রোড টু জার্মানী

যে সকল ভাই ও বোনেরা আঁতলামি আপডেট ২ পড়ে আমার জন্যে দোয়া করেছেন অথবা পড়েছেন কিন্তু দোয়া করেন নাই অথবা পড়েনও নাই দোয়াও করেন নাই তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

আমার বহুদিনের স্বপ্ন, “চাকরি ছেড়ে আবার ছাত্র হবার ধান্ধাবাজী” করতে করতে আমি অবশেষে সফল হতে চলেছি প্রায়।

ক্যাডেট কলেজ থেকেই স্বপ্ন ছিলো, দেশের বাইরে পড়তে যাব। মনে আছে, তানভীর (আমাদের পাগল বৈজ্ঞানিক ) যে কিনা ক্যাডেট কলেজে থাকতেই অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির ঠিকানায় প্রসপেক্টাস চেয়ে চিঠি পাঠাতো। আমরা ওকে খেপাতাম, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির লোকজনের খেয়ে দেয়ে কাজ নাই তোকে মাগনা মাগনা প্রসপেক্টাস দিবে, তাহলেই হইছে।

আশ্চর্য ব্যাপার হল অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির লোকজনের খেয়ে দেয়ে কাজ থাকুক আর নাই থাকুক, তানভীরকে তারা প্রসপেক্টাস পাঠাল। সেই টার্মের ছুটির শেষে যখন তানভীর প্রসপেক্টাসগুলো নিয়ে কলেজে আসলো তখন তার মুখে বিজয়ীর হাসি। আর আমরা একজনের পর আরেকজন সিরিয়াল দিলাম, প্রসপেক্টাসগুলো পড়ার জন্য। বিদেশি ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি আর গবেষণার গল্প পড়তে পড়তে দেশের বাইরে পড়ার নেশা আরো বেড়ে গেল।

২০০৬ সালের কথা। কলেজ থেকে বের হয়েছি। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ধুমায় প্রিপারেশন নিচ্ছি। কিন্তু আমার মন পড়ে আছে পত্রিকার পাতায়, যেখানে “UK, EUROPE -এ মাত্র এত টাকায় পরতে যান” টাইপ বিজ্ঞাপন। অবাক ব্যাপার হল একটা না দুইটা না পেপারের পাতা ভরা ভরা বিজ্ঞাপন। আমার তো আর মন বসে না মেডিকেলের পড়ায়। দু একটা মিডিয়াতে ধর্নাও দিলাম। মিডিয়ার কথা শুনে মনে হল বিদেশে পড়তে যাওয়ার মত সহজ কাজ আর হতেই পারে না। আমার মন আরো আনচান করে উঠতে লাগলো।

উত্তরায় এক মিডিয়া পেলাম সাড়ে তিন লাখ টাকায় সুইজারল্যান্ডে পড়তে পাঠাবে। ভিসা, স্পন্সর সব নাকি করে দিবে ওই লোক, শুধু সাড়ে তিন লাখ টাকা থাকলেই নো প্রবলেম। তখন আবার আই,ইউ,টি তেও চান্স পেয়ে গেছি। চিন্তায় পড়ে গেলাম সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে আই,ইউ,টি তে পড়বো নাকি সুইজারল্যান্ড যাবো। মায়ের কান্নাকাটির জন্য সেবার আর সুইজারল্যান্ড যাওয়া হল না। ভাগ্যিস হল না, নাহলে হয়তো আমাকেও আমাদের ছোটভাই নাজমুলের মত পরিস্থিতিতে পড়তে হত (নাজমুল তোর permission ছাড়াই লেখাটার লিংক দিলাম, আশা করি ক্যাডেটদের কাজে লাগবে, আর তোর জন্য সমবেদনা)

আই,ইউ,টি থেকে বের হওয়ার সময় থেকেই পুরানো রোগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। যে কোন মূল্যেই হোক বাইরে পড়তে যেতেই হবে। ফাঁপরে পড়লাম,যখন দেখলাম বাইরে পড়তে যাওয়া মানেই IELTS, TOEFL, GRE দেয়া। এ যেন এক মহা যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার। তার উপর স্কলারশিপ হবে কি হবে না তারও কোন গ্যারান্টি নাই, তাই সিদ্ধান্ত নিলাম নিজ খরচায় পড়তে যাব। ওদিকে পত্রিকাগুলোতে সেই চার বছরের আগের মতই “UK, EUROPE -এ মাত্র এত টাকায় পরতে যান” টাইপ ভুঁড়ি ভুঁড়ি বিজ্ঞাপন। কোন কোনটায় আবার IELTS, TOEFL না থাকলেও চলবে টাইপ রসাল বিজ্ঞাপন। Ignore করাই দায়।

ইন্টারনেটের এই যুগে আর মিডিয়াতে যাওয়ার বোকামি করলাম না। কোমর বেধে নিজেই খুঁজতে লেগে গেলাম। ইউ,এস,এ, কানাডা, ইউ,কে, অস্ট্রেলিয়ায় ভালো ইউনিভার্সিটিতে নিজের খরচে পড়তে গেলে আমার কোটিপতি বাপ থাকা লাগতো। আমার কপাল এত ভালো না। আমি চাই কম টিউশন ফি’ওয়ালা দেশ। ক্যাডেট কলেজের দুই বন্ধু BSc করতেই জার্মানি চলে গিয়েছিল ২০০৮ সালের দিকে। তাদের দেয়া সাহস এবং পজিটিভ ফিডব্যাক পেয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করলাম।

এবার চোখ পড়ল জার্মানির দিকে।

ইউরোপের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তির দেশ জার্মানি অথচ টিউশন ফি ইউ,এস,এ, কানাডা, ইউ,কে, অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় নস্যি। কিন্তু এডুকেশন সিস্টেম (বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং) অনেক উন্নতমানের।

Engineering made of Germany

টাইপ ব্র্যান্ডিংই এর প্রমাণ। উল্লেখযোগ্য ইউনিভার্সিটিতে আবার IELTS, TOEFL লাগে না, শুধু BSc -র কোর্স ইংরেজিতে পড়েছি-এইটা দেখালেই হয়। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম, IELTS, TOEFL -এর পেইন না নিয়ে, স্কলারশিপের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা না করে ( আমার আসলে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা নেই, মাস কেন সারাজীবন বসে থাকলেও স্কলারশিপ পাবো না ) নিজ খরচায় জার্মানি পড়তে যাব।

শুরু করলাম সুবিধা মত জার্মান ইউনিভার্সিটি খোঁজা, আর জার্মান ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করা।

(চলবে)

১,৩২৮ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “রোড টু জার্মানী”

  1. কিবরিয়া (২০০৩-২০০৯)

    নেক্সট এপিসোড কবে নামাবেন ভাই?? জার্মানী যাইতে মঞ্চায় :dreamy: :dreamy:


    যেমন রক্তের মধ্যে জন্ম নেয় সোনালি অসুখ-তারপর ফুটে ওঠে ত্বকে মাংসে বীভৎস ক্ষরতা।
    জাতির শরীরে আজ তেম্নি দ্যাখো দুরারোগ্য ব্যাধি - ধর্মান্ধ পিশাচ আর পরকাল ব্যবসায়ি রূপে
    - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।