সাপ্তাহিক ১৩ (ঈদ সংখ্যা!)

বৃষ্টি এবারের ঈদ পুরো ধুয়ে দিয়ে গেল। সকালে চোখ মেলেই দেখি বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, ঘুম মনে হলো তখন আরো জমিয়ে এলো। কিন্তু মায়ের অনবরত ডাকাডাকিতে শেষ পর্যন্ত বিছানা ছাড়তেই হলো, কিন্তু ততক্ষনে যা দেরি হবার হয়ে গিয়েছে। বাড়ির পাশের মসজিদে ততক্ষনে ঈদের নামাজ শুরু হয়ে গেছে। ছোট ভাই আশার কথা শোনালো যে পাশেই নাকি আরেকটা নতুন মসজিদ হয়েছে, সেখানে নামাজ আরো আধঘন্টা পরে। বৃষ্টি মাথায় করে দুভাই ছুটলাম মসজিদে। বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নামাজ শেষে আটকে রইলাম । এই সময়ে নতুন মসজিদ তৈরির শানে নুযুল জানা গেল। আগের মসজিদের ঈমাম ও মসজিদ কমিটির মধ্যে মতবিরোধ এবং সেই নিয়ে দলাদলির ফল স্বরুপ বিদ্রোহী গ্রুপ এই মসজিদ চালু করেছে। মনে মনে তাদের দলাদলিকে ধন্যবাদ জানালাম। তাদের কারনেই এবারের ঈদের নামাজটা পড়া হলো।

সকালের বৃষ্টি অনেক জায়গাতেই মনে হয় ঈদের নামাজের আয়োজনে বাগড়া দিয়েছে। তবে টিভি খবরে দেখে মনে হলো সবচেয়ে বেশি ভুগেছে জাতীয় ঈদগাহ এ যারা গিয়েছিলেন তারা। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বিকল্প হিসেবে বায়তুল মোকাররম তৈরী থাকলেও ঈদগাতেই নামাজ আয়োজন করা হয়। মজার ব্যাপার হলো প্রায় এক ঘন্টা বৃষ্টির মাঝে সবাইকে অপেক্ষা করিয়ে রেখে নামাজ শুরুর মাত্র কিছুক্ষন আগে সবাইকে আশেপাশের মসজিদে নামাজে যেতে বলা হয়। কিন্তু তখন সবাই বৃষ্টির মাঝেই নামাজ পড়ার পক্ষে সায় দেয় এবং পুরো কাক ভেজা হয়ে নামাজ শেষ করে। আমরা কি কখনোই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া শিখবো না?

বৃষ্টির কারনে ঈদের সকালটা বাসায় কাটিয়ে দিলাম। সেই সাথে এবারই প্রথম ঈদের সকালে নেটে ঢু মারলাম। ব্লগে, ফেসবুকে দেখলাম আমার মতো অনেকেই আছে। তাদের সাথে ভার্চুয়াল কোলাকুলি, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হলো, ভালই লাগল। ভবিষ্যতে মনে হয় আমরা আমাদের সকল সামাজিকতা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সমাধা করতে পারব। বিয়ের অনুষ্ঠান লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে নেটে, সবাই ফেসবুকের দেওয়ালে মাধ্যমে নব দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাবে, সাথে কিছু ভার্চুয়াল উপহার। বিয়ের খাওয়া দাওয়াও হবে ভার্চুয়াল। কি দারুন আইডিয়া, আহা…

ঈদের বিকেলে আবার হলো ভূমিকম্প। যদিও সেই মুহুর্তে আমি রিকশায় করে ঢাকার সেই রকম এক রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কারনে সদা কম্পমান থাকায় কিছুই টের পাইনি। একটা ফোন পেয়ে শুনলাম ভূমিকম্প হয়েছে, একটু পরে রেডিওতে নিউজ আপডেটে নিশ্চিত হলাম কালকে রাতেও নাকি আবার ভূমিকম্প হয়েছিল, যদিও সেটাও টের পাইনি। ঢাকায় বড়সড় একটা ভূমিকম্প হলে কি হবে ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। যেখানে rangs ভবন ধ্বসে পড়ার পর তিনদিন সেখানে আটকে থেকে মানুষ মারা যায়, উদ্ধার কর্মিরা তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয় সেখানে ভূমিকম্পের পরে উদ্ধার কার্য কতটুকু কি হবে তা সহজেই অনুমেয়।

