বর্ন টু বি আ ক্যাডেট

এইতো কয়েকদিন আগের কথা। সেমিস্টার ব্রেকের ছুটিতে বাসায় গিয়েছি। আই ইউ টিতে থাকলে ভোর চারটা বাজিয়ে শুতে গেলেও বলার কেউ নেই। কিন্তু বাসায় গেলে বারোটা বাজার আগেই লক্ষী ছেলের মত বিছানায় যাই। এরকমই এক রাতে বারোটার পর হঠাৎ নকিয়া ১১০০ এর চিল্লাচিল্লিতে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। এক রাশ বিরক্তি নিয়ে চোখটা কোনমতে খুলে বোঝার চেষ্টা করছি এত রাতে কার আবার আমার কথা মনে পড়লো। কিন্তু মোবাইল স্ক্রীণে নামটা দেখেই সব বিরক্তি চলে গেল। সেই সাথে ঘুমটাও। না ভাইসব, একটু ধীরে। আসলে যেটা ভাবছেন সেটা কিন্তু না। কোন সুললিত কন্ঠধারিনীর নাম আমার গরিবী ফোনে ডাক পাড়ছিলনা। ফোন করেছে হিমেল। আমার বন্ধু হিমেল। কলেজের ছয়টা বছর আমরা পাশাপাশি ছিলাম। মানে পাশাপাশি বেড এ আর কি। ও আমার কত ভাল ফ্রেন্ড সেটা বলার ঝামেলায় আর গেলাম না। ও এখন আর্মিতে। রাঙামাটিতে পোস্টিং। ওখানে ও সবসময় নেটওয়ার্ক পায়না। তাই কথাও কম হয়।

– কিরে, কি খবর?
-এইতো দোস্ত।
-তোর কি খবর?
-আমিও এইতো।

এরকম এইতো সেইতো করে করে সময় গড়ায়। পাশাপাশি বেডে না থাকার দূরত্ব ঘোচাতে এতদিনে জমে যাওয়া সব কথা একজন আরেকজনের উপর ঢেলে দেই। কথায় কথায় ওর এক কোর্সমেটকে নিয়ে ও কথা তোলে।

হিমেল বলে,

– কি যে বলবো দোস্ত। পোলাডা পুরা বিখাউজ টাইপ।
– ক্যান, সমস্যা কি?? বি এম এ তে একলগে ছিলি। মেন্টালিটিও তো একই রকম হবার কথা।
– আর বলিস না সিভিল হইলে যা হয় আর কি।

এইবার আমি ভিরমি খাই।

– সিভিল মানে? তুই না বললি তোর কোর্সমেট ছিল। তাইলে সিভিল হইলো ক্যাম্নে?
– আরে সিভিল মানে সিভিল। ক্যাডেট কলেজ এর না।

এইবার কাহিনী মাথায় ঢোকে। রাতের অন্ধকারে কেউ দেখবেনা জানি। তবু বত্রিশ দাঁতের নিঃশব্দ হাসিতে ফেটে পড়ি।

– তার মানে আমি তো সিভিল না। কি বলিস?
– আবার কয়! তুই সিভিল হইতে যাবি কোন দুঃখে। তুই হইলি গিয়া ক্যাডেট!

এবার আমি জোর করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলার চেষ্টা করি। এই জীবনে বোধহয় আর সিভিল হওয়া গেলনা!

৯৯৪ বার দেখা হয়েছে

১৬ টি মন্তব্য : “বর্ন টু বি আ ক্যাডেট”

  1. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    আরে ব্যাটা তুই দুক্ষু করছ ক্যান? জেনারেল হাসান মশদুদের দিকে তাকাই দেখ। ব্যাটা আর্মি চীফ হৈয়াও ক্যাডেট হইতে পারলোনা। আজীবন সিভিলিয়ান...

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।