আমার অনুভূতিগুলোর আমার মতো করে ব্যবচ্ছেদ

বুয়েটে ঢোকার পর থেকে একটা করে টার্ম পার করতেছি আর পড়ালেখার উপর থেকে আমার আগ্রহ এক্সপোনেন্সিয়াল হারে কমতেছে। আমার মনে হয় লেভেল ৪ এ উঠার পরে আগ্রহটা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তার উপর এই টার্ম এ এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা আসলে আমার সবকিছু উলোট পালোট করে দিয়ে গেছে। আসলে মানুষের জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে ,এমন কিছু কাহিনী সে করে যা একদমই তার প্রকৃতির সাথে খাপ খায় না। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে সেসব ঘটনাই দিয়ে তার আশেপাশের মানুষগুলো তাকে ডিফাইন করে ফেলে।

বুয়েটে ঢোকার আগে আমার আব্বি আমাকে বলেছিলো গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসাতে। এ কথাটার অর্থ বোঝার জন্য নিউটন হবার দরকার হয় না। আমি ক্যাডেট এ থাকতে অনেক কাহিনী করেছিলাম কিন্তু কখনোই আমার প্যারেন্টস কল হয় নি। আমি কখনোই আমার কৃতকর্মের ভাগ আমার আব্বি মামনিকে বহন করতে দেই নি আমার জীবনে। আমার প্যারেন্টস অনেক কষ্ট করেছে আমার জন্য। আমি চাই না আমার কিছু কাজের কারণে তাদের চোখের কোনে অভিমানের পানি জমা হোক। এটার সাথে আমি কখনোই কম্প্রোমাইজ করি নি। তাই আমি ঠিক করেছিলাম খালি পরাশুনাই করতে যাবো বুয়েটে।

হায়!!মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক! যে জিনিষ আমার পুরো জীবনে কখনোই হয় নি, সে জিনিষ টাই ঘটে বসলো! আমার আগের ২০ টা বছরে একটা সামান্য ক্রাশ ও কারো উপর ছিলো না। আমার জাষ্ট এসব জিনিষ নিয়ে ভাবার সময়ই হয় নি কখনো। এটা সম্পূর্ণ প্রথম আমার জীবনে। আমি জানতাম এটা প্রথমে ক্রাশ ই ছিলো। জাষ্ট ক্যাফেতে লাইব্রেরিতে যা দেখতাম তাই। কিন্তু গতো টার্ম এর লাষ্টের দিক থেকে জিনিষ্টা চরম আকার ধারন করলো। যদিও আগে আমি এটাকে ফান এর পর্যায়ে রেখে দিয়েছিলাম। পোলাপান ফাজলেমি করতো। এই সেই! কিন্তু যখন ক্রাশটা ভালোবাসার বা যাই হোক সেটার রূপ নিয়ে নিলো তখন আমার আর কিছুই করার নাই।

এতোদিন যেটাকে হাল্কা বলে হাতে করে নিয়ে চলছিলাম সেদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি এটাকে ফেলে দিতে পারছি না। এটা আমাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে রেখেছে! এটা পুরোই অন্যরকম এক ধরনের অনূভূতি। ঝাল মুড়ি খাবার সময় প্রচুর ঝাল থাকা সত্ত্বেও সবাই যেমন খেয়েই যায় ঝাল; অনেকটা এটার ঝাল এর কারনেই; যদিও সে ঝাল এর কারনে তার চোখে পানি জমে যায়;তবুও সে থামে না। আলাদা ক্যাম্পাস এ থাকার ফলে ভেবেছিলাম চোখের আড়াল মনের আড়াল ও হবে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা হলো না। তাকে না দেখলে না দেখার ব্যাথা; আর দেখলে মনের মাঝে, ঠিক হার্ট এর মাঝখানে একটা তীক্ষ্ণ ব্যাথা; একটা আজব ব্যাথা। যে ব্যাথা আমি আগে কখনই ভাবি নি আমি পাবো আমার জীবনে। মাথার সব কয়টা তার ছিড়ে যাওয়া; হাত পা কাপাকাপি করা এসব কি কারনে হচ্ছে? আমি আসলে এখনো বুঝতে পারছি না আমি কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি!

যাই হোক আমার মনে হয় পহেলা বৈশাখে আমার বা আমাদের কাজকর্মে থলের বিড়াল বের হয়ে আসছে! যা হয়েছে এখন এটাকে আনডু করার কোনো উপায় নাই। যা হবার তাই হয়েছে। আমি কোনো দোষ করি নাই। আর যদি করেও থাকি তাহলে সেটার উপর আমার কোনো হাত নাই। আমি একটা ছেলে যে কিনা খুব বেশি তার হার্ট ঠিক সেই মুহূর্তে যা বলে তাই করে ফেলে। my heart controls me more than my head does. এটার জন্য আমি পরে ভুগলেও ঠিক সেই মুহূর্তের অনুভূতির কথা চিন্তা করলে তা সহ্য হয়ে যায়।

আজকে অনেক কিছু লিখে ফেললাম। একদম বিক্ষিপ্ত একটা মন নিয়ে লিখলাম এসব।

২,১৮৭ বার দেখা হয়েছে

৩৩ টি মন্তব্য : “আমার অনুভূতিগুলোর আমার মতো করে ব্যবচ্ছেদ”