ঈদের আগের দুদিন আগে ছুটি পেয়েছিলাম। ওই দুদিন পুরোটাই ব্যয় হয়েছে কেনাকাটার পিছনে (আমার নিজের জন্য বরাদ্দ ছিল সর্বনিম্ন)। ভেবেছিলাম শেষ সময়ে রাস্তাঘাট এবং মার্কেট দুটোই ফাঁকা পাব, কিন্তু ঘটনা ঘটেছে পুরো উলটো। ঈদের আগের দিনও আমার মনে হয়েছে ঢাকা শহর ছেড়ে কেউই এবার মনে বাড়ীতে ঈদ করতে যায়নি। সবচেয়ে আশ্চার্য হয়েছিলাম বসুন্ধরায় ইফতারের সময়ে। মনে হচ্ছিল যেন ঢাকা বরিশাল লঞ্চের ডেকে আছি। কোথাও পা ফেলবার জায়গা নেই। মেঝেতে যেখানেই ফাঁকা পেয়েছে সেখানেই ইফতার নিয়ে বসে গিয়েছে।শেষ মুহুর্তে যারা এসেছিল তারা দাঁড়িয়ে থাকারো যায়গা পাচ্ছিল না। ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই…

ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততায় এ সপ্তাহের প্রিমিয়ার লীগের কোন খেলাই দেখতে পারি নাই। দুইটা ডার্বি মিস করলাম, বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ডার্বি। নিজেদের মাঠে আবারো তৃতীয় পক্ষের (রেফারী) সহযোগিতায় ম্যাচ জিতল ম্যান ইউ। তবে এতে আমার কোন আপত্তি নাই। কারন টাকার গরমে উড়তে থাকা ম্যান সিটিকে আমি ইদানিং দুই চক্ষে দেখতে পারি না, তার উপর আদাবায়র আগের ম্যাচে যে কাহিনি করলো। সপ্তাহের প্রায় সব ফলাফলই আমার পক্ষে গিয়েছে। ফ্যান্টাসী লীগে বেশ উপকার হয়েছে। কিন্তু এই সপ্তাহের ফ্যান্টাসী লীগের আমলনামা কেউ দিল না কেনু কেনু কেনু?

ঈদ উপলক্ষ্যে বেশ কিছু অডিও এলবাম বের হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলোই আছে ভাললাগার মতন। বিশেষ করে তপু ভাইয়ের সে কে?, চরম লাগছে। তবে নতুন গান গুলোর চেয়ে এ কয়দিন যে গানটা বেশি শোনা হচ্ছে সেটা হলো দুরবিনের স্বপ্নডানা, এটাও মোটামুটি নতুন গান। শুনে দেখুন, ক্যামন লাগে…

শুভেচ্ছা!

১,৯০৩ বার দেখা হয়েছে

৪৭ টি মন্তব্য : “সাপ্তাহিক ১৩ (ঈদ সংখ্যা!)”

  1. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    এতো কিছু টের পাইনাই। সকালে ঘুম থেইকা একবার উঠছিলাম, একটু খাইয়া আবার ঘুম দিছি , এক্কেরে রাত আটটা।

    রাইতে ঈদসংখ্যা পড়তে পড়তে আবার ঘুমাইয়া গেছি। ব্যস, ঈদ শেষ। খুব মজা হইছে। 😛


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  2. হাসনাইন (৯৯-০৫)

    ঘুমের মধ্যে টের পাইছিলাম দুলতাছি... ভাবলাম বাহ স্বপ্নেও দেখি দোলনা আসে, তাই দুলতে দুলতে আবার ঘুম। 😛
    ভূমিকম্প আমার লাইজ্ঞা না। 🙁
    ঈদ নাকি তিনদিন থাকে, আইজকা তিন নম্বর ঈদ মোবারক 🙂

    জবাব দিন
  3. আমিন (১৯৯৬-২০০২)
    নিজেদের মাঠে আবারো তৃতীয় পক্ষের (রেফারী) সহযোগিতায় ম্যাচ জিতল ম্যান ইউ।

    এটা হইলো এন্টি ম্যানইউ গো সমস্যা। ভাবখানা এমন ম্যানইউর প্লেয়াররা খাড়ায়া ছিল আর রেফারি আইসা চারবার গোলে বল ঢুকাইছে। ম্যানসিটি যে আজাইরা দুইটা গোল পাইল আর সেকেন্ড হাফে দুই গোল ছাড়া যে ম্যানইউর হাফে বলই আইলো না, ম্যান ইউর নিশ্চিত তিনটা গোল শেরি গিভেন লাইন থেকে বাইর করলো, আর এক্সট্রা টাইমে দুইবার সাব হইলো, গোল কইরা বেলামি ১ মিনিট ধইরা উল্লাস করলো সবই তো দেখি বেমালুম হাওয়া!!!!!

