মিরাকল অব দ্য ইয়ার ২০০৯

প্রসবকালে মা-ছেলের মৃত্যুঃ অতঃপর উভয়ের ‘ফিরে আসা’

কোনটি সত্য, অলৌকিকত্ব, নাকি চিকিৎসা বিজ্ঞান? এই প্রশ্নের জবাব চাইলে মার্কিন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাও চুপ করে থাকছেন! কারণ বড়দিনের প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে পারছে না তারা। কলোরাডো স্প্রিংসের মেমোরিয়াল হসপিটালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ভর্তি করা হয় ৩৫ বছর বয়সী প্রসূতি মা ট্রেসি হারম্যান্সটরফারকে। চিকিৎসকরা তার সিজারিয়ান সেকশনের সিদ্ধান্ত নেন।

অপারেশন টেবিলে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় মায়ের। চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন তাকে। সদ্যজাত সন্তানকেও মৃত ঘোষণা করেন তারা। খুলে ফেলা হয় সব যন্ত্রপাতি। এই খবর বাইরে অপেক্ষমাণ তার স্বামী মাইকের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

কিন্তু কান্নাকাটির পর্ব শেষ না হতেই নবজাত ‘প্রাণ ফিরে পায়’! তাকে নিয়ে যখন সবাই আনন্দে উদ্বেল তখন তারা বুঝতে পারেননি যে, তাদের জন্য আরেকটি বিস্ময় অপেক্ষা করছে। নবজাতক ছেলে সন্তানটি প্রাণ ফিরে পাবার কিছুক্ষণ পরেই মায়ের হার্টবিট ফিরে আসতে থাকে! কিন্তু অন্তত চার মিনিট তার কোনো হৃদস্পন্দন ছিল না! হাসপাতালের চিকিৎসক ড. মার্টিন বলেন, হৃদক্রিয়া একদম বন্ধ হয়ে যাবার পর কিভাবে মানুষ আবার জীবন ফিরে পেতে পারে এ ব্যাখ্যা আমাদের কাছে নেই! একে আপাতত ‘মিরাকল’ ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না আমরা।

সূত্র : ইত্তেফাক ডেস্ক(নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ)

৫,২৩৩ বার দেখা হয়েছে

৭৭ টি মন্তব্য : “মিরাকল অব দ্য ইয়ার ২০০৯”

  1. হায়দার (৯৮ - ০৪)

    ডারউইনের বন্ধু গুলারে জিগাই, এইটা কোন যুক্তি দিয়া ব্যাখ্যা করবা? যারা নাস্তিক ওরা ত মিরাকল বিশ্বাস করেনা। খালি যুক্তি খুজে। ওই জ্ঞানপাপী গুলার হাস্যকর লজিকের অপেক্ষায় রইলাম।

    জবাব দিন
    • রাব্বী (৯২-৯৮)

      জ্ঞান বা চর্চা হিসেবে বিজ্ঞানেরও সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি রয়েছে, বিজ্ঞান সুপেরীয়র জ্ঞান হিসেবে প্রতিনিধিত্বশীল তার মানে এই নয় যে সবকিছুর সমাধান বা ব্যাখা দিতে পারে। আর এই পোস্টের কথাও ব্যক্তি পর্যায়ের বিশ্বাস বা অবিশ্বাস নিয়ে কিছু পেলাম না, তাই মন্তব্যটা স্থুল মনে হয়েছে। নেভার মাইন্ড পসিটিভ স্পিরিট থেকেই বললাম, জানিনা কারা "জ্ঞানপাপী", কিন্তু নিশ্চিত তারা কোনো কলেজের সিনিয়র বা জুনিয়র ভাই বা ক্লাসমেট। আমরা কিন্তু চাইলেই একটু সংবেদনশীল হতে পারি অন্যের প্রতি।


      আমার বন্ধুয়া বিহনে

      জবাব দিন
    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      এককালে মানুষ ভূমিকম্পের কারণ জানতনা-সেই কারণ ব্যাখ্যা করার জন্যে প্রয়োজন হয়েছিল দেবতা পসেইডনের-যিনি কিনা সাগরতলে বসে ত্রিশুল দিয়ে আঘাত করার ফলে ভুমিকম্প হয় বলে ধারণা করা হত।বর্তমানে আমরা ভূমিকম্পের কার্যকারণ জানি-তাই প্রয়োজন ফুরিয়েছে পসেইডনের।

