সাপ্তাহিক… ৯

খুব একটা ভাল নেই, শারীরিক মানসিক দু দিক থেকেই। প্রথমে পা মচকালো, এক সপ্তাহ বিছানায় শুয়ে থেকে পা একটু ভাল হতেই এক সন্ধ্যায় বের হলাম, মূল উদ্দেশ্য ছিল ভাল-মন্দ কিছু খেয়ে মুখে স্বাদ বদলানো। গুরু ভোজের ইচ্ছা ছিল না বলে ঠিক করলাম বাংলা খাবার খাব, মানে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা-ভাজি। সবচেয়ে কাছাকাছি পাওয়া গেল হোটেল জামান। চট্টগ্রামকে মনে হয় খুব সহজেই হোটেল জামানের শহর বলা যায়। শহরের যেখানেই থাকুন না কেন, মাত্র ৫/১০ মিনিটের দূরুত্বেই আপনি এর যেকোন একটি শাখা খুঁজে পাবেন। আমরা ২০০৫ একটা ছোটখাট হোটেল জামান শুমারি চালিয়েছিলাম। যত দূর মনে পড়ে ৩০টার মত পাওয়া গিয়েছিল সেবার। এবার এসে দেখলাম আরো বেড়েছে।

ফাটাফাটি একটা ডিনার হলো, শেষে মসলা দিয়া করে পানও খেলাম। ফিরে এসে রাতে ভাল একটা ঘুম হলো। তবে ঘটনা ঘটলো পরের দিন ভোরে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ফজরের নামাজের পর বিশেষ মোনাজাত ছিল। মসজিদে যাবার সময়ই বুঝতে পারছিলাম ঘটনা সুবিধার নয়। ভালয় ভালয় নামাজ শেষ করে রুমে আসতেই আগের রাতের সব কিছু উগরে দিলাম। তারপর থেকে টানা দুদিন ধরে সেই অবস্থা। এমন কি স্যালাইন খেলে সেটাও বের হয়ে আসত। দুদিন পরে আমাকে পুরো শয্যাশায়ী করে এই উপসর্গ বিদায় নিলো, দেখা দিল নতুন একটির। বাম পেটের পিছনের দিকে প্রচন্ড ব্যথা। ব্লাড, ইউরিন, আল্ট্রাসোনোগ্রাম সব রিপোর্ট ওকে, কিন্তু ব্যথা বাবাজি জায়গা মতোই আছে। ঔষধ আর বিশ্রাম এ দুয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় ব্যথা অনেকটাই কমে আসার পর আজ থেকে আবার ক্লাস করা শুরু করলাম। তবে একটু পর পরই সেটা জানান দিয়ে যাচ্ছে, আমি আছি, আমি আছি

অসুখ বিসুখের গল্প বলেই ব্লগ ভরে ফেললাম মনে হচ্ছে। এসবের মাঝেও আমার দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশগুলোর কিছুই বাদ পড়েনি, বরং আরো বহু মাত্রায় বেড়েছে। দেশের মোবাইলের মাধ্যমে আগের চেয়ে অনেক উচ্চ হারে দেশের টাকা দেশেই রাখার ব্যবস্থা করেছি। যার কারনে মোবাইল কোম্পানির পাশাপাশি আরো একজনও দারুন খুশি।

বাংলাদেশের খেলা দেখেছি। আমার কুফা মনে হয় এবার সত্যি সত্যি কেটে যাচ্ছে, কতগুলো জয় দেখলাম, সেঞ্চুরী দেখলাম। তবে মুশফিকের বেলায় কুফা আর কাটাতে পারলাম না। ঐ দিন বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝখানে খেলা দেখা বাদ দিয়েছিলাম, নেটে লাইভ আপডেট দেখছিলাম। শেষ মুহুর্তে মনে হলো যাই মুশফিকের সেঞ্চুরী আর সিরিজের পুরষ্কার বিতরনীটা দেখে আসি। টিভির সামনে যেতে না যেতেই সেই পুরোনো ঘটনা… ৯৮ এ মুশফিক আউট, কি বাজে আউটটাই না হলো। তবে উপভোগ করেছি তামিমের ১৫৪ রানের ইনিংস। ৩১২ রানের টার্গেট বাংলাদেশ যেভাবে অসাধারন ভাবে চেজ করলো। এবার আসলেই মনে হচ্ছে আমাদের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে। আরেকটা বাংলা ওয়াশ মিস হলো, তবে ৪-১ খারাপ না।

ফুটবল মৌসুমও শুরু হয়ে গেল। বরাবরের মত আর্সেনাল এবারো শুরুটা ভালই করেছে(১ম ম্যাচ মনে হয় বেশিই ভাল করে ফেলছে), দেখা যাক এবার কত দূর পর্যন্ত দম থাকে। তবে এবার শুরুতেই টাফ ম্যাচ পড়ে গেছে, ৩য়,৪র্থ সপ্তাহে ম্যান ইউ, ম্যান সিটির সাথে পরপর দুটো এওয়ে ম্যাচ, এ দুই ম্যাচেই মনে হয় আর্সেনালের এ মৌসুম কেমন যাবে বোঝা হয়ে যাবে। তবে ম্যান ইউ শুরুতেই ধরা খেয়ে ব্যাপক আনন্দ দিয়েছে, আশা করি আরো দেবে :grr:

