এক দিনের ভণ্ডামি আর কত???

আমরা বাঙ্গালীরা হুজুগে পাগল, এটা মোটামুটি আমরা সবাই ই এক কথায় স্বীকার করবো। আর তা যদি হয় বিশেষ কোন দিবসকে কেন্দ্র করে তাহলে তো কথাই নেই। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস,শহীদ দিবস কোনটাই এর বাতিক্রম নয়। শুধু ওই বিশেষ দিনটিতেই যেন সবার মনে পরে দিনটির কথা।ক্যালেন্ডার এর পাতা উল্টালেই ভুলে যাই দিনের কথা এবং শুরু হয় পরবর্তী অন্য কোন বিশেষ দিবসের জন্য প্রস্তুতি।

এই হুজুগে মাতাল হওয়া টা খুব বেশি মাত্রায় যেসব দিবসগুলোকে আক্রমন করে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব,শরত উৎসব, নবান্ন উৎসব ইত্যাদি ইত্যাদি।অনেক দিবসের হয়ত নাম ও এখনও আমি নিজেও শুনিনি। এত কিছুর মধ্যে ও কিন্তু সব চেয়ে যে দিনটি নিয়ে আমরা একটু বেশি ই মাতামাতি করি সেটি হচ্ছে “পহেলা বৈশাখ।“

প্রথমেই বলে নেই পহেলা বৈশাখ পালন নিয়ে আমার কোনই অভিযোগ নেই।কিন্তু মনের মাঝে যে সব ছোট ছোট প্রশ্ন মাঝে মধ্যে উকি ঝুকি মারে তাদের একটু শিক্ষা দেয়ার জন্যই লেখাটা।

পহেলা বৈশাখ এলেই আমাদের অন্তরের গহিনে লুকায়িত বাঙ্গালি ১ দিনের জন্য জেগে উঠে।সারা বছর আধুনিক কিংবা ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরে নিজেকে স্মার্ট বানানোর চেষ্টায় মত্ত সকল মানব সম্প্রদায় তখন ঝাপিয়ে পরে নিজেকে উপযুক্ত বাঙ্গালি হিসেবে প্রমান করতে, কে কত বেশি বাঙ্গালি পনা দেখাতে পারে………..এ দিন মাইক্রোস্কোপে খুজেও প্যান্ট শার্ট পরা কাউকে খুজে পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়। ঢাকার রাস্তায় এ দিন শাড়ি, পাঞ্জাবি’র যেন প্রদর্শনী শুরু হয়। ঢাকার রাস্তাতে যাদের পোশাকের কারনে রোযার মাসে রোযা টিকিয়ে রেখে ঘরে ফেরা মুশকিল হয়ে দাড়ায়, সেই সব আলট্রা মডার্ন আপুরা ও এদিন শর্ট স্কারট ছেড়ে শাড়ীর ফ্যাশন শো করতে নেমে পরে। হায়রে বাঙ্গালি, এতই বাঙ্গালি সাজার শখ, এই শখ এই একটা দিন ছাড়া অন্য দিন গুলা কই থাকে?

এর পর আসে চূড়ান্ত ভণ্ডামি, পান্তা খাওয়ার ব্যাপারে। হাজার টাকা খরচ করে এক প্লেট পান্তা খেয়ে আমরা কি নিজেদের খুব বাঙ্গালি প্রমান করে ফেলি????? নিজেকে প্রশ্ন করুন  তো ………

নাকি এর মাধ্যমে পান্তা খেয়ে বেচে থাকা ওই দুঃখী মানুষগুলোকে আমরা করছি চরম পরিহাস। পান্তা ইলিশ খেয়ে এক দিন বাঙ্গালি সাজার ভণ্ডামিটা না করে আমরা কি একদিন এই দুঃখী মানুষ গুলোর কোন উপকার করতে পারি না?সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য জানি না, রমনার বটমূলে গিয়ে পান্তা-ইলিশ-শুটকি খাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার এখন হয়নি।তাই সঠিক দাম বলতে পারব না।তবে অনেকের কাছ থেকে যতদূর শুনেছি ১০০০ টাকার নিচে খুব সম্ভবত পাওয়া ই কঠিন। কি মনে হয়?এই ১০০০ টাকা দিয়ে প্রতিদিন জীবনের তাগিদে পান্তা খাওয়া মানুষগুলোর কয় বেলা খাবার জুটত? জানি অনেকেই এভাবে চিন্তা করেন নি। কিন্তু আমার মনে হয় এসব চিন্তা করার সময় এখন এসেছে।গরিব একটা দেশের মানুষ হিসেবে পান্তা-ইলিশ খেয়ে বর্ষ বরণ করে মেকি বাঙ্গালি সাজার চেষ্টা করে আমরা প্রকারন্তে ওই গরিব মানুষগুলোর সাথে কি উপহাস করছি না?পারলে একটু ভেবে দেখবেন সবাই।আমার বিশ্বাস এভাবে চিন্তা করলে সবার ই খারাপ লাগবে।

আমি জানি আমার উপরের কথাগুলো অনেকেরই ভালো লাগবে না, অনেকেই আমার সাথে একমত ও হবেন না। কিন্তু আমার কাছে যা মনে হয়েছে সেটাই লিখলাম।আমি বলছি না যে আমরা বর্ষ বরণ করব না, বা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করব না। অবশ্যই করব, আমাদের বাঙ্গালি ঐতিহ্য আমাদের অবশ্যই ধরে রাখতে হবে।কিন্তু তা অবশ্যই ১ দিনের জন্য মেকি বাঙ্গালি সেজে নয়।১ দিনের জন্য বাঙ্গালি সাজায় কোন কৃতিত্ব নেই,পারলে সব সময়ের জন্য বাঙ্গালি হও।

আমি জানি ঢাকার রাস্তায় আজও চলবে বাঙ্গালি ড্রেসের ফ্যাশন শো , রমনার বটমূলে আজও চলবে পান্তা-ইলিশের রমরমা বাবসা। সেদিন ও হয়ত খুব বেশি দেরি নয় যেদিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ ট্যালেন্ট হান্ট শো, “ কে এফ সি বার্গার নিবেদিত কে হতে চায় বাঙ্গালি” প্রতিযোগিতা, যেখানে এসব মেকি বাঙ্গালীরা ১ দিনের বাঙ্গালি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঝাপিয়ে পরবে।হায়রে বাঙ্গালি…………… এই ১ দিনের ভণ্ডামি আর কত????????

