সাপ্তাহিক…৫

মার রুমের ঠিক পিছনেই বাচ্চাদের একটা স্কুল, কিন্ডারগার্টেন। ইদানিং হয়তো স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন হয়েছে, কারন এখন সকালে ক্লাসে যাবার জন্য যখন রেডি হই তখন জানলা দিয়ে বাইরে তাকালে দেখি ছোট ছোট বাচ্চারা ঘুম ঘুম চোখে বাবা কিংবা মায়ের হাত ধরে স্কুলে আসছে, আগে দেখিনি। দেখতে বেশ সুইট লাগলেও ওদের বইয়ের ব্যাগের সাইজ দেখে কষ্টই লাগে। আর মনে পড়ে যায় ছোটবেলায় ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাবার কষ্টের কথা। আমার অবস্থা ছিল তারে জামিন পার এর দার্শিল এর মত। বিছানা থেকে উঠিয়ে দিলে দেখা যেত আমি বাথরুম পর্যন্ত না গিইয়ে সোফায় বসে আবার ঘুমিয়ে গেছি, সেখান থেকে তুলে ধরে বাথরুমে ঢুকাতো আম্মু, বের হয়ে আবার যেখানে বসতাম সেখানেই আবার ঘুম… সময় মতো রেডি করতে আম্মুর রীতিমত যুদ্ধ করা লাগত। এজন্যেই মনে আমার ভাগ্যে এখন সারাজীবনের(চাকরীজীবন) জন্য ঐ ভোরে ওঠা স্থায়ী হয়ে গেছে।

ই স্কুলের কারনে আরেকটা দারুন ব্যাপার হচ্ছে। আমার দিনগুলো শুরু হচ্ছে স্কুলের বাচ্চাদের গাওয়া জাতীয় সঙ্গীত শুনে। বাচ্চারা সব লাইন ধরে দাঁড়িয়ে কি সুন্দর করে গায়। অবশ্য স্কুল লাইফে যখন সকালে এসেম্বেলিতে দাড়াতে হতো তখন বিরক্তির শেষ থাকত না। বড় চুল, কেডস সম্পূর্ণ সাদা না এ জাতীয় টোকাই হতে হতো স্যারদের কাছে, আর জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় কত ধরনের দুষ্টামি না করেছে না বুঝে। কলেজে যাবার পর প্রিন্সিপাল আর হাউস এসেম্বেলিতেও গাওয়ার সময় কম দুষ্টামি করিনি। এখন এগুলো মনে পড়লে খারাপই লাগে। কলেজে আরেকটা কাজ হতো শব্দ করে না গেয়ে লিপসিং করা। তবে এক প্রিন্সিপাল এসেম্বেলিতে এই লিপসিংকারিদের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় অর্থাৎ আওয়াজ কম হয়ায় এডজুটেন্ট ব্যাপক ক্ষেপে যায়। পানিশমেন্ট স্বরুপ জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া প্রাকটিস দেওয়া হয়, স্যারেরা বের হয়ে গেল আর সব ক্যাডেট বিরতিহীন ভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে থাকলাম, ঠিক কতবার গাওয়া হয়েছিল মনে নেই, তবে মনে হয় পুরো এক পিরিয়ড ক্লাস পার হয়ে গিয়েছিল।

ব্রাজিলের সমর্থকেরা ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীতের খুব প্রশংসা করে, খেলা শুরুর আগে ঐটা শুনলেই নাকি একটা জোস চলে আসে। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতত অবশ্য সেভাবে শোনার সুযোগ খুব কম, কারন সেই পর্যায়ে ফুটবল আমাদের দেশ খেলেনা বললেই চলে, আর ক্রিকেটে তো এই ট্রেডিশন নাই। তবে আমরা নিজেরা নিজেরা অবশ্য এটা চালু করতে পারি, তাহলে হয়তো আমাদের বীর ক্রিকেটারদের মাঝে আরেকটু ভাল খেলার তাগিদ আসত।

বে আমরা সবাই মনে হয় কাইয়ূম ভাইয়ের মত্ আমাদের ক্রিকেটারদের সেভেন মার্ডার মাফ করে দিয়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেষ্ট জিতে ফেলছে, সাব্বাশ বেটা… বাঘের বাচ্চা। শেষ দিনে সাকিবের ক্যাপ্টেন্সি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। তবে সকালে মাশরাফির প্লান মতো ৩০০ রানের লিড নেবার জন্য যেভাবে ব্যাটিং শুরু করছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পার্টি মনে হয় ব্যাপক আপসোস করছে বাংলাদেশকে এত তাড়াতাড়ি অলআউট করে, না হলে ম্যাচ শিওর ড্র হতো। আগামী টেস্টেও ওদের একই দল খেলবে, দেখা যাক…

ই সপ্তাহের বাকি দুইটা টেষ্ট ম্যাচেও ব্যাপক আনন্দ পেয়েছি, ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়াকে যেভাবে আটকে দিল। তবে আসল বিনোদন দিল পাকিস্তান, প্রথমে ৯০ রানে অলআউট, তারপরের বার ১৭ না ২৭ রানে শেষ ৭ উইকেট কি চমৎকার :))

কোন পোস্টে জানি দেখলাম লাবলু ভাই সানিয়া মির্জার সাথে সাগরের ঢেউ এর কি জানি এক তুলনা করছেন। সেই সানিয়া মির্জা গত সপ্তাহে বিয়া করে ফেলল। এটা তেমন কোন খবর মনে হয় নাই, বিয়ের বয়স হইছে বিয়ে করছে, তবে মজা পাইছি তার দুই ভক্তের কান্ড শুনে। সানিয়া মির্জার প্রেমে দিওয়ানা এই দুই ভক্ত এই বিয়ে ঠেকাতে ছুটে গিয়ে ছিল সানিয়ার বাড়িতে ( পৃথক ভাবে) । একজন তো সানিয়া তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছিল। দুজনকেই পুলিশ গ্রেফতার করে। বিস্তারিত

