গল্প হলেও হতে পারে

আজ থেকে সাত বছর আগে আমার এই গল্পটা লিখেছিলাম,তারপর কলেজের বার্ষিকীতে ছাপান হয়,আমি যখন সামু তে প্রথম ব্লগ খুলেছিলাম তখন প্রথম এই লেখাটিই দিয়েছিলাম,আবার আমি এই লেখাটি তুলে দিচ্ছি কারন আমার খুবই  খুবই ভাল লাগার গল্প এটি………..

এ গল্প “ আমার” আর “তার”। সে ছিল একান্তই আমার।“তাকে” সবসময় রেখেছি অন্তরে সযন্তে । প্রকাশ করি নি কখনো শঙ্কায়। বাইরের বিষাক্ত পরিবেশে “তার” কিছু হলে যে আমি শেষ হযে যাবো। কিন্তু আজ আমি বলব তার কথা। হায়! কেন সে ফিরে আসে বার বার আমার জীবনে? সে ছিল আমার সহপাঠি, আমার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা। জানতাম না এটাই ভালোবাসা কিনা: তবুও বোধহয় তাকেই ভালোবেসেছিলাম। হাঠাৎ করেই ভালোবেসেছি বোধ হয় ঠিক ছিল না তবুও, তবুও তাকে ভালো লাগত। অকারণ ভালো লাগা তখন আমার সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে বটবৃক্ষের ঝুড়ির মত ছড়িয়ে পড়েছে । অনেক দিন পর বুঝেছিলাম এই হল প্রথম দেখায় প্রেম। বাবার বিচিত্র জীবিকা হেতু ভ্রাম্যমান আমরা ঠাঁই গেড়েছিলাম তার নগরে। সময়ের বিশ্বাসঘাতকতায় সেরা কলেজে ভর্তি না হতে পেরে করেছিলাম আফসোস অথচ তার বিনিময়ে পেলাম একটা পুরো জীবন। এ শুধু তারই জন্য।

নার্গিস ম্যাডামের প্রথম ক্লাসের রোলকলে জানলাম তার নাম বহ্নি। হ্যাঁ তার নাম বহ্নি। আমার জীবনের সমগ্র অস্তিত্বের সাথে জুড়ে থাকা “বহ্নি” । তারপর প্রতিদিন নার্গিস ম্যাডোমের রোলকালের সময় অপেক্ষায় থাকতাম আমার স্বপ্ন বালিকার চপল গলার “ইয়েস ম্যডাম” শোনার জন্য বরাবর প্রথম সারিতে বসা এই আমি চির স্থায়ীভাবে শেষ সারিতে বসতে লাগলাম । রোলকলে তার উদ্ধত হাত একটি বার দেখবো বলে এই আমি শুধু চেয়ে থাকতাম । কি দারুণ দেখাতো সুন্দর সেই হাত, স্বচ্ছ নখগুলোতে মেহেদীর রং, মসৃন কব্জির কাছে রুপালী ব্রেস্লেট। উদ্ধত হাতে মোহবিষ্ট্ আমি আমায় ভুলে যেতাম। নার্গিস ম্যাডামের ধমক আমাকে ফিরিয়ে আনতো বাস্তবে। ম্যাডামের বকা দিয়ে ক্লাস শুরু ছিল নিয়মিত ঘটনা। কেন জানি না একদিন ম্যাডামের চড় খেলাম, মনে পড়ে না আর কোনদিন চড় খেয়েছি কিনা শিক্ষকের কাছ্ থেকে। অবাক নয়নে তাকাই, দেখি সবাই আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে আছে। চোখ খুঁেজছিলো একজনকেই, পেলামও তাকে , তার মিষ্টি মাখানো হাসি মুখ আমার অস্তিত্ব ছাপিয়ে উঠেছে। তার হাসিটা একবার ও বিদ্রুপের মনে হয় নি। তবুও কেন যে কান্নায় চোখ ভিজে উঠেছিলো সেদিন আমার । অশ্র“ ভেজা চোখে তবুও তাকিয়ে রই তার দিকে । মনে হয় কত জোনাক তাকে ঘিরে এই আমার করে চায়। হায়! এত কেন ভাল লাগে তারে?