      যা কোনরকম যুক্তি-বুদ্ধি-বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়না এমন ঘটনা যদি মিরাকল হয়,তবে সেই আদিম মানুষের কাছে ভুমিকম্প বা সূর্যগ্রহণ কিন্তু মিরাকল ছিলো।কঠোর পরিশ্রম আর সাধনার দ্বারা বিজ্ঞানসাধকেরা একসময় সে জিনিসগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন-তাই এগুলো আজ আর মিরাকল নয়-প্রয়োজন ফুরিয়েছে পসেইডনেরও।

      আদিম যুগের বিজ্ঞানমনা/সংশয়বাদীদের প্রতি যদি প্রশ্ন করা হত-"ভূমিকম্পরে কোন যুক্তি দিয়া ব্যাখ্যা করবা??" তখন তাদের হয়ত তৎকালীন বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিশ্চুপ থেকে উত্তর বের করার সাধনায় মগ্ন থাকতে হত।অতৎপর যখন ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক কারণ তারা বের করে ফেলল,তখন এ প্রশ্নের উত্তরে তারা হয়ত বলেছিল-"কারণ জানতে চাইছিলা না?-এই হইল কারণ,পসেইডন মূল কারন না"

      আমার মনে হয় এখানে জ্ঞানপাপীর অস্তিত্ব নেই(যেহেতু বিজ্ঞানমনারা জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও 'সত্য"কে অস্বীকার করছেনা, বরং এই অজ্ঞানতা স্বীকার করে তা দূরীকরণে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে)।

      তবে একবার যখন কারণ বের হয়ে যায়(ভূমিকম্প,সুর্যগ্রহণ থেকে শুরু করে পুরুষের পেটে শিশু ইত্যাদির যেমন হয়েছে) তখন "পসেইডন" এবং তার অনুসারীরা মুখ কোথায় লুকায় সেটা ভেবে আশ্চর্য হই।

      জবাব দিন
    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

      হায়দার তোমার মন্তব্য খুবই আপত্তিকর।
      এবং একই সংগে তাহমিনুলের কোট করা লাইনটিও।
      কেউ সবকিছুতে যুক্তি খুঁজলেই 'জ্ঞানপাপী' হয়ে যায়?

      নতুন বছরের প্রথম দিন তাই কথা বাড়াচ্ছি না। তবে সিসিবির মডারেটরদের অনুরোধ করছি এই ধরনের আশোভন মন্তব্যকারীদের ব্যপারে সতর্ক হবার জন্যে।

      ধন্যবাদ।


      ---------------------------------------------------------------------------
      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

      জবাব দিন
    • মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)

      সামুতে এই একই লেখা দেখে একটা মন্তব্য করেছিলাম যা অলরেডি মাস্ফ্যু বলে ফেলেছে আরো বিস্তারিত করে। ওখানে লিখেছিলাম :

      "এক সময় আকাশে ওড়াটাও মিরাকল ছিল, দূরদূরান্ত থেকে কারো হ্যালো শোনাটাও মিরাকল ছিল, এমনকি চাঁদও মানুষের কল্পনার রাজ্যে মিরাকলের অপূর্ব নিদর্শন ছিল। এখন এগুলো কিছুই আর মিরাকল নয়। তাই এই ঘটনাকে মিরাকল বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ??? বরং এর পেছনের মূল রহস্য খোঁজাটাই মনে হয় বুদ্ধিমানের কাজ , তাই না ?"

      বিস্তারিত জানার আগেই মিরাকল দাবীকারীদের নিয়ে ইতিহাসই অনেক ঠাট্টা করেছে। আমাদের নতুন করে আর কিছু করার দরকার নেই মনে হয় 😛

      জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      হায়দার সাহেব এমনভাবে নিজের আস্তিকতাকে প্রমোট করলেন, আমার মনে হচ্ছে গডের সাথে উনার ডাইরেক্ট যোগাযোগ আছে। তার আরও জ্ঞানগর্ভ (জ্ঞানপাপী গর্ভ না, ওইটাতো নাস্তিকদের জন্য বরাদ্দ) মন্তব্য ও পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম।

