একটি রম্য রচনার খসড়া

প্রায় ২ মাস হয়ে গেল আমি এই ব্লগের সদস্য, কিন্তু আজোও পর্যন্ত কিছূ লেখা হইয়া ওঠেনি।এর বেশ কিছু কারণ রহিয়াছে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হল এই ব্লগের লেখকরা সবাই অনেক উন্নত প্রজাতির হইয়া থাকেন। মাঝে মাঝে মনে হয় উনারা এত গুণগত মানসম্পন্ন ISO 9001 certified লেখাগুলো লেখেন কিভাব? আসলে cadet rokzz. ব্লগ না লেখিবার আর একটি কারণ হইলো আমি বাঙলা টাইপ করিতে পারি না। আজ এক বন্ধুকে অনেক তৈল মর্দনের পর সে রাজি হইল। তাহার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

যাই হোক মুল গল্পে আসা যাক।লেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে বসার পর মনে হল কি লিখব কলেজের স্মৃতি?নাহ্ তাতো অনেক হলো।আমার ক্ষুদ্র জীবনকালে স্মৃতি বলতে তো সম্বল ঐটুকুই।তারপর ভাবলাম কবিতা টবিতা লিখি,একসময় আবার House wall magazine/সৃজনীতে লিখতাম, লিখতাম বললে ভুল হবে, কিছুটা mixing করতাম, অনেকটা DJ দের মতো।বিভিন্ন পত্রিকা ঘেটে নাম না জানা কবিদের দু এক লাইন,বিখ্যাত কবির এক দু লাইন(অবশ্য শব্দগুলো ওলট পালট হতে হবে)বিভিন্ন ইংরেজ কবিদের লাইনগুলোর বঙ্গানুবাদ(রেঁনেসা রিভুলেশনের একটা গন্ধ থাকতে হবে তো)তাই এসব মসলা পাতি নিয়ে যখন একটা সাইজে আসত,মনে হতো, বাহ্ কি সুন্দর শিল্প। গর্বে বুকটা ভরে যেত। রবীন্দ্রনাথ নজরুলও মনে হয় আমার মত এত পরিশ্রম করেনি একটা কবিতার পেছনে।কবিতার planও বাদ দিলাম।তারপর ভাবলাম এমন একটা কিছু নিয়ে লিখি যেটা বর্তমান বাজারে খুব Hot topic, কিন্তু কি সেটা?ভাবতে ভাবতে রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে যায়,কিন্তু আমি খুজে আর পাই না ভাবলাম oxygen এর অভাব হয়েছে মনে হয় brain এ।তাড়াতাড়ি লাইটার জ্বালিয়ে এ oxygen cylinder টান দিলাম আহ !কি শান্তি।আর মনে হল আমাদের মানসিক,অর্থনৈতিক,আর্থসামাজিক সমাজে ইহার প্রভাব অপরিহার্য।ঠিক এ সময় বালিশের তলা থেকে মোবাইলের আওয়াজ “sms” ।open করলাম(আমার নতুন মেয়েবন্ধু)“জানু কি করো ? ঘুম থেকে উঠেই তোমার কথা মনে পড়ল , তোমাকে খুব miss করছি, তোমাকে খুব কাছে পেতে ইচ্ছা করছে,hug দিতে ইচ্ছে করছে….….….(অনেক রোমান্স , সেন্সরের ভয়ে লিখলাম না) ।ঠিক তখনই আমার হাসি দাঁত থেকে শুরু হয়ে কান পর্যন্ত ছড়াল,ঐ যে বলে না আকর্ণ হাসি এটা আর কি। না romantic sms এর কারণে নয় , আমি আমার লেখার টপিক খুইজা পাইছি আর তা হল ভালবাসা।

