নবীশী কুচকাওয়াজ

নবীশী কুচকাওয়াজ

ক্যাডেট কলেজে আসার পর পরই শুনেছিলাম নভিসেস প্যারেড বলে একটা ভীষন ব্যাপার আছে। নতুন ক্যাডেটদের বেশ ভাল করে সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজ শেখানো হবে। তারপর তিন হাউসের মধ্যে প্রতিযোগিতা। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে নাকি কপালে বিশেষ দুর্ভোগ আছে। আগের বছরে আমাদের বড়ভাইদের দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে নি। ফলে তাদের কেমন সাজা হয়েছিল তার রোমহর্ষক বিবরন কিছু শুনেছি। সেই থেকে আমার নিত্য এক দুশ্চিন্তা। নামাজের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হবার জন্য রীতিমত দোয়া করি।

সপ্তাহ না যেতেই শুরু হলো প্রশিক্ষন। দুপুরে খাবারের পর সবাই গেছে বিশ্রামে, আমাদের ডাক পড়লো প্যারেডে। সাদা শর্টস, হাফ হাতা সাদা শার্ট, কোমরে চওড়া বেল্ট, পায়ে লোহার নাল লাগানো কালো বুটজুতো। মাথায় সবুজ বেরেট জাতীয় টুপি। এরকম রণসাজে সেজে আমরা জড়ো হয়েছি হাউসের সামনে রাস্তায়। আমাদের ট্রেনিং দেবেন বছর তিনেকের বড় একজন সিনিয়র ক্যাডেট। প্রথমে বেশ নরম সুরে সবাইকে বিষয়ের গুরুত্ত্ব বুঝিয়ে দিলেন। কোন কমান্ডে কি করতে হবে ইত্যাদি বিশদ ব্যাখ্যা করলেন। আমরাও ফল ইনে দাঁড়িয়ে সুবোধ বালকের মত শুনছি। আকস্মাৎ তিনি তীক্ষ্ণ গলায় বিকট জোরে চীৎকার দিলেন। আমি খানিকটা ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম- মানুষটার হলো কি! পরে অবশ্য বুঝেছি যে এটাই রীতি। মোলায়েম সুরে তো আর কমান্ড দেয়া যায় না।

জীবনের এক কঠোর কঠিন সময়, রোদ গরম ক্লান্তি সব উপেক্ষা করে ট্রেনিং চলতে থাকে ঘন্টা ধরে প্রতিদিন। অন্য দুই হাউসের বন্ধুরাও একই ভাবে ট্রেনিং নিচ্ছে। এটেনশন, স্ট্যান্ড এট ইজ, ডানে বামে ঘোরার কায়দা কানুন, ফরোয়ার্ড মার্চ, স্যালুট। এসমস্তই কুচকাওয়াজের জরুরী অংগ। চলনে থাকবে তেজবীর্যের আভাস। হাঁটতে হবে মাটিতে গোড়ালী ঠুকে। পা ফেলতে হবে পায়ের পাতা সোজা রেখে, প্রচন্ড শব্দে। আর তালভঙ্গ হলেই সাজা। সাজারও যে কত বিচিত্র রূপ আছে জানা ছিলো না। ডিগবাজী দেয়া, ব্যাং লাফানো এসবও যে সাজা হতে পারে জানলাম। আর খানিক পর পরই দৌড়। প্রকান্ড মাঠের শেষ মাথায় যে গোল পোষ্ট সেটা ছুঁয়ে আসা। পেছনে পড়লে আবার। অথবা গোটা বিশেক ডনবৈঠক। দশটা দেবার পর হাত দুটো কেমন যেন নিজের বলে মনে হয়না।