      জবাব দিন
    • তোমার প্রস্তাবিত মিরাকলের সপক্ষে হাস্যকর লজিক জানতে চাইছো তুমি ডারউইনের জ্ঞানপাপী বন্ধুদের কাছ থেকে। লজিকই যদি তোমার কাছে হাস্যকর হয় তাইলে লজিকের কোন দরকার নাই তোমার, তোমার দরকার ডয়াগনসিস।

      জবাব দিন
  2. জিহাদ (৯৯-০৫)

    সবাই দেখি সব কিসু কইয়া ফালাইসে। আমি আর কি কইতাম 😀

    তবে ব্যক্তিগত ভাবে বিরুদ্ধ মতকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে না পারার সীমাবদ্ধতাকে আমার জ্ঞান মূর্খতা মনে হয়।


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  3. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
    ডারউইনের বন্ধু গুলারে জিগাই, এইটা কোন যুক্তি দিয়া ব্যাখ্যা করবা? যারা নাস্তিক ওরা ত মিরাকল বিশ্বাস করেনা। খালি যুক্তি খুজে। ওই জ্ঞানপাপী গুলার হাস্যকর লজিকের অপেক্ষায় রইলাম।

    হায়দার ভাইয়ের বিশ্রী মন্তব্যের জবাব সুশ্রীভাবেই দেয়ার চেষ্টা করছি:

    উপরে মাসরুফ ভাই সহ আরও কয়েকজন ইতিমধ্যে বিষয়টা বলে ফেলেছেন। তারপরও আমি আবার বিজ্ঞানের প্রক্রিয়াটা বোঝানোর চেষ্টা করছি:

    যখন কোন ঘটনার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না তখন বিজ্ঞানীরা আরও উৎসাহী হয়ে উঠেন। বিজ্ঞানের ধাপগুলো হচ্ছে:

    ১। পর্যবেক্ষণ
    ২। পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে প্রকল্প প্রণয়ন
    ৩। প্রকল্পটি পরীক্ষা করা
    ৪। পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হলে সেটাকে তত্ত্বে রূপ দেয়া
    ৫। ফলাফল নেতিবাচক হলে ২ নম্বরে ফিরে গিয়ে আবার নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করা।

    এই ব্লগে যে বিষয়টা উত্থাপন করা হয়েছে সেটা হল ১ নম্বর ধাপ। অর্থাৎ পর্যবেক্ষণ। এখন বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানীই এর উপর ঝাপিয়ে পড়ে একটি ব্যাখ্যা বের করার চেষ্টা করবেন।
    ব্যাখ্যা না পেলে আবার চেষ্টা করবেন, চলতেই থাকবে। বিজ্ঞানের অগ্রগতির কোন সীমা নেই, বিজ্ঞানের কোনকিছুই সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। এই আপাত মিরাকলের পেছনে একটা তত্ত্ব হয়তো আসবে, অনেকদিন পর সেই তত্ত্ব ভেঙে আবার নতুন কিছুও হবে। এটাই মানুষের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার উপায়। একজন বিজ্ঞানী কোন ব্যাখ্যা বের করতে না পারলে তার সারা জীবনের গবেষণা অন্যের হাতে হস্তান্তর করে শান্তিতে মৃত্যুবরণ করবে, সবাইকে বলে যাবে, মানবতার খাতিরেই আমার গবেষণা তোমরা চালিয়ে যেও।

    আর হায়দার ভাই এবং এই ব্লগের লেখক তাহমিনুল এর মনোভাব দেখে আমার মনে হচ্ছে তারা নিবেদিত বিজ্ঞানীদের বিচিতে লাত্থি মারার মাধ্যমে মানবতার অগ্রযাত্রা অবশ করার পর বাংলা ভাই স্টাইলে বলতে চাচ্ছে,

    "আর সামনে যাইস না তোরা। এইখানেই খাড়া, আর মাইন্না ল যে সবকিছু মিরাক্কল, কোনকিছুর কোন ব্যাখ্যা বাইর করবার চেষ্টা কইরা লাভ নাই। কারণ সবকিছু মহাগ্রন্থে লেখা আছে। উল্টা আগে যেসব বাইর করছিলি হেইগুলাও ফিরায়া ল। কত করবি, মুসলমানরা তো সব জানে। এইসব বাদ দিয়া তার চেয়ে বরং কোন বুজুর্গ আলেমের কাছ থেইক্কা দিক্ষা নে, ক্যাম্নে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোন উন্নতি না কইরা শুধু ঝারফুঁক দিয়া অ্যাম্নেই মইনষেরে ভালা কইরা ফেলন যায়, ঠিক এই আসমানী নিশানাটার মত।"