  1. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    ওই ব্যাটা,প্রোপোজ কইরা ফালা।এর কোনো হার্ড এন্ড ফাস্ট রুল নাই।সর্বোচ্চ কি হবে-খুব খারাপ হইলে হয়তো না বলবে।তাইলেও তোর অন্তত এই সান্তনা থাকবে যে বাকি ১০০ টা পোলার যেই জিনিসটা করার গাতস নাই তুই এট লিস্ট সেই জিনিসটা করছস-ইউ স্পোক ইয়োর হার্ট।

    বাকিটা আল্লাহ ভরসা।আর ক্রাশ খাওয়াটা বা প্রেমে পড়াতা এত খারাপ ভাবতাছস ক্যান রে?ইতস ওয়ান্ডারফুল টু বি ইন লাভ,ট্রাস্ট মি ম্যান!

    জবাব দিন
    • রাহাত ইবনে রফিক (০০-০৬)

      ভাই; এই দেহে যতো গাটস আছে তার সবটা নিয়েই পহেলা বৈশাখে গেছিলাম মনের কথাটা বলতে কিন্তু ভাই তার চোখের দিকে তাকায়ে আমার সব উলোট পালোট হয়ে গেলো!!আমি কিছুই করতে পারলাম না।লব্ধি পুরাই শূণ্য 🙁

      জবাব দিন
      • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

        বেশি তাড়াহুড়া করিছ না।আগে মাইয়ার সাথে ভালভাবে মিলমিশ কর(সম্ভব হইলে নোট-ফোট দে,প্রজেক্ট কইরা দে),"দুজন দুজনকে ভালভাবে জান",মাইয়ারে হাল্কা-পাতলা হিন্টস দে-তারপর ঝোপ বুইঝা কোপ মার।

        অফ টপিক-আবার দেরি করতে গিয়া এমুন দেরি কইরা ফেলিস না যে একদিন তোরে তার বয়ফেরেন্ডের সাথে পরিচয় করাই দিয়া কয়-হাই রাহাত দিস ইজ দা লাভ অফ মা লাইফ x-( x-( x-(

        জবাব দিন
        • আহসান আকাশ (৯৬-০২)
          প্রফেসর মাস্ফ্যু (ভাই)
          পি,এইচ,ডি (লাভ-ক্যামিষ্ট্রি)
          ইউনিভার্সিটি অব লাভাল্যান্ড। :grr: :grr:

          :thumbup: :thumbup: :thumbup:


          আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
          আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

          জবাব দিন
  2. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    ওই ব্যাটা,প্রোপোজ কইরা ফালা।এর কোনো হার্ড এন্ড ফাস্ট রুল নাই।সর্বোচ্চ কি হবে-খুব খারাপ হইলে হয়তো না বলবে।তাইলেও তোর অন্তত এই সান্তনা থাকবে যে বাকি ১০০ টা পোলার যেই জিনিসটা করার গাটস নাই তুই এট লিস্ট সেই জিনিসটা করছস-ইউ স্পোক ইয়োর হার্ট।

    বাকিটা আল্লাহ ভরসা।আর ক্রাশ খাওয়াটা বা প্রেমে পড়াতা এত খারাপ ভাবতাছস ক্যান রে?ইতস ওয়ান্ডারফুল টু বি ইন লাভ,ট্রাস্ট মি ম্যান!

    জবাব দিন
  3. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আর দেখলে মনের মাঝে, ঠিক হার্ট এর মাঝখানে একটা তীক্ষ্ণ ব্যাথা; একটা আজব ব্যাথা

    কবিগুরু লিখেছেন-

    "তাহার পানে থেকে চেয়ে চেয়ে
    বাজিল বুকে সুখের মত ব্যথা"

    বুঝলি,লাভারবয়?

    জবাব দিন
  4. আহসান আকাশ (৯৬-০২)
    ...আর ক্রাশ খাওয়াটা বা প্রেমে পড়াতা এত খারাপ ভাবতাছস ক্যান রে?ইতস ওয়ান্ডারফুল টু বি ইন লাভ,ট্রাস্ট মি ম্যান!

    সম্পুর্ন একমত... ইউ ক্যান ট্রাস্ট মি অলসো 🙂


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  5. রকিব (০১-০৭)

    রাহাত ভাই, বইলা ফেলেন, নো রিস্ক, নো গেইন। চেয়ে না পান তাও সই, কিন্তু কখনো না বলতে পারার কষ্টে ভিতরে ভিতরে ঢুকড়ে মরবেন কেন? (অনভিজ্ঞ লোক আমি, তাই ভুলও কইতে পারি :grr: )


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  6. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    রাহাত পোলাডা মেরা দিল জিত লিয়া।কত্ত সম্মান করে আমাদের আর এই ব্লগরে কত্ত আপন মনে করে যে মনের কথা এইভাবে খুইল্লা কইল!ওই মমিন, তোর হয়া যাইবো চিন্তা করিস না-দরকার হইলে হবু ভাবীরে এই ব্লগের লিঙ্ক দিয়া দিস 😀

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।