পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পুস্তক সমালোচনাঃ “তিনটি সেনা অভ্যুথান ও কিছু না বলা কথা” -১ম ভাগ

আমার লেখা এলোমেলো হবে বলে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এটি আসলে উপরের উল্লেখিত বইটি পড়ার পর আমার অনুভূতি এবং লেখক ও লেখার কিঞ্চিৎ বিশ্লেষণ। বইটির নাম ও বিষয়বস্তু যথেষ্ট বিতর্কিত। বিতর্কিত এই অর্থে যে, এই বিষয়টি খুবই সফিস্টিকেটেড। স্পর্শকাতর বিষয় এই জন্য যে এটি সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্কিত। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে পারতপক্ষে কেউ কথা বলতে চায় না। সে সার্ভিসে থাকুক বা নাই থাকুক। আমি শুধুমাত্র জানার জন্যই এই বইটি পড়ি। সময়-সুযোগ পাওয়া যাচ্ছিলো না। করোনা কালে আমাকে সেই সুযোগ করে দেয়। এক রাতেই বইটি পড়ে ফেলি। লেখাগুলো আমার একান্ত অনুভূতি। পাঠক মাত্রই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আমি মনে করি ইতিহাস জানাটা জরুরী। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়কি দেয় না সেটা তর্কের বিষয়। এটিও এক ধরণের জ্ঞান, আপনি চর্চা করতে পারেন, ঋদ্ধ হতে পারেন নতুবা শেল্ফে বই হিসেবে সাজিয়ে রাখতে পারেন। বইয়ের আলোচনার বাইরেও আমি প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় তুলে ধরবো।

প্রথমেই লেখক সম্পর্কে কিছু কথা বলি। লেখক প্রয়াত লেঃ কর্নেল (অবঃ) মোঃ আব্দুল হামিদ পিএসসি। উনার অনেক পরিচয় আছে। উনি বাংলাদেশের বিখ্যাত মহিলা দাবাড়ু রানী হামিদের স্বামী ও সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদের পিতা। লেখক বইটিতে যে তিনটি সেনা বিদ্রোহের কথা তুলে ধরেছেন সেগুলো হলো- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মে বিদ্রোহ। আর বেশ কয়েকটা বিদ্রোহের কথা বইয়ে উল্লেখ আছেঃ রংপুর বিদ্রোহ, ১৯৭৭ বিমান বাহিনী বিদ্রোহ, টুকটাক ছোট আকারে। ওগুলো ধর্তব্যের মধ্যে নয়। ১৯৮১ সালের বিদ্রোহের সময় উনি কর্মরত ছিলেননা, ততদিনে রিটায়ার করে গিয়েছেন। বইটিতে ঠিক জায়গায় উনি (লেখক) উনার সেচ্ছায় অবসর নেয়ার কথা বলেছেন। আমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭৫ সাল নিয়ে বেশ কয়েকটি বই পড়েছি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের প্রকৃত ঘটনা নিয়ে এই বইটি অবশ্যই ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম এই কারণে যে আমি কম করে ৭-৮ টা বই পড়েছি। প্রয়াত মেজর জেনারেল (অবঃ) মইনুল হোসেন চৌধুরীর বই (যিনি সর্ব কনিষ্ঠ মেজর জেনারেল,৩৭ বছর বয়সে), ইদানীংকালের প্রথম আলো ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমেদ জাসদ, বিএনপি সম্পর্কিত বই অন্যতম (সব নাম মনে করতে পারছি না)। সবগুলো থেকে এই বইটি পৃথক এই কারণে যে লেখক মোটামুটি নির্মোহভাবে ঘটনা বর্ণনা করেছেন। স্থান, কাল, পাত্র আর ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তবে আমার (পাঠকের) চোখেও লেখকের সীমাবদ্ধতা ধরা পড়েছে। সেটিও যথাসময়ে আলোচনা করবো।

এই বই পড়ে অনেকদিনের শোনাকথা যা রেডিও-টেলিভিশনে বিভিন্ন দিবসে ঘটা করে প্রচার করা হয়, তা মিথ্যা মনে হবে। অনেকেই গম্ভীর স্বরে টিভিতে আলোচনা করেন, তাদের সে সময়ের কার্যক্রম আর অবস্থানও বেরিয়ে আসবে।

লেখক বইয়ের শুরুতে উনি কাদের সাথের কথা বলেছেন, সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তা উল্লেখ করেছেন। তালিকায় অনেকেই থাকলেও খন্দকার মুশতাক আর কর্নেল শাফায়াত জামিলের নাম নেই। উনাদের বক্তব্য থাকলে উনাদের মানসিকতা, অবস্থান পরিস্কার হত। তবে অন্যান্যদের কথায় উনাদের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আর জেনারেল মোশাররফ, জেনারেল জিয়া, জেনারেল মঞ্জুর তো ঘটনাক্রমে সাক্ষাৎকার নেয়ার ঊর্ধ্বে চলে গেছেন।