    এইসব মধ্যযুগীয় চিৎকার চেঁচামেচি শুনলে নিজেকে স্থির রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। তাই শেষ পর্যন্ত মনে হয় সুশ্রী থাকতে পারলাম না।

    জবাব দিন
    • মনিরুজ্জামান মুন (২০০২-২০০৮)

      মুহাম্মদ ভাইয়ের ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত,আপনি হায়দার ভাইয়ের মন্তব্যকে বিশ্রী বলে নিজেই বিশ্রী ভাষা ব্যবহার করেছেন ।
      আমি নিজে অনেক বেশি কিছু জানি না তবে আমার মনে হয় আমাদের সবার ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত ।
      আমি অনেক জুনিয়র মেম্বার,আমার মন্তব্য ডালভাত হিসেবেই নেবেন :just: 😀

      জবাব দিন
      • মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

        তোমার মন্তব্যের জবাব হিসেবে দিলেও এটা সবাইকে উদ্দেশ্য করেই বলা:

        আমার উপরের মন্তব্যটিতে আমার মনে হয় না আমি সিসিবি-র কোন নিয়ম লংঘন করেছি। নিচে হায়দার ভাই বলেছেন যে, তিনি ইচ্ছা করে এমন মন্তব্য করে সবাইকে নাড়া দিতে চেয়েছেন। উনার এই ইচ্ছামূলক মন্তব্যটাকে আমার কেমন মনে হয়েছে সেটাই কিছু ইনফর্মাল শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। কারণ আমি মনে করি, যৌন সংশ্লিষ্ট স্ল্যাং শব্দের মাধ্যমেই ডার্ক বিষয়গুলো সবচেয়ে ভালভাবে প্রকাশ করা যায়। হায়দার ভাইয়ের মন্তব্যটা বিজ্ঞানীধের বিচিতে লাত্থি মারার মতোই মনে হয়েছে বিধায় বলেছি। এর মাধ্যমে কিন্তু আমি কাউকে গালি দেই নি। বলেছি, উনার মন্তব্যটা বিজ্ঞানীদের বিচিতে লাত্থি মারার শামিল। এটা প্রগতিকে রহিত করার পেছনে যে ষড়যন্ত্র চলছে সেটার প্রতি আমার একটা প্রতিক্রিয়া মাত্র।

        এ ধরণের স্ল্যাং আমি সিনেমা রিভিও করতে গিয়ে আগেও ব্যবহার করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। কেউ চাইলে ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ বা বার্ন আফটার রিডিং নিয়ে করা আমার রিভিউ দুটো পড়ে দেখতে পারেন।

        জবাব দিন
      • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
        আমি নিজে অনেক বেশি কিছু জানি না তবে আমার মনে হয় আমাদের সবার ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত ।

        প্রায়ই বলা হয়ে থাকে, ধর্মকে আক্রমণ করা ঠিক নয়, কারণ ধর্ম মানুষকে নীতিবান করে। আমি তেমন শুনেইছি, দেখিনি।

        বারট্রান্ড আর্থার উইলিয়াম রাসেল

        জবাব দিন
  4. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    আমি নিজে মিরাকল বিশ্বাস করি না। তাই এই পোস্টে ঢোকার তেমন আগ্রহ বোধ করিনি। আজকে হঠাৎ করেই ঢোকা হলো। হায়দারের মন্তব্যটা যথেষ্ট আহত করার মত। ডারউইন বাদী নাস্তিক এই শব্দগুলো খুব সম্ভবত তার ভিশনের সীমাবদ্ধতা খুব স্পষ্ট করে তোলে।
    আমি নিজে আস্তিক কিন্তু আমি মিরাকলে বিশ্বাস করি না। তার কারণে কিছু না থেকে কিছু ঘটা সম্ভব না। আর নিয়ম মত হাজারটা ব্যাপার চলে তখন আল্লাহ খোদা নামানোর প্রয়োজন বোধ না করে আপাত অব্যাখ্যেয় কিছুর পিছনে আল্লাহকে খোঁজার মাঝে শুধু গোড়ামিই প্রতিফলিত হয়।
    আমার নিজের বক্তব্য দীর্ঘায়িত করলাম না। আপাতত বড় ভাই হিসাবে হায়দার আর ব্লগের লেখক দুজনের জন্য আমার অনুরোধ রইলো পরমত সহিষ্ণু হবার জন্য।

