মাথায় কিস্তি টুপি পড়েছিলাম

ক্যাডেট কলেজে আসিবার পূর্বে প্রতীক (ছদ্মনাম), উদয়ন স্কুল-এ পড়িত। শান্ত শিষ্ঠ এবং ভদ্র ক্যাডেট হিসাবে সপ্তম শ্রেণীতেই তাহার বেশ নামডাক। মনে করিতে পারি, তাহার দুই বৎসর ক্যাডেট জীবনে অনেক অভিমান আর দুঃখের পাহাড় জমিয়া উঠিয়াছিল। মাঝে মাঝে আমাদিগকে তাহার মনের কষ্টের কথা শুনাইয়া ছাড়িত। অভিমান জমিতে জমিতে যখন নিতান্তই অসহনীয় হইয়া উঠিল, তখন সে ঠিক করিল, কলেজ হইতে পালাইয়া বাড়ী যাইতে হইবে, এ জীবনে তাহার আর কিছুই পাইবার নাই। সে ঘটনাটি ঘটাইল। তখন অষ্টম শ্রেণীর কথা। তাহার মনে উদয় হইল, আমাকে অবস্যই বাড়িতে যাইতে হইবে, আজই।

তখনও আমরা কেহই কিছু জানি না। সকাল হইলে ওস্তাদ-এর বাঁশী শুনিয়া সবাই ফল-ইন হইল, প্যারেড স্টেট লইতে গিয়া নিজাম ওস্তাদ খেয়াল করিলেন, প্রতীক নাই। ত্বরিৎ ছুটিয়া গিয়া, হাউস ইতি-পাতি করিয়া খুঁজিতে লাগিলেন। কোথাও না পাইয়া তৃতীয় তলার প্রক্ষালণ গৃহে খুঁজিতে গেলেন। সেখানেও না পাইয়া, কি করিবেন চিন্তা করিতে করিতে যখন প্রতীক-এর মুন্ডুপাত করিতেছেন, খেয়াল করিলেন, সোহরাওয়ার্দি হাউসের পোর্চের শেড-এর উপর একখানা খাকি কাপড়ের দলা পড়িয়া আছে। খাকিতে পারে কি থাকিতে পারেনার হিশাব করিতে করিতে ফিরিতে যাইবেন, হঠাৎ খেয়াল করিলেন, খাকির দলা নড়িয়া উঠিল। দৌড়াইয়া পোর্চে আসিয়া দেখিলেন, খাকির দলাটা আসলে প্রতীক-কে আবৃত করিয়া রাখিয়াছে, যাহাতে সে ঘুমাইয়া আছে। তাহার খাকি-তে কোন এপুলেট ছিল না, মেটাল ছিল না, নেম প্লেট-ও ছিল না।

নিজাম ওস্তাদ সর্বকালই এডজ্যুট্যান্ট-কে তেলাইতে উস্তাদ। “পাইছি তোরে”, “খাইছি তোরে” করিতে করিতে প্রতীককে এডজ্যুট্যন্ট-এর কাছে লইয়া গেলেন। অষ্টম শ্রেণীতে আমাদের ব্যাচের প্রথম “এক্সট্রা ড্রীল” খাইতে দেখিলাম।

পরের কথাঃ পরে জানিতে পারিলাম, শিয়াল -এর ভয়ে সে পোর্চের শেড হইতে নামিবার সাহস করে নাই, আবার পোর্চ বাইয়া উঠিবারও পারে নাই (৪’-৪”)। নিতান্তই ক্লান্ত হইয়া, শেড-এর উপর-ই ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। এপুলেট খুলিয়া রাখিবার কারণ জিজ্ঞাসিলে বলিল “যাহাতে সে কোন শ্রেণীর তা কেউ বুঝিতে না পারে” – এই কারণে খুলিয়া গেছে, মেটাল খুলেছিলি কেন? “যাহাতে খাকি দেখিলে সবাই মনে করে, কলেজ-এর কোন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী” (সাধু সাধু)। মনে পরে কত নিষ্ঠুর ছিলাম, হাসিতে হাসিতে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “বাটি ছাট-এর কি করতি, যেই দেখতো, বুঝে ফেলতো”।

