রাধাকথন-৯

আমার গায়ে যত দুঃখ সয়
বন্ধুয়ারে করো তোমার
মনে যাহা লয়

পোড়াচোখের
কাজলঘেঁষা জল
কবে’ হয়ে গেছে
মাছব্যাপারীর
আঁশটে নোট,কালা!

পাষাণ বন্ধু রে
প্রহরগুলো তোর
যমুনায়
নেমে গেছে
পায়পায়,
গলায় দড়ি দি’ছে
রঙ্গিলা কলস হায়

এখন শুধু
মাসী গুণে
কনডম দ্যায়,
গোণে ক’জন এলো গেলো।
শ্‌শা-আ-লা!

২,৩৮৮ বার দেখা হয়েছে

৪১ টি মন্তব্য : “রাধাকথন-৯”

  1. মোকাব্বির (৯৮-০৪)
    পোড়াচোখের
    কাজলঘেঁষা জল
    কবে’ হয়ে গেছে
    মাছব্যাপারীর
    আঁশটে নোট,কালা!

    এই কথাটা কিভাবে আসলো?! অপূর্ব বলাটা অনেক কম হচ্ছে। না চাইতেও ব্যাপারটার একটা উদ্ভট চিত্রায়ন মাথায় আসলো! 🙁 নূপুরদা! :boss: :boss:


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
    • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

      শান্তার জন্যে,
      শাহীনের জন্যেও --
      চেষ্টা করছি যতদূর সম্ভব ব্যাখ্যা করতে।
      এটা যৌনপল্লীর গল্প -- অর্থের বিনিময়ে শরীর বিকিয়ে দেবার গল্প। সেখানেও প্রেম আসে -- কখনো কখনো 'মুক্তি'র প্রহর গুণতে প্ররোচনা দেয়। যে 'কালা'র কথা বলা হচ্ছে সে হতে পারে পুরনো প্রেমিক যে ওকে বেচে দিয়েছিলো এ পল্লীতে বা কোন খদ্দের যার জন্য সে অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতেই অন্যের শয্যাসঙ্গী হয়। এবং সেই তুলনা করতে গিয়ে রাধা যমুনা কলস এ অনুষঙ্গগুলো টেনে এনেছি।
      আর প্রহর গোণার বদলে কনডম বা শয্যাসঙ্গী গোণাগুণতির সঙ্গে তো তার ওখানে টিকে থাকা জরুরী - যেটা তার পৃষ্ঠপোষক নিশ্চিত করে। এবং এমনি একটা ব্যাপার দেখেছিলাম Whores' glory ছবিটায়, যেখানে মেয়েগুলোকে মাসী বা 'মা'র কাছে গিয়ে হাত পাততে হয় একটা একটা করে প্রতি খদ্দের হিসেবে- হিসেব রাখার হিসেবটা পাকা, কি বলো!

      শান্তা,
      আঁতলামি হলো ত বটেই, যে জীবন দেখিনি - যে দুঃখ পাইনি তাকে বলতে চেয়ে। কিন্তু এঁদের নিয়ে ফাজলামি করার মন কোনদিনই হবেনা এ আত্মবিশ্বাস আমার আছে।

      জবাব দিন
      • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

        কান ধরছি আর আপনাকে কবিতার মানে জিজ্ঞেস করবো না। অবশ্য জিজ্ঞেস করলে আখেরে লাভই হয় - অনেক কিছু শেখা যায়।


        “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
        ― Mahatma Gandhi

        জবাব দিন
        • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

          কেন জিজ্ঞেস করবা না? 🙁
          না বুঝলে প্রশ্ন তোলা যাবে না?
          আর দেখো কবিতা কতটা হয় কে জানে,
          ভাবনাকে এক দু'টানে একেকটা ছবি বানাবার চেষ্টা করি -- নিজের সম্পৃক্ততার কারণেই সেটাকে সহজবোধ্য মনে হতে থাকে শুরু থেকেই; পাঠকের তা না হবার সম্ভাবনাই বেশি। সেই খেই ধরিয়ে দেয়া, আলোচনা করার সুযোগ পাওয়া লেখকের জন্যে বিরাট ব্যাপার।

          এ লেখার ক্ষেত্রে তোমার কমেন্টটার পেছনের ভাবনাটা যদি শেয়ার করতে বরং, তাহলে আরো খোলাসা হতো ব্যাপারটা। কখনো কখনো লেখার মধ্যে যে-কথা বলা হচ্ছে তার প্যারালালে অনেক কিছু ছড়ানো-ছিটানো থাকতে পারে আশেপাশে -- চলচ্চিত্র বা আলোকচিত্রের কম্পোজিশনের মতোই। অন্তত আমার কাছে 'অন্যভাবে/অন্যচোখে' দেখার একটা উপায়। যেমন ধর, শুরুর লোকগীতিটায় বলছে -- 'গায়ে যত দুঃখ সয়', আসলে কষ্টটা তো হৃদয়েরই। কিন্তু এ লেখায় প্লেস করার ফলে শরীরি ভাবনা ডমিনেট করতে পারে -- একটা দ্ব্যর্থবোধ তৈরী হবার সম্ভাবনা থেকে যায় -- এবং এটা ডেলিবারেট আমার তরফ থেকে। শরীর বিক্রি যার জীবিকা তার কাছে প্রত্যেক সঙ্গীই 'কালা' ওপরে ওপরে -- কিন্তু সেও তার গোপন অভিমান/জ্বালা পুষে রাখে একজন নির্দিষ্ট কারো জন্যে।

          অনেক বকবক করে ফেললাম।

          জবাব দিন
  2. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    নূপুরদা,
    সশস্ত্র সালাম... ::salute::

    আমার একটি পয়েন্ট আছেঃ কবিতাটা পড়ার সময় 'পদ্মা নদীর মাঝি' টাইপ একটি দৃশ্য মাথায় আসছিল। অর্থাৎ সেই পটভূমি, সময়, জেলে পাড়া...কিন্তু 'মাসী গুণে/ কনডম দ্যায়' পড়ে ঝপ করে ৬০/৭০ বছর এগিয়ে আসতে হল। 'মাসী গুণে/ টাকা দ্যায়' থাকলে সেই সমস্যাটা থাকত না, তবে এটা ঠিক এতে রাধার আক্ষেপ/গ্লানি/ঘৃণার তীব্রতা কমে যেত...

    যাই হোক, 'রাধাকথন' এর ডাবল ডিজিট এর অপেক্ষায় থাকলাম... ;;)
    (অবশ্যই ব্যক্তিগত মতামত... 😀 )


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  3. তাওসীফ হামীম (০২-০৬)
    এখন শুধু
    মাসী গুণে
    কনডম দ্যায়,
    গোণে ক’জন এলো গেলো।
    শ্‌শা-আ-লা!

    একটা বড় ধাক্কা খেলাম এইখানটায় এসে


    চাঁদ ও আকাশের মতো আমরাও মিশে গিয়েছিলাম সবুজ গহীন অরণ্যে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।