যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং তুরস্কের মামাবাড়ির আবদার

২০০৯ সালে তুরস্ক সরকারের স্কলারশিপ পেয়ে তুরস্কে আসা। এর পর দেখতে দেখতে কখন যে তিনটা বছর কেটে গেলো টেরই পেলাম না।গত তিন বছরে অনেক নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে,চোখের সামনেই ঘটে গেছে অনেক আজব আজব ঘটনা।সেই ঘটনাগুলো লিখতে বসিনি কারণ এটি কোন দিনপঞ্জিকা নয়।আমার এই লেখার বিষয়বস্তু হলো তুরস্কের রাষ্ট্রপতি আব্দুল্লাহ গুল এর লেখা একটি চিঠি।এতদিনে হয়তো সবাই জানেন সেই চিঠির কথা।যেই চিঠিতে গুল সাহেব গোলাম আযম কে ফাঁসি না দেয়ার আবদার করেছেন।এই আবদারকে আমার মামাবাড়ির আবদার বলেই মনে হয়।তার চিঠির পর আবার একদল টার্কিশ নাগরিক ‘’অন অ্যারাইভাল’’ ভিসার সুযোগ নিয়ে তাদের লম্বা নাকগুলো গলিয়ে এসেছে বাংলাদেশে।

আমাদের দেশের মিডিয়াতে এই ব্যাপারটাকে বেশ ভালোই লাইমলাইট করা হয়েছে যেটা অবশ্যই ভালো একটা উদ্যোগ।ফেসবুক সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াগুলোও বেশ উত্তপ্ত ছিল।একটা বিশেষ শ্রেণী ছাড়া প্রায় সবাই তুরস্কের এই হস্তক্ষেপকে অযাচিত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বলে দাবী করেছেন।অনেকে আবার গালাগালি করে একহাত দেখে নিয়েছেন তুরস্ককে।এটাই স্বাভাবিক।দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিক মাত্রই এর প্রতিবাদ করবে। আমিও করেছি এবং সবসময় করবো।তবে এ ব্যাপারে আমার ছোট্ট একটা আপত্তি আছে। টার্কিশ রাষ্ট্রপতির চিঠিটা কি আসলে টার্কিশ জনগণ এর প্রতিনিধিত্ব করে?তুরস্কের সবাই কি গোলাম আযমকে বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছে ? তুরস্কের প্রতিটি মসজিদে কি গোলামের মুক্তির জন্য দোয়া করা হচ্ছে?তুরস্কের ইমামরা কি রাস্তায় মানববন্ধন করছে এই বিচার বন্ধে?আবদুল্লাহ গুল এর চিঠিতে বলা হয়েছে একদল বাংলাদেশি (এদের জাতীয়তা নিয়ে আমি সন্দিহান) নাকি এই বিচার বন্ধে তুরস্কের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে,কারা এই একদল বাংলাদেশি?? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই এই লেখা।

তুরস্কে আসার পর প্রথম যে শিক্ষা হয়েছে টা হলো বাংলাদেশ নামক দেশটিকে পৃথিবীর অনেকেই চেনেনা।যারা কেবল নাম শুনেছে তারাও জানেনা এর অবস্থান আসলে কোথায়।কেউ বলে মেক্সিকোর পাশে, কেউবা আবার আফ্রিকার কোন দেশ বলে।রাস্তাঘাটে কেউ জিজ্ঞেস করলে বাংলাদেশ চেনাতে কমপক্ষে ১০ মিনিট সময় লাগতো।যারা একটু বেশি স্মার্ট তারা তাদের এই মূর্খতা ঢাকতে এমনভাবে মাথা নাড়তো যাতে মনে হয় উনি প্রতি গ্রীষ্মের ছুটিটা বাংলাদেশেই কাটান।মোটকথা ইতিহাস বা ভূগোলের ছাত্র আর হিন্দি সিনেমার ফ্যান ছাড়া আর কারো কোন ধারনাই নেই বাংলাদেশ সম্পর্কে। ও হ্যা আরেকটি শ্রেণীর ধারনা আছে বাংলাদেশ সম্পর্কে।শুধু ধারনা বললে ভুল হবে,গোলাম আযম দিনে কয়বেলা ভাত খান,সাইদি মাসে কয়বার দাড়িতে মেহেদি লাগান,নিজামি সপ্তাহে কয়বার গোসল করেন এই খবরও তাদের জানা।আসুন এই বিশেষ শ্রেণীটাকে চিনে নেই।

