণ লাগতেছে।
    বস লোকটার ছবি ভালো আসতো ক্যামেরায়।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  6. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    'এই' ধরনের লেখা রেফারেন্স ছাড়া দেয়া ঠিক না, তেনা প্যাঁচানোর সুযোগ থেকে যায়...
    রাজীব ভাই এর দেয়া রেফারেন্সগুলো পোস্টের নিচে যোগ করে দাও।


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  7. তাওসীফ হামীম (০২-০৬)

    শেখ মুজিবকে দুটো গালি দেয়া উচিত ছিল। নিরপেক্ষ না থাকলে গ্রহনযোগ্য হওয়া যায় বলো?
    ক্লাস ফাইভে যখন পড়তাম, তখন ক্ষমতায় বেগম জিয়া, সমাজ বইতে বিপ্লব আর সংহতি দিবসের গুন গাঁথা। মিথ্যা সব মিথ্যা


    চাঁদ ও আকাশের মতো আমরাও মিশে গিয়েছিলাম সবুজ গহীন অরণ্যে।

    জবাব দিন
  8. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    এক বড় ভাইএর শেয়ার থেকে ৭ই নভেম্বরের ম্যাডাম খালেদার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ শুনতেছি।

    ইতিহাস শিখ্তাছি। খালেদ মোশাররফ তবে দেশের শত্রু ছিলো।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  9. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    এইটা দিতে ইচ্ছা করলো

    এবার খালেদ হত্যা প্রসঙ্গ। লে. কর্ণেল হামিদ লিখেছেন,
    ‘৭৫ সালের ৭ নভেম্বর রাত ১২ টায় বঙ্গভবনে সিপাহী বিপ্লবের খবর পেয়ে জেনারেল খালেদ কর্নেল হুদা ও হায়দারকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামানের বাসায় যান। সেখান থেকে শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত ১০ম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যেতে সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, ১০ম বেঙ্গলকে বগুড়া থেকে খালেদই আনিয়েছিলেন তার নিরাপত্তার জন্য। পথে ফাতেমা নার্সিং হোমের কাচে তার গাড়ি খারাপ হয়ে গেলে তিনি হুদা ও হায়দারসহ পায়ে হেটেই ১০ম বেঙ্গলে গিয়ে পৌছেন। উক্ত ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন কর্নেল নওয়াজিস । খালেদের আগমনের খবর পেয়ে তৎক্ষণাত তিনি টেলিফোনে টু ফিল্ডে সদ্যমুক্ত জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তার ইউনিটে খালেদের উপস্থিতির কথা জানান । তখন ভোর প্রায় চারটা। জিয়ার সাথে ফোনে তার কিছু কথা হয় । এরপর তিনি মেজর জলিলকে ফোন দিতে বলেন। জিয়ার সাথে মেজর জলিলের কথা হয়।
    ভোরবেলা দেখতে দেখতে সিপাহী বিদ্রোহের প্রবল ঢেউ ১০ম বেঙ্গলে এসে পড়ে। পরিস্থিতি কর্নেল নওয়াজিসের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। আফিসার মেসে বসে খালেদ-হায়দার -হুদা সকালের নাস্তা করছিলেন। হুদা ভীত হয়ে পড়লেও খালেদ ছিলেন ধীর, স্থির, শান্ত। হায়দার নির্ভীক নির্বিকারভাবে পরাটা মাংস খাচ্ছিলেন। এমন সময় মেজর জলিল কয়েকজন উত্তেজিত সৈনিক নিয়ে মেসের ভিতর প্রবেশ করে। তার সাথে একজন বিপ্লবী হাবিলদারও ছিল।
    সে চিৎকার দিয়ে জেনারেল খালেদকে বলল-”আমরা তোমার বিচার চাই”! খালেদ শান্তকণ্ঠে জবাব দিলেন,” ঠিক আছে , তোমরা আমার বিচার করো। আমাকে জিয়ার কাছে নিয়ে চলো।”
    স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বাগিয়ে হাবিলদার চিৎকার করে বললো-”আমরা এখানেই তোমার বিচার করবো।”
    খালেদ ধীর স্থির । বললেন, ” ঠিক আছে , তোমরা আমার বিচার করো ।” খালেদ দু’হাত দিয়ে তার মুখ ঢাকলেন।
    ট্যারর-র-র-র ! একটি ব্রাস ফায়ার । মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার জেনারেল খালেদ মোশাররফ যার ললাটে ছিল বীরযোদ্ধার জয়টিকা , মাথায় ছিল মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তমের শিরোপা আর মাথার বাম পাশে ছিলো পাকিস্তানী গোলন্দাজ বাহিনীর কামানের গোলার গভীর ক্ষতচিহ্ন।
    কামরার ভেতরেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণত্যাগ করলেন আগরতলা ষড়যন্ত্রমামলার অন্যতম আসামী, মুক্তিযুদ্ধে ৮নং সেক্টরের সাবসেক্টর কমান্ডার বীর বিক্রম কর্নেল নাজমুল হুদা।
    কর্নেল হায়দার ছুটে বেরিয়ে যান কিন্তু সৈনিকদের হাতে বারান্দায় ধরা পড়েন । উত্তেজিত সৈনিকদের হাতে তিনি নির্দয়ভাবে লাঞ্চিত হন । তাকে সিপাহীরা কিল ঘুষি লাথি মারতে মারতে দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে এনে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।’ (তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা-লে. ক. এম এ হামিদ। শিখা প্রকাশনী)
    প্রশ্ন হচ্ছে জিয়া মেজর জলিলকে কি বলেছিলেন?
    (সূত্র- শওকত হোসেন মাসুমের ব্লগ থেকে)