ক্লাসে মনোযোগী আমি তাকিয়ে থাকতাম তার দিকে। সমগ্র মনোযোগ ছিল তাকে ঘিরে । স্যারের বিদ্রুপাত্মক ধমকে ঘোর কাটতো , সবার চাপা বিদ্রুপের হাসিতে আগুন জ্বলে যেত মাথায় , অথচ তার নিলর্জ্জ অপার্থিব সুন্দর হাসি কি ভালোই না লাগতো । হায়! এত কেন ভালো লাগে তারে ! কত কিছু বলতে চাই তাকে পারি না কেন বলতে?……..

দিন যায়। কথা হয়না কিছুই,শুধু তাকিয়ে থাকি , তারে দেখে যাই। বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানে সারাটা সময় অবাক চোখে তাকিয়ে থাকি বহ্নির দিকে। একই রকম শাড়ী , একই রকম সাজ , তবুও এত অসাধারন কেন ও। চুলের খোপায় বেলী ফুলের মালা নিজেকে ধন্য করেছিলো স্বপ্নবালিকার রূপের অংশ হয়ে । বহ্নির উদ্ভাসিত রূপে ভুলে গেলাম ভরামঞ্চে কবিগুরুর কবিতা আবৃত্তি। সমগ্র দর্শকের তিরষ্কার নিয়ে নেমে আসি মুগ্ধ চোখে বহ্নিকে দেখতে দেখতে । মনে হয় কত জোনাক তারে ঘিরে আলো ছাড়ায়! এই আমার করে চায়। দিন কাটতে থাকে কিন্তু বহ্নিকে বলা হয় না কিছুই। শুধু চেয়ে রই, স্যার ম্যাডামের ধমক খাই আর সহপাঠীদের বিদ্রুপ সহ্য করে যাই । একদিন জানলাম বাবা চলে যাবেন, আমাদেরকেও,যেতে হবে । এখানকার সাথে এই বিচ্ছেদের খবর জানাই না কাউকে। শেষ দিনের মত কলেজে যাই। উদভ্রান্তের মত খুঁজে ফিরি বহ্নিকে । কোন দিন যার সামনে যাই নি , নিরুপায় আজ আমি তাকে ডেকে নিয়ে আসি হতবাক বান্ধবীদের মাঝ থেকে। এই হাস্যময়ী মিষ্টি চেহারার মেয়েটি জানে না, কখনোই জানবে না আমি তাকে কতটুকু ভালোবাসি! আমার সত্তায় কতখানি সে ! মুখে বলিনি কিছুই হৃদয়ের কথা কি পৌছায় না তবুও? সামনে দাড়িয়ে কথা বলব কি চিরদিনের মত ওকে হারানোর শঙ্কায় আমি কেঁদে ফেলি , এতও জল আমার দুচোখে ছিল! আমার কান্নায় হতভম্ব বহ্নি দৌড়ে পালায়। হায় বহ্নি! পারলাম না তোমায় বলতে যা বলতে চাই। আমি যে সাতদিনের মধ্যে চলে যাব, আর কোন দিন দেখা হবে না। কত কথা বলার ছিল বলা হয় না কিছুই। চলে আসার আগের দিন বর্ষন সিক্ত দুপুরে আবার তাকে দেখলাম । টুপটুপ বৃষ্টি আর মেঘ গর্জনের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া দীর্ঘ চুলে অসহায়, ক্লান্ত বহ্নি। আমার কষ্ট হয় ! জলের ছিটায় তার ভেজা øিগ্ধ মুখখানির দিকে অবাক তাকিয়ে রই। আমাকে দেয়া তার মিষ্টি হাসিতে হারিয়ে ফেলি নিজেকে, ফিরে আসি আাবার বহ্নিহীন বাস্তবতায় । সে চলে গেছে কিছুই না বলে। বলা হলো না আমার কোন কথাও। শুধু সামনা সামনি দাঁড়িয়ে থাকা কিছু সময়। ওই শেষ বার ওকে দেখি, তারপর চলে আসি আমরা চিরদিনের মত।

বেলায় বেলায় সময় কেটে যায়। তার কথা ভুলতে পারি না , ভুলতে চাই ও না । অব্যক্ত ভালবাসা , তার অসম্ভব সুন্দর মায়াবী মুখ নিয়েই আমার বেঁচে থাকা । হায় বহ্নি! “ভালোবাসি” বলাটা যে কতটা সুখের তা বুঝেছি তোমাকে না বলতে পারার কষ্ট থেকে। অসংখ্য জোনাক ঘেরা স্মৃতি আজও তোমাকে ঘিরে রাখে ,এই আমার করে চায়! এক সময় জোনাকীর আলো নিভে যায়, আমি বলে যাই, “ভালোবাসি , ভালোবাসি, বহ্নি! তোমাকে ভালোবাসি।”
শুনছ কি তুমি বহ্নি? আশায় রই আমি।াজাজ