এখানে আসার আগে তুরস্ক সম্পর্কে যা জানতাম তা হলো এটা মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক এর দেশ। দুইজন নেতা আমার অনুপ্রেরণা, এক বঙ্গবন্ধু আর দুই আতাতুর্ক। ধর্মীয় গোঁড়ামিতে ভরা অটোম্যান সম্রাজ্যকে যিনি ধর্ম নিরপেক্ষ আধুনিক তুরস্কে রুপ দেন।তুরস্ক যে পাকিস্তান বা আফগানিস্থান হয়নি তার পুরো কৃতিত্ত আতাতুর্কের।এখানে আসার আগে ভেবেছিলাম তুরস্ক সেকুলার দেশ,সব ধর্ম সব মতের সমান অধিকার,কেউ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেনা,কেউ আল্লাহ্‌ -রসূল নিয়ে ব্যাবসা করেনা।প্রথম প্রথম এসেও তাই মনে হচ্ছিলো।মোড়ে মোড়ে বার/পাব,মেয়েরা ভার্সিটিতে আসে মিনিস্কার্ট পড়ে,টিচাররা ক্লাসে বিবর্তনবাদ পড়ান,আবার আযান দিলে অনেকেই মসজিদে যান নামাজ পড়তে,সাধারণ জনগণ পান থেকে চুন খসলেই রাস্তায় নেমে পড়ে।ভাবলাম যাক আতাতুর্ক তাহলে সফল।দিন যত যায় বুঝতে পারি আসলে আমার ধারণা পুরোপুরি ভুল।ধর্মনিরপেক্ষতা বা প্রগতিশীলতা একটা বিশেষ শ্রেণীর পছন্দ হচ্ছেনা।তারা চান তুরস্কে শরীয়ত আসুক,তুরস্ক হোক আরেক সৌদি আরব বা ইরান।এরা উগ্র ডানপন্থীদের গ্রুপ,যাদের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে “সাদেত পার্টি” নামক একটি রাজনৈতিক দল।

যারা গত কয়েক মাস পত্র পত্রিকা ফেসবুক বা ব্লগগুলো পড়েছেন তাদের চখে পড়ার কথা এই নামটি।তত শক্তিশালী কোন দল নয় এই সাদেত পার্টি।এমনকি সংসদে একটি আসনও নেই তাদের।তারপরও বেশ দাপটের সাথেই গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা।বর্তমান ক্ষমতাসীন দল এ কে(AK partısı) পার্টি সাদেত পার্টির মতো এতটা উগ্র না হলেও তারাও ডানপন্থী। তুরস্কে সোশ্যালিস্ট এবং বামপন্থীরা বেশ শক্তিশালী,তাই এদের সাথে টেক্কা দিতে হলে কৌশলগত কারনেই উগ্র ডানপন্থী সাদেত পার্টিকে পাশে দরকার ক্ষমতাসীন দলের।এ কারণে গত দশ বছরে সাদেত পার্টির উত্থান চোখে পড়ার মতো।সাদেত পার্টিকে নিয়ে এতোকিছু বলার কারণ হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে তুরস্কে যত রকম মিটিং,মিছিল,সমাবেশ হয়েছে তার সবই সাদেত পার্টির নেতৃত্বে।আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও করেছিলো এরাই,জামাতের নেতা কর্মীদের ডেকে এনে নিজেদের টিভি চ্যানেলে সাক্ষাতকার প্রচার করে এরাই।এই সাদেত পার্টির জামাত প্রীতি কি পরিমাণ ভয়াবহ তার কয়েকটা উদাহরণ দেই।