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      আরে ম্যান ইউ জেতাতে তো আমি খুশিই হইছি, আর এক্সট্রা টাইমের ব্যাপারে ম্যান ইউ টিভির ধারাভাষ্যকাররাই ডাউট দিতাছে দেখলাম (ওদের ধারাভাষ্যে সাম্প্রদায়িকতার কাছে সিধু, রমজ রাজা কিচ্ছু না )


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  4. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    ঈদ মোবারক দোস্ত।
    এইবারের ঈদটা আমর সেইরকম কাটল।
    সকালে খুব শখ কইরা ঈগাহে গেলাম। এমনিতে ঈদের নামাজ আমি পড়ি না বললেই চলে। এবার গেলাম। সাথে আমার চাচাত ভাই। সে তাবলীগ করে। তো বের হবার সময় সে ছাতা নিতে চাইলো, আমি তারে ঈমান শিখাতে শিখাতে বললাম, আল্লাহর উপর তোর ঈমান না বৃষ্টির উপর??
    তাবলীগী ভাই একটু বিব্রত হয়ে আমার সাথে গেলো।
    খোলা মাঠে যখন সেইরম বৃষ্ট সে আমার দিকে চায়। আমি তখনও ঈমানী পরীক্ষা দিতে ব্যস্ত। আড় আমি থাকায় আমার ভাই ও। ফল হইলো আমার নতুন পাঞ্জাবি আড় সুদৃশ্য মোবাইল ভিজে চুপচুপা। মোবাইলটা এমনিতেই নষ্ট । এবার মনে হয় পুরা গেলো। তয় বৃষ্টি অনেকদিন পর ভিজা সেরকম মজা লাগছে। সমস্যা হইলো বাসায় ফিরতে গিয়ে আমার বাসা কাছে আসতেই দেখি নর্দমা উপচিয়ে বিশুদ্ধ অমিয়ধারার প্রবাহ। নাকে চেপে পাজামা তুলে, কোনমতে বাসায় গেলাম। পানি নামার আঘে বের হবার প্রশ্নই আসে না। একবার এলাকার এমপিকে সেই পানিতে নামাতে মঞ্চাচাইছিলো।
    এর মাঝে নতুন উপদ্রব অফিসের ফোনে। আবার ওই পানি ভাইঙ্গা অফিসে যাইতে হইলো। দুই গন্তা কাজ আর তার জন্য ছয় ঘন্টার সিস্টেম লস।
    সত্যি সত্যি দারুণ কাটছে।
    সবাইরে ঈদ মোবারক।

    জবাব দিন
  5. তানভীর (৯৪-০০)

    তপুর এলবামের গানগুলা এখন নিয়মিত শুনছি, সবচেয়ে ভালো লেগেছে "ভালোবাসি"- এই গানটা।
    আর্সেনাল রক করবে এবার এ আশায় আছি। 😀
    ফ্যান্টাসী প্রিমিয়ার লীগে তো এই সপ্তাহে ফাটায়ে ফেলছ! তুমি ক্রমশই উন্নতি করছ, বেস্ট অফ লাক। :thumbup:
    ঈদের শুভেচ্ছা রইল। 🙂

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      ধন্যবাদ ভাইয়া।
      আগেই বুঝেছিলাম এ সপ্তাহে নেটে বসে শেষ মুহুর্তে টিমের বদলগুলো করতে পারব না, তাই আগের সপ্তাহেই সেভাবে দল নির্বাচন করেছিলাম... ভাগ্য ভালো কাজে লেগে গিয়েছে।

      আর্সেনাল নিয়ে আমি সবসময়ই আশাবাদী ...


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  6. তৌফিক (৯৬-০২)

    ঈদের দিন শুরু হইছিল ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল দিয়া। আম্মা বলে, গত দুই বছর তোর বাপ একা একা নামাজে গেছে, এইবার তুই বাপের সাথে যা। বৃষ্টি ছাতার মাথায় নিয়া মসজিদে গিয়া দেখি সামনের বারো ফুট রাস্তা ড্রেনের পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। আব্বারে দেখলাম সেই পানি মাড়ায়ে মসজিদে ঢুকতেছেন। আমার ঈমানের এত জোর নাই। সাথে সাথে বাসায় ফেরত গেলাম। আব্বার কাছে অবশ্য পরে ঝাড়ি খাইতে হইছে। 🙁

    তোর তেল আছে, প্রত্যেক সপ্তাহে একটা কেমনে নামাস? 🙂

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      গত চার মাস ধরে কোর্সে থাকায় আমার রিক্রিয়েশন বলতে এই সিসিবিই... উইকেন্ডগুলো উদযাপন করি এইটা লিখেই। আর এখন একটা রুটিনের মতো হয়ে গিয়েছে, না লিখলে ক্যামন ক্যামন জানি লাগে 🙂


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।