পাতাঝরার গান

চিৎ হয়ে তার আকাশ দেখার আয়োজনে
বাধ সেধেছে আজ পর্ণমোচী দিন…..

সন্তর্পণে এইখানে এসে
ভাবছিলো সে
নীলাকাশ পান করে নেবেই
আজ আঁজলা ভরে
এমন উজ্জ্বল বিকেলে,
মৃদুহেসে অনুচ্চারে
ভালোবাসা বলেছে কি
বলেনি ভালো ক’রে
অমনি গাছে গাছে
লেগেছে আগুন হেসেখেলে
পত্রাবলি পুড়ে গেছে
সলজ্জ কামে
তেতে ওঠে
বৃক্ষের হৃদয়
প্রণয়ের পাতাঝরা নামে

কমলা-শাড়িটি
মেতেছে ওদিকে
লুকোচুরির ছলে
লালিমায় শতধা
আকাশ নেমেছে
সমস্ত বনাঞ্চলে….


(আমেরিকায় ফল-এর সৌন্দর্য এখনো ভালো করে দেখা বোঝা হলোনা। তবু আয়েশার উৎসাহে লেখা। লেখা ভালো লাগলে কৃতিত্ব ওর, ভালো না লাগলেও ওরই দায়। সেজন্যেই ময়মনসিংহ ট্যাগ। 😀 )

৩,০২৫ বার দেখা হয়েছে

৪০ টি মন্তব্য : “পাতাঝরার গান”

  1. রকিব (০১-০৭)

    প্রিয় কবির তালিকায় বেশ অনায়াসেই ঢুকে পড়েছেন ভাইয়া। আগের পোষ্টে বলেছিলাম লেখা পড়েই নেশা হয়েছে। কথাটা কিন্তু সত্য, আপনার লেখাগুলো, বিশেষতঃ কবিতাগুলোয় একটা মাদকতা আছে, কেমন যেন ঘোরে জড়িয়ে ফেলে। নীরব পাঠক হএই কেবল পড়ে যাওয়া হয় তাই!

    অনটপিকঃ আম্রিকার ফল তো দেখা হয়নি, তবে এই কানাডার ফল দেখে রঙের অসামান্য ছড়াছড়ি টের পাওয়া হয়ে গেছে।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. আয়েশা ( মগকক) আয়েশা

    কবিতা থেকে কিছু নতুন শব্দ শিখতে পারলাম। এত শব্দ যে কোথায় স্টোর করে রাখেন! এত তাড়াতাড়ি আমি আমার আব্দারের কবিতাটা পাব ব'লে আশা করিনি। আপনি আমার অনুরোধটা রাখলেন.....তাও আবার আমার মত এমন একজন ক্যাডেটের যে কিনা মাত্র আপনাদের এক তৃতীয়াংশ সময় কলেজে অতিবাহিত করেছে।(তবে আমি কিন্তু নিজেকে আবার আপনাদের মত ক্যাডেট-ই ভাবি)

    মা একটা কথা বলেন যে, যারা যেকোনো অবস্থায় যে কোনো কিছু নিয়েই লিখে ফেলতে পারে তারাই প্রকৃত কবি। আপনি নিউ york থাকলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা সাহিত্য আসরে যোগ দিয়ে আরো ভালো সাহিত্য চর্চাটা ধরে রাখতে পারতেন। নিউ যরকে প্রতি মাসে দুই-একটা (কবিতা/ গল্পের) বইয়ের মোড়ক উন্মোচন তো হয়েই থাকে এবং বেশ ঘটা করেই হয় অনুষ্ঠানগুলো। নূপুর ভাই, আপনি যদি "ঠিকানা" (আমেরিকার #১ ন ) পত্রিকার সাথে যোগাযোগ করেন তাহলে ওরা আপনার কবিতাগুলো লুফে নেবে। শুধু সিসিবিয়ান রা কেন...সবাইকেই আপনার লিখাগুলো পড়ার সুযোগ করে দিন।
    OH এ তে তো সবচেয়ে সুন্দর ফল হয় অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের দিকেই! পাতাতে ঠিকমত রং ধরেনি এখনো?

