আমার সকল প্রেমগাথাঃ১(প্রথম প্রেম)

ছোটবেলা থেকেই আমার একটা বড়সড় সমস্যা আছে। সেটা হইল দুর্বলতা। নারীজাতির প্রতি দুর্বলতা। এই দুর্বলতাটা প্রতীয়মান হয় আমি যখন ক্লাস টু তে পড়ি। আমাদের বাসায় একটা ক্যালেন্ডার ছিল। সেখানে তখন কার যুগের কোন এক মডেল এর ছবি ছিল। আমি হা করে সেই মডেলটির দিকে তাকিয়ে থাকতাম। গোসল করার সময়, খাবার সময় ঘুমের সময় চিন্তা করতাম, আহ কি সুন্দর একটা মেয়ে। আমার বউখানা যদি এমন হইত!!মামা খালারা যখন প্রেম করতো আমি ভাবতাম আমি যে কবে এমন করে প্রেম করব, বিয়ে করব!! কপোত কপোতী যখন রিকশা দিয়ে যাইতো আমার মনে হইতো কখন আমি আমার প্রেমিকাকে নিয়া এমনি করে যাব। সিনামা হলে যখন মা খালাদের সাথে সালমান শাহ আর শাবনূরের ছিনেমা দেখতে যাইতাম তখনো ভাবতাম, আমি কবে এরকম ছিনেমা করব আর হাজারটা নায়িকাকে জড়াইয়া ধরব। সেই যে আমার ফ্যান্টাসি শুরু হইল, তা আর বাস্তবে রূপ দিতে পারলাম না।

ক্লাস সিক্সে বৃত্তি পাইয়া যখন আমি যখন প্রথম বারের মতো কম্বাইন্ড কোন যায়গায় পরতে গেলাম, বুঝিলাম এইবার হইল কাজ। ক্যাসানোভা আজ সন্ধান পাইয়াছে এতোদিনের গুপ্ত ধনের। ক্লাস রুমে গিয়ে দেখি মেয়েরা বসে একপাশে আর ছেলেরা আরেকপাশে। আমি এসব জানিনা এই ভান করে মেয়েদের সিটে গিয়েই বসে পরলাম। একটু পর দেখি চশমা পরা এক মেয়ে আসলো। ভাবলাম একটা সিনেমাটিক ডায়ালগ দিয়ে দেই, এই চ্যাশমেশ!! :-B হয় না এসব ডায়ালগ। সাহস লাগে। অইটা আমার নাই।

কিছুক্ষন পর আরো দুইটা মেয়ে আসলো। তারপর তিনজন মিলে গুনগুন করে কি যেন আলাপ করল। আর তারপর শানিত দৃষ্টি দিয়ে আমাকে যেন ফালাফালা করে দিচ্ছিল। আহহহ! কি সুন্দর চোখ!! কল্পনার জগতে হারিয়ে যাচ্ছি আমি। হঠাত কর্কশ ধ্বনি, আই ছেলে! তুমি এই মেয়েদের যায়গায় বসে কি করছ!! ওঠ!! আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে একটু না বোঝার ভান করলাম। আরেকটু কথা বাড়ালাম। চেষ্টা করলাম যে আরো কিছুখন থাকা যায় কিনা এই তিন অপ্সরীর সন্নিকটে। সুখস্মৃতি বেশিখনের হয় না। আমারো হলোনা। অগত্যা নিজের সিটে ফিরে আসলাম। আর যা পেলাম তা হলো পরবর্তী ২ সপ্তাহ মেয়েদের সিটে বসার কারনে একটি খেতাব, খেতাব গোপনীয়।

