সাপ্তাহিক…৬

ই সপ্তাহটা মনে হলো যেন উড়ে উড়ে চলে গেল। সপ্তাহের শুরুতে একটা পরীক্ষা আর শেষ দিনে আরেকটা। মাঝে একদিন আবার ছুটি, টেরই পেলাম না। আহ, সবগুলো সপ্তাহ যদি এভাবে চলে যেত।

জ ছিল ব্যবহারিক পরীক্ষা। শুরু করেছিলাম সকাল ৮টায়, শেষ হতে হতে সন্ধ্যা ৭টা। আমার লাইফে দেয়া সবচেয়ে দীর্ঘতম পরীক্ষা। যদিও এর মাঝে বেশিরভাগ সময় পার হয়েছে এক আইটেমের পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী আইটেমে যাবার জন্য অপেক্ষা করতে করতে, তারপরও প্রচন্ড রকম ক্লান্তি ভর করেছিল, মনে হচ্ছিল রুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়েই ঘুমিয়ে পড়ব অনির্ধারিত সময়ের জন্য, ছুটিটা ঘুমিয়েই পার করে দেব। পরিকল্পনা মতো শুয়েও পড়েছিলাম, কিন্তু ঘুম আর আসে না। ইদানিং ঘুম নিয়ে ভালই সমস্যায় আছি। রাতের বেলায় ঘুম আসতেই চায় না, কিন্তু ক্লাসে লেকচার শুরু হলেই চোখ খোলা রাখার জন্য যুদ্ধ করতে হয় এবং প্রায়শই সেই যুদ্ধে পরাজিত হই। উঠে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে আসা, গা ঝাড়া দিয়ে আবার ক্লাস শুনতে বসা। বিশাল সমস্যায় আছি। ক্লাসের সময় ঘুমানো অবশ্য আমার জন্য নতুন কিছু নয়, সেই কলেজ লাইফ থেকেই চালিয়ে যাচ্ছি। একবার মনে আছে সকালে একদম প্রথম পিরিয়ডে আর্টস গ্যালারীতে ঘুম দিয়েছিলাম, শেষ পিরিয়ডের ঘন্টা দেবার পর ক্লাসমেটরা ডেকে তুলেছিল। সে তুলনায় এখনকার ক্ষনিকের জন্য চোখ বুজে আসা কিছুই না বলতে গেলে।

বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওদের নিজেদের দেশেই হোয়াইট ওয়াশ করলো। যে গ্রেডের দলই হোক না কেন, এটা আমাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি, আর এটা বাংলাদেশ দলের জন্য মোড়্যাল ফ্যাক্টর হিসেবেও কাজ করবে। সবচেয়ে মজা পেয়েছি একটা তথ্য দেখে, বিদেশের মাটিতে প্রতিপক্ষ হোয়াইট ওয়াশ করতে অস্ট্রেইয়ার লেগেছিল ১২৩ বছর, আর আমাদের মাত্র ৯ বছর। সামনে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে, গেইলরা বিদ্রোহ থেকে ফিরে আসলেও তাদেরকে দলে এখনো ডাকা হয় নি। তাই ওয়ানডেতেও একই ফলাফল কাম্য। তবে বাংলাদেশকে নিয়া কোন বিশ্বাস নাই, এখন যেরকম হাওয়ায় উড়ছে সব, মাটিতে আছাড় খেতেও বেশি সময় লাগবে না।