২,৫৪৯ বার দেখা হয়েছে

৩৯ টি মন্তব্য : “এক দিনের ভণ্ডামি আর কত???”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    শুভ নববর্ষ রায়হান 🙂

    ব্যক্তিগত ভাবে আমি নিজেকে পজেটিভ মানুষ মনে করি, আমাদের এই একদিনের হুজুগ দেখে আমি নিজেও বিরক্ত হলেও এভাবে ভাবতে চাই যে এক দিনের জন্য হলেও তো আমরা বিষয়টা অনুধাবনের চেষ্টা করছি, আর ঐ একদিনের উপলব্ধি কাজে লাগিয়ে যদি নতুন একজনও যদি ঐ বিশেষ দিনের পরেও সেটা নিজের মাঝে লালন করে তবে সেটাই তো লাভ। নববর্ষের ক্ষেত্রেও একই, তবে হাজার টাকা খরচ করে পান্তা ইলিশ খাওয়াটা আসলেই অতিরিক্ত।

    কিন্তু হঠাৎ করে ফেসবুকের মাধ্যমে এই পান্তা ইলিশের টাকা বাঁচিয়ে গরীবদের দান করার আহবানটা কেমন জানি চোখে লাগছে। সবার পান্তার কথা শুনেই গরীব দুঃখীদের কথা মনে পড়লো কেন? পান্তা গরীবের খাবার বলে পরিচিত বলে, নাকি অন্য কোন কারনে। আমার কাছে জিনিষটা একটা হিপোক্রেসি মনে হয়। কই এমন কোন আহবান তো দেখলাম না যে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আইফোন বা ১৫-২০ হাজার টাকা দিয়ে দামি মোবাইল না কিনে ৫ হাজার টাকার মোবাইল কিনে বাকি টাকা গরীবদের দিন, কিংবা ৩০ হাজারে ল্যাপটপ কিনে ল্যাপটপের বাজেটের বাকি টাকা গরীবকে দিন, ঈদের আগে তো এরকম কোন আহবান দেখলাম না হাজার হাজার টাকার জামা কাপড় না কিনে এর কিছু টাকা গরীবদের দিন বা লাখ টাকার গরু কোরবানী না দিয়ে ২০-২৫ হাজার টাকার গরু কিনে বাকি টাকা গরীবকে দিন, পান্তা আর ইলিশ হঠাৎ করে লাইম লাইটে কিভাবে চলে আসলো বুঝলাম না।

    আর আমাদের সব উৎসব কর্পোরেটগুলোর ব্যবসায় পরিনত হচ্ছে যেটা খুবই আশংকাজনক। তবে মাকসুদ (পুরোনো ফিডব্যাকের) বাউল এবং নতুন ব্যান্ডদের নিয়ে কর্পোরেট বানিজ্য মুক্ত চৈত্র সংক্রান্তি পালন করেছে দেখে ভাল লাগলো। ভবিষ্যতে অন্যরাও এগিয়ে আসবে বলে আশা রাখি।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • রায়হান (১৯৯৮-২০০৪)

      আহসান স্যার,

      নববর্ষ উদযাপন নিয়ে আমার কোনই আপত্তি নেই.........
      কিন্তু পান্তা ইলিশ খাওয়া তা খুব বেশি ই চোখে লাগে আমার ক্যানও জানি না......

      আই ফোন, ল্যাপটপ এর কথা বললেন......
      এইগুলো হয়ত মানুষ তার প্রয়োজনের খাতিরে কিনে......কিন্তু এত টাকা দিয়ে ইলিশ খাওয়ার পিছনে কোন যুক্তি ই আমি খুজে পাই না......
      তবে আমি আপনার সাথে কোরবানির লাখ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনার ব্যাপারটার সাথে সম্পূর্ণ একমত......
      এটাও অনেক বেশি বেশি বাড়াবাড়ি......

      আমাদের আসলে অনেক ব্যাপার নিয়েই অনেক বেশি বাড়াবাড়ি......... যার বেশির ভাগই আমরা করি চিন্তা না করেই


      একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার,সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার

      জবাব দিন
      • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

        যেখানে ৫ হাজার টাকার ফোনেই কাজ চালানো যায় সেখানে ৫০ হাজার টাকার ফোন কেনার পিছনে যুক্তি খুঁজে পাও? এটাও কি প্রয়োজনের খাতিরে? সেখানে পান্তা ইলিশ তো মাত্র কয়েকশো টাকার ব্যাপার, তাও একটা উৎসবের অংশ হিসেবে, বাঙ্গালীর সংস্কৃতির প্রধান উৎসব সেলিব্রেশনের অংশ হিসেবে। সেটাও তো কেউ প্রয়োজনের খাতিরেই বলতে পারে।

        এর থেকে অনেক বেশি টাকা খরচ করে তো আমরা শাহরুখ/অক্ষয়ের কনসার্ট দেখতে যাই, ঢাকার মার্কামারা রেস্টুরেন্ট গুলোতে সারা বছর জুড়ে এর থেকে কয়েকগুন বেশি টাকা খরচ করে লাঞ্চ/ডিনার করি, মাঠে মেসি/আফ্রিদি/শচীনদের দেখতে যাই, এভাবে তালিকা শুধু বাড়তেই থাকবে... এসবের সামনে পান্তা ইলিশকে বড় নিরিহ মনে হয়।


        আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
        আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

        জবাব দিন
        • আমিন (১৯৯৬-২০০২)
          যেখানে ৫ হাজার টাকার ফোনেই কাজ চালানো যায় সেখানে ৫০ হাজার টাকার ফোন কেনার পিছনে যুক্তি খুঁজে পাও?