যখন বুঝতে পারলম যে প্রেম আমার জন্যে নয় ঠিক তখনি যেন প্রেমের ফুল ফুটিল মনে। বসন্ত নেমে আসল সবখানে। চোখে লাগল রঙিন চশমা। ক্লাসের সবচাইতে ব্রিলিয়ান্আর সুন্দরী মেয়েটার দিকে চোখ কার না যায়। কিন্তু আমিও তো কম ভালো ছাত্র ছিলাম না। তাই নিজ মনেই ধরে নিয়েছিলাম যে এই মেয়েটাকে পাবার অধিকার তো আমারই একমাত্র। কিন্তু যা হয়… ফুটে যখন প্রেমের ফুল, ছেলেরা হয়ে যায় ভিতুর ডিম। যে আমি মেয়েদের পিছন ছাড়তাম না সেই আমি ওর চোখের দিকে তাকাতে ভয় পাই।আমি বসতাম জানালার পাশে। সূর্য উঠলে আমার ছায়া ওর গায়ে গিয়ে পড়ত। আমার হাতের ছায়া দিয়ে ওর কপাল গাল হাত বুলিয়ে দিতাম। মনে মনে দশখানা ভাগে ভাগ হয়ে যেতাম। কেন তুমি এতো সুন্দর। কিভাবে তুমি সব গুলো প্রশ্নের উত্তর ঠিক ঠিক দাও। আমি দিন দিন ওর প্রেমে মরিয়া হচ্ছি আর ক্লাসে খারাপ করছি। কিন্তু সে যে বোঝেনা যে আমি ওর জন্যেই খারাপ করছি(মনে হতো কতোই না বীরত্বের কাজ করছি ক্লাসে খারাপ করে। বাংলা সিনেমার মতো সে বুঝবেই যে আমি ওর জন্যেই খারাপ করছি আর একদিন এসে জড়িয়ে ধরে বলবে, ওগো সোনা, তোমার আর আমাকে নিয়ে ভাবার দরকার নাই। তুমি ঠিকমত পরালেখা কর। নইলে আমাদের সংসার এর খরচ কে সামলাবে!!

কল্পনা কল্পনার জগতেই থাকে আর আমিতো আমার জগতে ফেইল ই মারতে থাকি। তিন মাস গেলো, চার মাস গেলো। বলতে পারিনা। সাহস হয়না। অবশেষে বলিব বলিয়া ঠিক করলাম। সেইদিন বৃষ্টি হচ্ছে। ক্লাসে ছাত্র কম। অনেক সিট ই ফাকা। নিজের সিটে না বসে দুই বেঞ্চ পিছনে বসলাম। ভাবছি কিভাবে কি বলব। কিভাবে কি করব। হঠাত বেঞ্চের এক যায়গায় দৃষ্টি পরলো। কলম দিয়ে ভরাট করে লেখা “আফিয়া+জয়”। 😡 ~x( আফিয়া হলো সেই মেয়েটি, আর জয় নিশ্চয়ই আমি নই। ঘনকালো মেঘগুলোর একটি বজ্র যেন আমাকেই এসে সরাসরি আঘাত করল। বুঝতে পারছিনা কি বলব, কি করব। কি আমার করা উচিত। কোচিং শেষ হল। সবাই ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাচ্ছে। জয়ের ছোট ছাতাটির মাঝে আফিয়া আর সে গুটিসুটি হয়ে যাচ্ছে। আর আমি পেছন পেছন হেটে যাচ্ছি বৃষ্টির মাঝে। আমার চোখের পানি আর বৃষ্টির পানি মিলে যাচ্ছে। =(( হারিয়ে যাচ্ছে আমার প্রথম ভালোবাসা। রেখে যাচ্ছে চীরদিনের জন্যে এক ব্যর্থতার স্মৃতি। :bash: :(( :((

১,৭৩৫ বার দেখা হয়েছে

১২ টি মন্তব্য : “আমার সকল প্রেমগাথাঃ১(প্রথম প্রেম)”

  1. সামীউর (৯৭-০৩)
    ছোটবেলা থেকেই আমার একটা বড়সড় সমস্যা আছে। সেটা হইল দুর্বলতা। নারীজাতির প্রতি দুর্বলতা।
    প্রথম বারের মতো কম্বাইন্ড কোন যায়গায় পরতে গেলাম, বুঝিলাম এইবার হইল কাজ। ক্যাসানোভা আজ সন্ধান পাইয়াছে এতোদিনের গুপ্ত ধনের।

    ইউ পোম গানা?

    জবাব দিন
  2. সেলিম ১৯৯৯-২০০৫
    জয়ের ছোট ছাতাটির মাঝে আফিয়া আর সে গুটিসুটি হয়ে যাচ্ছে।

    ঐ সময় জয়ের যদি ছাতা না থাকতো তাহলে আফিয়া অন্তত গুটিসুটি হওয়ার হাত থেকে রেহাই পেত......... তাহলে খারাপও কম লাগত............তাই নয় কি?

    জবাব দিন
  3. (মনে হতো কতোই না
    বীরত্বের কাজ করছি ক্লাসে খারাপ করে। বাংলা
    সিনেমার মতো সে বুঝবেই যে আমি ওর
    জন্যেই খারাপ করছি আর একদিন এসে জড়িয়ে
    ধরে বলবে, ওগো সোনা, তোমার আর
    আমাকে নিয়ে ভাবার দরকার নাই। তুমি ঠিকমত
    পরালেখা কর। নইলে আমাদের সংসার এর খরচ
    কে সামলাবে!!

    হাহাহা..... আপনার ভাবনাটা পড়ে হাসতে হাসতে পেট বেথা হয়ে জাচ্ছে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।