একটা বড় মাঠ কিছু কৃষ্ণচূড়া গাছ

আমি যেই বছরে হই সেই বছরে আমাদের পরিবারের ক্যাডেট কলেজ যাত্রা শুরু বলা যায় বড় আপু ক্যাডেট কলেজে চান্স পেল।এর পর মেজ আপু written এ হল পরে ভাইভা তে বাদ পরে। এক সময় আমার পালা আসলো আমার চার পাশে যে ক্যাডেট দের চিনতাম তারা ছিল FCC এর অনেক গল্প শুনতাম তাই FCC এর দিকে একটা টান ছিল।আর বাড়ি বরিশাল তাই ভাবতাম হয়তো BCC তে পরীক্ষা দেওয়া হবে কিন্তু আব্বা ঠিক করলেন MCC একটু মনঃক্ষুণ্ণ হইসিলাম । যাইহোক অতপরে মাথার ঘাম ঝরিয়ে নিজের লজ্জা শরম বিসরজন দিয়ে ৩০ এপ্রিল ২০০৩ MCC তে পৌছাই। একাডেমীক বিল্ডিং থেকে আমার স্কট আদিল ভাই যখন হাউসে নিয়ে যান তখনি প্রথম দেখি MCC এর বিশাল মাঠ টাকে সেদিন যে চিন্তা এসেছিল তা হল এত বড় মাঠ অই পারের সবাইকে তো ছোট লাগতেসে। সেই সময় টা ছিল H.S.C  পরীক্ষার সময় আর ক্লাস ১২ এর শেষ কটা দিন। হটাত এই দুটো লাইন কেন বললাম টা পরে আসবে। মাঠ এর প্রতি ভালবাসা বারতেই থাকলো কিন্তু মাঠে যেতে পারি না নভিসাস ড্রিল এর প্রাকটিস মাঠের সামনেই কিন্তু খুব বেশী ভাল লাগার আগেই কোনও গেমেস এর আগেই এই মাঠে কঠিন পাঙ্গা খেয়ে গেলাম টাও রাতের বেলা জীবনের প্রথম টার্মএন্ড নাইটে কিন্তু আফসোস বাসাই যেতে পারলাম না পরদিন হরতালের কারনে।

একসময় নভিসাস ড্রিল শেষ হল এরপরে অনেক ধাক্কা খেয়ে একসময় ৮ম শ্রেণী তে উঠলাম এবং জীবনের প্রথম E.D এর স্বাদ পেলাম কিন্তু টা খুব একটা সুখকর হল না যখন স্টাফ fireman lift  নামক পানিশমেন্ট শুরু করলো আমার সাথে পরল ১১ এর এক ভাই । কলেজ এর ত্রাস আমি কেম্নে তার কাধে উঠি তখন হটাত এডজুটেন আসলো ভাই ঝটপট আমার কাঁধে উথে গেলো আর জাহাঙ্গির স্টাফ আর হুংকার ক্যাডেট দাড়াই আছে ক্যান……………। ১২ ম পর্যন্ত এই মাঠে E.D  er hallf century করসি।

আবার এই মাঠেই দেখলাম জীবনের সবচে সুন্দর দৃশ্য মাঠের অই পারে বৃষ্টি মানুষ ছাতা নিয়া ঘুরতেসে এই পাশ শুকনা।

এই মাঠে আমার দেখা অন্যতম লোমহর্ষক দৃশ্য মেহেদীর ক্যান ছিরে যাওয়া।

ক্যাডেট রা সিনিওর হলেই হয়তো মনে রঙ লাগা শুরু করে আর এই সময় প্রথম  চক্ষে পরল মাঠের পাশে কয়েকটা কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে তখন   ইমেডিয়েট রা শেষের দিকে আর আমরা ১২ এ উঠবো।গাছ গুলোতে যেন আগুন লেগে গেছে প্রথম প্রেমে পরলাম কৃষ্ণচূড়ার।

এর পরে আমার কলেজ ছেরে আসার আগে গার্ডেন পারটি থেকে আসছি তাকালাম প্রিয় গাছ গুলোর দিকে আবার নতুন আগুনে রেঙ্গে আছে ।শেষ বার বিদায়ী হাসি হাসছে আমার দিকে চেয়ে।হয়ত এভাবেই এই কৃষ্ণচূড়া গাছ গুলো বিদায় জানিয়েছে আমার আগের ক্যাডেট দের।

শুনেছি বেদনার রঙ নীল

বিদায়ের রঙ কি তাহলে কৃষ্ণচূড়ার লাল

হলে খারাপ হয় না।

৫৬৮ বার দেখা হয়েছে

৩ টি মন্তব্য : “একটা বড় মাঠ কিছু কৃষ্ণচূড়া গাছ”

  1. ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

    সুন্দর লিখেছ শাওন।
    কৃষ্ণচূড়ার প্রতি আমারও ভীষণ দুর্বলতা রয়েছে। আমি ক্যাডেট কলেজে আসার আগে ঢাকার যে সাধারণ স্কুলটিতে পড়তাম, সেখানে কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিল। তখনই প্রেমে পড়েছিলাম কৃষ্ণচূড়ার। সিলেট ক্যাডেট কলেজে কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিলনা। একবার স্যারদের কাছে বায়না ধরেছিলাম, কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর জন্য। কাজে লাগেনি। কয়েকটি কড়ই গাছ ছিল কলেজ ক্যাম্পাসে। একবার ঠিক করা হলো কড়ই গাছগুলো কাটা হবে। এম্নিতেই তখন আমাদের কলেজে গাছ কম ছিল। সামান্য যে কয়েকটি কড়ই গাছ আছে তাও কাটা হবে! ভেবেই মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তখন আমি ক্লাস টুয়েলভে পড়তাম। খুব জোর বায়না ধরেছিলাম কড়ই গাছ যেন কাটা না হয়। আমার এবারের বায়নাটি রাখা হয়েছিল, কড়ই গাছ তখন আর কাটা হয়নি।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।