প্রথমেই উনি ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন। মেজর (অবঃ) ডালিমের সেই বিখ্যাত ঘটনাটি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
সেই ঘটনার অদ্ভুত বিচার। ঘটনাক্রমে সেখানে মেজর নূরের জড়িয়ে পড়া এবং বাটে পড়ে বরখাস্ত হওয়া। বইটি পড়ার আগে যে বিষয়টি পাঠকের মাথায় রাখতে হবে সেটি হলো সে সময়ের চরিত্ররা প্রায় সবাই বীর মুক্তিযোদ্ধা। সবাই ত্যাগ শিকার করেছেন দেশের জন্য। এদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সেক্টর অধিনায়ক হওয়ার পরও সশরীরে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেন। কেউ কেউ শারীরিক ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। যেমন মরহুম মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। তিনি সম্মুখ সমরে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হন (গুলি না শেলের আঘাত মনে করতে পারছি না), পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য উনাকে ভারত থেকে জার্মানিতে (পূর্ব/পশ্চিম) পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে উনি দেশে ফিরে আসেন। আরেকজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছেন মরহুম কর্নেল (অবঃ) আবু তাহের। কামানের শেলের আঘাতে উনার বাম পা সম্পূর্ণ উড়ে যায়। সেক্টর কমান্ডাররা প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও পারতেন। তাদের কাজ যুদ্ধ পরিচালনা করা। তাদের জীবন ছিল দামি। কারণ তাদের অনুপস্থিতিতে যুদ্ধ পরিচালনা করা অনেকাংশে সম্ভব হতনা। বইয়ে সেনাবাহিনী কর্মকর্তা-আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে রেষারেষি-অবিশ্বাস এগুলো এসেছে। সেসময় সেনাবাহিনীকে চোরাচালান, মজুতদারি এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানের কথা এসেছে। এগুলোতে আওয়ামী নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকা ও তাদের শাস্তি দেয়ার বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর নিরবতা অবলম্বন বিরাট প্রশ্নের জন্ম দেয়। এছাড়াও আছে রক্ষীবাহিনী। অনেকে আদর করে এদের ডাকতো লক্ষ্মীবাহিনী। বইয়ের আলোচনায় জাসদ অনুপস্থিত। স্বাভাবিক। কারণ বইটিতে শুধু উত্তরপাড়ার (ক্যান্টনমেন্ট) ভিতরের পরিস্থিতি বেশি আলোচনায় এসেছে। জাসদের সৃষ্টি অনেকটা শেয়াল-বানরের রুটি ভাগাভাগির মত। ১৯৭২ এ সিরাজুল আলম খান- শেখ ফজলুল হক মণি একইদিনে সভা আহবান, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নেকে প্রাধান্য দেয়া ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের জন্ম দেয়। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রহস্যময় ব্যক্তি মরহুম মেজর (অবঃ) জলিল কিভাবে এই জাসদের সাথে জড়িয়ে এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন তা আমি কোথাও পাইনি। কেউ জানালে খুশি হবো। মরহুম জলিল প্রথম রাজবন্দী ও ভারত আগ্রাসনের প্রতিবাদকারী। বইয়ে অনুপস্থিত সর্বহারা দল/ পার্টির কথা। এখানে সিরাজ শিকদার আসেনি। স্বাধীন বাংলাদেশে দুই সিরাজ এসেছে। এক সিরাজ, সিরাজুল আলম খান আর আরেকজন সিরাজুল হক সিকদার ওরফে সিরাজ সিকদার। দুইজনই রহস্যময় চরিত্র। দুইজনই উচ্চশিক্ষিত, আলাভোলা মানুষ নয়। একজন গণিতে গ্রাজুয়েট আরেকজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, আরেকজন বুয়েটে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ)। দুইজনের কাজের ধরণ ছিল আলাদা, সমাজের ভিন্ন স্তরের মানুষদের নিয়ে কাজ করেছেন। একজন মধ্যবিত্ত-শিক্ষিত শ্রেণী, অন্যজন সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ-কৃষক এদের সাথে। কে জনপ্রিয় বেশি ছিল আর কার প্রভাব কতটা ছিল সেটা সে সময়ে যারা জীবিত ছিলেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। এখানে পাঠকদের আরেকটি তথ্য দিতে চাই সেটি হলো বাংলাদেশ সর্বহারা দল কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গঠিত হয়েছে। সে হিসেবে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম দল সর্বহারা পার্টি (১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ঘোষণা)। সর্বহারা দল ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি হলেও তারা তাদের আদর্শের যুদ্ধ শেষ হয়নি বলে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল। কবে নাগাদ তারা তাদের যুদ্ধ শেষ করেছে, তা আমি পাইনি। সিরাজ সিকদারের বোন স্থপতি শামীম শিকদার। এরা (সর্বহারা) পশ্চিম বাংলার চারু মজুমদারের পথ অবলম্বন করেছিল বলে প্রতীয়মান হয়। কবি হুমায়ুন কবির হত্যাকাণ্ড এদের দ্বারাই সংগঠিত হয়। ইনার বিষয়টিও রহস্যময়। বইয়ে কর্নেল জিয়াউদ্দিন আহমেদ (আমার কাছে উনার চরিত্র রহস্যময় মনে হয়েছে) সম্পর্কে তেমন কিছু নেই। ইনিও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭৫ সালে উনি দৈনিক অবজারভারে একটি লেখা লিখেন এবং সেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে চলে যান (ডেজার্টার)। আমি উনার সম্পর্কে বিশেষকিছু জানতে পারিনি। শুনেছি উনি চট্টগ্রামে একটি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল পরিচালনা করেন/ করতেন। পাঠক কারো কাছে উনার তথ্য থাকলে জানালে খুশি হব।

