লোডশেডিং,মশা,ব্রডব্যান্ড আর খেলা দেখা।

শিরোনামটা বেশি বড়ই হয়ে গেলো মনে হচ্ছে।কি আর করা!এই কয়টা জিনিশ গতো কয়েকদিন আমার কাল হয়ে দাড়াইছে।আস্তে আস্তে সব বলতেছি।
গতকা্লকের কাহিনী শুনলেই আমার মনে হয় সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।আমার গতকাল্কে রাতে একটা টিউশনি ছিলো।পড়ায় টরায় ৮ টার দিকে বাসায় আসলাম।এসে দেখি মাশাল্লাহ!লোডশেডিং চলতেছে!এখন অনেকেই বলবেন এটা তো হতেই পারে।আমার কিন্তু এতে কোনো সমস্যা নাই।কিন্তু আমি যেখানেই থাকি সেখানেই লোডশেডিং হয় কেন রে বাপ?এখন নিশ্চিত বুঝতে পারছেন কেনো মেজাজ খারাপ।আমি যখন টিউশনি তে যাচ্ছিলাম তখন বাসায় কারেন্ট ছিল।ছাত্রের বাসায় গিয়ে দেখি কারেন্ট নাই।পুরা টাইম গরম এ পড়ানোর পর ঠিক যখন আমি উঠতে যাবো তখন আসলো কারেন্ট।এরপর বাসায় আইসে দেখি এখন এইদিকে কোর্স কম্পলিট করতাছে। ~x( মেজাজ কেম্নে ভালো থাকে আপনারাই বলেন।
এরপর আসি নেট এর কাহিনীতে।আমি যেই লোকাল ব্রডব্যান্ড এর লাইন ইউজ করি তারা যে কি আল্লাহই মালুম!দিনে কয়বার যে তাদের লাইন ডিজকানেক্ট হয় আর কয়বার যে তাদের আমাকে ফোন করতে হয় আমি তার হিসাব করা ছেড়ে দিছি।আমি আগে ইউজ করতাম সিটিসেল জুম।ইহার সার্ভিস যে কিরকম তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন।এখন দেখি ব্রডব্যান্ড নিয়েও কিছু হইতেছে না।তাহারা বলতেছে এটা নাকি আগামী মাসেই ঠিক হয়ে যাবে।দেখি কি হয়।
গতকাল আবার ছিলো চ্যাম্পিয়ন্স লীগের খেলা।খেলা হয় পৌনে ২ তার দিকে।তার মানে জাগতে হবে।ভাবতেছেন রাত জাগা কনো ব্যাপার না।না রে ভাই!আমার বাসায় ঠিক রাত ১২ টার দিকে কারেন্ট যায়।এখন এই এক ঘন্টা আমি কি করবো 😕 !পুরা বাসায় সবাই ঘুম আর আমি একা একা বইসে আছি।আসলেই জাস্ট বসেই ছিলাম,আর কিছুই করি নাই।তখন বুঝলাম আসলে আমি একা রাত জাগতাছি না,সাথে আরো পা্বলিক আছে।তেনাদের কথা আর কি বল্বো ভাই!তাদের গান,তাদের কামড় শুনতে আর খাইতে যে কি বেহেশ্তি আনন্দ তা আর কি বলবো!অন্ধকারে বিছানায় বইসে বইসে খোদাপ্রদত্ত কেবল দুইটা হাত সম্বল করে নিজেকে রক্ষা করার প্রয়াসে নিজেকে নিয়োজিত করিলাম।তখন বুঝলাম আমার শ্রবনেন্দ্রিয় যে কি শার্প!খালি মশাগণের আওয়াজ শুনিয়াই আমি তাহাদের তুলাধুনা করতে লাগিলাম :gulli: ।নিজেও যে কোনো ক্যাজুয়ালিটি এর শিকার হয় নাই তা না হেহে!
যাই হোক ভাই এর পরের কাহিনী আরো বেদনাদায়ক!২ টার দিকে কারেণ্ট আস্লো।আমি তখন তাড়াতাড়ি টিভি খুললাম।অনুমান করুন কি হতে পারে?ঠিক ধরেছেন!!তখন ডিশ এর লাইনে কারেন্ট নাই।মনে হইলো কিচেন এ গিয়ে বটি দিয়ে নিজের মাথা কাইটে তা দিয়া ফুটবল খেলি।**লের পিডিবি রে কয়েটা গালি দিয়া পিসি খুলে নেট এ লাইভ কমেন্টারি দেখতে লাগ্লাম।পরে কারেন্ট আসছিলো ৩ টার দিকে।পেইন আরো যে লিভারপুল আর চেলসি ২ টই উঠছে।অসহ্য!!!!!
এমনে যদি আজকেও খেলা দেখতে হয় তাইলে আমি কইদিন হায়াত পাব তা নিয়া খুব তাড়াতাড়ি হিসাব নিকাশ সুরু করতে হবে!!!