কিছুক্ষণ তাকাইয়া থাকিয়া বলিল, “মাথায় কিস্তি টুপি পড়েছিলাম”।

৩,৪৫১ বার দেখা হয়েছে

৭২ টি মন্তব্য : “মাথায় কিস্তি টুপি পড়েছিলাম”

    • আফতাব (১৯৯৩-১৯৯৯)

      লেখালেখির অভ্যাস কোনদিন ছিল না, ছয় ছয় বারোটা ওয়ালপেপার-এ কাজ করসি কিন্তু কোনো লেখা ছাপানোর সুযোগ হয় নাই. এখন সুযোগ টা পেয়ে :just: শুরু করে দিলাম আর কি. এই লেখাটা সাধু ভাষায় লেখার চেষ্টা করসি কিন্তু ডায়লগ সবই (শুধু শেষ দুটি) কথ্য রূপে. বাকিগুলো মনোলগ / প্রলোগ / পাস্কাল / কপিকল ... (ক্ষমা) যে কোনো কিছু হইতে পারে.
      এক কোথায় - এইটা "গুরুচন্ডালি" দোষে ভরা ... :bash:

      জবাব দিন
  1. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    হাহামগে..........................

    শুভেচ্ছা আফতাব। সিসিবিতে স্বাগতম। লেখা চালিয়ে যাও.........কাইয়ুমের মতো মকরাবাজি করো না। :grr: :grr: :grr:

    মেলিতা ধন্যবাদ। ভিপি তো ভীষণ ব্যস্ত, আর পুরনো অ্যাডজুটেন্ট আছে একজন। এখন মনে হচ্ছে বেশ কয়েকজনকে নতুন নিয়োগ দিতে হবে। তোমাকেই নতুন অ্যাডজুটেন্টের র‌্যাংক পড়িয়ে দিলাম। 😀


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  2. রুম্মান (১৯৯৩-৯৯)

    আফতাব,মামা কেমন আছস?১০ টা :frontroll: দিয়া নে।পরে কথা কমু।ভালা থাকিস।


    আমার কি সমস্ত কিছুই হলো ভুল
    ভুল কথা, ভুল সম্মোধন
    ভুল পথ, ভুল বাড়ি, ভুল ঘোরাফেরা
    সারাটা জীবন ভুল চিঠি লেখা হলো শুধু,
    ভুল দরজায় হলো ব্যর্থ করাঘাত
    আমার কেবল হলো সমস্ত জীবন শুধু ভুল বই পড়া ।

    জবাব দিন
  3. আন্দালিব (৯৬-০২)

    ব্লগে সুস্বাগতম আফতাব ভাই। আসিয়াই যেমন হাঁকাইলেন, সেই বাতাসে নিশ্চিত কিস্তি টুপির পড়িয়া গেলো এবং হাসিতে হাসিতে আমরাও তদসংলগ্নতায় পড়িয়া গেলাম! :boss: :boss: :boss:

    ক্রমাগত লিখিতে থাকুন, আমরা অভিকর্ষ-দরুণ পড়িতে থাকি! 😀

    জবাব দিন
  4. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    এইটা তো আসল কিস্তি টুপির ঘটনা না।
    ৫ পেগ হুইস্কি খাওয়ার পর বার নাইটে যেই কাহিনীটা বলছিলেন সেইটা লিখেন।
    নইলে আমি, রবিন আর মান্না সব ফাঁস কইরা দিমু।

    লেখা মজা হইছে। 😀
    কাছের মানুষদের ব্লগে দেখলে খুব ভালো লাগে।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  5. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    কিরে ফতু হালা তুই এইহানে? :just: :gulli2: :gulli2: করুম।তোর :frontroll: এ কাম হবেনা।আমার নাম দেখে কনফিউজ্‌ড হলে মনে করিস ইমরান নামে একজন ছিল।
    প্রব্লেম হইল ক্যাডেটরা আমারে দুই নামেই চিনে। :goragori:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।