শিরোনাম দেওয়ার কিছু পেলাম না

প্রথম আলো খুলে ই সকালে দেখলাম “সাকা চৌধুরীর বিচার শুরু; একাত্তরে গণহত্যা, নির্যাতন, লুটপাত করেছেন সাকা শীর্ষক খবর। পুরো হেডলাইনে। ভালো কথা। আমি পুরোপুরি একাত্তরে মানবতা বিরধী কর্মকাণ্ডের বিচার চাই। পুরোপুরি পক্ষে। নিউজ টা দেখে বেশিরভাগ মানুষের ই খুশি হওয়ার কথা। আমি এখন একটু বর্তমানে আসি। নিচে আমি বর্তমানে ঘটেচলা ঘটনার একটি তুলে ধরছি। আপনারা ই মিলিয়ে দেখুন যে বর্তমানের ঘটনার অপরাধ ও ওই সাকার একাত্তরের অপরাধে কি মিল পান কি না।

সাতক্ষীরায় ৭ সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে

পুলিশ ছিল নীরব দর্শক॥ হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট পূর্বপরিকল্পিতঃ

চারদিকে পোড়া গন্ধ। হাঁড়ির ভাত, মেটেতে রাখা চাল, পোড়া কাপড়, হাঁড়ি পাতিল, ঘরের চালের টিন আর মাটির পোড়া গন্ধের মধ্যে বসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে চাকদহা গ্রামের ৭টি সংখ্যালঘু পরিবার। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ব্যবসায়ী পরিবারে সহায় সম্বল আর খাদ্য সবই ছিল। সোমবার সকালে এসব পরিবারে চলছে সব হারানোর বোবা কান্না। প্রচ- রোদে মাথা গোঁজার ঠাই নেই। গৃহবধূ থেকে স্কুলছাত্র সকলেই একটি পরিধেয় বস্ত্রে এখন দিন কাটাচ্ছে। রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ সব পরিবারে কোন চুলো জ্বালানো সম্ভব হয়নি। ভাংচুর, লুটপাট আর অগ্নিসংযোগে এরা এখন নিঃস্ব। কালিগঞ্জের ফতেপুরে ধর্মান্ধদের চাকদহা গ্রামের নারকীয় তান্ডব হার মানিয়েছে ’৭১-এর পাকসেনা ও তাদের দোসরদের।

 

ঘটনার সূত্রপাত যে কারণে:

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কালীগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ডিগ্রী বাংলা ভাষা পাঠ্য বইয়ের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের লেখা ‘হুজুর কেবলা’ নাটকটি অভিনয় করে। এই নাটকে নবীজী সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে এই অভিযোগে স্থানীয় একটি দৈনিকে ২৯ মার্চ রিপোর্ট প্রকাশিত হলে উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় বাদী আবু জাফর সাপুই লিখিত অভিযোগে বলেছেন, দৈনিক দৃষ্টিপাতে এ বিষয়ে লেখা প্রকাশিত হলে কালীগঞ্জসহ ফতেপুর ওই এলাকায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা মিছিল মিটিং করে আসামিদের বিচার দাবি করে। এ কারণে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলামসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন।

কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এই মামলায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকে ডেকে এনে গ্রেফতার করলেও শনিবার সকাল থেকে বহিরাগত কয়েক হাজার মানুষ গ্রামে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। রাতে তারা হাজতে আটক স্কুল শিক্ষিকা মিতা রানীর বাড়িসহ আরও ৩টি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং লুটপাট করে। পুলিশের উপস্থিতিতে এই নারকীয় তা-ব হলেও কালীগঞ্জ থানার ওসি ফরিদউদ্দিনসহ পুলিশের জেলা পর্যায়ের চেন অব কমান্ড ভেঙ্গে যায় বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ করেন। এই হামলা ও উত্তেজনায় মদদদাতা হিসেবে প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে কালীগঞ্জ থানায় থাকা ওসি ফরিদ উদ্দিনের প্রত্যাহারসহ জেলা পুলিশের প্রত্যাহার দাবি করেন। ফতেপুর গ্রামে অব্যাহত হামলা ও তান্ডবের পর রবিবার ফতেপুর গ্রামবাসী এলাকায় শান্তি মিছিল ও প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ফতেপুর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে চাকদহা গ্রামে একই ইস্যুকে পুঁজি করে এই হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়। হামলায় অংশ নেয়া অধিকাংশ ব্যক্তির ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
source:  দৈনিক জনকণ্ঠ
বিস্তারিতঃ  http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=15&dd=2012-04-03&ni=91993