    জবাব দিন
  5. হায়দার (৯৮ - ০৪)

    আমি জানি আমার মন্তব্য টা অনেক অশোভন এবং আক্রমনাত্মক হয়েছে। তবে আমার সিভিক সেন্স যে নাই, তা কিন্তু না। আমি মন্তব্য টা ইচ্ছা করেই এভাবে করেছি। তার কারন সবাইকে একটু নাড়া দিতে চেয়েছি ( সি সি বি মডারেটর সহ) । এই সিসিবি তে আমি এমন কিছু পোস্ট পড়েছি যা অনেক যুক্তি নির্ভর আবার এমন কিছু পোস্টও আছে যেগুলো তে ধর্মকে সরাসরি আক্রমন করা হয়েছে। ধর্ম গ্রন্থ কে হেয় করে কথা বলা হয়েছে। হতে পারে কেউ ধর্মমতে বিশ্বাসী না, তাই বলে প্রকাশ্যে অন্যের অনুভুতি কে আঘাত করাও সমিচীন নয়। একজন সিনিওর ভাইয়ার একটা মন্তব্য মনে পড়ছে, তিনি বলএছিলেন, কাউকে যুক্তি শোনানোর আগে যদি তার বিশ্বাস কে আক্রমন করা হয়, তবে সে আপনার যুক্তি শুনবেই না, তা নিয়ে ভেবে দেখা ত দূরে থাক।
    সিসিবি তে লেখা ও মন্তব্য করার একটা কোড অব কন্ডাক্ট আছে। আমি সিসিবির সদস্য হবার পরই সেগুলো পড়েছি। কিন্তু আমি এমন কিছু পোস্ট এবং ভাষা দেখেছি যা ভয়ানক আপত্তিকর।

    আর হায়দার ভাই এবং এই ব্লগের লেখক তাহমিনুল এর মনোভাব দেখে আমার মনে হচ্ছে তারা নিবেদিত বিজ্ঞানীদের বিচিতে লাত্থি মারার মাধ্যমে মানবতার অগ্রযাত্রা অবশ করার পর বাংলা ভাই স্টাইলে বলতে চাচ্ছে,

    আমি আক্রমনাত্মক মন্তব্য করেছি কিন্তু স্ল্যাং ব্যবহার করিনি।

    যাই হোক, আমি নিজেও বিবর্তন নিয়ে পড়তে পছন্দ করি। কিন্তু কিছু লেখার মূল উদ্দেশ্যই যেন বিবর্তন নিয়ে দুটি কথা বলেই ধর্ম কে একহাত নেয়া। এই মনোভাব আমাকে বিস্মিত করেছে।
    আমার মনে হয়েছে এই লেখাটায় একটা মন্তব্য করে কিছু ব্যক্তির অনুভুতিতে একটু নাড়া দেয়া যায়। তাই দিলাম। আমিও এটাই বলতে চাই যে অন্যের বিস্বাস কে শ্রদ্ধা করেই আপনার বক্তব্য প্রকাশ করুন। তবেই আপনার যুক্তির গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে।

    জবাব দিন
    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      হায়দার, ইচ্ছা করেই একটা মন্তব্য করা, আর সেটা দিয়ে এভাবে নাড়া দেয়ার চেষ্টাটা কি আরেকটা নীতিমালায় পড়ে যায় না?
      সিসিবিতে ধর্মকে আক্রমণ করে কথা হলে সেটা রোধ করা মডারেটরের কাজ। আবার উল্টাটা হলেও সেটা তাদেরকেই দেখতে হবে। এর মাঝে পাঠক-লেখকদের মাঝে কেনো সেইটাকে উস্কায় দেয়ার প্রয়াস থাকবে?
      ===
      "বিবর্তন বনাম ধর্ম" এই তর্ক বা যুদ্ধের ব্যাপারটাই বাতুলতা। ধর্মের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্তির সীমানা পর্যন্ত। তার বাইরে ধর্ম কেবল জোর খাটায় আর হানাহানি-রক্তপাত ঘটায়। আর বিবর্তন একটা চলমান উন্মেষণের পদ্ধতি যা পুরো মানবজাতিকে নিয়ে চিন্তা করে, তার ইতিহাসকে নিয়ে চিন্তা করে। সুতরাং আমি যেমন লোহা আর রাবারের তুলনা করি না, ধর্ম বনাম বিবর্তন -এই ব্যাপারটাও "নেহাত নাড়া দেয়ার জন্যে" বলে মনে হয়।