ছোটবেলায় যখন মিঠুনের ডিস্কো ড্যান্সার এলো তখন গান, মুভি দুইটাই ছিল ব্যাপক হিট। বিশেষ করে গানটা। এর বিভিন্ন প্যারোডি ভার্সনও চালু ছিল মুখে মুখে। … বিড়ি খেলে হয় ক্যান্সার, বিয়া করলে হয় সংসার … এই টাইপের। সেদিন হঠাৎ করে সেই স্মৃতিতে ফিরে গেলাম, রেডিওতে শুনি এই টাইপ কথাবার্তার এক গান হচ্ছে। জানা গেল এটা বাংলা সঙ্গীত ভান্ডারে ফুয়াদের নতুনতম অবদান, আর গায়িকা মিলা, গানের নামটাও সেইরকম, ডিস্কো বান্দর। গান শুনে হাসব না কাঁদব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না, গানটা (সাথে মিলা) এখানেও দিয়ে দিলাম, দেখি কেউ সাহায্য করতে পারে কিনা

ডিস্কো বান্দর শুনে যদি কারো যদি চিত্ত বিক্ষেপের কারন ঘটে থাকে তাহলে তাদের জন্য অর্ণবের কম্পোজ করা একটা বাংলা সিনেমার গান। সিনেমার নাম জাগো… বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি দেখার জন্য

সবাইকে শ্রাবনের শুভেচ্ছা।

১,৫২৭ বার দেখা হয়েছে

৪৮ টি মন্তব্য : “সাপ্তাহিক…৫”

    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      হুম, তাই তো দেখছি্, আমি অবশ্য বৃহঃস্পতিবার হিসেবেই দেই, বলা যায় থার্সডে নাইট পালন করি লেখা দিয়ে 😀

      লেখা ভাল লাগছে জেনে ভাল লাগল।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  1. দিহান আহসান

    যাক ফর্মে ফিরে আসলাম, :awesome: :tuski:

    অবশ্য স্কুল লাইফে যখন সকালে এসেম্বেলিতে দাঁড়াতে হতো তখন বিরক্তির শেষ থাকত না।

    তখন বিরক্ত, আর এখন খুব মিস করি ... :dreamy:
    ভাইয়া ডিস্কো বান্দর আর ছাড়া কিছুইতো বুঝলাম না। :no:
    জাগো'র গানগুলো আমারো ভাল লেগেছে, তবে ভিডিওটা তো অন্য গানের।
    কখন সিনেমাটা রিলিস হবে জানো?

    জবাব দিন
  2. এহসান (৮৯-৯৫)
    ক্রিকেটে তো এই ট্রেডিশন নাই।

    এই ট্র্যাডিশন আছে। এইতো ২০/২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার আগে জাতীয় সংগীত গাইলাম।

    শব্দটা মনে হয় কিন্ডারগার্টেন। 'এক শব্দ' এবং গার্ডেন না গার্টেন।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      ধন্যবাদ ভাইয়া, ঠিক করে দিচ্ছি।

      ২০/২০ এর কথা ভুলে গিয়েছিলাম, আসলে টিভিতে দেখা হয়নি তো, পুরো টুর্নামেন্ট পার করেছি ক্রিকিনফোর উপর দিয়ে।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  3. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    বর্ণনাটা জটিল!

    মিলার গানটা 'দেখতে' চাইছিলাম। কিন্তু শুধু স্টিল দিয়া ডজ মারছে দেখছি :grr: ।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  4. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    আরে ভালো লাগছে লেখা। ক্রিকেট নিয়া অবশ্য কিছু কওনের আছে। সেটা নিয়া পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা অনেকদিন থেকেই। কারেন্টের ন্ত্রণায় কিছুই করা হয় না। লেখার ধরণটা ভালো লাগলো।

    জবাব দিন
  5. টিটো রহমান (৯৪-০০)

    মিলার এই গানটার মিউজিক ভিডিও করবে বোধহয় গাজী শুভ্র। সেদিন একটা বিজ্ঞাপেনর এডিটিং এর কাজে তার রেড ডটে গেছিলাম.....মিলাও আইছিল 😡


    আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

    জবাব দিন
  6. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    দু'দিন আগে এটিএন বাংলার একযুগ পূর্তি উৎসব চ্যানেল থেকে সরাসরি দেখাচ্ছিল। সেখানে দেখলাম মিলা'র এই গান সঙ্গে আঁটোসাঁটো পোশাকে নাঁচ।

    আমি আর রুম্মান দেখছিলাম। কিছুক্ষন দেখার পর রুম্মান বললো, পুরা হলরুমে কি এমন কেউ নাই যে এই মাইয়াডারে ঠাডাইয়া একটা থাবড় দিতে পারবে ! :))


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  7. রকিব (০১-০৭)

    চমৎকার !!! মজিয়ে দিলেন তো দাদা।
    তো আকাশদা, কবে যে আপনার ছেলেপুলে এভাবে স্কুলে যাবে বলুনতো? :dreamy: :dreamy:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  8. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    তোমার সাপ্তাহিকটা ভালো লাগে আকাশ। পড়ে তৃপ্তি পাওয়া যায়। নানা বিষয়, স্বাদ.......

    অফটপিক : মিলার সঙ্গে কথা চলতাছে। এবিসিতে শুক্রবার লেইট নাইট লাইভ অনুষ্ঠানের হোস্ট হইলেও হইতে পারে। দেখা যাক..........


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।