          কানাডায় আইসা আমি দেড় বছর মোবাইল ছাড়াই কাটাইয়া দিলাম। সেই হিসাবে আসলে মোবাইল জিনিসটাই অপ্রয়োজনীয়। আমাদের উচিত এই টাকা দিয়ে গরীব দুঃখীদের সাহায্য করা।

          জবাব দিন
          • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

            আমিন আমার এক বোজম দোস্ত কইল তার জন্য একটা আই ফোন পাঠাইতে। সে আজীবন কৃতজ্ঞতা পাশে থাকবো। আমি কই আই ফোন ৪ এস ৪০০ পাউন্ড। তুই এইডা কি কস? ও কয় পোলাপাইন পকেট থিকা আই ফোন বাইর কইরা কয় ভাই আপনার নাম্বারটা দেন, সেভ করি।
            আমি কই, তুই তাইলে ঘুষের চাকরিতে ঢুকলি না ক্যান? ও কয়, বুঝি নাই।
            আমি কই, তাইলে টর্চ ওয়ালা মোবাইল নিয়া সৎ মানুষের ভাব ধর।


            এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

            জবাব দিন
            • আমিন (১৯৯৬-২০০২)

              রাজীব ভাই,
              আপনি আমার কমেন্টের টোনটা ধরতে পারেন নাই কিংবা আমি আমার কমেন্ট বুঝাইতে ব্যর্থ হইছি। নিচে লেখকের উদ্দেশ্য একটা কথা বলছি ,

              কিন্তু কে কীভাবে তার টাকা খরচ করবে সেটা ডিফাইন করে দেয়ার আমি তুমি কেউ না, তাই না??

              এইটা ছিল আসলে আমার মূল কথা। কার কোনটা প্রয়োজন সেটা ব্যাক্তি দ্বারা ডিফাইনড হয় আর বব্যাপারটা পুরাই সাবজেকটিভ। যার কাছে একটা জিনিস অতীব প্রয়োজনীয় তার কাছে আরেকটা জিনিস নিতান্টই অপ্রয়োজনীয় হতে পার. আর মোবাইল প্রয়োজনীয় না অপ্রয়োজনীয় সেই প্রশ্ন আমি তুলি নাই। নিজের প্রয়োজনে অপ্রয়োজনের জায়গাটা ব্যাক্তি দ্বারা ডিফাইনড হবে। অনেক লোকই হয়তো আছে যাদের টেলিভিশন না দেখলে পেটের ভাত হজম হয় না। আবার এমন লোকও আছে যারা দশ বছরে টিভিও দেখে নাই। কার কোনটা প্রয়োজন সেটা কমেনে আমি নির্ধারণ করবো। ১০০০ টাকায় পান্তা খাওয়া আমার কাছে বাড়াবাড়ি কিন্তু যেই ব্যাটা করতেসে তার কাছে বাড়াবাড়ি নাও হইতে পারে- আমি সেটাই বুঝাইতে চাইছি।

              জবাব দিন
          • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

            আর যে গরিবের কথা বললি আমিন তাদের ও কিন্তু মোবাইল আছে।
            মোবাইল ছাড়া বেশ আছিস কিন্তু অন্য কোন প্রযুক্তি কিন্তু ব্যাবহার করছিস।
            মোবাইল অপ্রয়োজনীয়; এইটা মানতে পারলাম না।


            এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

            জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      আকাশ
      কেনো আবার আই ফোনের পিছনে লাগলি?
      আমার আই প্যাড কিনাও ভালো লাগতেছে না।
      ল্যাপটপ, নেটবুক দুই মেয়েরে দিয়া ভাবতেছি একটা ২৭ ইঞ্চি আই ম্যাক কিনবো।
      তবে আমার আই ফোন ৩জি এস; আই ফোন ৪ কিংবা ৪ এস আসার পর তার পিছনে দৌড়াই নাই। সামনেই ৫ চলে আসবে বাজারে।
      আই প্যাড আমারটা ২। নতুনটা কেনার জন্য কিন্তু পাগল হই নাই।
      আমার টিভি ৪০ না ৪২ স্যামসাং এল সি ডি। এল ই ডি কেনার জন্য পাগল হই নাই।
      হোম থিয়েটার সনির; ডি ভি ডি।ব্লু রে নাই।
      এখন পুরান যুগে ফেরত যামু, এই বাকি টাকা গরীব রে দান করমু! অসম্ভব!
      খালি গেম খেলার টাইম নাই বইলা এক্স বক্সটা দেশে পাঠাইয়া দিছি।


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
      • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

        রাজিব ভাই, আমি কিন্তু ফোনের পিছনে লাগি নাই, আমি উধাহরন দিচ্ছিলাম যে কয়েকশ টাকার পান্তার থেকে অনেক অনেক গুন বেশি খরচ আমরা আমাদের শখ বা বিলাসিতার জন্য করছি, সেসব নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা নেই, কিন্তু যখন বাঙ্গালী তার প্রধান উৎসবে একটু শখ করে, আনন্দ করে পান্তা ইলিশ খেতে যাচ্ছে, শাড়ী পাঞ্জাবী পরছে তখন কেন জানি আমাদের কারো কারো বিবেক জাগ্রত হচ্ছে।