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  10. আপনি আগে যা জানতেন তাহাই সঠিক ছিল। শুনেন আমার রংপুরের এক কলিগ ছিল তাকে মফিজ বলতাম। তখন সে আমাকে বলে আর যাই বলেন আমাকে আওমীলীগ বলবেননা।

    জবাব দিন
  11. নাজমুল হাসান পিয়াস

    বাংলাদেশের মানুষ যতদিন পর্যন্ত জিয়ার ভন্ডামি সম্পর্কে সম্পূর্ণ না জানবে এবং জিয়া পরিবারের হাত থেকে মুক্তি না পাবে ততদিন পর্যন্ত শান্তি প্রত্যাশা করা বৃথা ।

    চিন্তা করতে পারেন এই লোকটি তার অপকর্ম ঢাকার জন্য বি.এন.পি'র মত একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেছিলো এবং সে পুরোপুরি সফল , চিন্তা করতে পারেন কি পরিমাণ ষড়যন্ত্রকারি ছিল? ??????? এরশাদও একই কাজ করতে গিয়ে জাতীয় পার্টি তৈরি করেও পুরোপুরি সফল হতে পারে নি ।

    জবাব দিন
  12. Zia ki nia khub analysia cholse.. tomader mujib babar nanlysis kothae ? A deshe durvikkher karigor, baksal r portisthata mujib jabber hero tader hero Zia na holeo cholbe.. tora hoili dolkana..nirmoho dristite dekh.. mujib r barthota e deshka chorom orajokator dika nia giecilo.. des premik der hotie mujib charpashe virie niacilo chatokar der.. Bangladesh e rajtontro protistitho korte cheyecilo..

    জবাব দিন
  13. অল্প বিদ্যা যে ভয়নকারি তা আবার ও প্রমানিত হল........
    হিন্দুস্থানের রাজাকার রা যে এখন বেচে আছে সেটাও প্রকাশ পেলো,,,,,,,,,
    গান টা আবার ও মনে পড়ল ""গাজার নৌকা পাহারতলী যাই ও মিরা ভাই"""""""""
    নে বাবা খা ভালো করে খা, বেশি করে খা,,,,,
    নেক্সট নোবেল টা তোকেই দেয়া হবে,,,,,,
    চালিয়ে যা,,,,,,,

    জবাব দিন
  14. I love both muzib and zia and I don't see any problem on that... Muzib was our great ideological leader and founder of our independence ... zia was not an ideological leader.. but he was great patriot ... successful president... both made mistakes during presidency .. but both rendered greater service to nation... no country at the beginning of their journey from independence goes smooth..even USA even after 70 years of their independence went through civil war... we say lincoln a hero today... was a nightmare for southern USA that time... people make hard choices... its not fare to judge someone without being in his/her shoes.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।