যা হোক মূল আলোচনায় আসি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনা অভ্যুত্থান প্রথম ঘটনা। মূল নায়ক ল্যান্সার ইউনিটের মেজর সৈয়দ ফারুকুর রহমান আর তার ভায়রা ভাই আর্টিলারি ইউনিটের মেজর খন্দকার আব্দুর রশিদ। বইয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে। যাউজ্ঞা, যেটা আমার বেশি আশ্চর্য লাগছে সেগুলো হলোঃ
১। ১৯৭৩ সালেই মেজর রশিদকে ভারতে ট্রেনিং শেষে যশোরে না পাঠিয়ে ঢাকায় রাখা। এটা বইয়ের বর্ণনায় মেজর ফারুকের বক্তব্য। আর উনার সহায়তাকারী হচ্ছেন তৎকালীন বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, উনার আত্মীয়!!!
২। আরেকটা বিষয় হচ্ছে ট্যাঙ্কের বহর মূল সড়ক না ব্যবহার করে ৪৬ বিগ্রেডের সামনের সরু রাস্তা দিয়ে ট্যাঙ্ক মুভ করা। ৪৬ বিগ্রেডের কমান্ডে ছিলেন কর্নেল শওকত জামিল। ১৯৭৫ নভেম্বরের পর এই বীর মুক্তিযোদ্ধা একপ্রকার নিভৃতে চলে যান। তার ভুমিকা সেই সময়ে প্রশ্নবোধক, সন্দেহজনক।
৩। অপারেশন করলো, কিন্তু মূল অপারেশনে ফারুক-রশিদ কেউ ছিল না! আশ্চর্য লাগে না! আমার মনে হয়েছে তারাও তাদের অভিযান নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত ছিল না, তাই তারা মূল অভিযানে থাকেনি। অভিযান ব্যর্থ হলে যাতে তারা পালিয়ে যেতে পারে সে জন্যে দূরে দূরে থাকা।
৪। ফারুক মূল পরিকল্পনাকারী আর রশিদ ঘটনা ঘটার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আঞ্জামকারী। বইয়ের ভাষায় বিগ্রেডিয়ার মোশাররফ, কর্নেল জামিল বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত কাছের লোক ছিল। আর ঘটনার পর মেজর রশিদ গিয়ে প্রথমে কর্নেল জামিলকে রিপোর্ট করলো! ডালমে কুছ কালা হ্যায়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা আমার মনে হয় সেনাবাহিনীর কারো অজানা ছিল না। হয়তো কখন অপারেশন হবে সেটি সম্পর্কে জানতো না, কিন্তু কিছু যে হবে তা সবাই আঁচ করতে পেরেছিল। ৪৬ বিগ্রেডের সামনে দিয়ে ট্যাঙ্ক মুভ করার মানে আমার কাছে মনে হয়েছে “আমাদের কাজ করতে আমরা যাচ্ছি, তোমরা তোমাদেরটা অংশটুকু কর”। ৪৬ বিগ্রেডের আওতায় ছিল ৪০০০ সৈনিক। রাত ৪ঃ০০ টায় অপারেশন শুরু আর বিকাল ৪ঃ০০ টায় রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণে কার্যক্রম শেষ। অভিযান শেষে ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে ফারুক-রশিদদের যে সাদরে গ্রহণ করা হয়, তাতে তাদের সেই সময়ের মানসিকতা বোঝা যায়। ক্যান্টনমেন্টের বাইরেও মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেছিল বলে জানা যায়। কি এমন হল যে ১৯৭০ এ ম্যান্ডেট পাওয়া আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পর ৩ বছরের মাথায় ১৯৭৫ এ অপাংক্তেয় হয়ে গেল?

