সাপ্তাহিক ২.১

“ইসসিরে মেল্লা পোস্ট, কোনটা বাদ্দিয়া কোনটা পড়ি দিশা পাই না। টাইমো নাই, কাইল্কা পরীক্ষা, কেস স্টাডি। দূর, বিজি হইয়া গেলাম”

য়েজ ভাইয়ের সেই যুগান্তকারী পোস্টের মাহাত্ম এত দিনে বুঝতে পারলাম, কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে… টাইপ ঘটনা, আমার অবস্থাও এখন পুরোপুরি এক। মন্তব্যের মত পোস্টেও কপি পেস্টের প্রচলন থাকলে আমি শুধু ঐ পোস্টটাই কপিপেস্ট করেই বিদায় নিতাম, কিন্তু চক্ষু লজ্জায় লেখার কংকালে আরো কিছু মাংস লাগাতে হচ্ছে।

মার সাপ্তাহিক সিরিজটা শুরু হয়ে ছিল পরিস্থিতির চাপে, সপ্তাহান্ত ছাড়া ব্লগে আসার মত সময় পেতাম না, সে কারনেই সপ্তাহান্তে লেখা হতো। এক সময় নিয়মিত লেখা বন্ধ হয়ে গেল, কারন আমি তখন নিয়মিত ব্লগে আসার সময় পাই, লিখতে আলসেমি লাগে। এখন আবার সময় অতি মূল্যবান হিয়ে দেখা দিয়েছে, কোন কোন দিন ল্যাপটপ চালু করার ও ফুরসত পাই না। সপ্তাহান্তে সুযোগ পেয়ে তাই গোগ্রাসে জমে থাকা পোস্টগুলো পড়ে ফেললাম। দারুন দারুন সব লেখা, কমেন্ট… পুরো জমজমাট অবস্থা। আলাদা আলাদা ভাবে কমেন্ট করার থেকে ভাবলাম একটা পোস্ট দিয়ে দেই, এভাবেই শুরু সাপ্তাহিকের সেকেন্ড এডিশন, জানিনা কত দিন চলবে।

সিলেট মনে হয় বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর জায়গা, বেড়ানোর জন্য আদর্শ। মনে হয় এ কারনে বলছি যে আমি সিলেট ঘুরে দেখেনি, আসলে এক কক্সবাজার ছাড়া তেমন কোথাও যাওয়া হয়নি, তবে দেশ ভ্রমনের ছোট খাট একটা পরিকল্পনা করা আছে। যাই হোক, এবার নিয়ে তৃতীয় বারের মত সিলেট আসা হলো, বেড়ানোর জন্য নয়, চাকুরীর খাতিরে। বন্ধুদের নিয়ে একসাথে থাকার অংশটা বাদ দিলে এখানে থাকার অভিজ্ঞতা ভয়াবহ আর দিন বাড়ার সাথে সাথে এর মাত্রা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। আশার কথা হলো এবারই বাধ্যতামূলক সিলেট ভ্রমনের শেষ পর্ব হবার কথা। ভালয় ভালয় এবার শেষ করে যেতে পারলে… পার্মানেন্টলি আস্তালা ভিস্তা বেইবি

ব কিছুতেই যেমন ভাল খারাপ দুদিকই থাকে, এখানেও ভাল দিক আছে। বন্ধুদের কথা আগেই বলেছি, সেই সাথে বোনাস হিসেবে পেয়েছি অনেক দিনের পুরোনো হয়ে যাওয়া একটা অভিজ্ঞতা ফিরে পেয়ে। সেটা হলো গোলকিপিং করার। আমাদের মাঝে ছোট খাট একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে। সেখানে প্রায় ৮ বছর পরে গোলপোস্টের নিচে দাড়ালাম। শেষ কিপিং করেছিলাম ২০০২ এর ইন্টার হাউস ফুটবলে। তারপর থেকে হয়ে গিয়েছিলাম পুরোদুস্তুর রাইট উইং। তাই প্রথমে একটু টেনশনে ছিলাম, একে তো অনেকদিন করিনি, সেই সাথে শরীর সেই আগের মত হালকাও নেই, ওজন দেবার আগে দু বেলা না খেয়ে ওজন লিমিটের মদ্ধ্যে রাখতে হয়। তবে খেলার প্রথম সেভেই আত্মবিশ্বাষ পেলাম। খেলা শেষে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট, আর সবচেয়ে বড় কথা আমরা খেলায় জিতেছি। এখন অপেক্ষা ফাইনালের…