প্রথম দিকের কথা, একদিন কমান্ডার ভাই আমাকে আদেশ করেন ব্যাং লাফিয়ে পুরো বাস্কেটবল কোর্ট ঘুরে আসতে। চারটে কোর্ট পর পর জোড়া, অনেক খানি জায়গা। অর্ধেক গিয়েই টের পাই ব্যাপারটা কত শক্ত। আমার দু পা অবশ হয়ে গেছে। উঠে দাঁড়িয়ে উনাকে কথাটা জানাই। শুনে তিনি যত না রাগলেন, তারচেয়ে বেশি হলেন অবাক। কমাডারের হুকুম যে অবশ্যপালনীয় তা কি আমি বুঝিনি! আর আমি অবাক হচ্ছি এটা ভেবে যে আমার পা যে অবশ হয়ে গেছে সেটা কি তিনি বুঝতে পারছেন না! যাহোক, বিস্তর শাসনের পর অবশেষে ব্যাপারটা আমার মাথায় ঢোকে। বুঝতে পারি এটা এক ভিন্ন জগত। এখানে পারব না, পারি না- এসব কথার সুযোগ নেই। আমি অগত্যা দাঁতে দাঁত চেপে নেতার আদেশ পালন করি। এভাবে আমরা সবাই ক্রমশঃ আমাদের দৈহিক ক্ষমতার সীমানা বাড়িয়ে চলি। যে একসময় দুশো মিটারের বেশী দৌড়াতে পারতো না, সে এখন অনায়াসে এক কিলোমিটার পেরিয়ে ছোটে। ডনবৈঠকের মাত্রা দশ থেকে কুড়ি, পঁচিশ, তিরিশ, চল্লিশ এভাবে বাড়তে থাকে। কখনো আমরা নিজেদের মধ্যেই পাল্লা দেই। ওই বয়েসটাও সেরকম, দেখিয়ে দেবার ইচ্ছেটা যথেষ্ট প্রবল থাকে তখন।

গোড়ালী বেশী জোরে ঠুকলে নাকি ব্রেনে ধাক্কা লাগতে পারে। এই তথ্য কোথায় পেয়েছিলাম আমরা জানিনা, তবে বেশ বিশ্বাস হতো। একদিন আমাদের এক বন্ধু বেশ বিনয়ের সাথে কমান্ডার ভাইকে জানায় “আমার ব্রেনে টাচ লেগেছে”। এবারো তিনি যথেষ্ট বিস্মিত হলেন, এবং বেশ কিছুক্ষন ভেবে শেষে তাকে বিশ্রাম দিলেন। ওই বৈজ্ঞানিক কার্যকারন দেখিয়ে অবশ্য পরে আর নিস্তার পাওয়া যায় নি। এরমধ্যে আমাদের মাঝ থেকে স্মার্ট এবং প্রচন্ড জোরে হাঁক দিতে পারে এমন একজনকে স্কট কমান্ডার হিসাবে বাছাই করা হয়েছে। তার কাজ আমাদের চেয়ে আরো এক মাত্রা বেশি কঠিন। তাকে প্যারেড করার পাশাপাশি কমান্ডও দিতে হবে।

কিছুদিন পর ট্রেনিং দেবার ভার নিলেন ওস্তাদেরা, যাদের আমরা ষ্টাফ বলতাম। এরা পেশাদার সৈনিক, যশোর সেনানিবাস থেকে এসেছেন। আপাদমস্তক পোড়খাওয়া সৈনিক, দুর্ধষ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য। কোথায় লাগে তিন বছরের সিনিয়র কমান্ডার ভাই। এদের দেহ ও মুখের ভাষাই যেন অন্যমাত্রায়। কমান্ড ছাড়লে মনে হয় বাঘের গর্জন। আর পা ঠোকার ধাক্কায় মনে হয় যেন সিমেন্টের বাস্কেটবল কোর্টও ফেটে যাবে। সাজার মাত্রাও মানানসই ভাবে বেড়েছে। অতি কঠিন ব্যাবহার, কঠিনতর তাদের ভাষা। ভুল্ভাল করলে কি ধরনের সাজা কপালে জুটবে, দেহের কোন বিশেষ অঙ্গে কোন বস্তুর কেমন প্রয়োগ হবে ইত্যাদি বেশ প্রাঞ্জল ভাষায় বুঝিয়ে দেন। আরো জানতে পারি জন্ম-রহস্য এবং লৈঙ্গিক পরিচয় সম্পর্কেও বিচিত্র সব তত্ত্ব। কটুকাটব্য ও ভয়াবহ খিস্তি সৈনিকের ভাষার অলংকার। কদিনের মধ্যেই আবিষ্কার করি এদের মধুর সম্ভাষন অতটা খারাপ লাগছে না, বরং কোন হাউসের ষ্টাফ এবিষয়ে কত বেশী পারঙ্গম তা নিয়ে রীতিমত তর্ক করি নিজেদের মধ্যে। আমাদের ওস্তাদ আবার সামান্য তোতলা, রাগের সাথে সাথে এটা আরো বাড়তে থাকে, সেই সাথে বাড়ে উনার সাজার বহর। বদর হাউসের ওস্তাদ আকারে সামান্য খাট ও গোলগাল চেহারা, কিন্তু তর্জন গর্জনে সবচেয়ে দড়। হুনাইন হাউসের ওস্তাদ স্বল্পভাষী খাঁটি সৈনিক, পদেও মনে হয় অন্য দুজনার চেয়ে উপরে ছিলেন। আমাকে অবশ্য সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিলেন এডজুট্যান্ট সার। সামরিক বাহিনীর মেজর। দীর্ঘ সুঠাম দেহের অধিকারী, অতিশয় সুপুরুষ, চলাফেরায় বাঘের তেজ। তাকে দূর থেকে দেখলেই ভেতরে কেমন কাঁপুনি শুরু হতো। তার ছায়া দেখলে সবচেয়ে ত্যাদড় ক্যাডেটও সাবধান হয়ে যেত।