        অফটপিকঃ একটা পিএস থ্রি কেনার শখ বহুদিন ধরে মনের ভিতর পুশে রাখছি, হোম মিন্সিট্রিতে পাশ করাতে পারতেছি না 😛


        আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
        আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

        জবাব দিন
        • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

          তোরে পি এস থ্রি কেনার একটা বুদ্ধি দেই।
          তোর কি ব্লু রে আছে?
          না থাকলে ভাবি রে একটা ব্লু রে মুভি দেখানর ব্যাবস্থা কর। ব্লু রে যে কতো জটিল এইটা ব্যাখ্যা করতে গিয়া বলবি যে ভিডিও ক্যাসেটের চাইতে সিডি ভালো, সিডির চাইতে ডিভিডি ভালো, আর ডিভিডির চাইতে ব্লু রে। মুভিটা AVATAR হইলে ভালো হয়। তারপর একদিন ভাবীর সাথে বা সামনে পি এস থ্রি তে বা এক্স বক্সে ফুটবল খেলবি ভাবির ফেবারিট ক্লাবের সাথে।
          তার কয়েকদিন পর আসল কোথায় আসবি যে ব্লু রেতে মুভি দেখা আর গেম খেলা একত্রে হইলে কি মজাই না হইতো। তাইলে উপায়; পি এস থ্রি। অবশ্য ভাবিরে তার শখের জিনিসও কিনা দিবি আর অইটা আগে বলবি।
          দেশ থিকা কেনার চাইতে বাইরে থিকা কিনিস। তুই যদি নেট থিকা দাম দেখে আমাকে বা অন্য কাউকে টাকা পাঠিয়ে দিস + পাঠানর খরচ (এখন ইউ কে থেকে কেজি প্রতি ৩.৫ পাউন্ডের মতো পড়ে) তাইলে কিনে পাঠিয়ে দিবো।


          এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

          জবাব দিন
  2. সামিয়া (৯৯-০৫)

    আমার তো ভালই লাগে ভাইয়া...ঘুরে বেড়াতে...সাধ্যের মাঝে আনন্দ করাতে আমি বহু খুঁজেও হিপোক্রেসী পেলাম না 🙁

    আপনার রাগটা বুঝতে পারছি। দেখুন, এই দোষটা আমাদের রক্তে, একে যদি শুধু পহেলা বৈশাখের কাতারে ফেলা হয়, তাহলে সেটা একটু ভুল হয়ে যায়। যেমন, হঠাৎ হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়, প্রচন্ড। পেঁয়াজ এমন কিছু নয় যেটা না খেয়ে থাকা যায় না, কিন্তু বাঙ্গালীর যেন তখুনি পেঁয়াজ খাওয়াটা জরুরী। দলে দলে দুঃখী মুখ করে বাজারে পেঁয়াজ কিনবে আর টিভিতে উক্তি করবে।

    শীতকালের ঠিক আগমুহুর্তে শীতকালীন সবজি গুলো, কিংবা লিচুর সময়ের ঠিক আগে বা পরে লিচু, বা রোজার সময় খেজুর আর বুট...এগুলো ছাড়াও আমরা চমৎকার চলতে পারি। চলি না। কেন? ঠিক যে কারণে পহেলা বৈশাখে দলে দলে মানুষ ইলিশ খেতে পাগল হয়ে যায়, সে কারণে।

    এটা আপনি, আমি শুরু করতে পারি। নিজের ব্যবহার 'পরিবর্তনের' অন্যতম হাতিয়ার। নিজের পরিবারের কথা বলতে পারি, পেঁয়াজের দাম বাড়লে বাসায় 'কি আছে জীবনে' নীতিতে পেঁয়াজ বাদ দিয়ে রান্না করে আম্মু। লিচুর সময় লিচু খাই, আগে পরে খাওয়ার কোন ইচ্ছা নাই।

    আর কেউ যদি শর্ট স্কার্ট পরে আরাম পায়, তাহলে আমার অন্তত কিছু বলার নাই। শাড়ি অত্যন্ত জটিল একটা পোশাক। আমার তো মনে হয়, ছেলেদের শাড়ি পড়তে হলে, শাড়ি না পড়া নিয়ে ছেলেদের আর কোন অভিযোগ থাকত না 😀 । অন্তত আজকের যুগে শাড়ি পরে দৈনিক অফিস করা?? অসম্ভব। হাতের কাছে বিকল্প সহজ আরামদায়ক পোশাক থাকতে, আমি আগের যুগের পুরানো পোশাকে কষ্ট করতে যাব কেন?

    পোশাক সংস্কৃতির একটা উপাদান। কিছুদিন আগে একটা নিবন্ধে পড়ছিলাম সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো মানুষ, স্থান আর কাল। কত সত্য একটা কথা! মানুষের আরামের জন্য, স্থানের নিরীখে আর কালের বিবর্তনে এই সংস্কৃতি পরিবর্তন হয়। সেখানে স্থানের যেমন গুরুত্ব, কালেরও ঠিক তেমনি। একটা নির্দিষ্ট স্থানের আবহাওয়া আর সংস্কৃতি পোশাকের ফরম্যাট নির্ধারণ করে, আর কালের পরিবর্তনে এই ফরম্যাট ক্রমাগত ম্যাচিউরড হয়। এতে করে আমি যদি আজকে এদেশের আবহাওয়া উপযোগী শর্ট স্কার্ট পড়ে ঘুরে বেড়াই, আর তাতে যদি আমি আরাম পাই, তাতে করে অভিযোগের কোন ক্ষেত্র আছে বলে বোধ করি না।