২০০৯ সালে আমরা ৮ জন ছাত্র স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে আসি তুরস্কে।স্কলারশিপের শর্ত অনুযায়ী আমাদের থাকা,টিউশন ফি এবং হাতখরচ প্রদান করবে তুরস্ক সরকার।আমাদের বিনামূল্যে থাকার ব্যাবস্থা করা হয় সরকারি হোস্টেলগুলোতে।আমরা যে আটজন এসেছিলাম তার মধ্যে একজন ছিল মাদ্রাসার ছাত্র এবং সেই সুবাদে জামাত শিবিরের সমর্থক।ওর সাথে ব্যাক্তিগত কোন সংঘাত কখনোই ছিলোনা আমার।ও থাকতো আমার পাশের হোস্টেলে। হঠাৎ একদিন শুনি ও হোস্টেল ছেড়ে বাসায় উঠে গেছে।আমরা তখন হাতখরচ হিসেবে মাসে ১৫০ ডলারের মতো পেতাম।এই টাকা দিয়ে বাসায় ওঠা তো দূরের কথা মাস চালানোই কঠিন ছিল। চিন্তা করলাম কাহিনীটা কি?খোঁজ নিয়ে জানলাম ও পার্টির বাসায় উঠেছে। পার্টির বাসা!!!মানে কি ?আঙ্কারা শহরে জামাতের বাসা কেমনে আসে?পরে জানতে পারলাম আসল কাহিনী।

এই পার্টি সেই পার্টি না। ঐটা আসলে সাদেত পার্টির পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা ছাত্রমেসের মতো একটা বাসা।জামাতের কর্মীরা বিনামূল্যে ঐখানে থাকতে পারে,যাদের দরকার আর্থিক সহায়তা করা হয়,দেশে যাবার জন্য বছরে একবার বিমানভাড়াও দেয়া হয়।আদর্শগত কারণে জামাতে ইসলামীকে তারা নিজেদের ভাইয়ের মতো দেখে,জিগরি দোস্ত বলে বুকে জড়িয়ে ধরে। তাই জামাতের কর্মী মানেই সাদেতের কর্মী। আমাদের সময় এসেছিলো মাত্র একজন আর গত তিন বছরে এই সংখ্যা ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে গেছে। গত বছর এপ্রিল মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আঙ্কারা সফরের সময় তুরস্ক সরকারকে অনুরোধ করেন যাতে তুরস্ক আরও বেশী সংখ্যক বাংলাদেশি ছাত্রকে স্কলারশিপ দেয়। তুরস্ক সরকার প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ ফেলতে পারেনি। প্রতি বছর তারা বিপুল পরিমাণে জামাতশিবির কর্মী নিয়ে আসছে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য।

শুধু জামাতশিবিরের কর্মীরাই নয়,সাধারণ সরলমনা ছাত্র ছাত্রীরাও একটু সচ্ছল জীবন আর ভালোভাবে বেচে থাকার জন্য ভিড়ে যাচ্ছে সাদেত সহ অন্যান্য গোঁড়া ইসলামপন্থীদের ছাতার নিচে। তো এদের পেলেপুষে জামাতের কি লাভ হচ্ছে তা নিয়ে একটু কথা বলা যাক। জামাতের লাভ এটাই, যে মিথ্যা প্রোপ্যাগান্ডাগুলো কোটি কোটি টাকা দিয়ে ছড়াতে হয় মানুষের কাছে, তা তারা অল্প খরচেই পারছে এদের মাধ্যমে। দেশে শিবির কর্মীরা ভার্চুয়াল আর রিয়াল দুই জায়গাতেই দৌড়ের উপর আছে, কিন্তু এখানে তাদের দৌড়ানোর তেমন কেউ না থাকায় বেশ আরামেই আছে। মহাশান্তিতে মিথ্যাচারের রাজনীতি করে যাচ্ছে।