আমি উপরের বেশিরভাগ অংশ ই কপি পেস্ট করেছি। এবার আমি আমার নিজের কয়েকটা কথা বলি।একবার একটু ভেবে দেখুন তো , আপনার ঘর বাড়ি পুড়ছে আপনার চোখের সামনে, আপনি নেভাতে ও পারছেন না। অসহায়, অদৃশ্য শিকলে বন্দি। আপনার চোখে শুকিয়ে যাওয়া জল শুধু চোখটা পোড়াচ্ছে, আগুন নিভাতে পারছে না।
আমি কখন ই ধর্ম নিয়ে লাফালাফি করি না। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি কার অনুভুতিতে আঘাত করা পছন্দ করি না, আঘাত করি ও না। উপরের ঘটনা যে সাম্প্রদায়িক অনুভুতি থেকে সৃষ্ট এটা যে কেউ ই বুঝবে। আমার কথা হচ্ছে, আমরা যদি এই ঘটনাটাকে সাম্প্রদায়িক না ধরে মানবিক ধরি তাহলে ও কি কোন ক্ষতি আছে? প্রশাসন বেডরুমের নিরাপত্তা দিবে না, সুষ্ঠু ভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিবে না, তাহলে দিবে টা কি? হুমায়ূন আহমেদ এর একটা কথা আমি খুব মানি। আমরা বাঙালি রা সবাই “গোল্ড ফিস“। একুরিয়ামের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে গেলে ই পূর্বের প্রান্তের কথা ভুলে যাই। আমাদের প্রশাসন (সে যে ই হোক, কারন যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবন) এই সত্য তা জানে ভাল করে ই। তারা তাই কিছু করেন না কোন ঘটনা ঘটার পর। শুধু অপেক্ষা করেন জনগণের ওই ঘটনা ভুলে যাওয়ার। একটা প্রশ্ন করে শেষ করছি, ” দেশটা কি মৌলবাদীর নাকি বাঙ্গালীর? ” উত্তর ভেবে দেখার অবকাশ আপনাদের সবার।

৬০৯ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “শিরোনাম দেওয়ার কিছু পেলাম না”

  1. তাওসীফ হামীম (০২-০৬)

    যতদিন ধর্ম থাকবে,ঠিক তত দিন ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা থাকবে। এবং এই অনুভূতি বড্ড সংক্রামক। একজন ডাক দিলে আরও দশজন নাঙ্গা হয়ে নাঙ্গা তরবারি নিয়ে ঝাপিয়ে পরবে। তোমাকে সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।


    চাঁদ ও আকাশের মতো আমরাও মিশে গিয়েছিলাম সবুজ গহীন অরণ্যে।

    জবাব দিন
  2. তানভীর (২০০১-২০০৭)

    সুশান্ত, তোমার লেখার বিষয় আমি মনে করি আমাদের সকলকে ভাবাবে। সত্যই আমরা যে কবে শিখবো............!!!! আর আমি আমার ব্যক্তিগত ভাবনা থেকে বলি, আমার বাড়ি সাতক্ষীরা। আমাদের এলাকাতে বিশেষ করে বেশ কিছু বিশেষ জায়গায় এমন মানসিকতার প্রমাণ আমি নিজেই লক্ষ্য করেছি। প্রতিবাদ করতে যেয়ে দেখলাম আমাকে অনেক সময় থেমে যেতে হয়েছে। কারণ যারা জেগে জেগে ঘুমায় তাদের ঘুম ভাঙানর সাধ্য কার আছে বল। আশাকরি আবার সবাই মানুষ হবো একদিন।


