অভিনন্দন টাইগার্স

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ সেরা টি২০ দল। এটা আমার বা অন্য কারো ব্যক্তিগত অভিমত নয়, খোদ আইসিসির অফিসিলায় র‍্যাঙ্কিং তাই বলছে। জানি এটা গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠবে, আমার নিজের কাছেই এই র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা বেশ হাস্যকর লাগছে, যেখানে দুই ম্যাচ আগে আমরা তালিকাতেই ছিলাম না, সেখান থেকে এক লাফে চার নম্বরে! তবে এখন এই র‍্যাঙ্কিং নিয়ে যত কথাই বলা হোক না কেন, একই পদ্ধতি অনুসরন করে অন্যান্য দেশ যখন টেস্ট, ওয়ানডে বা টি২০ এর ১ বা ২ নং দল হলে তাদের মিডিয়া বিষয়টা নিয়ে মাতামাতি শুরু করে (বিশেষ করে ভারত এবং ইংল্যান্ড) তখন এই র‍্যাঙ্কিং সাফল্যে উচ্ছাস প্রকাশের অধিকার আমাদেরও নিশ্চয়ই আছে। সামনে স্কটল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডকে হারালে আমরা আরো এক দু ধাপ এগিয়েও যেতে পারি, কে যানে হয়ত এভাবে এক সময় র‍্যাঙ্কিং এর শীর্ষেও পৌছে যাব, স্বপ্ন দেখতে দোষ কি!

তবে এই র‍্যাঙ্কিং এর প্রায় অবাস্তব অর্জন বাদ দিয়ে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে তাদেরকে ধবল ধোলাই আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সামনে টি২০ বিশ্বকাপের আগে ভাল একটা প্রস্তুতি হলো, যদিও শ্রীলঙ্কায় পুরো ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে হবে। আরো বড় অর্জন হলো এই সাফল্য কোন নির্দিষ্ট এক বা দুজন খেলোয়াড়ের উপর ভর করে আসেনি, প্রতিটি ম্যাচেই ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়েরা ম্যাচ জিতিয়েছে। আর এর হোয়াইট ওয়াশের মাধ্যমে সেই সব বাংলাদেশ বিরোধী ক্রিকেট সমালোচকদের একটা জবাব দেয়া গিয়েছে, যারা বাংলাদেশ একটু খারাপ করলেই আয়ারল্যান্ডকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রেখে চায়, টেস্ট স্ট্যাটাসটাও পারলে দিয়ে দেয় (পাকিদের কাছে অবশ্য এক্ষেত্রে আফগানিস্তানকে পছন্দ)। এই সিরিজটা কোন ভাবে আমরা হেরে গেলে তারা পুরো ঝাপিয়ে পড়তো।

দুঃখ একটাই যে খেলাগুলো দেখতে পারলাম না। ভরসা ছিল মোবাইলে ক্রিকিনফো। আজকে বাংলাদেশের ব্যাটিং এর শুরু থেকে ফলো করতে পারিনি, দেখি ৫০ পার করে ফেলেছে কোন উইকেট না হারিয়ে। ভাবলাম হোয়াইট ওয়াশ মোটামোটি নিশ্চিত, কিন্তু একটু পরেই ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিল। পেজ রিফ্রেশ করলেই দেখি উইকেট একটা নাই, আমি বরাবরই কুফা ধরনের দর্শক। সেটা মেনে নিয়ে কিছুক্ষন স্কোর দেখা বাদ দিলাম, কিন্তু লাভ হলো না, পরের রিফ্রেশে দেখি উইকেট এবার দুটো নাই। সহজ ম্যাচে এভাবে হেরে যাওয়ার চেষ্টা দেখে চরম মেজাজ খারাপ হলো, কুফা টুফা ভুলে বলে বলে রিফ্রেশ দেয়া শুরু করলাম, আর পাগলা মাশরাফিও তখন ঝড় শুরু করলো।