পেক্ষা আর মাত্র ১৪ দিনের অপেক্ষা, তারপরেই আবারো মাঠে ফুটবল। (এর মাঝে অবশ্য ইউরোপা লীগের কোয়ালিফাইং রাউন্ড শুরু হয়ে গিয়েছে, লিভারপুল তাদের প্রথম ম্যাচ জিতেও ফেলেছে) এবছরটা ফুটবলের উপর দিয়েই গেল। বিশ্বকাপ আর ইউরো চার বছর পর পর না হয়ে দুই বছর পর পর হওয়া উচিৎ, বছর জুড়ে ফুটবল দেখব। ফুটবল বিশ্ব এখন দলবদলে ব্যস্ত। আশার কথা হলো অনেকদিন পর এবার বদলীর বাজারে ভাল রকমের একটিভ। ফেব্রিগাসকে নিয়ে রশি টানাটানি এখনো পুরোপুরি শেষ হয় নি, ওদিকে ওয়েঙ্গার গোলকিপার আর সেন্টার ব্যাকের পিছনে ভাল ভাবেই ছুটছে। গত পাঁচ মৌসুমের মত এবারো “এবার আমাদের পালা” ভেবে স্বপ্ন দেখছি। আর এবারের মৌসুমের সূচনাটাও সেরকম, হাডসনের লিভারপুলের সাথে। তবে সেই লিভারপুলে কে থাকবে আর কে থাকবে না সেটাই দেখার বিষয়। ম্যান সিটি আবারো বাজার গরম করে রেখেছে, গতবার শেষ মুহুর্তে ব্যর্থ হয়ে এবার তারা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের জন্য মরিয়া হয়েই নামবে। তবে ম্যান ইউ, চেলসির তেমন কোন নড়াচড়া চোখে পড়ছে না। এবারের সিজন মনে হয় গতবারের থেকেও জমজমাট হবে। আর আমার দ্বিতীয় পছন্দের দল নিউক্যাসল ও প্রিমিয়ার লীগে ফিরে এসেছে, গতবার ওদেরকে মিস করেছি।

ফুটবল বানিজ্যে নিজেও বেশ ভাল ভাবেই জড়িয়ে আছি, পুরা মাথা গরম অবস্থা। ফ্যান্টাসী লীগের দল বানাতে গিয়ে অবস্থা তথৈচব। বিশ্বকাপের পারফর্মেন্সের পরে রুনি-জেরার্ডদের দাম যেখানে অর্ধেকে নেমে আসা উচিৎ ছিল সেখানে উলটো তাদের দাম বেড়ে গিয়েছে। কোন মতে একটা দল দাড় করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতে পারছি না। আগ্রহী যারা এখনো মাঠে নামেননি তারা আর দেরি না করে নাম লিখিয়ে ফেলুন, বিস্তারিত এখানে।

মাদের দেশের ফুটবল বাজার আরো গরম। ৯৪ এর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মত এবার বাংলাদেশ লিগে আসছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। আবাহনী মোহামেডানের ঘর ভেঙ্গে তারা মাঠে নামছে প্রায় জাতীয় দল নিয়ে। দ্বিতীয় বিভাগের একটা দল কিভাবে সরাসরি খেলার সুযোগ পাচ্ছে সে ব্যাপারে আমি এখনো পরিষ্কার না। তবে লীগে প্রতিযোগিতা অনেক বাড়বে এটা ভেবেই আমি খুশি। শুনলাম মুক্তিযোদ্ধাও ভাল দল নামাচ্ছে, শেষ রাসেলের খবর জানি না। এবার যদি পাতানো ম্যাচের হাত থেকে ফুটবল ছাড়া পায়। সেবার ৯৪ এর লীগে মুক্তিযোদ্ধা শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি, শিরোপা জিতেছিল মোমেন মুন্নার আবাহনী। আশা করি এবারো আবাহনী ধানমন্ডী ক্লাবকে একই রকম অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ করতে সক্ষম হবে।

লেখার কংকালে মাংস লাগাতে গিয়ে পেট মোটা করে ফেললাম, তাও আবার এক ফুটবল নিয়ে প্যাচাল পেড়ে। এখানেই থেমে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে মনে হচ্ছে। আর স্বাদহীন লেখার স্বাদ বাড়াতে সাথে আচার হিসেবে……

শুভেচ্ছা

৯০৮ বার দেখা হয়েছে

১৭ টি মন্তব্য : “সাপ্তাহিক ২.১”

  1. রাশেদ (৯৯-০৫)

    ব্যাপারটা আমিও খেয়াল করছি যখন কাজ কাম কম থাকে তখন লিখতে বড়ই আলসমী লাগে।বরং পরীক্ষা বা অন্য কোন কাজে যখন ব্যস্ত থাকি তখন একটু সময় পেলেই লিখা হয় 🙂

    তা কোর্সে যখন ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন তাই আশা করা যায় এইবার প্রতি সাপ্তাহে নিয়মিত একটা লেখা দেখা যাবে 🙂