আমার বিশ্বাস যে যারা পড়ছেন তারা সবাই একমত হইবেন যে সমগ্র মানব জাতির ইতিহাসে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ! বিষয় আর কিছুই নাই,লেখাপড়া বলেন,career বলেন,কোনটাই এর সাথে বাড়ি খায় না । যতটা মনোযোগ দিয়ে সারাদিন mobile এ কথা বলি,yahoo তে চ্যাট করি কিংবা ফেসবুকে কাভার দেই (কাভার মানে হল নেটওয়ার্কিং, হাজার হলেও ফেসবুকতো সামাজিক সাইট), তার একভাগও যদি study বা career এর পেছনে ব্যায় করতাম তাহলে আমাদের মধ্য থেকে যে কত আইস্টাইন,নিউটন বেরিয়ে আসত তার কোন ইয়ত্ত্বা নেই।আইনস্টাইন,নিউটন হতে না পারলেও কুদরত ই খুদা কিংবা র্স্বনা সারের আবিস্কারক হতে পারতাম নিশ্চিত।আমার বন্ধুর বন্ধুর বন্ধুর বন্ধুর বন্ধু সে তো আমারই বন্ধু তাই না?অবশ্য শুধু মেয়েরা,তো তাদের খুজেঁ খুজেঁ বের করে add দেয়া তো আমার সামাজিক দায়িত্ব।কিন্তু fake id থেকে সাবধান , এক্ষেত্রে বলে রাখি যে fake id জিনিসটার pioneer কিন্তু আমরা (proud to be a cadet) ।

আমরা প্রেমিক জাতি I mean , আমরা cadet রা । আমরা জাতি , ধর্ম , বর্ণ , গোত্র , এমনকি লিঙ্গ নির্বিশেষে ভালবাসতে পারি । যাই হোক সে সব হয়েছে বাসি , চলুন করি ভালোবাসাবাসি । প্রথম প্রেমে পড়লাম যখন ক্লাস থ্রীতে পড়ি(ছোট বলিয়া অবহেলা করিবেন না)তখনও আমি বিছানায় হিসু করতাম।তাতে কি,শিক্ষা আর ভালবাসার কোন বয়স নাই,সেই সময় খুব দ্রুত বেশ কয়েকটা প্রেমে পড়ে যাই।তবে সেগুলো ফাইভ পাস করার সাথে সাথেই শেষ।ফুটিবার আগেই ঝরে পড়িল আমার ভালবাসার ফুল।এরপর চলে আসলাম নতুন স্কুল,নতুন ক্লাস,নতুন জায়গা এবং নতুন বন্ধু(অবশ্যই মেয়ে)।প্রাইমারী পাস করেছি , আমি এখন ক্লাস সিক্সে , রুখবে আমায় কে?এই নীতিতে বিশ্বাসি হয়ে আমি আবার প্রেমে পড়লাম,বাসার পাশের এক সুন্দরী ললনার।না ললনা নয় সুন্দরী বাচ্চা বললে ভালো হবে(সদ্য হাফপ্যান্ট ছেড়ে স্কার্ট পড়তে শুরু করা)তো এর মধ্যে চিঠি চালাচালি,একদিন ধরা খাওয়া এবং যথারীতি পিতামাতার নিকট সাইজ হওয়া(বাপ মা প্রজাতির মানুষেরা কেন জানি প্রেম ভালবাসা বোঝে না) আমার এই ভালবাসার সমাপ্তি এইখানেই।

তারপর চলে গেলাম cadet college এ।আমার মত romance প্রিয় মানুষকে,নেয়া হল পৃথিবীর সবচাইতে বে- রোম্যান্টিকএকটা জায়গাতে।নিজেকে মনে হতো Vincent valentine এর মতো আমিও কারাগারে বন্দী।কিন্তু আমি তো থেমে যাবার পাত্র নই।কত কবিতা, উপন্যাসে পড়েছি যে জীবনে বাধা বিপত্তি আসবেই,তবুও এগিয়ে যেতে হবে।ছোট ছোট vacation গুলোকে কাজে লাগাতে চাইলাম।এবং হয়ে গেল।এবার মেয়েটা কিছুটা matured(কিছুটা না ভালোই,এতদিন জানতাম ভালোবাসা মানসিক,কিন্তু ইনিই আমাকে দৈহিক ভালোবাসার খোঁজ দিয়েছিলেন) ।কিছুদিন চালানোর পর যেই লাউ সে কলা।আমাদের ভালোবাসা সমাপ্ত।কেউ আবার ভাববেন না কিন্তু আমি ছ্যাকা খেতাম ।