    তানভীর আহমেদ

    জবাব দিন
    • সুশান্ত (০৩-০৯)

      আমার বাড়ি বাগেরহাট। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমাদের এলাকায় হিন্দুদের বাংলাদেশ ছেড়ে ইন্ডিয়া চলে যাওয়ার প্রবনতা বেশি। আমার মনে প্রশ্ন ছিল "কেন এরা চলে যায়? আমি আমরা তো আছি ঠিক ই, ওরা পারে না কেন?" পরে আস্তে আস্তে বুঝতে শিখলাম যখন থেকে বুঝতে পারলাম একটা সত্য। কোন হিন্দু যদি এটা মনে করে ইন্ডিয়া চলে যায় যে "বাংলাদেশ আমার দেশ না " তাহলে এই কথা তাকে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করেছে তার পারিপার্শ্বিকতা। আর সে ইন্ডিয়া যায় এ জন্য না যে সে ইন্ডিয়া খুব ভালবাসে, যায় এ কারনে ই যে তার আর কোথাও যাওয়ার নেই। আমি ইন্ডিয়া গিয়ে কমপক্ষে ৫ টা ফ্যামিলী দেখেসি যারা একটু ও সুখে নেই ইন্ডিয়া চলে গিয়ে। তাহলে কেন যায় তারা? ছোটোবেলা থেকে "নোমো", "মালাউন" এ গুলো শুনতে শুনতে এখন ত এগুলো স্বাভাবিক হয়ে গেসে। মাঝে মাঝে ভাবি আমরা বুঝি মানুষ না আমরা মালাউন।

      ..................রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।

      জবাব দিন
  3. রেজা শাওন (০১-০৭)

    পড়াশুনা শেষ করে দেশে ফিরে কি করবো সেটা নিয়ে মাঝে মাঝে চিন্তিত হয়ে পড়ি।

    গত কয়দিন আগে অনেক ভেবে বের করলাম,কিছু না করতে পারলে পীর হয়ে যাব। নামের আগে বিদেশ ফেরত পীর টাইটেল থাকবে। আমার এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন ভাল পীরের আগমন ঘটে নাই। আমিই প্রথম হব ইনশাল্লাহ। আমার এলাকার লোকজন খুবই ভাল সহজ সরল। সরল লোকজনকে বোকা বানানো যায় খুব সহজে।

    মাঝে মাঝে চিন্তা করি, কোনভাবে কি আমাদের মধ্যে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিংবা হয়েছে অনেক আগে?

    উত্তর পাই নি। আমার এলাকায় সাঁওতাল, মুসলমান, মারয়ারী সম্প্রদায়ের লোকজন বহুকাল ধরে একসাথে আছে। রোজার মধ্যে দুর্গা পুজা হয়েছে।ঝামেলা হয়েছে কখনো এমনটা শুনিনি। ভবিষ্যতেও যে শুনবো না, এটা খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

    জাতি হিসেবে আমরা খুব বেশি অসাম্প্রদায়িক। অন্তত আমাদের ইতিহাস এমনটাই বলে।

    তাই সাম্প্রতিক সময়ের এই ব্যাপারগুলো যে পুরোপুরি রাজনৈতিক এটা আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি। আমাদের সহজ সরল ভাল মানুষগুলোর মাঝে যে, কিভাবে বিভেদ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটা আমরা টেরই পাচ্ছি না।

    আর বিশ্বাস বাস করে মানুষের হৃদয়ে। কোন ধর্মে না। ঠিক সেভাবেই অবিশ্বাস বাস করে সব জায়গায়। (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
      • সুশান্ত (০৩-০৯)