মাশরাফি ব্যাটিং এ নামলেই আমার ২০০১ সালের কথা মনে পড়ে। কলেজে তখন রিইউনিয়ন চলছে, হাউসে চক্কর মারতে এসে দেখি কমন রুমে ছোট খাট একটা ভীড় জমে আছে। বাংলাদেশে তখন অণূর্ধ ১৭ বা ১৯ এর বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ (ঠিক মনে নেই) চলছে, বিটিভিতে দেখাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাটিং এ। দেখলাম কৌশিক নামের এক ছেলের দানবিয় ব্যাটিং, ৬০ এর কাছাকাছি রান করছিল ২২/২৩ বলে। যে পর্যায়ের খেলাই হোক, তখন পর্যন্ত আমাদের কোন খেলোয়ারকে এরকম মারতে দেখিনি। বেশ থ্রিলড হয়েছিলাম ঐদিন। এই কৌশিক ই পরে মাশরাফি মর্তুজা হলো, আজকে অনেকদিন পরে ঐদিনের কৌশিক টাইপ ব্যাটিং করতে দেখলাম।

যাই হোক, শেষ পর্যন্ত মাশরাফির ঐ ব্যাটিং আর আমার রিফ্রেশ, দুইয়ে মিলে বাংলাদেশ হোয়াইট ওয়াশ সম্পূর্ণ করলো, সেই সাথে র‍্যাঙ্কিং এ ৪র্থ অবস্থান।

অভিনন্দন টাইগার্স।

১,৩৯৯ বার দেখা হয়েছে

১০ টি মন্তব্য : “অভিনন্দন টাইগার্স”

  1. রায়েদ (২০০২-২০০৮)

    আমার যতদূর মনে পড়ে ৫৪ রান করেছিল আর ২টা উইকেট ও পেয়েছিল। খেলা দেখিনি। পত্রিকায় পড়েছিলাম। আমি তখন থেকেই মাশরাফির ফ্যান।

    তারপর মাশরাফি জাতীয় দলে আসার পর জিম্বাবুয়ে প্রথম যেই বাংলাদেশ সফরে আসলো ওই সফরে মাশরাফির বোলিং আমার দেখা কোন বাংলাদেশীর শ্রেষ্ঠ এখন পর্যন্ত। ইনজুরি না হইলে যে কি করত আল্লাই জানে।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      ওর মত দূর্ভাগা ক্রিকেটার খুব কমই আছে। এতবার এত সিরিয়াস ইঞ্জুরি থেকে ফিরেছে আর আগের মত টপ লেভেলে পারফর্ম করেছে, ক্রিকেট ইতিহাসে এরকম আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  2. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    গত দুইদিন তো মোবাইলে রিফ্রেশ দিতে দিতে আঙুলের বারোটা বাজছে...... সবচেয়ে ভালো লেগেছে বাংলাদেশ দলের মানসিকতার পরিবর্তন। এখন টাইগাররা শেষ পর্যন্ত খেলে.......

    মাশরাফির ফিরে আসা, আশরাফুলের ধারাবাহিকতা, জিয়া, নাসিরের মারকুটে খেলা, সানির বোলিং- অনেক অনেক পাওয়া এই সিরিজে।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      হারতে থাকা অবস্থা থেকে ম্যাচ জেতা, আমাদের জন্য একেবারেই নতুন এইটা। আসলেই অনেক পাওয়া নিজেদের পয়সা খরচ করে খেলতে যাওয়া এই সিরিজে।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  3. বাংলাদেশ চতুর্থ টি-২০ বিশ্ব র‍্যাঙ্কি ং এ। এ যে দেখেও শান্তি । কে কি মনে করলো তাতে থোড়াই কেয়ার।

    ভালো লিখেছিস বরাবরের মতই। তবে দেখতে পাওয়ার মজাটা পাইনি এই ম্যাচগুলোর এই একটাই আফসোস !
    ভাল থাকিস।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      ধন্যবাদ বন্ধু। টিভিতে খেলা না দেখানোয় আমি অবশ্য একদিক থেকে খুশীই হয়েছি, কারন আমার এখানে দেখার কোন সুযোগ নাই। সবাই দেখবে কিন্তু আমি দেখতে পারবো না, তা হবে না :grr:


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।