টেস্ট ক্রিকেটের এখন রমরমা অবস্থা যাচ্ছে, প্রায় সবগুলো টেস্টই উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে। ২০/২০ এর আস্ফালনের পরে মনে হয় এটা দরকার ছিল। আর আমার কাছে আরো ভাল লাগছে কারন যেই দল সমর্থন দিচ্ছি তারাই জিতছে(খুব কমই এই ঘটনা ঘটে)। অ্যাসেজ এ অস্ট্রেলিয়ার ভরাডুবি দেখে ব্যাপক মজা পাচ্ছি। তবে সবচেয়ে বেশি যেটা ভাল লেগেছে সেটা হলো ফ্লিনটফের পারফরমেন্স। যদিও ফ্লিনটফকে আমার সবসময় ওভাররেটেড মনে হয়, ব্রিটিশ মিডিয়া ওকে তো প্রায় ক্রিকেট গ্রেট বানিয়ে দিয়েছে। তবে ওর কমিটমেন্ট আর ফাইটিং স্পিরিট আমার কাছে অসাধারন লাগে (বিশেষ করে বোলিং এ) । ভাঙ্গা হাটু নিয়ে এই টেস্টে যেভাবে বোলিং করল। আমাদের প্লেয়ারদের ভিতরে আসলে এই জিনিষটাই দরকার, আশরাফুলের মতো ‘জিনিয়াস, ট্যালেন্ট’দের নয়। তখনই আমাদের ক্রিকেটের উন্নতি হবে। মোহাম্মদ রফিক, সুজন, পাইলট এরা আমাদের ক্রিকেটারদের রোল মডেল হওয়া উচিৎ, অপি, আশরাফুলের মত ধুমকেতুরা নয়।

মার মনে হয় জীবনে আর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহন দেখা হলো না। আগামীবার হবে নাকি আরো ১০০ বছর পরে। সূর্যগ্রহনের আগেরদিন ঘুমাতে যাবার আগে বেশ রোমাঞ্চিত ছিলাম, সকালে উঠে সূর্যগ্রহন দেখব। যদিও জানতাম না চট্টগ্রাম থেকে কতটুকু কি দেখা যাবে। তবে ঘুম থেকে উঠেই মেজাজ পুরা বিগড়ে গেল… দেখি বৃষ্টি হচ্ছে। ভাগ্য ভাল জীবনে অন্তত একবার সূর্যগ্রহন দেখার সুযোগ হয়ে ছিল, না হলে এ অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হতাম। ‘৯৫ সালের ঘটনা মনে হয় সেটা। মতিঝিল মডেল এ পড়তাম তখন, ক্লাস এ যাবার সময় এক্স রে ফ্লিম দিয়ে বানানো চশমা নিয়ে গিয়েছিলাম। তারপর ক্লাসের সবাই মিলে একসাথে সূর্যগ্রহন দেখা। সেসময় অসাধারন লেগেছিল।

মার বাবার নেশাগুলোর মধ্যে দুটো মনে হয় সরাসরি আমার রক্তে মিশে গিয়েছে, একটা হলো খেলাধূলা ( এটা বোধ করি কয়েকগুন বেশি হয়) আর একটা হলো উত্তম-সুচিত্রার সিনেমা সেই সাথে ঐসব সিনেমার গানগুলো বিশেষ করে হেমন্তের। ক্যাডেট কলেজে যাবার আগে আমার সিনেমা দেখা সীমাবদ্ধ ছিল শুধু এই উত্তম-সুচিত্রার সিনেমার মধ্যেই। আমার মনে হয় না এদের দেখা কোন সিনেমা আমার বাকি আছে। এখনো সুযোগ পেলেই দেখা হয় হারানো সুর, সপ্তপদি, সাগরিকা, পথে হলো দেরি, দিপ জ্বেলে যাই…( নাম মনে হয় চলতেই থাকবে)। এসব সিনেমার অসংখ্য প্রিয় গানের মধ্য থেকে দুটো সবার জন্য…

২,১৪১ বার দেখা হয়েছে

৩০ টি মন্তব্য : “সাপ্তাহিক…৬”

  1. দিহান আহসান

    আমিও বুঝলাম না কিভাবে এত দ্রুত সপ্তাহ শেষ হয়ে গেলো।
    উত্তম-সুচিত্রা আমার মা-বাবা দুইজনের'ই খুব প্রিয় হওয়াতে আমারো নেশার মত হয়ে গেছে। গত সপ্তাহে আবারো দেখলাম সপ্তপদী আর হারানো সুর। যত বারই দেখি বার বার খালি দেখতে ইচ্ছে করে। ধন্যবাদ তোমাকে শেয়ার করার জন্যে।
    " আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে " পারলে এই গানটাও আপলোড করো প্লিজ। 🙂