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন
  2. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    আমি এই বার ও কনফিউজড পুরাপুরি টটেনহাম সাপোর্টার হব নাকি ম্যান সিটি। এই সিজনের পর ঠিক করব। আমার মনে হয় এইবার টটেনহাম আরো ভাল করবে। তোর আর্সেনাল এর কোন চান্স দেখছি না।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      ম্যান সিটি, টটেনহাম দুটো দলকেই ভাল লাগে, হঠাৎ করে বড় লোক হবার আগে থেকেই। তবে এখন হিসাব নিকাষ একটু পালটে গিয়েছে, আর্সেনালের স্বার্থে আঘাত আসার সম্ভাবনা আছে বলে এদের সফলতা চাই না 😛 তবে এদের কারনে লীগ অনেক বেশি আকর্ষনীয় হয়েছে।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  3. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    নিউ ক্যাসেল আমারও পছন্দের দল।
    আর্সেনালের কোন চান্স নাই, তবে আশা করতে দোষ কী :grr:

    শেখ জামালের লিগে সুযোগ পাওয়ার পেছনে গড়বড় আছে। এখানে বলা যাবে না। সাক্ষাতে বলতে হবে 😉

    এই সিজনে প্রতি সপ্তাহে ফুটবল রিভিউ লিখবি তুই। অনুরোধ না, আদেশ।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      আদেশ শিরোধার্য তবে... ইয়ে মানে যে অবস্থায় আছি তাতে এ নভেম্বরের আগে কোন খেলা দেখার সুযোগ পাই কিনা সন্দেহ, এমতবস্থায় যদি কাইন্ডি আদেশটা আবার একটু বিবেচনা করতেন...

      আর্সেনালকে নিয়ে আশা করতে কবে আমাদের চান্স লাগছিল 😛


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  4. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    আমার যদি তোর মতো বিজি থাকলে পোস্ট বাইর হইতো তাইলে তো ডবল সেঙ্চুরি হয়া যাইতো!!!
    তোর ফুটবল রিভিউ ভালো লাগছে। শিয়েরারের জন্যই নিউ ক্যাসেলরে আমি ভালো পাই অনেক আগে থেকেই। ফ্যান্টাসি ফুটবলে গতবারের তলানিতে ছিলাম। এইবার নিউক্যাসেলের মত জাইগা উঠুম (হুমকী :grr: )...

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      শিয়েরা, বেলোমি, গিভেন, সোলানো, লরেন রবার্ট,আর ম্যানেজার হিসেবে স্যার ববি রবসন ... সেই সময়ের নিউক্যাসলকে দারুন লাগত। ভাবতে অবাক লাগে এদের মত একটা ট্রাডিশনাল দলকেও রেলিগেটেড হতে হয়।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  5. তানভীর (৯৪-০০)

    তুমি তো রাইট-উইং এ বেশ ভালো খেল। মনে নাই, পিকনিকে জুনিয়র টিমকে কিভাবে নাস্তানাবুদ করা হইল? 😉
    ফ্যান্টাসী লীগের দল নিয়ে এবার আসলেই খুব বিপদে পড়ছি, টাকার হিসাব মিলে না। সবগুলা প্লেয়ারের অসম্ভব দাম। 🙁
    ফাব্রেগাসরে নিয়া যেভাবে টানাটানি শুরু হইছে, এই সিজনে ও মন দিয়ে খেলতে পারবে কিনা সন্দেহ হইতেছে। আর্সেনালকে নিয়ে আমি এবারও আশাবাদী। 🙂
    লেখালেখি নিয়মিতভাবে চালায়ে যাও।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      থ্যাঙ্কু ভাইয়া... জুনিয়র টিমটাকে আরেকবার সামনে পাইলে কাজ হইত 🙂

      ফ্যান্টাসী লীগে প্লেয়ারদের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে ফেলসে, বহুত গ্যাঞ্জাম। আর ওয়েঙ্গার এবার নতুন লাইন ধরছে, ফ্যাব্রিগাসের উপর চাপ দিচ্ছে সব কিছু খোলাসা করার জন্য, আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়ন করার চ্যালেঞ্জ ও দিছে... ফার্গুসন যেমন রোনাল্ডোকে দিছিল, দেখা যাক এই ট্যাক্টিক্স কতটুকু কাজে লাগে।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  6. আহসান দাদা দারুন লিকেচো,তোমার থেকে তিন রুম দুরত্বে থেকেও বুঝলাম না কখন ব্লগ লিখে ফেললা.যাই হোক প্রথম খেলায় গোল কীপিং ভালই করেছিলে.কিন্তু দাদাবাবু ফাইনাল খেলার কথাটা বেমালুম চেপে গেলে যে ! ঠিক আছে আমি তোমার হয়ে সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছি ...ফাইনাল খেলায় আহসান দাদা মাত্র এক হালি মানে চারটা গোল হজম করেছে ! তোমাকে অভিনন্দন বন্ধু ...... :clap:

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      দাদা... এটা ফাইনালের আগের লেখা, আর ফাইনালে এক হালি না, তার একটা কম খেয়েছিলাম। আর ঐ তিনটার একটাতেও আমার কিছু করার ছিল কিনা তা তুমিই ভাল বলতে পারবা।

      আর সারাক্ষন বইয়ে মুখ গুজে পড়ে থাকলে তিন রুম কেন, পাশে বসে ব্লগ লিখলেও টের পাবি না 😛


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।