এ গল্প “ আমার” আর “তার”। সে ছিল একান্তই আমার।“তাকে” সবসময় রেখেছি অন্তরে সযন্তে । প্রকাশ করি নি কখনো শঙ্কায়। বাইরের বিষাক্ত পরিবেশে “তার” কিছু হলে যে আমি শেষ হযে যাবো। কিন্তু আজ আমি বলব তার কথা। হায়! কেন সে ফিরে আসে বার বার আমার জীবনে? সে ছিল আমার সহপাঠি, আমার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা। জানতাম না এটাই ভালোবাসা কিনা: তবুও বোধহয় তাকেই ভালোবেসেছিলাম। হাঠাৎ করেই ভালোবেসেছি বোধ হয় ঠিক ছিল না তবুও, তবুও তাকে ভালো লাগত। অকারণ ভালো লাগা তখন আমার সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে বটবৃক্ষের ঝুড়ির মত ছড়িয়ে পড়েছে । অনেক দিন পর বুঝেছিলাম এই হল প্রথম দেখায় প্রেম। বাবার বিচিত্র জীবিকা হেতু ভ্রাম্যমান আমরা ঠাঁই গেড়েছিলাম তার নগরে। সময়ের বিশ্বাসঘাতকতায় সেরা কলেজে ভর্তি না হতে পেরে করেছিলাম আফসোস অথচ তার বিনিময়ে পেলাম একটা পুরো জীবন। এ শুধু তারই জন্য।

নার্গিস ম্যাডামের প্রথম ক্লাসের রোলকলে জানলাম তার নাম বহ্নি। হ্যাঁ তার নাম বহ্নি। আমার জীবনের সমগ্র অস্তিত্বের সাথে জুড়ে থাকা “বহ্নি” । তারপর প্রতিদিন নার্গিস ম্যাডোমের রোলকালের সময় অপেক্ষায় থাকতাম আমার স্বপ্ন বালিকার চপল গলার “ইয়েস ম্যডাম” শোনার জন্য বরাবর প্রথম সারিতে বসা এই আমি চির স্থায়ীভাবে শেষ সারিতে বসতে লাগলাম । রোলকলে তার উদ্ধত হাত একটি বার দেখবো বলে এই আমি শুধু চেয়ে থাকতাম । কি দারুণ দেখাতো সুন্দর সেই হাত, স্বচ্ছ নখগুলোতে মেহেদীর রং, মসৃন কব্জির কাছে রুপালী ব্রেস্লেট। উদ্ধত হাতে মোহবিষ্ট্ আমি আমায় ভুলে যেতাম। নার্গিস ম্যাডামের ধমক আমাকে ফিরিয়ে আনতো বাস্তবে। ম্যাডামের বকা দিয়ে ক্লাস শুরু ছিল নিয়মিত ঘটনা। কেন জানি না একদিন ম্যাডামের চড় খেলাম, মনে পড়ে না আর কোনদিন চড় খেয়েছি কিনা শিক্ষকের কাছ্ থেকে। অবাক নয়নে তাকাই, দেখি সবাই আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে আছে। চোখ খুঁেজছিলো একজনকেই, পেলামও তাকে , তার মিষ্টি মাখানো হাসি মুখ আমার অস্তিত্ব ছাপিয়ে উঠেছে। তার হাসিটা একবার ও বিদ্রুপের মনে হয় নি। তবুও কেন যে কান্নায় চোখ ভিজে উঠেছিলো সেদিন আমার । অশ্র“ ভেজা চোখে তবুও তাকিয়ে রই তার দিকে । মনে হয় কত জোনাক তাকে ঘিরে এই আমার করে চায়। হায়! এত কেন ভাল লাগে তারে?

ক্লাসে মনোযোগী আমি তাকিয়ে থাকতাম তার দিকে। সমগ্র মনোযোগ ছিল তাকে ঘিরে । স্যারের বিদ্রুপাত্মক ধমকে ঘোর কাটতো , সবার চাপা বিদ্রুপের হাসিতে আগুন জ্বলে যেত মাথায় , অথচ তার নিলর্জ্জ অপার্থিব সুন্দর হাসি কি ভালোই না লাগতো । হায়! এত কেন ভালো লাগে তারে ! কত কিছু বলতে চাই তাকে পারি না কেন বলতে?……..

