আবোল তাবোল

একজন লেখক রাতে ঘুমাচ্ছেন । তিনি স্বপ্নে দেখছেন তার দেশ খুব সুন্দর হয়ে গেছে । দেশে কোন দুর্নীতি নাই । কোন সংঘাত নাই । বিরোধী দল সরকারী দলের গলায় গলায় খাতির । প্রতিদিন একসাথে চা না খেলে তাদের রাতে ঠিকমত ঘুমই হয়না । প্রতিদিন তারা দুই দলের প্রধান দুজন দেশ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন কীভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় । দেশের অশান্তি বলে কিছু নাই ।  কেউ অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেয়া হচ্ছেনা সে যেই হোকনা কেন । দেশের মানুষ ও দেশকে ভালবাসছে । পরিশ্রম করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছে । এরকম সময়ে তিনি লেখালেখি করতে বসেছেন । কিন্তু তিনি লেখালেখির কিছু খুজে পাচ্ছেননা । অনেক চেষ্টা করেও লেখার কোন টপিক খুজে পাননি । রাগে কলম ছুড়ে মারেন । তখনই তার ঘুম ভাঙ্গে আর সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন দেশে যেন চিরজীবন সমস্যা লেগে থাকে । নাহলে আমি ভাতে ভাতে মরব ।

ভাতে ভাতে মরার কথা মনে পড়তেই একটা গল্পের কথা মনে পড়ে গেল । গল্পটা আমাদের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে । তিনি প্রথম যখন লেখাপড়া করতে শহরে যান তখনকার কথা । তার বাবা তাকে টাকা পাঠাতেন । তো কোন একমাসে টাকা পাঠানো হচ্ছিলনা । তো তিনি চিঠি পাঠাবেন ঠিক করলেন এই লিখে যে , “বাবা টাকা পাঠাও তো পাঠাও , না পাঠাও তো ভাতে ভাতে মরব ”। কিন্তু বাংলা বর্ণমালায় কোন কার আছে এমনটা তার জানা ছিলনা । তাই সেই সময়ে তিনি লিখেছিলেন , “বব টক পঠত পঠ , ন পঠত ভত ভত মর ”। (পাঠক এবং সেই সাথে স্বয়ং বিদ্যাসাগর সাহেবের কাছে মাফ চেয়ে নিচ্ছি যদি এটা সত্য না হয়)

 

এবার আমি আমার মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি । আসলে মূল প্রসঙ্গ বলতে আমার লেখায় আসলে আজ কিছুই নেই । তবে যা বলছিলাম আর কী । আমরা যারা কিছু লেখার চেষ্টা করি থেকে শুরু করে যারা সত্যিকারের লেখক, তারা আসলে এই রাজনীতিবিদদের উপর প্রচুর নির্ভরশীল । কারন আজ যদি তারা কোন অপরাধ না করতেন তাহলে আমরা লেখার মতন কিছুই খুজে পেতামনা । বিশেষ করে ব্লগাররা যারা ব্লগ লিখছেন । গল্প উপন্যাস লেখা অনেক কঠিন । অনেক আবেগ নিয়ে লিখতে হয় । প্রবন্ধের ক্ষেত্রে এত আবেগ না হলেও চলে । শুধু যে সমস্যার উপরে লেখা হচ্ছে তা নিয়ে একটু ভালো ধারনা নিয়ে লিখতে হয় । আর যদি সেটা কাউকে বা কোন বিষয়কে সমালোচনা করে লিখতে হয় তাহলে ব্যপারটা আরো সোজা । মানুষ খুব সহজেই কোন কিছুর মাঝে বা কারো মাঝে ভুল ধরতে পারে । সেটা একটু সাবলীল ভাষায় লিখলেই হল । হয়ে গেল সুন্দর একটি ব্লগ । খুব একটা কঠিন কাজ না আসলে । (প্রিয় পাঠক ব্যপারটা নিতান্তই আমার নিজের চিন্তা থেকে লেখা । তাই কেউ কিছু ভেবে আহত হলে আমি কর্তৃপক্ষ হিসেবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি )

 