তো, এই শার্দুল বাহিনীর সদস্যদের সযত্ন তত্ত্বাবধানে আমাদের প্যরেড কলার প্রভূত উন্নতি হয়। যেমন আমরা আরামে দাঁড়িয়ে আছি, যাকে বলে স্ট্যান্ড এট ইজ। কমান্ডের শুরু এইভাবে- “প্যারে -এ -এ -ড!”, আর তক্ষুনি আমাদের সারা দেহে বিদ্যুৎ ঝলকে উঠে, এক ঝাঁকুনি মেরে সবাই সচকিত হই। এরপর গগনবিদারী- “এটে -এ -এ -ন- ন শন!” কোমর অবধি হাঁটু তুলে সজোরে মাটিতে পা ফেলি। পা ফেলা কারো সামান্য আগে পিছে হয়ে গেলে আর রক্ষে নেই, শব্দেই তা ধরা পড়বে। তাতক্ষনিক সাজা, পুরো দলের। মার্চ করে সামনে চলার সময় গোড়ালী ঠোকা আর দু হাত সজোরে যদ্দুর সম্ভব সামনে পেছনে করা, যাকে বলে ফুল স্যুয়িং। চলার নিয়ম হলো ডান পায়ের সাথে বাম হাত, এবং বাম পায়ের সাথে ডান হাত। তবে বেশি নার্ভাস হয়ে গেলে কেউ ডান পা ও ডান হাত একই সাথে চালিয়ে দিতে পারে। তখন বেশ একটা দেখবার মতন ব্যাপার হয়।

কলেজের প্রিন্সিপাল সার, সামরিক বাহিনীর লেফটেনেন্ট কর্নেল, বার কয়েক আমাদের মহড়া দেখে গেছেন। ইতিমধ্যে আমাদের পোষাকও বলেছে। এখন পুরোদস্তুর খাকী উর্দি পরে প্যরেডের মহড়া দিচ্ছি। উর্দিতে নিজেকে কেমন অন্য মানুষ মনে হয়। সেই জেলা স্কুলের ভাবুক মুখচোরা ছেলেটা ধীরে ধীরে ক্যাডেট হয়ে উঠছে। নিজের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা অজানা কিছু ক্ষমতা যেন জেগে উঠছে। ক্যাডেট জীবনটা আসলে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার এক অবিস্মরনীয় অধ্যায়। এ নিয়ে আমার উপলব্ধি অন্য কোথাও লিখব আশা করি।

অবশেষে প্যারেডের দিন। আগের দুটো দিন কেটেছে বুটজোড়া আর উর্দির ধাতব অংশগুলোর জৌলুশ বাড়ানোর সাধনায়। জুতো যে আয়না হতে পারে সেও এক নতুন আবিষ্কার। ধোপাবাড়ী থেকে বিশেষ যত্নে কড়া ইস্তিরী দেয়া পোষাক এসেছে। মেটাল পালিশ, জুতোর কালি আর মাড়ের গন্ধে তিন হাউস ভুর ভুর করছে। আর টেনশনে ঘুমের অসুবিধাও যথেষ্ট হয়েছে। ভোর বেলা তৈরি হচ্ছি সবাই। বড়ভাইয়েরা, ওস্তাদ, হাউস মাষ্টার সতর্ক চোখে আমাদের পরীক্ষা করেন, পোষাকের পরিপাট্যে যেন চুল পরিমান খুঁত না থাকে। সাজ সজ্জ্বা সম্পূর্ন করে দৃঢ় পায়ে প্যারেড গ্রাউন্ডে হাজির হই আমরা, একেবারে ঘড়ির কাঁটায়। সামনে প্রকান্ড শামিয়ানা খাটানো হয়েছে, তার নীচে সারি সারি চেয়ার। মাঝখানে মঞ্চ, সেখানে দাঁড়িয়ে কলেজের প্রিন্সিপাল সার প্যরেড দেখবেন। নব্য ক্যডেটদের তিনটি দল সার বেধে প্যারেড গ্রাউন্ডে নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছে, সকালের সূর্য পোষাকের ধাতব চাকতির উপর ঝিকিয়ে উঠছে, ছবির মত। আমার কেমন নার্ভাস লাগছে। নিশ্চই কিছু একটা ভুল করে ফেলব আমি, আর চ্যাম্পিয়ন হওয়া হবে না। আমার ভুলের জন্য যদি এতদিনের কষ্ট বৃথা যায়, সেটা খুবই লজ্জ্বার ব্যাপার হবে। আর প্রতিশ্রুত সেই সাজার খাঁড়া তো মাথার উপরে ঝুলছেই।