ওদের সুযোগসুবিধা নিয়ে আমার কোন আক্ষেপ নাই, আক্ষেপটা অন্য জায়গায়। একবার ভাবুন তো এই শিবিরের ছেলেপেলেদের হাতে যদি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা দেয়া হয় তাহলে কি অবস্থা হবে। যে মানুষটা(!!!) ভাবে বাংলাদেশ পাকিস্তান থাকলেই ভালো হতো,যে ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসলে ভারতের চক্রান্ত ,ভাবে বঙ্গবন্ধু হলেন ভারতের দালাল,সে যদি কোন টার্কিশকে বাংলাদেশের ইতিহাস শোনায় তাহলে কি শোনাতে পারে?সে যদি বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে ভার্সিটিতে কোন প্রেজেন্টেশন করে তাহলে সে কি দেখাতে পারে সেখানে উপস্থিত দর্শকদের??যে মানুষটা গোলাম আযমকে ভাষা সৈনিক দাবী করে,সে যদি ২১শে ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করে ভাষণ দেয় তবে তা কেমন হতে পারে???

রাষ্ট্রপতি গুল তার চিঠিতে যে একপাল বাংলাদেশিদের কথা বলেছেন তারা কিন্তু এরাই। এদের টাকা পয়সার অভাব নেই। পার্টির টাকায় প্রেস কনফারেন্স করে গোলাম আযমের মুক্তির দাবীতে। এই বিচারকে ভারত এবং ইজরাইলের ষড়যন্ত্র বলে কিন্তু প্রচার করে এরাই। যুদ্ধাপরাধীদের নামের পাশে জামাতে ইসলামী কথাটা একেবারে সহ্য করতে পারেনা তারা,তেড়ে আসতে থাকে সাইদিকে ডিফেনড করতে করতে। ইস্তানবুলে সাদেত পার্টির বিক্ষোভের কথা দৈনিক সংগ্রামে ছবি সহ রিপোর্ট করে এরাই। ১৬ ডিসেম্বর আমরা যখন বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠান করি,যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য মানববন্ধন করি,স্মারকলিপি দেই, তখন এরা সাদেত পার্টির আয়োজনে অনুষ্ঠান করে “বাংলাদেশে কি ঘটছে”।মূল বক্তাদের তিনজনই বাংলাদেশি এবং তাদের একজন হলো আমার সেই বন্ধুটি। আপনারাই চিন্তা করুন বাংলাদেশে কি ঘটছে বলে বক্তারা জানিয়েছেন ঐ অনুষ্ঠানে।

আমাদের মধ্যে একটা শ্রেণী আছে,সুশীল শ্রেণী, যারা ব্যাক্তি আক্রমণের বিপক্ষে,সবাই মিলেমিশে থাকার পক্ষে,কোন রকম ঝামেলায় না যাবার দলে।তারা আমারও বন্ধুজন,ওদেরও পিরিতির নাগর। প্রশ্ন আসতে পারে তুরস্কের এই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে কথা বলার কি কেউ নেই?অবশ্যই আছে, সংখ্যায় কম হলেও আছে। যাদের কাজ হলো নিজের খেয়ে বোনের মেষ তাড়ানো। যারা পরীক্ষা,পড়াশোনার ক্ষতি করে হলেও এসবের প্রতিবাদ করে। এগুলো করতে গিয়ে গালি খায়,অপমানিত হয়,আওয়ামীলীগের টাকা খায় বলে অপবাদও সহ্য করতে হয়। কিন্তু তাঁরা থেমে থাকেনি,কখনো থাকবেও না।যতো বাধাই আসুক এগিয়ে যাবেই। শিবিরের জামাতপ্রেম টাকার লোভে নয়তো ব্রেইনওয়াশের ফসল,আর এদের দেশপ্রেম আবেগের আর ভালোবাসার। চিরদিন ভালোবাসারই জয় হয়।

নিচের ছবিটি সেই মেষ তাড়ানো লোকজনদের

৩,১১৫ বার দেখা হয়েছে

২৬ টি মন্তব্য : “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং তুরস্কের মামাবাড়ির আবদার”

  1. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    :boss: :boss: :boss:
    ওদের তো কাপড় খুলে দিলি।

    আর প্রতিবাদের কাজটি চমৎকার হয়েছে।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  2. Read it. Excellent article. Addition of the protest of Islamic organizations, one of them is Turkish, against against the Turkish letter could complement it:-