    জবাব দিন
    • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

      স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে বেশ উৎকন্ঠার সংগে প্রতীক্ষা করছিলাম তোমার প্রতিক্রিয়ার।
      আমিও বুঝিনি কিছু একটা লিখে ফেলতে পারবো এভাবে। হঠাৎ হয়ে গেলো।
      অনেক ভালো লাগছে তোমার মন্তব্য পড়ে।
      তোমার পরামর্শ নিয়ে ভাববো সিরিয়াসলি। আগে একটু গুছিয়ে নি কর্মক্ষেত্রের ঝুটঝামেলা।
      সবাই বলছে এবারে নাকি তেমন রং ধরেনি ফল-এর। আমিও কেবল এসেছি, তেমন কোথাও বেড়ানো হয়নি।শহরের ভেতরেই যা দেখলাম, আমার আনাড়ি চোখ জুড়িয়ে যাবার জন্য এযাত্রা তাই যথেষ্ট।

      জবাব দিন
  3. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)
    কমলা-শাড়িটি
    মেতেছে ওদিকে
    লুকোচুরির ছলে

    প্রকৃতি-বন্দনার অসামান্য প্রকাশের মাঝেও আপনি আপনার মানবীকে ভুলেননা...
    এই জন্যই আপনারে আমি এতো ভালো পাই...


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন
  4. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    এটা যে আম্রিকার ফল-এর সৌন্দর্য্য নিয়ে লেখা তা কবিতার ব্যাখ্যামূলক লাইন দুটো না পড়লে বুঝতেই পারতাম না। মনে হচ্ছিল দারুণ একটা প্রেমের কবিতা- যেখানে প্রকৃতি আর নারী একাকার হয়ে গেছে। ধন্যবাদ নূপুর।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
      • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

        আসলে মাঝে মাঝে এতো সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করি যে ভুল বোঝার সুযোগ রয়ে যায়।
        পুরনো ধাঁচের বলতে বুঝিয়েছি, পত্রাবলি, বৃক্ষ, ছলে , লালিমা, এমন শব্দগুলো ইদানিং কবিতায় খুব একটা ব্যবহার হতে দেখি না। তবে মাঝে মাঝে এমন শব্দ পড়তেও ভালো লাগে কিন্তু। এটাই।

        আমি আছি। মোটামোটি সুখেই আছি। তবে লিখতে ইচ্ছে করে না কেন জানি। সম্ভবত লেখাটাই এখন পেশা হয়ে গেছে বলে আগের মত স্বতস্ফুর্ত ব্লগ লিখতে পারি না। আড্ডা দেই, খেলা আর সিনেমা দেখি, সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গে লুইচ্চামি করি 😀


        ---------------------------------------------------------------------------
        বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
        ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

        জবাব দিন
  5. দিহান আহসান

    আর নীরব পাঠক হয়ে থাকতে পারলাম না ভাইয়া।
    ফল এর সৌন্দর্য্য আপনার কবিতা পড়ে আবারো উপলব্ধি করলাম।

    আমাদের এইখানে পাতার রঙ বদলানো শুরু করেছে আগের মাস থেকেই।
    বাসার পিছনে একটা গাছের পাতা একদম লাল টুকটুকে, তার পিছেই নদী। বাসার ডেক থেকে বসে প্রকৃতি দেখছেন আর কবিতা লিখবেন, দাওয়াত রইলো 🙂

    জবাব দিন
  6. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    দুইটাই পরম পূজনীয়, প্রকৃতি আর নারী, একের সাথে আরেকের একদম অঙ্গাঙ্গী জড়াজড়ি, সাথে নূপুর ভাইয়ের ছন্দময় কবিতার নিক্কণ, আহ!


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  7. রুম্মান (১৯৯৩-৯৯)

    ভাইজান আবারও.................. :boss: :just: :boss:


    আমার কি সমস্ত কিছুই হলো ভুল
    ভুল কথা, ভুল সম্মোধন
    ভুল পথ, ভুল বাড়ি, ভুল ঘোরাফেরা
    সারাটা জীবন ভুল চিঠি লেখা হলো শুধু,
    ভুল দরজায় হলো ব্যর্থ করাঘাত
    আমার কেবল হলো সমস্ত জীবন শুধু ভুল বই পড়া ।

    জবাব দিন
  8. রাব্বী (৯২-৯৮)

    ফলের এই রঙটা আসলেই আগুন লাগা। সবকিছু ফেলে বাইরে বের হতে ইচ্ছে করে।

    কবিতার কথা আর নতুন করে কি বলবো! দারুন শব্দের খেলা। এই নেন আমার দুইআনা মুগ্ধতা।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।