যাহোক, কোন অঘটন ছাড়াই আমাদের নবীশি কুচকাওয়াজ শেষ হলো। ফলাফল জানানো হবে অডিটরিয়ামে, সকালের নাশতার পর। টেনশনে কিছু খেতে পারি না। অডিটরিয়াম লোকে লোকারণ্য। ক্যাডেট, শিক্ষকবৃন্দ সবাই উপস্থিত। বিধিমত আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রিন্সিপাল সার মঞ্চে উঠলেন। সবাই যেন নিঃস্বাস বন্ধ করে আছে। শুধু আমার হার্টবিট শোনা যায়, হাত ও পায়ের তালু ঘেমে উঠে। সেই চরম মুহুর্তে ঘোষনা হলো- আমরা চ্যম্পিয়ন। আহ কি আনন্দ! কি আনন্দ! কাঁধের উপর থেকে যেন আস্ত পাহাড় নেমে গেল। অন্য হাউসের বন্ধুদের দিকে তাকাই, এবং বেশ একটা ধাক্কা খাই। ওদের অনেকেই কাঁদছে। এটা আমার কাছে এক নতুন অনুভুতি। কারন এতদিন প্রিয় দল জিতলে শুধু উল্লাস করেছি, হারলে বিষন্ন মনে বাড়ি ফিরেছি। কিন্তু ওই কান্নাভরা ছবিটা আকস্মাতই বুকে বেঁধে। আমরা সবাই তো একই রকম কষ্ট করেছি, একটুও কম বেশী না। সামান্য দু একটা ভুলের জন্যই জয় হাতছাড়া হয়ে গেছে। ওই ভুল তো আমিও করতে পারতাম। হর্ষবিষাদ- কথাটা পড়েছিলাম, সম্পূর্ন বিপরীত অনুভূতি দুটো একসঙ্গে যে অনুভব করা যায় তা জীবনে সেই প্রথম বারের মত জানলাম। সুখের বিষয় এই যে, চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার কারনে আমার অন্য হাউসের বন্ধুদের কোন সাজা পেতে হয়নি।

এতগুলো বছর পেরিয়ে আজো যেন মাঝে মাঝে শুনতে পাই সেই বজ্রনির্ঘোষ কমান্ড, আর নাকে ভেসে আসে মেটাল পালিশের গন্ধ।

২,৪৯৬ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “নবীশী কুচকাওয়াজ”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    এই গল্পগুলোর স্থান, কাল আর চরিত্রগুলো বদলায় কিন্তু গল্পগুলো বদলায় না, পুরোনোও হয় না।

    দারুন লাগলো মাহবুব ভাই :hatsoff:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    নভিসেস প্যারেডে মির্জাপুরের নজরুল হাউজের কমান্ডার ছিলাম। পুরো প্যারেড চমৎকার পারফরমেন্সের পর শেষ জলদি চল থেকে থামের কমান্ডটা দিব সেখানে পায়ে গন্ডগোল করে ফেললাম। ফলাফলঃ ১৭টা হাতুড়ি পরপর পড়লো। আর আমরা হয়ে গেলাম দ্বিতীয়। ক্যাডেট কলেজ লাইফের দুঃখ খুব কম। তারমাঝে এই ভুল কমান্ড একটি। 🙁


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  3. সাইদুল (৭৬-৮২)