যাই হোক একটা সময় ছিল যখন মানুষ প্রবন্ধ (আজ যাকে আমরা ব্লগ হিসেবে চিহ্নিত করি ) পড়ার প্রতি খুব কম ই আগ্রহ দেখাত । আজ তার ব্যতিক্রম । মানুষ এখন প্রবন্ধ পড়ায় বা লেখায় ব্যস্ত  । ফেসবুকে ও ব্লগারদের আজ অন্যরকম সম্মান । তার ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়ে । তিনি পোষ্ট দিলেই তা পাঠের যোগ্য বা অযোগ্য হোক বা যেই বিষয়েই হোক না কেন বাহাবা পাচ্ছেন ।যদি আপনি সেই ব্লগারের ধারনা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করতে যান তাদের ফলোয়ারের রোষাণলে আপনার পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে ।  এবং একদল মানুষ থাকেন যারা ব্লগ পড়েন কিনা আমার সন্দেহ আছে তবে তারা অবশ্যই কমেন্ট করবেন – “add me” । আপনি হয়ত থতমত খেয়ে যাবেন এটা আবার কেমন কমেন্ট ? আসলে সত্যি কথা বলতে গেলে এটা তাদের পেশা এবং নেশা । ফেসবুক যেহেতু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম তারা সে সামাজিক সংযোগ স্থাপনের জন্য তাদের আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । মার্ক জুকারবার্ক সাহেবের উচিত এসকল মানুষকে অতিসত্বর পুরষ্কৃত করা ।

 

যাই হোক দীর্ঘসময় নানা আবল তাবোল লিখলাম । আসলে আমি এখনো আমার লেখার জন্য কোন বিষয় ঠিক করতে পারিনি । যাই হোক আপনাদের একটি ছোট্ট ইতিহাস বলি । ইতিহাস থেকে নেয়া তাই এটাকে গল্প বলবনা । যেই মানুষটাকে আমি অনেক সম্মান করি এবং আমার দেখা ইতিহাসের একজন সেরা বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন – এটা তাকে নিয়ে । তিনি সে সময়ে রয়েল একাডেমির প্রধান ছিলেন । লিবনিজ নামের একজন বিজ্ঞানী ক্যালকুলাস নামের একটা বস্তু বা বিষয় আবিষ্কার করলেন । তখন কোন আবিষ্কারের পেটেন্ট বা পেপার রয়েল একাডেমিতে  সাবমিট করে স্বীকৃত করিয়ে নিতে হত । তো বিজ্ঞানী লিবনিজ তাই করতে গেলেন । কিন্তু নিউটন দেখলেন তিনিও এ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন । কিন্তু কোথাও প্রকাশ করেননি । তো শুরু হয়ে গেল তাদের মধ্যে বিরোধ । শেষমেষ রয়েল একাডেমির পক্ষ থেকে বিষয়টা নিয়ে মিমাংসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় । কমিটি গঠন করা হয় । তবে পদাধিকার বলে সেই কমিটির প্রধান হন স্যার আইজ্যাক নিউটন ।(আমি যা শুনেছি তা থেকে বলেছি । তাই ঘটনা যদি মিথ্যা হয় তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী )

 

যাই হোক ঘটনাটা কেন লিখলাম জানিনা । তবে এহেন ঘটনার সাথে কিন্তু আমরা বর্তমানের একটি বিষয়ের মিল পাচ্ছি । বলুন তো কী ঘটনা ? আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও কিন্তু এমন কাজটাই করেছেন । তিনি সুন্দরভাবে সংবিধানের এক সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তুলে দিলেন । বললেন সর্বদলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে । আমরা কেন অগন্তান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় বসতে দেব?  তো সর্বদলীয় সে সরকারের প্রধানটা কে হবে ? পদাধিকার বলে তাকেই হতে হবে । এমন বড় কাজ আর কারো হাতে দেবার সাহস তিনি পাচ্ছেননা । সমালোচকরা বড্ড খারাপ । আরেকটু ভালভাবে বলতে গেলে এত্তোগুলা পচা । নাহলে কেন এ বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে । তারা বলে তিনি গণতন্ত্র ধ্বংস করছেন । কোথায় ? তিনি কী গনতান্ত্রিক উপায়ে দেশে ক্ষমতায় আসেননি । তাকে তো জনগনই ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে । এখন তিনি যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটা গনতান্ত্রিক হতেই হবে । তাছাড়া তিনি ভেবে দেখেছেন এ দেশ গরীব । নির্বাচন করে এদেশের টাকা খরচ করানোর কোন মানেই হয়না । তাই তিনি এমনভাবে ব্যবস্থা করেছেন যাতে নির্বাচন না হলেও চলবে । তারই ফসল আজকের ১৫৪ আসনে বিনা নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচিত । গিনেস বুকে বাংলাদেশের বৃহত্তম পতাকার রেকর্ডের সাথে এ রেকর্ডটিকেও স্থান দেয়া যেতে পারে।

 