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে খবর পাওয়া গিয়েছিলো যে কিছু ঘটতে যাচ্ছে। গোয়েন্দা বাহিনী ব্যর্থ হয়নি। আর্মি গোয়েন্দা ইউনিট, ডিজিএফআই ঠিক পাকা খবর পেয়েছিল। সময়মত উপরের মহলে জানিয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিল বিশ্বাস, বিশ্বস্ততা। সবাই ভাবলেশহীন ভাবে ঘটনা ঘটার অপেক্ষা করছিল। আসলে এই ঘটনা কি ঘটা অবশ্যম্ভাবী ছিল? হয়তো। কারণ সকলের নিরব ভুমিকা সেই দিকেই ইঙ্গিত করে। রাত ২ঃ০০ টায় ঘটনা জানা গেছে, ডিজিএফআই প্রধান ব্রিগেডিয়ার রউফ ঘটনা আরো মারাত্মক হতে পারে চিন্তায় বাড়ি ছেড়ে পরিবার নিয়ে গাছের নিচে আশ্রয় নেয়া সেদিকেই ইঙ্গিত করে। সবাই জানে বা ধারণা করেছে আর সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অবঃ) শফিউল্লাহ যে কিছুই বোঝেননি তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। উনি ফোনে বলে কর্নেল জামিলকে দিয়ে একজন সৈনিকও ক্যান্টনমেন্টের বাইরে বের করতে পারেননি। যাইহোক সেনাবাহিনীকে বিশ্বাসঘাতক তকমা থেকে মুক্তি দিয়েছেন এক সেনা কর্মকর্তা, কর্নেল জামিল উদ্দিন। ওয়ান ম্যান আর্মির মত এই একজনই সেদিন বেরিয়ে ছিলেন, যিনি কিনা পাকিস্তান ফেরত প্রত্যাগত অফিসার! ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ওইদিন উনার ব্রিগেডিয়ার র‍্যাঙ্ক পরার কথা ছিল, সাথে সাথে ডিজিএফআই এর দায়িত্বভার।

(চলবে)

১,৩৮৫ বার দেখা হয়েছে

২ টি মন্তব্য : “পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পুস্তক সমালোচনাঃ “তিনটি সেনা অভ্যুথান ও কিছু না বলা কথা” -১ম ভাগ”

  1. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    আমি খুশী হ'লাম এটা দেখে যে তুমি এসব স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ভাবছো এবং কিছুটা পড়াশোনাও করছো। পড়াশোনা ও চিন্তা ভাবনা আরো চালিয়ে যাও, একসময় সব অজানা রহস্য সম্পর্কে নিজেরই একটা স্পষ্ট ধারণা সৃষ্টি হবে, নিজেই অনেক জটার গিঁট খুলতে পারবে।

    ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট একটা কালা কানুন। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধর আমলে পাকিস্তান সরকারের সকল কালাকানুন বাতিলের জন্য সংগ্রাম করেছে, তাদের সে উজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু সে ঐতিহ্য আজকের নব্য কালাকানুনের কারণে ম্লান হয়ে গেছে। সুতরাং, এখন সব সত্য উচ্চারণের উপায় নেই।

    ঘটমান কিংবা নিকট অতীতের ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব হয় না, যতক্ষণ না সেটা কালের পরীক্ষা পার হয় এবং ঘটনার নায়ক, খলনায়ক এবং সুবিধাভোগীরা গতায়ু হয়।

    "কি এমন হল যে ১৯৭০ এ ম্যান্ডেট পাওয়া আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পর ৩ বছরের মাথায় ১৯৭৫ এ অপাংক্তেয় হয়ে গেল?" - এটা জানার জন্য ১৯৭৩-৭৫ এর ঘটনাবলী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

    জবাব দিন
  2. রেজা (২০০২-২০০৮)

    আহসান ভাই,
    আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনারা যারা সেই সময় দেখেছেন তারা কিছু কিছু লিখে রেখে যান, প্রকাশ নাইবা করলেন। নাহলে বিকৃত ইতিহাস দিয়ে সেই সময় যাচাই করতে হবে। বিষোদগার করা আর বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা এক বস্তু নয় এটা ক্ষমতাবানরা বুঝে না।

    ব্যক্তি বড় না দল বড়, দল বড় না দেশ বড়? এটি একটি জটিল প্রশ্ন। চিন্তাশীলরা চিন্তা করুক।


    বিবেক হচ্ছে অ্যানালগ ঘড়ি, খালি টিক টিক করে।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।