    বিশাল মন্তব্য করে ফেললাম 😀

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      সামিয়া সাধারণত তোর সাথে একমত হতে পারি না ; এবার হলাম। এবার আমারে চা খাওয়া।
      কিন্তু পোলাপাইন যে এক দুই তারা দাগাইয়া গেছে এতে খারাপ লাগছে।
      আমরা যদি এইখানে মত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে স্বাধীনতার চর্চা অব্যাহত রাখতে না পারি তবে কই রাখবো।


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
  3. রাব্বী (৯২-৯৮)
    ঢাকার রাস্তাতে যাদের পোশাকের কারনে রোযার মাসে রোযা টিকিয়ে রেখে ঘরে ফেরা মুশকিল হয়ে দাড়ায়, সেই সব আলট্রা মডার্ন আপুরা ও এদিন শর্ট স্কারট ছেড়ে শাড়ীর ফ্যাশন শো করতে নেমে পরে

    সিরামাত্মক! রোজার মাসে ঢাকায় যাপো 😀


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
  4. রায়হান (১৯৯৮-২০০৪)

    http://www.facebook.com/photo.php?fbid=432137003466303&set=a.234700806543258.86562.232911776722161&type=1&ref=nf

    এখানে দেখুন...............
    এর পর ও অনেকে পান্তা ইলিশ ছাড়া পহেলা বৈশাখ কল্পনাও করতে পারে না


    একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার,সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার

    জবাব দিন
  5. রায়হান (১৯৯৮-২০০৪)

    http://www.facebook.com/photo.php?v=10150787580271348

    এখানে আরেকটা লিংক দিলাম
    "পান্তা ইলিশ খাওয়া আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়"


    একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার,সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার

    জবাব দিন
  6. মাহবুব (১৯৯৪-২০০০)

    আমি একটা কথাই বুঝি আমি যেমন আমি তেমন।তা যদি বাঙ্গালিদের মত হয় তাও ভালো যদি না হয় তাও ভাল। পান্তা খেয়ে বাঙ্গালি সাজার কোন মানে আমার কাছে নাই।

    আর কেউ যদি পান্তা খেয়ে বা মিনিস্কার্ট পড়ে আনন্দ পায় সে ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাবারও আমার কোন দরকার নাই।

    (হয়ত মনে মনে বিরক্ত হই)

    জবাব দিন
  7. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    সংস্কৃতি ধর্মগ্রন্থের মত বাঁধাই করা ধ্রুব সত্য কোন ব্যাপার নয়। মানুষ যেভাবে জীবন যাপন করে সেটাই সংস্কৃতি। আজ থেকে ৩০ হাজার বছর আগে মানুষ পশুর চামড়া বা গাছের বাকল পরে থাকতো, তাই বলে সেটাকে কি আমরা বর্তমান মানুষের সংস্কৃতি বলি? এখন কেন মানুষ পশুর চামড়া পরে না সেটা নিয়ে হা হুতাশ করি? ভারতবর্ষে শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি এসব ঐতিহ্যবাহী পোশাক। কিন্তু সেটা প্রতিদিন পরে থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। তাই বলে ভাববেন না, আমি শাড়ি, লুঙ্গিকে পশুর চামড়া পরে থাকার সাথে তুলনা করছি, আমি কেবল সংস্কৃতি বোঝাতে এই তুলনাটা আনলাম। মানুষ যখন যেটাকে ফ্যাশন মনে করে, যখন যেটা পরতে আরাম বোধ করে, যখন যেটা পরলে নিজেকে সুন্দর দেখাচ্ছে মনে করে, যখন যেটা পরলে অন্যের কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় লাগছে মনে করে তখন সেটাই পরবে, আর সে যেটা পরবে যুগের আবর্তে সেটাকেই তার সংস্কৃতি বলা হবে।

    কিন্তু মানুষ অতীত এবং ঐতিহ্যকে স্মরণ করতে চায়, মনে রাখতে চায়। ঐতিহ্যকে স্মরণ করার জন্য এমন উৎসবের গুরুত্ব অনেক। এটা কোন প্রভাবশালী কর্তৃপক্ষের চাপিয়ে দেয়া নিয়ম নয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মানুষ এসব উৎসব পালন করে। এই উৎসবগুলোও মানুষের সংস্কৃতির অংশ। আজ থেকে ২০০০ বছর পর হয়তো বাংলাদেশের খুব কম নারীই শাড়ি পরবে, কিন্তু নববর্ষ বা অন্য অনেক উৎসব অতীত ভুলে যাওয়া থেকে মানুষকে বিরত রাখবে। এ কেবল বাংলাদেশেই নয়। পৃথিবীর সকল সংস্কৃতিতেই এমন উৎসব থাকে। যেমন, জার্মানিতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষে ও অক্টোবরের শুরুতে অক্টোবরফেস্ট নামে একটি উৎসব হয়। মিউনিখের এই উৎসবটি কেবল বিয়ার পানের উৎসব হিসেবে পরিচিত হলেও এটা আসলে বাভারিয়ার অধিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী একটা উৎসব। এদিন নারী-পুরুষ সবাই ২০০ বা ৩০০ বছর পূর্বে জার্মানরা যেসব পোশাক পরতো সেই পোশাক পরে। এটা ঐতিহ্যের সেলিব্রেশন। সেই পোশাক এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু একটি দিন তাদের সাথে অতীতের মেলবন্ধন ঘটাতে সাহায্য করে। এমন একটি দিনই যথেষ্ট, কারণ অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখার কোন দরকার নেই, অতীতকে সেলিব্রেট করা, অতীতকে মনে রাখা- এটাই মুখ্য।

    আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিসে ডায়োনিসাসের উৎসব হতো যা আসলেই আমাদের ৩০ হাজার বছর পূর্বের অতীতকে স্মরণের জন্য। ৩০ হাজার বছর পূর্বে শিকারী-সংগ্রাহক মানুষরা যেভাবে পশুর চামড়া পরতো, যেভাবে বনে বাদাড়ে পশু শিকার করে কাঁচা মাংস খেতো, ঠিক সেভাই গ্রিকরা ডায়োনিসাসের উৎসব পালন করতো। শিকারী-সংগ্রাহক জীবনকে আঁকড়ে ধরে থাকার প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করেনি, তারা মনে করেছে স্মরণে রাখাটাই যথেষ্ট। আমিও সেটাই মনে করি।

    নারীরা এমনভাবে সাজবে যাতে পুরুষের কাছে তাকে আকর্ষণীয় লাগে, পুরুষরা এমনভাবে সাজবে যাতে নারীর কাছে তাকে আকর্ষণীয় লাগে- এটা মানুষের প্রাচীনতম সংস্কৃতি, হোমো স্যাপিয়েন্স এর দেড় লক্ষ বছরের ইতিহাসের শুরু থেকেই এটা ছিল। পান্তা-ইলিশ খাওয়াটা শহুরে বাঙালির সংস্কৃতিতে এখন আর নেই। নববর্ষের মাধ্যমে অতীতকে তারা স্মরণ করে। নববর্ষে বাংলা গান, নৃত্য, চিত্রকলা, খাবার সবকিছুর একটা বড় প্রচার যেমন হয়, তেমনি হয় মার্কেটিং। উৎসবের মাধ্যমে বাজার জমিয়ে তোলা মানুষের প্রাচীনতম বৈশিষ্ট্য। বইমেলা কিন্তু কেবল বই প্রচারের জন্যই হয় না, বইয়ের বাজার যাতে বৃদ্ধি পায়, প্রকাশকরা যাতে কম সময়ে অনেক লাভ করতে পারেন সেটাও মেলার একটা কারণ। আমি মনে করি উৎসবের মাধ্যমে কোন পণ্য বা সংস্কৃতির বাজার তৈরি করার ঐতিহ্য আমাদের এই বাঙালি সংস্কৃতির চেয়েও অনেক পুরনো।

    আপনার লেখা প্রসঙ্গে না হলেও ফেসবুকে কিছু কমেন্ট দেখে ধর্মের ব্যাপারটাও আমার মতামত হিসেবে এখানে উল্লেখ করছি (অপ্রাসঙ্গিক হলে ক্ষমা করবেন):
    নববর্ষকে কেন্দ্র করে আমি অনেককে ধর্ম বিষয়ক কথা বলতে শুনেছি। অনেকে বলছেন, নববর্ষ এমনভাবে পালন করতে হবে যাতে ধর্মানুভূতিতে আঘাত না লাগে। কথা হচ্ছে এখানে কোন ধর্মের কথা বলা হচ্ছে? ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ কোনটা? তারপর মুসলমানদের মধ্যেই আবার আছে অনেক ভাগ: অনেক মুসলমান আছেন যারা নববর্ষের এই উদযাপনকে মোটেই ধর্ম বহির্ভূত কিছু মনে করেন না। যারা বলেন, এই নববর্ষ উদযাপন আমাদের ধর্মের ক্ষতি করছে তাদের কাছে প্রশ্ন- আপনি বর্ষবরণের কোন একটা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলে এই বর্ষবরণের সংস্কৃতিকে প্রাণে ধারণকারী হাজার হাজার মানুষের সংস্কৃতানুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন না কি? অনুভূতি কি কেবল ধর্মপ্রাণ মুসলিমেরই আছে? হিন্দু, রমনা বটমূলে বর্ষবরণে আগ্রহী মুসলিম, বৌদ্ধ, নির্ধর্মী, নাস্তিক- এদের কি মানবিক অনুভূতি নেই?

    ধর্ম পালন করার অধিকার যেমন প্রত্যেকের আছে, তেমনি ধর্ম পালন না করার অধিকারও প্রত্যেকের থাকতে হবে। বোরকা পরার অধিকার যেমন প্রত্যেকের আছে, তেমনি মিনিস্কার্ট পরার অধিকারও প্রত্যেকের থাকতে হবে। কাউকে খুব আকর্ষণীয় পোশাক পরতে দেখলে যদি কারও ধর্ম দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে দোষটা যার ধর্ম দুর্বল হয়েছে তার, যে পোশাক পরেছে তার নয়।

    জবাব দিন
  8. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    আরেকটা কথা, প্রবাসে বাঙালিদের আলাদা অস্তিত্ব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম এই বৈশাখী মেলা। আমি ইতালির রোমে থাকি। গত ১২ তারিখ থেকে এখানে বর্ষবরণের মেলা শুরু হয়েছে, চলবে ১৬ তারিখ পর্যন্ত। রোমে যে বাঙালিদের একটা আলাদা সমাজ আছে, আলাদা অস্তিত্ব আছে তা ইতালীয়দেরকে বোঝানোর একমাত্র এবং একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এই মেলা। ঈদ, পূজা কোনকিছুই এতোটা গুরুত্বের সাথে এখানে পালিত হয় না, কারণ ঈদ হিন্দু আর মুসলিমকে বিভক্ত করে ফেলে, পূজাও তাদেরকে বিভক্ত করে ফেলে, কিন্তু বৈশাখী মেলা ইতিমধ্যে বিভক্ত হয়ে যাওয়া অনেককে আবার একত্রিত করে, এই প্রবাসেও।

    লন্ডনে যে বৈশাখী মেলা হয় সেটা শুনেছি ইংল্যান্ডের দীর্ঘতম পথ-উৎসব।

    যথারীতি এই মেলাগুলোতেও ব্যবসা হয় প্রচুর। কারণ মেলার অন্যতম একটা লক্ষ্যই ব্যবসা। রোমে বিভিন্ন বাঙালি পরিবারের নারীরা নিজেদের ঘরে বানানো খাবার, পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসে। অনেক বিদেশীকেও সেসব কিনতে দেখা যায়। (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
  9. রকিব (০১-০৭)

    দ্বিমত জানালাম।
    ক্লাশ টেনে থাকতে এক বাড়ির পাশের এক বন্ধু মাঝে মাঝেই জুম্মার নামা্য ডজ মেরে ভিডিও গেমসের দোকানে পড়ে থাকতো। ওকে জিজ্ঞেস করায় বলছিল, প্রতি ওয়াক্তের নামাযই তো ডজ দেই, এই এক ওয়াক্ত পড়ে ভন্ডামী করার মানে কী!