      জবাব দিন
      • আতিক (১৯৯৫-২০০১)

        "ধর্ম কেবল জোর খাটায় আর হানাহানি-রক্তপাত ঘটায়"
        এইটা কিন্তু সত্য না ...আমরা যারা ধর্ম কে নিজের উদ্দেশে ব্যবহার করি তারাই এগুলা করি!ধর্ম কখনই কাউকে খারাপ কাজ করতে বা খারাপ পন্থা অবলম্বন করতে বলে নি!! শুধু ধর্ম কে এভাবে বলা কি ঠিক?
        আন্দালিব আশা করি আমার কথাটা বুঝতে পারস...

        জবাব দিন
        • আন্দালিব (৯৬-০২)

          আতিক ভাই, আমি শুধু ধর্মকে নিয়ে বলি নাই। ধর্ম নিজে একটা আইডিয়া ছাড়া কিছুই না। আমরা তাতে বিশ্বাস করি বলেই সেটা আমাদের কাছে গুরুত্ব পায়। যেমন ধরেন এই পৃথিবী জানেও না আন্দালিব নিজাম কে, কী করে, কী খায়। কিন্তু আমি পৃথিবীতে বাস করি বলে ভাবতে ভালোবাসি যে "আমি চলে গেলে পৃথিবীতে আমার চিহ্ন থাকবে তো"?

          আমি কথাটা বলেছিলাম যে ধর্মের গুরুত্ব ব্যক্তি পর্যায় পর্যন্ত ঠিক আছে। ব্যক্তির বাইরে ধর্ম বের হয়ে রক্তপাতই ঘটিয়েছে সবসময়ে।

          ধর্ম কখনই কাউকে খারাপ কাজ করতে বা খারাপ পন্থা অবলম্বন করতে বলে নি

          ভালো বা খারাপের অবস্থানটাও আপেক্ষিক। ধর্মের সঞ্চারপথ হলো ব্যক্তি-->পরিবার-->গোত্র-->সমাজ-->জাতি(রাষ্ট্র)। এভাবে যখন কোন আইডিয়ার ব্যাপন ঘটে তখন সেটা সবসময় জোর খাটিয়ে ঘটে। আর সব কথা বাদ দেই, আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মগুলোর প্রভাব-বিস্তারের ইতিহাস পড়ে দেখেন। জাতি থেকে জাতি, দেশ থেকে দেশে এগুলো দখলবাজের মতৈ ছড়িয়েছে। ছড়ানোর সময়ে "না-মানলে-কতল" নীতি খুব ভালো কাজ করেছে। এটা ধর্মের প্রসারের জন্যে "ভালো" হলেও যাদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের জন্যে মরণ!

          (যদিও এই কথাগুলো বলার জন্যে উপযুক্ত পোস্ট নয় তবু আপনার জন্যেই বললাম। আশা করি এটাকে সকলে আতিক ভাইয়ের সাথে আমার কথোপকথন হিসেবে আলাদা করে দেখবেন। 🙂 )

          জবাব দিন
          • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

            এই পোষ্টে (আসলে 'ধর্ম বনাম বিজ্ঞান-জাতীয়' যেকোন পোষ্টে; দুটো সম্পর্কেই আমার 'প্রয়োজনীয় জানা' কম বিধায়) কোন মন্তব্য করবো না বলে ঠিক করেছি।

            এখন যা' লিখছি যেটা তাই এই পোষ্ট-রিলেটেড না, এটা ধর্ম সম্পর্কে তোমাকে দুটো কথা বলার জন্য- (১) ধর্ম কখনওই শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরোটাই সামাজিক; শুধু বিশ্বাস নয়, সাথে প্র্যাকটিসও। আর (২) ধর্ম বিস্তার ব্যক্তির বাইরে 'সব সময়' রক্তপাত ঘটিয়েছে সেটা আংশিক সঠিক; রক্তপাত ছাড়াও ধর্মের বিস্তার ঘটার অনেক ইতিহাস আছে।