        সত্যি বলতে কি আমাদের এলাকায় ও অনেকটা এমন ই ছিল। হিন্দু মুসলিম একসাথে ই ছিল। বিরোধ ছিল না। রোজার ভিতর পুজা হয়েছে,তেমন কোন সমস্যা হয় নি। আর এখন শুনি কিছুদিন আগে একটা পুজা নিয়ে মারামারি হইছে। কারন টা একটু মজার। হিন্দুদের কোন একটা পুজা হচ্ছিল। সেখানে যথারীতি সেচ্ছাসেবী ছিল ২০ জনের মত, যাদের কে ২০ টা টি-শার্ট দেওয়া হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু মানুষ (যারা সবাই ই মুসলমান ছিল) তারা এসে বলল আমরা অ সেচ্ছাসেবী থাকব, আমাদের ও টি-শার্ট দেওয়া লাগবে। এটা নিয়ে কথাবার্তা হতে হতে মারামারি। অবশেষে তরিঘরি করে পুজা শেষ। এই হচ্ছে অবস্থা।

        ...আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।

        বাই দা ওয়ে আপনার এলাকা কোথায়? (সম্পাদিত)

        জবাব দিন
  4. নাফিজ (০৩-০৯)
    জাতি হিসেবে আমরা খুব বেশি অসাম্প্রদায়িক। অন্তত আমাদের ইতিহাস এমনটাই বলে।

    শাওন ভাই পুরোপুরি একমত হতে পারলাম না। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতা উপমহাদেশের বিচারে তুলনামূলকভাবে কম, মানছি। কিন্তু খোলা দৃষ্টি নিয়ে তাকালে যেটুকু চোখে পড়ে সেটা কি কম ভয়াবহ নাকি!

    হিন্দু- মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা মধ্যবিত্ত তরুণ জেনারেশনের মধ্যে আস্তে আস্তে কমে আসছে, এটা মানি। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে ছবিটা বিশ বছর আগে যা ছিলো তার চে কি খুব একটা পাল্টেছে?
    আর শুধু হিন্দু- মুসলিম কেন, গ্রামবাসী-গ্রামবাসী গরু- ছাগল নিয়ে মারামারি, বিয়ে দেওয়ার সময় বংশ-পরিচয় নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, কাজের বুয়া-রিকশাওয়ালাদের সাথে ব্যবহার এগুলোও কি রেসিজম না ? আর কোন দেশে আছে এই জিনিস ?

    একই মারপ্যাঁচে মানুষ একবার বোকা হয়, বাংলাদেশের মানুষ হচ্ছে দুইবার। ৪৭ এ ধর্মের নাম করে একবার বোকা বানানো হলো, নব্বইয়ের পরে এসে দেখা যাচ্ছে আবার সেই ধর্মব্যবসায়ী দলগুলোই ক্ষমতায় যাচ্ছে। একটা রাজাকার কিভাবে ভোট পেয়ে এমপি হয়? সুশান্ত ঠিকই বলেছে, বাংলাদেশের মানুষ গোল্ডফিশ মেমোরি।

    ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এখনো যে কি ব্যাপকভাবে গ্রামের মানুষজনকে প্রভাবিত করে সেটা তারেক মাসুদের "রানওয়ে" ছবিতে একদম বাস্তবভাবে ফুটে উঠেছে। সামনে আবার ধর্মব্যবসায়ীরা আসছে ক্ষমতায়... খেলা তো শুরুই হয়নি এখনো।

    যে দেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর ধর্ম, যে দেশের মানুষ বার-বার, বার-বার
    এইসব মোল্লা-মাওলানা-আল্লামাদের আদর করে ক্ষমতায় বসায়, সেই দেশের সাম্প্রদায়িকতাটা পুরোপুরি রাজনৈতিক বলে আমার মনে হয়না...সমস্যাটা মানসিকতায়, সাম্প্রদায়িকতার বীজ বহু আগে থেকেই আমরা মনের মধ্যে বয়ে নিয়ে চলেছি। কখনো জেনেশুনে, কখনো না জেনে-উত্তরাধিকারসূত্রে।