    যদিও বৈশাখে উদযাপনের সাথে তুলনা করছি না ব্যাপারটাকে; কিন্তু আদতে অনেকটা ওর উত্তরের মতোই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

    আমরা প্রতিনিয়তই আমাদের সংস্কৃতি-আমাদের মৌলিকতা থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছি; সেক্ষেত্রে কেউ যদি একদিনের উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও সংস্পর্শে আসতে পারে, তাতে আমি সমস্যা দেখি না। একদিনের জন্য বাঙালি পোষাকেও তো কোন সমস্যা নেই। হ্যাঁ, ১০০০ টাকা দিয়ে পান্তা খাওয়াটা (আমি বেশ কিছুকাল দেশের বাইরে, দামের ব্যাপারে তাই আইডিয়া নেই) আসলেই অতি-বিলাসিতা; ওতে আমারও সমর্থন নেই; তবে খেয়াল করবেন, এই ১০০০ টাকায় পান্তা খাওয়া পার্টিই সারা বছর হয়ো কেএকসি/পিজ্জা হাট কিংবা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট দিয়ে পার্টি করে; সেক্ষেত্রে এটা তাদের জন্য একদিনের বিলাসীতা না। (এটাও হয়তো আমি বেশি জেনারেলাইজেশন করে ফেললাম)।

    পহেলা বৈশাখ উদযাপন; পহেলা বৈশাখের র‍্যালী, রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান- ঢাকায় বড় হওয়া আমি সেই ছোটবেলা থেকেই এগুলো দেখতে দেখতেই বড় হয়েছি। এগুলো আমাদের বাঙ্গালি সত্ত্বার পরিচায়্ক; একদিনের জন্যও যদি চলে, তবুও উপলক্ষ্যগুলো টিকে থাকবে; একদিনের জন্য হলেও মানুষ নিজের শেকড়ের কাছে যাবার চেষ্টা করবে। তাই হোক না, ক্ষতি কী!

    শুভ নববর্ষ রায়হান ভাই 🙂


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
    • রায়হান (১৯৯৮-২০০৪)

      শুভ নববর্ষ ভাই

      আসলে এই লেখায় মূল বক্তব্য যেটা বলতে চেয়েছিলাম সেটা কিন্তু কখনোই আমি বলতে চাই নি যে পহেলা নববর্ষ উদযাপন করবো না.........

      এটা অবশ্যই করবো.........
      তবে ক্যানও শুধু এই ১ দিনই আমাদের ব্যাপার গুলো মনে পরে অন্য দিনে নয়......

      দুর্বল লেখক তো ...... তাই হয়ত কথা গুলো ঠিক ভাবে বুঝাতে পারি নি......... :bash:


      একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার,সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার

      জবাব দিন
  10. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    ব্যাপক আলোচনা চলতেসে। আমার কাছে আসলে বক্তব্য পুরা ক্লিয়ার হয় নাই। মানে নববর্ষ পালনে আপত্তি নাকি পান্তা ইলিশ খাওয়ায় আপত্তি নাকি বাঙালি পোশাকে আপত্তি নাকি খর্পোরেট বানিজ্যে আপত্তি। শুধুমাত্র কর্পোরেট বানিজ্য বিষয়ে তোমার সাথে সহমত পোষণ করছি। আমাদের সবকিছু বেশি মাত্রায় কর্পোরেটিকরণ হচ্ছে আর ভোগবাদের বৃত্তে আমাদের ভালো লাগা গুলোও কর্পোরেট ঘরনায় বৃত্তায়িত হচ্ছে। তবে সেই দোষ তো শুধু নববর্ষের না। বাংলাদেশের সব উৎসবকে ঘিরেই কর্পোরেট বানিজ্য চলে, এমনকি মায়ের আদরকে পুঁজি করেও ( গ্রামীণ ফোনের এ্যাড স্মরণ করা যেতে পারে), মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, ভাষা নিয়ে, ঈদ নিয়ে -- কোনটা নিয়ে চলে না?? মোটা দাগে কর্পোরেটীকরণ অবশ্যই ক্ষতিকর এ বইষয়ে দ্বিমত নাই।

    এবার অন্যান্য বিষয় গুলো নিয়ে আসি। তুমি বললা, এক হাজার টাকায় পান্তা না খেয়ে সেটা দিয়ে গরীব দুঃখীদের সাহায্য করা যেতে পারে। কথাটা খুবই হাস্যকর। এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে কুরবানীর সময় জোটা কিছু সিজনাল পশুপ্রেমীদের। যারা বলে কুরবানীর টাকায় গরীবদের সাহায্য না করে কুরবানী করা অপচয়, কিংবা কিছু মুক্তমনাদের যারা বলে হজ্জের টাকায় হজ্জ না করে ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যয় করা খুব ভালো। আমি জানি উপরের সবগুলৈ খুব ভালো। কিন্তু কে কীভাবে তার টাকা খরচ করবে সেটা ডিফাইন করে দেয়ার আমি তুমি কেউ না, তাই না?? একবার মাসরুফের সাথেই হজ্জ বিষয়ে কথা হইছিলো, সেইখানে আমি যা বলছিলাম সেটা আবার বলি। সিসিবির শেষ পিকনিকের সমসাময়িক লঞ্চডুবিতে পাঁচশ পরিবার নিঃস্ব হয়েছিলো। এখন আমরা কী বলবো যে টাকা খরচ করে সিসিবির পিকনিক করা ভুল হয়েছে বরং ঐটাকা তুলে পুরোটা লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দিতে হবে?