    1. http://www.facebook.com/groups/SidhSharmarkobitaporibar/permalink/585953691431502/#!/photo.php?fbid=10152426798770593&set=a.155426800592.232444.538210592&type=1&theater

    2. http://www.facebook.com/groups/SidhSharmarkobitaporibar/permalink/585953691431502/#!/notes/edip-yuksel/we-denounce-the-letter-of-the-turkish-president-abdullah-g%C3%BCl/250782221719440

    3. http://www.facebook.com/l.php?u=http%3A%2F%2Fworldmuslimcongress.blogspot.com%2F2013%2F01%2Fmuslims-denounce-turkish-president-hon.html&h=EAQFp84D4AQEIWNsGTAUgklfXoebUHj5HqvOhp5avOt05Mw&enc=AZNSnYE4Wlf5kWzVas9Wc4DACItYzTZ13W1keZP4Ead726LKJIxoKw7jFg_nA06JxWjTA0P7C2K4Y0kPT4DD9y3y

    Best.

    জবাব দিন
  3. দেশপ্রেম জাগ্রত হয় নিজের চিন্তা চেতনা ও সুশিক্ষার জোরে, স্বার্থপরতার জন্য অনেকেই নিজের দেশকে বিক্রি করে দেয়, জামাতের নেতা কর্মীরা এমনই পাবলিক। যেখানে যায় সেখানেই প্রথম ধর্মের নামে দেশ মাতৃকাকে বিক্রি করে, কিন্তু এ দেশে তাদের কখনোই ছিলোনা!

    জবাব দিন
  4. রেজা (০৩-০৯)

    কথা হচ্ছে ভাই, আপনার কখনো ওই বাসাগুলোতে থাকা হয়েছে কিনা জানি না, আমি থেকেছি...আমাদের জামাতে ইসলামী তো এদের ধর্ম ব্যবসার কাছে কিছুই না...দুই মাস থাকার প্রানান্ত চেষ্টা করার পর চলে আসছি...এখানে প্রথম দেখলাম ভালো রুম পাওয়ার আশায় নামাজ পড়তে....তারপরও আশ্চর্যের বিষয় কি জানেন? আমি এখনও ওদের পরিচালিত একটা ডর্মিটরীতেই থাকি...কিছু কিন্তু করার নাই ভাই...আপনি হয়তো জানেন ইজমিরের ভার্সিটি থেকে শহর কতদূরে আর শহরে আমাদের ডর্মিটরি থেকে এই ভার্সিটিতে প্রতিদিন এসে ক্লাস করা কতটা কষ্টের, তাই কি করা? থাকি, দাঁত চেপে সহ্য করি ধর্ম ব্যবসা...

    জবাব দিন
  5. দিবস (২০০২-২০০৮)

    আমার সহজ মাথায় একটা জিনিস ঢুকে না, যারা বাংলাদেশের জন্মই চাইল না তারা কিভাবে রাজনীতি করে? রাজনীতির মূল অর্থতো দেশের কথা যারা ভাববে, দেশের জন্য কাজ করবে, কিন্তু যে দলটা দেশটারই জন্ম চাইল না তারা কিভাবে দেশের ভালর কথা ভাবতে পারে? এই ভন্ডামীটা ধরার জন্য তো রকেটবিজ্ঞানী হওয়া লাগে না। তারপরও কেন ছাত্ররা বাংলাদেশ সরকারের টাকায় পড়ালেখা করে এই দেশবিরোধীদের সমর্থন করে?

    লেখা খুবই চমৎকার এবং সময়োপযোগী হইছে। আমার পক্ষ থিকা একটা বিড়ি খাইয়া নিস 😀 । বাকী গুলান দেখা হইলে :tuski:


    হেরে যাব বলে তো স্বপ্ন দেখি নি

    জবাব দিন
  6. মুহিব (৯৬-০২)

    হুমায়ুন খুব ভালো লাগল লেখাটা পড়ে। তোমার সেই জামাতি বন্ধুকে যদি একদিন বাটে পেয়ে কিছু প্যাঁদানী দিতে পার তাহলে আমার তরফ থেকে বেশি না ২টা লাথি বেশি দীও।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।