১,২২১ বার দেখা হয়েছে

২২ টি মন্তব্য : “লোডশেডিং,মশা,ব্রডব্যান্ড আর খেলা দেখা।”

  1. তৌফিক (৯৬-০২)

    বিশ্বাস করো আর না করো ভাই, আজ প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল দেশে নাই। লোডশেডিং, পাবলিক বাস, লোকজনের ভীড়- এইসবই বেশি মিস করা হয়।

    ব্যাপার না, পিডিবিরে গাইল দিয়া লাভ নাই। আমি ২ সপ্তাহ আশুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্টে ট্রেইনিং-এ ছিলাম। প্ল্যান্টের বয়স শেষ পাঁচ বছর আগে, টাকা নাই, তাই প্ল্যান্ট স্ক্র্যাপ করে না। পুরানা প্ল্যান্ট, গ্যাস বেশি খায়, স্টিম সেই অনুপাতে তৈরী করতে পারে না। ডুয়াল সাইকেল প্ল্যান্টে এফিসিয়েন্সি ৫৮% হইলো গিয়া স্ট্যান্ডার্ড। সঠিক সংখ্যা মনে নাই, আমাদের প্ল্যান্টগুলা ৩০ এর আশেপাশেই ঘোরাফেরা করে। পুরানা প্ল্যান্ট চালায়া পাঁচ বছরে যে ক্ষতি হইছে, সেই ক্ষতির টাকা দিয়া আরেকটা নতুন প্ল্যান্ট তৈরী করা যায়। তার উপর আছে গিয়া এক্সপার্টিজের খরচ। কোন এক অজানা কারণে, আমাদের দেশের বিদেশপ্রীতি মারাত্নক রকম। প্ল্যান্ট ট্রিপ করলে ইঞ্জিনিয়ার আসে চীন বা জার্মানি থাইকা। জিজ্ঞাসা করছিলাম, লোকাল ইঞ্জিনিয়াররা কেন করে না। উত্তর আসছে, ম্যানেজমেন্টের নাকি ভরসা নাই। যদি ভরসা থাকতো, তাইলে আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়াররাই একসময় নিজেরাই সব ঠিক করতে পারতো।

    আর প্ল্যান্ট না বসায়া খাম্বা বসাইলে এই রকমই হবে। তুমি যখন লোডশেডিং-এ বইসা বইসা মশার কামড় খাও, খাম্বা লিমিটেডের লোকজনদের হুরপরী অটোমেটিক তোমার জন্য বরাদ্দ হয়ে যায়। সুতরাং এই জামানায় না হোক, পরের জামানায় হইলেও বিচার ঠিকই হবে। চিন্তা কইরো না।

    জবাব দিন
  2. ধুরো মিয়া!!ইন্টার এর ভাগ্য খারাপ।ম্যান ইউ এর খেলা দেইখে বুঝতে পারছি তারা ভাল খেলা ছেড়ে দিয়ে সেইফ খেলা ধরছে।এতো ভুল পাস করেও বাশ খায় নাই কেন চিন্তার বিষয়!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।