            There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

            জবাব দিন
            • আন্দালিব (৯৬-০২)

              মাহমুদ ভাই, আপনার বলা কথা দুটো আমি জানি, তবুও আপনি মনে করিয়ে দিলেন বলে থ্যাঙ্কস। ধর্মের বিস্তার রক্তপাতহীন ও রক্তপাতসহ ঘটেছে এমন দুটো উদাহরণকে একই পাল্লায় মাপা যায় না। প্রথমটি যতোই সৌহার্দ্য ঘটিয়ে সম্পন্ন হোক না কেন, দ্বিতীয়টি ঘটেছে এক বা একাধিক মানুষের মৃত্যুর (এবং তাদের সাথে জড়িয়ে থাকা প্রাণগুলোর অপরিসীম ক্ষতির) মাধ্যমে। কোন ধর্মীয় আচারের অস্তিত্ব একজন মানুষের জীবনের চেয়ে বড়ো হতে পারে না।
              সেইসাথে এই প্রশ্নটিও চলে আসে যে একটি ধর্ম যখন প্রসারের পর্যায়ে মানুষের রক্ত মেখে ছড়ায় সেটি মানুষের জীবনযাপনের জন্যে কতোটা উপযুক্ত।

              আংশিক সঠিক কথাটি সম্ভবত এই জায়গায় গিয়ে অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

              জবাব দিন
    • মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

      আমার উপরের মন্তব্যটিতে আমার মনে হয় না আমি সিসিবি-র কোন নিয়ম লংঘন করেছি। হায়দার ভাই বলেছেন যে, তিনি ইচ্ছা করে এমন মন্তব্য করে সবাইকে নাড়া দিতে চেয়েছেন। উনার এই ইচ্ছামূলক মন্তব্যটাকে আমার কেমন মনে হয়েছে সেটাই কিছু ইনফর্মাল শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। কারণ আমি মনে করি, যৌন সংশ্লিষ্ট স্ল্যাং শব্দের মাধ্যমেই ডার্ক বিষয়গুলো সবচেয়ে ভালভাবে প্রকাশ করা যায়। হায়দার ভাইয়ের মন্তব্যটা বিজ্ঞানীধের বিচিতে লাত্থি মারার মতোই মনে হয়েছে বিধায় বলেছি। এর মাধ্যমে কিন্তু আমি কাউকে গালি দেই নি। বলেছি, উনার মন্তব্যটা বিজ্ঞানীদের বিচিতে লাত্থি মারার শামিল। এটা প্রগতিকে রহিত করার পেছনে যে ষড়যন্ত্র চলছে সেটার প্রতি আমার একটা প্রতিক্রিয়া মাত্র।

      এ ধরণের স্ল্যাং আমি সিনেমা রিভিও করতে গিয়ে আগেও ব্যবহার করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। কেউ চাইলে ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ বা বার্ন আফটার রিডিং নিয়ে করা আমার রিভিউ দুটো পড়ে দেখতে পারেন। সেখানে হয়তো বাংলা যৌনবোধক অশ্লীল শব্দ পাবেন না, তবে ইংরেজি পাবেন। এখানে বাংলা ব্যবহার করায় হয়তো বেশি লাগামছাড়া মনে হয়েছে। তারপরও আমি এটাকে ঠিক মনে করেছি।

      জবাব দিন
    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)
      আমি জানি আমার মন্তব্য টা অনেক অশোভন এবং আক্রমনাত্মক হয়েছে। তবে আমার সিভিক সেন্স যে নাই, তা কিন্তু না। আমি মন্তব্য টা ইচ্ছা করেই এভাবে করেছি।

      সিসিবির মডারেটররা কি ঘুমাচ্ছেন? একজন সদর্পে ঘোষনা করলো যে সে ইচ্ছা করে সিসিবিতে অশোভন মন্তব্য করেছে তারপরেও তাকে কিছু বলা হচ্ছে না। দুঃখজনক।

      একজন সিসিবি সদস্য এবং পাঠক হিসেবে আমি হায়দারের এই মন্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়ে গেলাম। বাকি মডুদের ইচ্ছা।