আসলে এক প্রেম বেশীদিন ভাল না লাগাও প্রেমিক জাতির ধর্ম। ভবলাম না এভাবে হবে না।এরপর ভালবাসলাম দুই সন্তানের জননী(বেশি না আমার চেয়ে ১৫ বছর বড়)!তাতে কি শিক্ষা আর ভালবাসার কোন বয়স নাই।আপনারা আবার আমার এই ভালবাসাটিকে অন্য দৃষ্টিতে দেখবেন না।হাজার হলেও cadet,আমাদের অনেক রসালো(রসময়) গোপন(গুপ্ত) কথা পড়ে অভ্যাস।“বড়ই পবিত্র ছিল এ প্রেম”
পবিত্র এই প্রেমের সমাধি হইল উনার পতিদেবের ঝাড়ি খাইয়া।যা হোক তাতে আমার কি,আমাদের সংগ্রাম চলবেই

এরপর আমার প্রেম দেশের গন্ডী ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ল।দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে আসলাম।কিন্তু ঐ যে পড়াশোনার চাইতেও অনেক জরুরী হলো প্রেমে পড়া।তাই আমি আবারো “পড়লাম” varsityর পাশাপাশি প্রেমেও পড়লাম।মেয়ে এবার বিদেশীনি দিলাম,নিলাম,মিললাম,মিলালাম।রবি ঠাকুরের “দিবে আর নিবে,মিলাবে মিলিবে” আর কি।স্বর্ণকেশী,স্বল্পবসনা নরীদের জন্মেই মনে হয় প্রেমিক জাতির জন্য।

অনেক লিখে ফেললাম।যাই হোক আর প্যাচাল পাড়বোনা।কয়েকটা কথা বলে শেষ করি।প্রেম ব্যাপারটা বড়ই স্বাধীন।এই ব্যাপারে কিপ্টামী করবেন না,friend দের খাওয়াতে বললে,ফকিরকে ভিক্ষা দিতে গেলে তো অনেক কিপ্টামী করেন এইবার অন্তত ক্ষেমা দেন।আপনি কতবার প্রেমে পড়তে পারেন তাতেই প্রমান হয় আপনি কত বড় মনের মানুষ।পৃথিবীর সব নারীকে সমান ভাবে ভাগ করিয়া দিলেও বোধ করি আমার ভালবাসার কমতি হইবে না।আর এক শ্রেণীর লোক আছে যারা বলে প্রেম নাকি এক বারই আসে, আরে ভাই,“সেদিন হয়েছে গত/যখন মানুষ একবার প্রেমে পড়িত”so ভালবাসুন একের অধিক, no কিপ্টামি, no philosophy, life একটাই live it up ।
বি.দ্র. সকল বর্ণনা, ঘটনা অতিমাত্রায় কাল্পনিক।

৩,২৩১ বার দেখা হয়েছে

৩৪ টি মন্তব্য : “একটি রম্য রচনার খসড়া”

  1. ফাহাদ (২০০২-২০০৮)

    ক্যাডেট কলেজ এর VACATION গুলো কাজে লাগাইছিস কিন্তু কলেজ এর ভিতর কাহিনি কোথায় ? x-( 😡 এইভাবে ফাকি মারার জন্য এই "বিশ্বপ্রেমিক" এর বাঞ্ছাই 😡 😡 😡 আর তুমি ২ মাসেই লিখা ফেলছ কিন্তু আমি যে ২ বছরের সদস্য? 😕 এখনও কিছু লিখতে পারলাম না :(( যাই হোক লেখা ভাল হইসে :clap: :clap: :clap: :awesome: কিন্তু next time এইসব ফাকি মারা চলবে না ;;) :thumbup:

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আগে ১০ টা ফ্রন্টরোল লাগাও দেখি বাছা...

    (লেখা প্যারা করে মাঝে স্পেস দিলে পড়তে আরাম হয় :-B )


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  3. মাহবুব (৯৯-০৫)

    এই শহরের প্রতিটি রাস্তায় আমার একটি করে কবর রয়েছে। কারন যেখানেই আমি সুন্দরী দেখেছি, সেখানেই মৃত্যু বরন করেছি…………… 😀 😀 😀 😀 😀

    এটা কি উক্তি না পার্সোনাল এক্সপ্যারিএন্সে 😛 😛

    জবাব দিন
  4. ইফতেখার (৯৯-০৫)

    খাইছে, হুমায়ূন... জট্টিল লিখছস। হাহাহাহাহা শীরাআআম মজা পাইছি।
    :khekz: :khekz: :khekz:
    এইটা তোর প্রথম লেখা??!!! বিশ্বাস হয় না।
    কুপাইন্যা লিখা......
    চালায়া যা, লেখার হাত ভালো তোর। 🙂

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।