    লেখাটা খুব ভালো হইসে :thumbup:
    কাহিনী হলো, সমস্যাটা তো নতুন না, নতুন কোন সমাধানের আশায় বসে থাকি, যদি কেউ দিতে পারে।
    আশাবাদী হতে হতে ক্লান্ত- তবু আর কোন অপশন নাই যে।


    আলোর দিকে তাকাও, ভোগ করো এর রূপ। চক্ষু বোজো এবং আবার দ্যাখো। প্রথমেই তুমি যা দেখেছিলে তা আর নেই,এর পর তুমি যা দেখবে, তা এখনও হয়ে ওঠেনি।

    জবাব দিন
  5. আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

    এটা নিঃসন্দেহে পুর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যমূলক। ভাই আমি একটা সোজা কথা বলতে চাই, তা হল- যতদিন ধর্ম থাকবে ততদিন ধর্মব্যবসা , সংখ্যালঘু নির্যাতন, ধর্মের নামে অগ্নিসংযোগ বা নরহত্যা থাকার সম্ভাবনা যে কোন সময় মাথাচাড়া দিয়ে ঊঠবে। এ বিষয়ে ধার্মিকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। ধর্মের নামে কেউ অধর্ম করলে তাকে প্রতিহত করার দায়িত্ব সেই ধর্মের ধার্মিকদেরই, অন্য কারো নয়। যেখানে যে ধর্মের নামে অন্যায় হবে সেখানে সেই ধর্মের মানুষদেরই প্রতিবাদ করতে হবে, যদি তারা প্রমান করতে চায় তাদের ধর্মটা কেবল মানুষের কল্যানের জন্যই, কিছু নরপশুর পাশবিকতা উল্লাস প্রকাশের জন্য নয়।

    জবাব দিন
  6. নাজমুল (০২-০৮)

    আমার কাছে কেন যেন মনে হয় বাঙ্গালীরা খুব বেশি রেসিস্ট, বিদেশে আসার পর সেটাই মনে হলো। আমি ১/২ সপ্তাহ আগে লন্ডণ এর বাইরে ছিলাম একটা ইন্ডিয়ান রেষ্ট্রুরেন্ট এ ৬ সপ্তাহ এর জন্য। আমাদের বাসায় একজন ইংলীশ লোক থাকতো, আমাদের সাথেই খাওয়া দাওয়া করতো, কিন্তু তাদের জন্য আলাদা প্লেট গ্লাসের ব্যাবস্থা। তাদের প্লেট এ অন্য কেউ খেতনা, কারণ সে ননমুস্লিম। এমন না যে সে শুয়োর খায়, খায় তো আমাদের সাথেই।
    আর হিন্দু বাঙ্গালী ছিল ২ জন তাদের জন্য সেইম ব্যাবস্থা, তারা না থাকলে তো তুমি যেই গালি গুলা দেয়ার কথা বলতা ওগুলার খই ফুটতো।

    এই নিয়ে একটা দিব কিছুদিন পর।
    সুশান্ত এটা নিয়ে তোমাকে কোনো স্বান্তনা দিবনা। কারণ এই দেশের নাগরিক তুমিও আমিও, আর যাদের আক্রমণ করা হয়েছে তারা আমাদের দেশের মানুষ। তারা কোন ধর্মের সেটা ভাবার দরকার নাই।
    ভালো থেকো এবং ধন্যবাদ জানাই তোমার লেখার জন্য। তবে খুশি হতাম, অন্য কেউ লিখলে, সেই ধর্মের কেউ যেই ধর্মের নামে লোকজন এমন জঘন্য কাজ করেছে.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।