শৈশবের বিনোদন

(আদনান ভাইয়ের এই পোস্টে ফুলটোক্কা সহ একেবারে ছোটবেলার আরো অনেক খেলাধুলার কথা মনে পড়ে যায়, সেগুলো নিয়েই এই পোস্ট)

আমার শৈশব ঢাকা শহরে কাটলেও তা পুরোপুরি শহুরে ছিল না, কারন থাকতাম মীরপুরে। আজ থেকে ১৮-২০ বছর আগে মীরপুরে তখনও পুরোপুরি শহরে ছোয়া লাগে নি। এ কারনেই হয়তো সুযোগ পেয়েছিলাম ডাংগুলি আর ক্রিকেট উভয় খেলার, সেই সাথে আরও অনেক কিছুর, যার জন্য সবসময়েই আমার নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। সে সব খেলাগুলোর স্মৃতি নিয়েই এই পোস্ট।

যতদূর মনে পড়ে ক্রিকেটের আগে ডাংগুলির সাথে আমার পরিচয় হয়। ক্রিকেট প্রথম দেখি মনে হয় ঢাকায় হওয়া এশিয়া কাপের সময়, তবে সে সময়ের তেমন কিছুই আমার মনে নেই, এতটুকু মনে আছে যে এর আগেই ডাংগুলি খেলে ফেলেছিলাম। বাসা থেকে অবশ্য ডাংগুলি খেলার ব্যাপারে বেশ নিষেধ ছিল, এই বলে ভয় দেখানো হতো যে গুলিটা এসে চোখে লেগে চোখ নষ্ঠ হয়ে যাবে, তবে এই ভয় কখনোই দ্মিয়ে রাখতে পারেনি। ডাংগুলি খেলার নিয়ম গুলো মনে করার চেস্টা করতে গিয়ে দেখলাম এখনো পুরোপুরি মনে আছে, একটা ডাং আর গুলি যোগাড় করে এখনি খেলা শুরু করে দেয়া যায়।

আরো কিছু খেলা ছিল যেগুলো একেবারে রাস্তার খেলা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলা হয়েছে গুল্লি, ভাল বাংলায় বললে মার্বেল। এই মার্বেলের কয়েকরকম খেলা ছিল। মার্বেল খেলার শ্রেষ্ঠত্ত্ব প্রমানিত হতো সর্বাধিক মার্বেল জয়ের মধ্য দিয়ে। মার্বেল খেলা নিয়েও বাসআ থেকে অনেক ঝাড়ি খাওয়া লাগছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল লুকিয়া রাখা মার্বেলের খোজ পেলেই সব ফেলে দেয়া হত, এমনিতেই মার্বেল খেলায় বেশ দূর্বল ছিলাম, বহুত কষ্টে কিছু মার্বেল জিততাম কিন্তু বাসায় ধরা পড়ে বেশিরভাগ গুলোই শেষ পর্যন্ত চলে যেত ড্রেনে।

আর ছিল লাট্টু… ভাল বাংলায় লাটিম। লাট্টু ঘুরানো বেশ তাড়াতাড়ি শিখে গেলেও হাতের তালুতে নেয়াটা কিছুতেই পারছিলাম না। অনেক চেষ্টার পর প্রথম যখন সফল হলাম, দেখলাম আমার হাতের তালুর উপর লাট্টু ঘুরছে, অসম্ভব রকম আনন্দিত হয়েছিলাম সেদিন।

তবে একদম সত্যিকারের রাস্তার খেলা ছিল বোধহয় চাড়া খেলা। এর কোন ভাল বাংলা আমার জানা নেই। একটু চ্যাপ্টা টাইপ ইটের টুকরো দিয়ে খেলতে হতো, একজন ছুড়ে মারত তার চাড়া, পরবর্তী জন বাজি ধরতো যে ঐটায় তার চাড়া লাগাতে পারলে বা না পারলে কত টাকা ( অবশ্যই নকল টাকা, বিভিন্ন সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে বানানো) পাবে বা দেবে।

এসবের পাশাপাশি ফুটবল, ক্রিকেট তো ছিলই… তবে সবচেয়ে ভাল লাগত ঘুড়ি ওড়ানো, তার জন্য সূতায় মাঞ্জা দেয়া আর শবে বরাতের রাতে নানা ধরনের বাজি, পটকা ফুটানোর জন্য দেড়-দুই মাস ধরে প্রস্তুতি, মরিচি, চকলেট বানানো… সেগুলোর গল্প না হয় আরেকদিন হবে…

এসব মিলিয়ে আমার নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় যে আমি এভাবে আমার শৈশব এনজয় করতে পেরেছি, আর আমার নিজের ছোটভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বেশ দুঃখ হয়, পড়াশুনার চাপে কিভাবে ওদের জেনারেশন এই মজা গুলো মিস করছে, ওদের সাথি শুধু কম্পিউটার গেমস।