    জবাব দিন
  2. রকিব (০১-০৭)

    যথারীতি ভালো লাগিয়েই ছাড়লেন আকাশদা। দাদাগো শেষের গানদুটো চিরকালই ভালো লাগার মতো। তবে তারে বলে দিও গানটা একবার কলেজে মিফতাহ ভাইয়ের মুখে শুনেছিলাম। আজো কানে বাজে। :guitar:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      তারে বলে দিও '৯৫ ব্যাচের আদনান ভাই গেয়েছিল icclmm এ, অসাধারন লেগেছিল... যদিও অবিশ্বাস্য ভাবে তাকে ৪র্থ হতে হয়েছিল (হোস্ট কলেজের সাথে ওভারল চ্যাম্পিয়নশীপের একটা হিসাব নিকাশ ছিল) তবে পুরষ্কার বিতরনীর দিন ঐ ইভেন্টের ১ম হওয়া গায়কের বদলে আদনান ভাই ই পারফর্ম করেছিল।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  3. আমিন (১৯৯৬-২০০২)
    আমার বাবার নেশাগুলোর মধ্যে দুটো মনে হয় সরাসরি আমার রক্তে মিশে গিয়েছে, একটা হলো খেলাধূলা ( এটা বোধ করি কয়েকগুন বেশি হয়)

    এইটা তো আমার জন্যও সত্যি।

    জবাব দিন
  4. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    বলি আকাশদা নাকি?হেহেহেহে যা বলেচেন দাদা, আজকাল ওসব ধর তক্তা মার পেরেক টাইপের থিয়েটারের চেয়ে আমাদের সেদিনের উত্তম সুচিত্রা কত্ত ভালো ছিল...তা আসুন না একবার এদিকে-আমি আপনি এক টিকেটে দুই ছবি দেখব অথবা এক টিকেটে এক ছবির আদ্দেক আপনি দেকবেন আর বাকি আদ্দেক আমি দেখব... 😀 😀 😀

    জবাব দিন
  5. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    আকাশ : তোমার সাপ্তাহিক বরাবরের মতোই আকর্ষনীয়। সপ্তাহ শেষে অপেক্ষায় রাখে। :hatsoff:

    অফটপিক : তুমি মতিঝিল কলোনীর ভেতরে যেটা মতিঝিল মডেল স্কুল- ওইখানে পড়তে? এটার পাশেই আমাদের বাসা ছিল। ৪৯ নম্বর ভবনে। '৭৯ সাল পর্যন্ত ওখানে ছিলাম। আর এই স্কুলের কাহিনী জানো তো? এটা আগে মতিঝিল কলোনীর সার্ভেন্টস কোয়ার্টার ছিল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের তখন সার্ভেন্টস ছিল! পরে ওইটা রেনোভেট করে মডেল স্কুল চালু করা হয়।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      সপ্তাহ শেষে অপেক্ষায় রাখে। ... আমার ব্লগ লাইফে পাওয়া সেরা কমপ্লিমেন্ট 🙂

      মতিঝিল কলোনীর ভিতরের মডেল স্কুলেই তখন পড়তাম, তবে এর ইতিহাস জানতাম না, আর ওখানে পড়েছি শুধু ১ বছর, সিক্স এ।ফাইভ পর্যন্ত পড়তাম মীরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  6. তৌফিক (৯৬-০২)

    তোর সিরিজটায় মন্তব্য করা হয় না। কিন্তু ফলো করি সবসময়। এইরকম করে সাদামাটাভাবে ছোট ছোট ভাবনাগুলা প্রকাশ করস, আলাদা একটা সৌন্দর্য্য আছে এইটার। সারল্য আর আন্তরিকতার সৌন্দর্য্য।

    কি বললুম রে... 🙂

    (কপিরাইটঃ কাইয়ূম ভাই)

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।