একটি শিরোনামহীন গল্প

-হ্যালো, কোথায় তুমি?
-এইত আর ৫ মিনিট।
-দশ মিনিট আগেই তো বললে ৫ মিনিট, এখনও ৫ মিনিট শেষ হল না তোমার…
-দাড়াওনা বাবা আর কিছুক্ষন, ২ বছর আগে তো ঘন্টার পর ঘন্টা আমার জন্য ওয়েট করতে,
শুধু আমার মুখের একটা কথা শোনার জ়ন্য……এইত আমি বের হলাম রুম থেকে, তুমি রিকসা ঠিক করেছ তো ?
-হ্যা করেছি, তুমি আস তাড়াতাড়ি…
-এইত লিফট এ আমি…

::২ বছর আগে, কোনো এক রাতে::

-হাই…
-হ্যালো…
-কি ব্যাপার, সাড়ে বারটা বাজে, আজকে আসতে এত লেট হল যে তোমার?
-আর বলো না……… পিউলি র বিয়ে তে গিয়েছিলাম, বললাম না তোমাকে কালকে।
তুমি কখন এসেছ নেটে?
-কখন আর আসব, প্রতিদিন যখন আসি তখন এ এসেছি।
-ওওও সরি, দেড় ঘন্টা ধরে তুমি তাহলে নেটে ।
-হহম……মুভি দেখছিলাম, আর ওয়েট করছিলাম তোমার জন্য।

-আচ্ছা এখন তো আমরা চাইলে মোবাইলে কথা বলতে পারি, তাই না।
-না পারিনা…
-কেন? কি সমস্যা মোবাইলে কথা বললে?
-কি দরকার মোবাইলে কথা বলার………সব সময় আমরা এভাবেই নেটে কথা বলব।
-হ্যা হ্যা……আর আমি এভাবে প্রতিদিন দেড় ঘন্টা করে ওয়েট করব, আর তারপর তুমি আসবে, তাই না?
-ঠিক আছে তাহলে, তোমার যদি কোন প্রব্লেম থাকে তাহলে কাল থেকে আর আমরা কথা বলব না।
-ওকে ওকে ঠিক আছে, আমার কোন প্রব্লেম হয়নি, শুধু শুধু রেগে জাও কান বল তো,
তুমি রেগে কথা বললে ভাল লাগে না।
-হা হা হা………ফ্লার্ট করছ, তাই না?
-না না ফ্লার্ট কানো করব, আমরা দুজন ত অনেক ভাল ফ্রেন্ড, এমনিই বললাম আর কি।

-তোমরা ছেলেরা মেয়েদের কাছ থেকে সবসময় মোবাইল নাম্বার নেয়ার জন্য ব্যস্ত থাক কেন বলতো,
এই তোমাদের জন্য আমরা দোকান থেকে ব্যালেন্স রিচার্জ করাতে পারি না,
সেইদিন এক দোকানে রিচার্জ করালাম, হোস্টেলে আসতে না আসতেই দেখি sms।
-বাহ বাহ অনেক ছেলেই দেখি তোমার জন্য পাগল……
-চুপ থাক শয়তান, তোমরা সব ছেলেরাই আসলে খারাপ।
-দেখ,তোমার নাম্বারটা আমার কাছে থাকলে,
তুমিযে আসতে দেড় ঘন্টা লেট করবে তা আমি একটা কল দিয়েই জানতে পারতাম।
তবে এটা sure আমি ওই দোকানদারের মত রোমান্টিক sms দিতাম না।
-হ্যা হ্যা নাম্বার পেলে তুমি মনে হয় এভাবে আর chat করতে আমার সাথে।
তোমরা সব ছেলেরাই আসলে খারাপ, প্রথমে নাম্বার তারপরই, চল ওই রেস্টুরেন্ট এ দেখা করি আজকে।
-ছেলেদের নিয়ে ভালই experiment করেছ দেখি,
ঠিক আছে তোমার নাম্বার লাগবে না, এভাবেই কথা বলব আমরা সবসময়।
ছেলেদের সম্পর্কে তোমার এমন উচ্চ ধারনা দেখে অনেক ভাল লাগলো আজকে।

-আরে তুমি দেখি মাইন্ড করলে।
-না না মাইন্ড করিনি। তারপর বলো, কি কি করলে আজকে বিয়েতে, কেমন মজা হল?
-নাহ, বেশি লোকজন কখনোই আমার ভাল লাগে না,
আচ্ছা আমার মোবাইল নাম্বার পেলে কি তুমি আমাকে দিনের বেলাতেও কল দিবে?
-না না বাবা, লাগবেনা তো তোমার নাম্বার, আমার এভাবে নেটে chat করতে বেশি ভাল লাগে।
-আহ শোনো না, আমার কয়েকটা ফ্রেন্ড কে দেখি সারাদিন মোবাইল এ bf এর সাথে
একটু পরপরই কথাবলে, কি এত কথা বলে ওরা সারাদিন?
– কিভাবে জানব বলো, আমিতো কারো bf না আর আমার কোন gf ও নাই।
-হ্যা হ্যা জানি আমি, বলেছ অনেকবার।

-আচ্ছা, তোমার কোন sim গ্রামীন নাকি বাংলালিংক?
-বাংলালিংক………
-ও, তাহলে তো আমাকে কল দিলে তোমার অনেক টাকা খরচ হবে, আমিতো একটেল ইউজ করি।
-আরে ভাই বললাম তো তোমাকে আমি দিনে রাতে কখনই কল দিবনা,
তুমি যে নাম্বার ই ইউজ করনা কেন, এভাবে chat করতেই বেশি ভাল লাগে আমার।
-দেখ, এখন নাম্বার দেয়ার মুডে আছি, নিলে নাও, নাহলে কিন্তু আর সারা জীবনে পাবে না………
-হা হা হা…………আচ্ছা দাও।

শেষ কথা::

-২০ মিনিট ধরে আমি রোদে দাড়িয়ে আছি আর তোমার সাজগোজ শেষেই হয়না,
এত লেট করো কেন সবসময়।
-ইসস, তুমি এমন বাচ্চাদের মত কর কেন,
একটু রোদে দাঁড়িয়ে থাকলে কি হয়, আর birthday ‘র দিন এত রাগ করতে হয় না বুঝেছ birthday boy.
happy birthday জান।
-হমম, thanks।
-এখনও রাগ করে আছ তুমি………ঠিক আছে, চলো Anderson এ যাই,
কর্নার টেবিলটায় আজকে আমরা সারা দিন বসে গল্প করব।
-ঠিক আছে চলো, ২ বছরের অনেক পুরানো স্মৃতি জমে আছে ওই টেবিলটায়।

১,২০৬ বার দেখা হয়েছে

১৬ টি মন্তব্য : “একটি শিরোনামহীন গল্প”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।