১,৮০৭ বার দেখা হয়েছে

৩২ টি মন্তব্য : “শৈশবের বিনোদন”

  1. আমিও বড় হইছি খিলগাঁও এর চিপা গলিতে 🙁
    ফুলটোক্কা, বউছি, বরফ পানি, মাংস-চোর এইসব খেলতাম স্কুল লাইফের প্রথম দিকে।

    স্কুল শুরু কইরা টেপ টেনিস দিয়া ক্রিকেট 😀
    তয় ভাইয়া প্রথম মনে হয় খেলছি ফুলটোক্কা আর কানামাছি

    জবাব দিন
  2. তৌফিক (৯৬-০২)

    আমার এইগুলার কোনটারেই অভিজ্ঞতা নাই। 🙁
    ছেলে লাফাঙ্গা হয়ে যাবে তাই বাসা থেকে বের হইতে দিত না। স্কুলে বোম্বাস্টিং খেলতাম। পোলাপাইন ক্রিকেট ফুটবল খেলত, আমি পাত্তা পাইতাম না। ক্যাডেট কলেজে গিয়া বাস্কেটবল, বলটা হাতে নিলে নিজেরে রাজা রাজা মনে হইত। B-)

    জবাব দিন
  3. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    শৈশবের বিশাল একটা অংশ কেটেছে শহরের বাইরের জুট মিল কম্যিউনিটিতে।
    একদঙ্গল পোলাপাইন সহ এইসব সবগুলোই ছিল ঐ সময়টাতে 😀 আর গ্রামের বাড়িতে রেগুলার যাতায়াতের কারণেও ছোটবেলার এই মজার খেলাগুলো মিস হয়নাই একদম।
    আহা, আগে কি সোন্দর দিন কাটাইতাম :dreamy:
    লাবলু ভাইয়ের পোস্ট আর আহসানের এই লেখাটা একেবারে নস্টালমুজিব বানায়া দিল।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  4. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)

    আমি ছোটবেলা পার করেছি ঝিনাইদহে। আব্বু-আম্মু দুজনেই চাকুরীজীবি ছিল বলে বাইরে বাইরে এসব গ্রাম্য খেলাগুলো করার অনেক সুযোগ পেয়েছি। আম্মু-আব্বু আফিস থেকে ফেরার আগেই আবার লক্ষী ছেলের মত বাসায় চলে আসতাম। মাঝে মাঝে ধরা পড়েছি আর বেদম পিটুনি খেয়েছি। কি মধুর সেই ছেলে বেলা। আহা। :awesome: :awesome:

    আহসান, মনটা আবার শৈশবে ফিরে গেল...... :dreamy: :dreamy:

    জবাব দিন
  5. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    এসব মিলিয়ে আমার নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় যে আমি এভাবে আমার শৈশব এনজয় করতে পেরেছি

    তোর লেখার সবগুলো খেলা একসময় দাপটের সাথে খেলেছি। সাথে আরো অনেক খেলা ছিল...... বরফপানি, কাবাডি, সাত চাড়া, আটি খেলা (আমের আটি দিয়ে), কুত কুত, পাচ গুটি...... আরো অনেক............... এত মজা করেছি একসময়। ইস!! আবার যদি ফিরে পেতাম দিনগুলো। :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: :awesome:

    জবাব দিন
  6. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    খালি ফজু ভাইয়ের মতো বর-বউ খেলি নাই, বাকি সব খেলছি।
    সুন্দর স্মৃতিচারণ আজাদ।

    কলকাতায়ও বাংলাদেশের মতো এই খেলাগুলি আছে জানা ছিলো না 😉


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  7. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    ঘুড়ি ওড়ানো সবচেয়ে মজা হত পুরানো ঢাকায়। আমি ৪ বছর বয়সে প্রথম ঘুড়ি ওড়াই। তখন আমরা গেন্ডারিয়া থাকতাম। আহা কতদিন ঘুড়ি ওড়াই না। :dreamy:

    পরে গাজীপুর গিয়ে গোল্লাছুট, মাংস চোর, কাবাডি, বোম্বাস্টিং খেলা হত বেশি।

    জবাব দিন
  8. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    মার্বলের মধ্যে সবচেয়ে মজার ছিল চালান্তি। আর সাত চাড়া, পিঠ ফাটায় লাল করতে না পারলে মজাই নাই।

    গ্রামে খেলতাম রঙ ধরা। (আসল নামটা ভূলে গেছি) তবে চাড়া খেলি নাই। বাজির খেলা আমি খেলি না, হোক দিয়াশলাইয়ের বাক্স বা সিগারেটের প্যাকেট, চাড়া খেলে পচা ছেলেরা। আমি ছিলাম ভাল ছেলে। B-)


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।