আর পুরো সময় জুড়ে সিসিবি তো ছিলই। রকিবের চায়ের দোকান খুলল, প্রথম দু’এক দিন বেশ ভালই আড্ডা হয়েছে। তারপর থেকে লোডিং সমস্যা শুরু হল, আবার যখন আমি যাই তখন দেখি দোকান ফাঁকা। সব পোস্ট পড়া হয়েছে, তবে মন্তব্য করা হয়নি অনেকগুলোতেই। আসলে করতে পারিনি, করার মত ভাষা খুঁজে পাইনি। যেমন ১৫ই আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্টগুলো… বঙ্গবন্ধুকে আমি অন্ধের মত শ্রদ্ধা করি, খুব বেশি কিছু না জেনেই হয়তো। সিসিবির কল্যানে অন্যান্যদের আলোচনায় অনেক অজানা কিছুই জানা হয়েছে। তবে আমার নিজের মাঝে সবসময় অপরাধবোধ কাজ করে, এই অকৃতজ্ঞ জাতির অপকর্মের দায়ভার এইদেশের একজন নাগরিক হিসেবে মাথা পেতে নিচ্ছি।

তবে পুরোপুরি নির্বাক করে দিয়েছে মোসাদ্দেক ভাইয়ের পোস্টগুলো। বিডিআর ঘটনার ছয়মাস হতে চললো, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধীদের বিচার এ বিষয় গুলো নিয়ে অগ্রগতির ব্যাপারে কিছু না বলাই ভাল। আর গত ছয় মাসে আমরা চায়ের টেবিলে ঝড় তোলার মত আরো অনেক বিষয় পেয়ে গিয়েছি, পত্রিকার কলাম ভরার মত অনেক বিতর্ক আমাদের সামনে আছে, টিভি চ্যানেলগুলোও হয়তো টক শো চালানোর মত অনেক টপিক পেয়ে গিয়েছে ( হয়ত বলছি কারন দেখা হয় না)। তাই আমাদের মাথাগুলোতেও মনে হয় এই বিষয় নিয়ে খুব একটা ব্যাথা নেই। কিন্তু মোসাদ্দেক ভাইয়ের এক একটা পোস্ট আমাকে বার বার ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে ছয়মাস আগের ঐ দিনগুলোতে, এক একটা লেখা কতবার করে পড়েছি হিসাব নেই… ধন্যবাদ ভাইয়া।(কাউকে কোন ভাবে আহত করে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত)
এই লিঙ্কটা মনে হয় আগেও সিসিবিতে কেউ শেয়ার করে ছিল, ক্ষমা চেয়ে আবারো করলাম…

১,৩০০ বার দেখা হয়েছে

৩১ টি মন্তব্য : “সাপ্তাহিক… ৯”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    শরীর এখন কেমন?
    তুমি তাইলে চিটাগাং-এ?
    আ হা.. জামানের কথা মনে করাইয়া নষ্টালজিক কইরা দিলা।
    সাবধানে থাইকো। তোমার তো মনে হচ্ছে ফুড পয়জনিং হয়েছে।
    অনেক পানি আর ফল খাও।

    জবাব দিন
  2. রকিব (০১-০৭)

    পুরা পোষ্টেই তো মন খারাপ করা কথাবার্তা বললেন। দাদা, তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হোন প্লীজ। আমার চায়ের দোকানে আমি নিজেই কাউকে পাই না, তাই উকি দিয়ে চলে যেতে হয় 🙁 ।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  3. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    তুই তো আমার চেয়ে কম অভাগা। এই সরিজে বাংলাদেশের একটা ম্যাচ পুরা দেখছি। সেটায় হারছে। আড় তামিমের ইনিংসটা আমাক্বে উপভোগ করতে হইছে ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে বইসা ক্রিকইনফো চেপে।
    ম্যানইউর পতনে খুশি হওয়ার কিছু নাই, জাতীয় দলের সাবেক কোচ মানিক ওয়ার্ল্ড কাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ শেষে বলেছিলো, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল প্রথম দিন সব খেলে ফেললে বাকি খেলা কবে খেলবে।
    ম্যানইউরে নিয়া আমি তেমন কিছু কইতে চাইছিলাম। কিছু বললাম না। তবে এখন বুঝা যাচ্ছে সিআর সেভেন কতটা ইনফ্লুয়েন্সিয়াল। সেটা অবশ্যি বলার লোক নাই। রোনাল্দো রিয়েলে যাওয়াতে দেখি কিছু নতুন ফ্যান গজাইছে। x-( x-( x-(

    অসুস্থতা কটিয়ে আবার রেগুলার ব্লগিং কর ( অবশ্য আমি নিজে রেগুলার না)। শুভ লেখালেখি.......

    জবাব দিন
  4. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    তা দাদা এতই যখ কতা বলচেন, বৌদিকে আমাদের নমস্কারটা জানিয়ে দিয়েন বরং। পেটে কিছু সইছে না বুঝি মশাই? সুথ হয়ে উঠুন জলদি। রকে বসে তারপর নয় গরম গরম জিলাপি খাবোখন 😀 ।

    জবাব দিন
  5. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আরে এই সাপ্তাহিকটা মিস করলাম ক্যামনে??

    যাজ্ঞে ব্যাপার না,দেরিতে হলেও পড়ে ফেল্লুম তো!বলি আকাশদা কিপ্টেমি ছেড়ে এবার আমায় সাথে নিয়ে ভাল একটা খাবার দোকানে কষে রাঁধা পাঠার মাংস আর লুচি খান,দেখবেন সব অসুখ বৃন্দাবন পালিয়ে গ্বিয়েচে 😀

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।