      এবং ইচ্ছা করে অশোভন মন্তব্য করার পর স্ল্যাং ছাড়া মধুর কথা শুনতে চাওয়াটাও অশোভন এটাও জানাতে চাই।


      ---------------------------------------------------------------------------
      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

      জবাব দিন
      • আমিন (১৯৯৬-২০০২)

        কামরুল ভাইয়ের সাথে তীব্র সহমত।

        তার কারন সবাইকে একটু নাড়া দিতে চেয়েছি ( সি সি বি মডারেটর সহ)

        এটা যথেষ্ট উস্কানিমূলক মনে হয়। নাড়া দেয়ার জন্য অশোভন মন্তব্য করাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সেটাও ভেবে দেখার দরকার।
        আমার মনে হয় এতদিন সিসিবিতে নানারকম তর্ক বিতর্ক হয়েছে। সেখানে সবাই নিজেদের পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা করেছে। কিন্তু উস্কানি দেয়ার ব্যাপারটা খুব বেশি ঘটেনি। তাই রেড বুকে সুনির্দিষ্টভাবে এর বিরুদ্ধে কিছু বলা নাই। কিন্তু ব্লগকে নাড়া (!!!) দেয়ার জন্য উস্কানিমূলক মন্তব্যকে নিরুৎসাহিত করতে রেডবুকে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ থাকার প্রয়োজন।
        আমার নিজের মত বললাম। সবার মতের বিবেচনাতেই এব্যাপারে ডিসিসশন নেয়া হোক।

        জবাব দিন
  6. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    একটা জিনিস অশোভন মনে করার পর তার বিরুদ্ধে কথা সেখানেই বলা উচিত । আর এখানকার আগের মন্তব্যটা যে খুবই স্থূল হয়েছে সে বোঝার মত বোধ যে তোমার আছে তা এই মন্তব্যে বোঝা যায় বেশ । তোমার কার্যকলাপে বেশ অবাক হচ্ছি । সব গুলো মন্তব্য পড় নিরপেক্ষ ভাবে ।

    জবাব দিন
  7. রহমান (১৯৯৮ -২০০৪)

    এতো সব জ্ঞানীগুণী :-B ভাইদের লেখা পরে মনে হচ্ছে এই শীতে ব্লগের তাপমাত্রা একটু বেশি বেড়ে গেছে। :gulli2:
    আসুন আমরা সবাই ঠান্ডা হই , পরস্পরের প্রতি সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল হই। 😡
    আমি নিজে আস্তিক। তবে বিজ্ঞানের প্রমানিত বিষয় গুলো আমি নির্দ্বিধায় মেনে নেই এবং নিব। তাই প্রস্তাবিত জিনিস গুলো প্রমানের অপেক্ষায় আছি।
    মিরাকলের যে ঘটনাটা এখানে তাহমিন লিখেছে সেটা রেয়ার ঘটনা। সেজন্য এটা মিরাকল। অথচ আমাদের আশেপাশে প্রতিদিন কত ঘটনা ঘটে (যেগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখা )আছে সেগুলোকে একটু ও মিরাকল মনে হয়না। যেমন একটা নরমাল বাচ্চার জন্ম নিতান্তই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু প্রতিদিনই অনেক অস্বাভাবিক শিশু জন্ম নেয়। কারন কোন জীনে মিউটেশন হয়ে যায়, কখনও দেখা যায় কিছু এনজাইম ডেফিসিয়েন্সি ঘটে জীন মিউটেশন এর কারনে। অস্বাভাবিক শিশু জন্ম নেবার অনেক অনেক কারন আছে। একটা স্বাভাবিক শিশু জন্ম নিতে হলে এই সব গুলো স্টেপ নরমাল হতে হয়। বিজ্ঞান এই প্রসেসটাকে ব্যাখ্যা করেছে ঠিকই কিন্তু এটাও কম মিরাকুলাস নয়।

    জবাব দিন
  8. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)

    আমিও অন্য সবার মতই একমত, আপাত ভাবে এটি মিরাকল বলা যেতে পারে তবে এটিএ ব্যাখ্যা হয়ত অচিরের পাওয়া যাবে...।। আমার মনে হয় সবাই ব্যাপারটা বুঝি।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।