প্রিয় পাঠক আপনারা ভুলেও ভাববেননা আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খোটা দিচ্ছি । অসম্ভব । তাকে খোটা দেয়া যায় ? প্রথমত,এসকল খোটা তার গায়ে লাগেনা । তার মানসিক defense system বেশ ভাল । দ্বিতীয়ত ,তিনি দেশের ভালো ভাবছেন – কেন তাকে খোটা দেব ? আমার লেখার ধরন দেখে মনে হতে পারে আমি বিরোধীদলকে অপরাধী বলব । মোটেও না । এখন বলতে পারেন তারা কেন মানুষ মারছে ? মানুষ কী দোষ করেছে ? এখন আপনারাই বলেন মানুষ কী দোষ করে নাই ? বর্তমান সরকারকে কারা ক্ষমতায় এনেছে ? দেশের মানুষ । এই সাধারন মানুষই তো তাদের বিরোধীদল বানিয়েছে । আজ তো প্রধানমন্ত্রীর জায়গায় বিরোধীদলীয় নেত্রীর বসার কথা যদি মানুষ তাকে ভোট দিত । তখন কী তারা এভাবে কাউকে পুড়িয়ে মারতেন ? খুব সুন্দর একটা শ্লোগান নিয়ে তারা ভোট দিয়েছিল – “আমার ভোট আমি দেব , যাকে খুশি তাকে দেব”। এখন দাও ভোট । ১৫৪টা আসনের ফল এখনই বের হয়ে গেছে । আর ভোট দেয়ার সাধ আছে ?

 

আমি দেখি পুরা রাজনীতিবিদদের পক্ষে লেখা শুরু করলাম । আসলে ভেবে দেখলাম দেশের সব লেখকই তাদের পক্ষে কথা বলতে নারাজ । বেচারাও তো মানুষ , তাইনা ? তাদের পাশেও তো কারো থাকা উচিত । আর তাছাড়া তারা যাই করেন আমাদের কথা চিন্তা করে বা আমাদেরকে নিয়েই করেন । যদি চুরিও করেন আমাদের টাকাই তো চুরি করেন । আবার মানুষ মারতে হলে আমাদেরকেই মারেন । কিছু পোড়াতে হলে আমাদের জিনিসপত্রই তো পোড়ান । ভোট চাওয়ার সময় অন্য কোন দেশে গিয়ে ভোট চাননা । আমাদের কাছেই আসেন । যাদের সবকিছু আমাদের নিয়ে আমরা কীভাবে তাদেরকে এভাবে দূরে ঠেলে দেই ? আমরা জাতি হিসেবে খুব একটা সুবিধার না মনে হয় ।

 

অনেক সময় বকবক করলাম । আশা করি প্রিয় পাঠক , আপনারা যথেষ্ট বিরক্ত হয়েছেন । আসলে কী করব বলেন । কাজ করার কিছু পাচ্ছিনা । বাধ্য হয়ে হালকা পড়াশোনা করার ও চেষ্টা চালিয়েছিলাম । আমার পড়াশোনা বিদ্বেষী মন ব্যপারটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেননি । তাই আপনাদের বিরক্ত করার সিদ্ধান্ত নিলাম । আপনারা আমাকে নিজ গুনে ক্ষমা করবেন । যাই হোক একটা ছোট্ট কৌতুক বলে বিদায় নেই । আপনারা নিশ্চয়ই নাপিতের এই কৌতুকটা শুনেছেন । তার একটু এডিটেড ভার্সন ।  ছোট করে বলি ।

নাপিতের দোকানে যেই আসত নাপিত তার নামে একটা অভিযোগ গঠনের চেষ্টা করতেন । যেমন পুলিশ গেলে বলত আপনি ঘুষ খান , রাজনীতিবিদ গেলেই বলে উঠত আপনি দূর্নীতি করেন । তো তাকে এর কারন জিজ্ঞের করলেই তিনি বলতেন এতে সেই লোকগুলোর চুল খাড়া হয়ে যায় । চুল কাটতে সুবিধা হয় । সেটা অনেক আগের কাহিনী । তো তার ছেলেও বড় হয়ে নাপিত হল । বাবার এই বিদ্যাটা তার মাঝে transfer হয়েছে । তো একদিন সেই ছেলের কাছে এক রাজনীতিবিদ চুল কাটাতে এলেন । তো ছেলেও বাবার মত রাজনীতিবিদকে বলে উঠল , স্যার আপনে নাকি ঘুষ খান ? রাজনীতিবিদ বললেন , তাই নাকি ? ভালো । তো ছেলেটি আবিষ্কার করল তার চুল খাড়ায়নি । সে একটু অবাক । তো জিজ্ঞেস করে বসল , স্যার আমি আপনাকে এটা বললাম আপনার চুল খাড়াল না কেন ? রাজনীতিবিদ বললেন , আরে গাধা , ওসব তো আমাকে প্রতিদিন সবাই বলে  । এসব নিয়ে চুল খাড়া করলে রাজনীতিবিদ হয়েছি কিসের জন্যে ?

 

আপনাদেরকে ধন্যবাদ আমার এই পাঠের অযোগ্য কিছু লেখা পড়ার জন্য । সেই সাথে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল ।

৫৯৫ বার দেখা হয়েছে

১টি মন্তব্য “আবোল তাবোল”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।