    স্কার্ট টপস পরা ণিয়ে এত সমস্যা কেন আমি ঠিক বুঝলাম না। আর কেউ একদিনের জন্য বাঙালি পোশাক পরলেই সেটা খারাপ হবে কেন? মানে ধরো কেউ যদি বছরের সব দিন বাঙালি হয় সেটা ভালো, আর না হলেও তার মানে এই নয় যে এইদিন তার বাঙালি হওয়া নিষিদ্ধ। আর ১লা বৈশাখের মাঝে বাঙালিপনার ব্যাপারটা জড়িয়ে ফেলাটাও আসলে কর্পোরেটিকরণের অংশ। আমার কাছে নববর্ষকে মনে হয় মূলত এমন একটি উৎসব যাতে ধর্ম বর্ন গোত্র নির্বিশেষে সবাই অংশ নিতে পারে। এইজন্যই এটা বাঙালির প্রাণের উৎসব। সবার একটা মিলন । এর সাথে বাঙালি পনার যোগসাজশ খোঁজাটাও বোকামি। আচ্ছা, আধা প্রাসঙ্গিক, তবুও বলার লোভ সামলাতে পারলাম না। ঈদ তো বেশ জাঁকজমকপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। ঈদের নামাজ পড়া দেখে কি তুমি কোনদিন বলেছো যে যে লোক জীবনে নামাজ পড়ে না একদিনের মুসল্লী হইতে আইছে??

    পান্তার বিষয়টা আসলেই ক্লিয়ার হইলো না। তয় নিজেরে ব্যাপক বাঙালি মনে হইতেসে। কারণ মাঝেমাঝেই সকালে রান্নার টাইম থাকে না বলে, লবন পানি ভাত আর মরিচ মাখাইয়া আমি ব্রেকফাস্ট করি। বিলিভ মি এর সাথে বাঙালি কালচারও নাই কিংবা গরীবদের দু্ঃখ বিঝারও ব্যাপার নাই। মানতেসি এক হাজার টাকায় পান্তা খাওয়া বাড়াবাড়ি, তবে সেটায় তোমার আপত্তি নাকি পান্তা খাওয়া বিষয়টাতেই আপত্তি ? যদি প্রথমটা হয়, তাহলে বলই, নিজ উদ্যোগে আমরা ঘরে পান্তা বানায়া সেটা খাইতে পারি, শুধু তাই না ছোট পরিসরে মানুষঝনের কাছে অল্প পরিসরে বিক্রিও করতে পারি। আমার মনে আছে, বুয়েটে থাকতে পোলাপান এমন একটা উদ্যোগ নিছিলো। তাতে সাড়া দেখে মনে হইছিলো রমনার ব্রান্ডিং নিয়ে লোকজন অবসেসড না বরং এই ঐতিহ্যের সাথে একাত্মতা ঘোষণাও তাদের উদ্দেশ্য।

    উপরে আকাশ একটা কথা কইছে। সেটা আমার মনে ধরছে, হাজারটা জিনিস পাওয়া যাইবো যেগুলো অপরিহার্য নয়, কিন্তু ভোগবাদ বলয়ে আবর্তিত হয়ে আমরা গ্রহণ করি। সেই তুলনায় একদিনের বাঙালিপনায় খরচ দেখে বিরক্ত লাগলেও সেটা নিয়ে এত উচ্চকিত হওয়ার কিছু নাই।

    জবাব দিন
  11. ফখরুল (১৯৯৭-২০০৩)

    যাদের টাকা আছে তারা তো খরচ করবেই। কেএফসি পিজা হাটে খেলে তো টাকাটা বাইরে চলে যেত। তারচেয়ে দেশের টাকা দেশেই থাক। আমার মনে হয় একটা আড়ম্বরপূর্ণ রেস্টুরেন্টে পান্তা যদি দামী আইটেম হিসেবে থাকত তাহলে লোকজন সারাবছরই খেত 😉 :grr:

    জবাব দিন
  12. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    রায়হান
    তোর এই লাইনটা ভালো লাগেনি
    ঢাকার রাস্তাতে যাদের পোশাকের কারনে রোযার মাসে রোযা টিকিয়ে রেখে ঘরে ফেরা মুশকিল হয়ে দাড়ায়,


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  13. রাকিব(৯৮-০৪,মকক)

    বুরবাক রায়হান,তুই আমার লেখাটা কেমন করে লিখে ফেলছস x-( x-( ???আর নিজেরে পুরা টিউব লাইট মনে হইতাছে............কেন আগে চোখে পড়লনা।ব্যক্তিগতভাবে আমি ইমপ্রুভড ব্রেকফাস্ট হিসাবে পেয়াজ কাচামরিচ দিয়া ডলে পান্তা ভাত খেতে খুব পছন্দ করি। ভাল মন্দ নিয়ে যুক্তি অনেক আছে,সেটা কথা না-তবে পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশ খাবার প্রচলন কিভাবে হইল সেটা একটা গবেষণার বিষয় হতে পারে।ইলিশ কেনার ক্ষমতা যার আছে তারা শখ করেও পান্তা খান কিনা জানিনা(পহেলা বৈশাখ বাদে),তবে যে নিয়মিত পান্তা খায় সে স্বপ্নেও ইলিশ দেখে না মোটামুটি নিশ্চিত।পান্তা ইলিশের মত অবাস্তব একটা মেন্যু কিভাবে নববর্ষ উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেল????

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।