    আহা অনেক কথা মনে পড়ে গেল, নভিসেস ড্রিলে আমরা ফার্স্ট হয়েছিলাম, কলেজে এবং বিএমএ তে। সুন্দর লেখা মাহবুব


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
  4. টিটো মোস্তাফিজ

    আহা কি দারুণ ছিল দিন গুলো। ১৯৮৩সালে ফিরে গেলাম। আমাদের কাসিম হাউস ব্রোঞ্জপদক জিতছিল 😛
    আপনার লেখায় মেটালপলিসের গন্ধ পেলাম এদ্দিন পর।


    পুরাদস্তুর বাঙ্গাল

    জবাব দিন
  5. কাজী সাদিক (৮৪-৯০)

    শব্দে, গন্ধে, দৃশ্যে, অনুভুতিতে ফিরে গেলাম ১৯৮৪-তে!

    আমাদের প্যারেড হয়েছিল প্যারেন্টস ডে-তে। চার হাউজের মধ্যে তৃতীয় হয়ে হাপুশ কান্না দিয়েছিলাম হাউজকে ডুবানোর লজ্জায়। বড় ভাইদের কাছে কৃতজ্ঞ... এই মোক্ষম অজুহাত পেয়েও পানিশমেন্ট দেয়া দূরের কথা, পচানীও শুনায়নি এক দিনও!

    জবাব দিন
  6. মাহবুব (৭৮-৮৪)

    প্রথমে লেখা শুরু করেছিলাম প্রথম দিনের কথা, কেমনে যেন প্যারেডের বিষয়টাই সামনে চলে আসলো।
    "এই গল্পগুলোর স্থান, কাল আর চরিত্রগুলো বদলায় কিন্তু গল্পগুলো বদলায় না, পুরোনোও হয় না"- আহসান আকাশ,
    একদম সত্যি কথা- গল্পতো একটাই শুধু কথক ভিন্ন। লেখাটা যদের মনে সামান্য হলেও নাড়া দিয়েছে সবাইকে ধন্যবাদ।
    যারা আরো একটু কষ্ট করে মন্তব্য দিয়েছেন (পড়ুন আরো যন্ত্রনা করার আশকারা), তাদের ::salute::

    জবাব দিন
  7. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    মাহবুব, তোমার চেয়ে ১১ বছর আগে আমার ঐ দিন শুরু হয়। আমাদের সময় অবশ্য 'নভিসেস ড্রিল'- এমন গালভরা বুলির বালাই ছিলনা, তবে জিনিসটা একই ছিল প্রায়। যোগদানের ১ মাস পরেই আর বাকীদের সাথে একসাথে প্রিন্সিপ্যাল'স প্যারেডে যোগ দিতে হয়েছিলো। আমাদের একজন সতীর্থ কথায় কথায় বেহুঁশ হয়ে পড়ে যেত, একেবারে পপাত ধরণীতল! পরে জেনেছিলাম, প্রথম দুই একদিনের পড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঘটে থাকলেও পতন পরবর্তী শুশ্রূষা ও আরামের আকর্ষণে সে নিজ অভিনয়গুনে পরের দিকের পতনগুলোকে আয়ত্ত্ব করেছিলো।
    “আমার ব্রেনে টাচ লেগেছে” - এ ধরণের মকরামি আমাদের সময়েও যথেষ্ট ছিল।প্রা
    ব্রাসো পিতল পালিশ আর চেরী ব্লসম বুট পলিশ এর গন্ধটাতো এখনো নাকে লেগে আছে। আর রবিবারের পরিদর্শনের সময় কর্ণেল আনসারীর কমন বুলি - ইয়োর বুটস শুড বি শাইনিং লাইক এ মিরর- এখনো কানে বাজে।
    ভালো লাগলো তোমার এ প্রাঞ্জল লেখাটা পড়ে।

    জবাব দিন
  8. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    একটা স্বীকারোক্তি করতেই হয়, মাহবুব।
    আমার কান্নাটা যতটা ছিল চ্যাম্পিয়ান না হতে পারার দুঃখে, তার চেয়ে বরং অনেক বেশীই ছিল পানিশমেন্ট এড়াতে, সিমপ্যাথি পেতে।
    হেরে যখন গেছিই, কেঁদে কেটে একটা সিমপ্যাথি পাবার চেষ্টা আর কি... 😛 😛 😛
    তাছাড়া তখন তো আমরা জুনিয়ার মোস্ট। সিনিয়ারদের সামনে কান্নায় লজ্জারও কিছু ছিল না, তাই না?


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।