দিন যায়। কথা হয়না কিছুই,শুধু তাকিয়ে থাকি , তারে দেখে যাই। বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানে সারাটা সময় অবাক চোখে তাকিয়ে থাকি বহ্নির দিকে। একই রকম শাড়ী , একই রকম সাজ , তবুও এত অসাধারন কেন ও। চুলের খোপায় বেলী ফুলের মালা নিজেকে ধন্য করেছিলো স্বপ্নবালিকার রূপের অংশ হয়ে । বহ্নির উদ্ভাসিত রূপে ভুলে গেলাম ভরামঞ্চে কবিগুরুর কবিতা আবৃত্তি। সমগ্র দর্শকের তিরষ্কার নিয়ে নেমে আসি মুগ্ধ চোখে বহ্নিকে দেখতে দেখতে । মনে হয় কত জোনাক তারে ঘিরে আলো ছাড়ায়! এই আমার করে চায়। দিন কাটতে থাকে কিন্তু বহ্নিকে বলা হয় না কিছুই। শুধু চেয়ে রই, স্যার ম্যাডামের ধমক খাই আর সহপাঠীদের বিদ্রুপ সহ্য করে যাই । একদিন জানলাম বাবা চলে যাবেন, আমাদেরকেও,যেতে হবে । এখানকার সাথে এই বিচ্ছেদের খবর জানাই না কাউকে। শেষ দিনের মত কলেজে যাই। উদভ্রান্তের মত খুঁজে ফিরি বহ্নিকে । কোন দিন যার সামনে যাই নি , নিরুপায় আজ আমি তাকে ডেকে নিয়ে আসি হতবাক বান্ধবীদের মাঝ থেকে। এই হাস্যময়ী মিষ্টি চেহারার মেয়েটি জানে না, কখনোই জানবে না আমি তাকে কতটুকু ভালোবাসি! আমার সত্তায় কতখানি সে ! মুখে বলিনি কিছুই হৃদয়ের কথা কি পৌছায় না তবুও? সামনে দাড়িয়ে কথা বলব কি চিরদিনের মত ওকে হারানোর শঙ্কায় আমি কেঁদে ফেলি , এতও জল আমার দুচোখে ছিল! আমার কান্নায় হতভম্ব বহ্নি দৌড়ে পালায়। হায় বহ্নি! পারলাম না তোমায় বলতে যা বলতে চাই। আমি যে সাতদিনের মধ্যে চলে যাব, আর কোন দিন দেখা হবে না। কত কথা বলার ছিল বলা হয় না কিছুই। চলে আসার আগের দিন বর্ষন সিক্ত দুপুরে আবার তাকে দেখলাম । টুপটুপ বৃষ্টি আর মেঘ গর্জনের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া দীর্ঘ চুলে অসহায়, ক্লান্ত বহ্নি। আমার কষ্ট হয় ! জলের ছিটায় তার ভেজা øিগ্ধ মুখখানির দিকে অবাক তাকিয়ে রই। আমাকে দেয়া তার মিষ্টি হাসিতে হারিয়ে ফেলি নিজেকে, ফিরে আসি আাবার বহ্নিহীন বাস্তবতায় । সে চলে গেছে কিছুই না বলে। বলা হলো না আমার কোন কথাও। শুধু সামনা সামনি দাঁড়িয়ে থাকা কিছু সময়। ওই শেষ বার ওকে দেখি, তারপর চলে আসি আমরা চিরদিনের মত।

বেলায় বেলায় সময় কেটে যায়। তার কথা ভুলতে পারি না , ভুলতে চাই ও না । অব্যক্ত ভালবাসা , তার অসম্ভব সুন্দর মায়াবী মুখ নিয়েই আমার বেঁচে থাকা । হায় বহ্নি! “ভালোবাসি” বলাটা যে কতটা সুখের তা বুঝেছি তোমাকে না বলতে পারার কষ্ট থেকে। অসংখ্য জোনাক ঘেরা স্মৃতি আজও তোমাকে ঘিরে রাখে ,এই আমার করে চায়! এক সময় জোনাকীর আলো নিভে যায়, আমি বলে যাই, “ভালোবাসি , ভালোবাসি, বহ্নি! তোমাকে ভালোবাসি।”
শুনছ কি তুমি বহ্নি? আশায় রই আমি।

৭০৮ বার দেখা হয়েছে

২ টি মন্তব্য : “গল্প হলেও হতে পারে”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।