রস, রঙ্গ, সংসার এবং মানিক।

পর্ব ১ঃ দর্শনানেন্দ্রিয় এবং নগদ নারায়ণ

একদা কোন এক কাক-ডাকা ভোরে মানিকের দজ্জাল স্ত্রী ঘুমন্ত মানিকের পশ্চাদ্বেশে সর্বশক্তি দিয়া ঝাঁটা মারিয়া বসিল এবং হুমকি দিল- “মিনসে যদি অদ্য বাজারে না যান, আমি এক্ষুণি নরেন্দ্রকে লইয়া ভবানিপুর চলিয়া যাইব…!”
নিরুপায় মানিক পশ্চাদ্বেশ মালিশ করিতে করিতে বাজারের পানে রওনা করিল।

গিন্নীকে সন্তুষ্ট করিবার অভিপ্রায়ে মানিক তাহার ধূমপানের নিমিত্তে সযত্নে রক্ষিত তহবিল ভাঙ্গিয়া দুই হাজার আটশ’ টাকার বিনিময়ে দুইখানা প্রমাণ সাইজের ইলিশ সম্প্রদায়ের মৎস্য খরিদ করিল এবং বাটীতে ফিরিয়া বাহাদুরি ফলাইল- “পারিবে তোমার বাপের বাড়ির কেউ চারশ’ টাকায় দুইখানা ইলিশ কিনিতে?”

পত্নীকে নিশ্চুপ থাকিতে দেখিয়া মানিক সন্তুষ্ট চিত্তে নাসিকায় তৈল গ্রহণপূর্বক পুনরায় নিদ্রা যাইবার প্রস্তুতি গ্রহণ করিল। সহসা পাশের বাড়ির বউদি-র কন্ঠ শ্রবণে মানিকের চিত্ত চঞ্চল হইল; দৃশ্যমান অঙ্গের প্রতি বউদি-র খেয়ালহীনতার সুযোগ লইয়া দর্শনেন্দ্রিয়ের সুখ লাভের অভিপ্রায়ে মানিক চক্ষু মেলিয়া তাকাইল।

দর্শন-সুখ পাইলেও বউদির আগমনের হেতু শুনিয়া মানিকের আত্মারাম খাঁচা-ছাড়া হইবার উপক্রম হইল- “বউদি, আপনার দাদা তো আপিসের কাজে গিয়াছে, বাজার হয়নি তাই; একখানা মাছ আমায় দিন না……কিনিয়া লই…।” মানিক-পত্নীর উত্তর-“এ আর এমন কি ! আজ আপনার দাদা সস্তায় পাইয়াছে- দুইশ’ টাকা করিয়া…।”

বউদি মাছ লইয়া চলিয়া গেলেন; আর মানিক বুকের বাঁ-পাশ চাপিয়া ধরিয়া সান্তনা খুঁজিতে থাকে- “প্রতিদিনই তো প্রাণ ভরিয়া দেখিয়া লই, আজ না হয় পারিশ্রমিক দিলাম……!!!!”

পর্ব ২ঃ পুত্র বিড়ম্বনা

৪র্থ বারের মত কন্যা সন্তানের জনক হওয়া মানিকের সহ্য হইল না, সে বলিয়া বেড়াইল- “পুত্র হইয়াছে।”

অতঃপর “পুত্রের” প্রথম জন্মবার্ষিকী আসিল, মহা সমারোহ করিয়া মানিক সবাইকে দাওয়াত করিল; সকলেই প্রশংসা করিল- “ছেলটা বাপকা বেটা হইয়াছে, বাপের মত খাড়া নাক, টানাটানা চোখ, মুখের আদল – সবই বাপের মত।”
আদরের “পুত্র” তখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিল এবং গৃহপরিচারিকা তাহাকে দিগম্বর করিয়া বস্ত্র পরিবর্তন করিল; সকলেই হায়হায় করিয়া মানিককে চাপিয়া ধরিল- চাপা মারিয়াছ কেন?
মানিক তেড়িয়া-ফুড়িয়া জবাব দিল- “সকলেই তো বলিলে যে পুত্রের সবই আমার মত হইয়াছে, কিঞ্চিত মাতৃ-সাদৃশ্য প্রতীয়মান হইলে দোষ কোথা ?”

পর্ব ৩ঃ মানিকের সহিত লড়িবার দুঃসাহসের দণ্ড

একদা মানিক তাহার দজ্জাল পত্নীর কবল হইতে রক্ষা পাইবার অভিপ্রায়ে বলিল, “আমাকে ব্যবসায়ের কাজে দেশের বাহিরে যাইতে হইবে।”
অতঃপর মানিক প্রকৃতির রূপ ভক্ষণ করিতে উড়োজাহাজে করিয়া লাসভেগাস রওনা করিল।
উড়োজাহাজে উঠিয়াই সে পাশে উপবিষ্ট ভদ্রলোকের জ্ঞান বৃদ্ধির প্রকল্প হাতে লইল, অকাতরে সে তার জানা অজানা বিষয়ে বক্তৃতা করিতে লাগিল। কিন্তু সহাসাই সে আবিষ্কার করিল, ভদ্রলোক তাহার চাইতেও জ্ঞানী, সহজেই সে চাপা-গুলি ধরিয়া ফেলিতেছে। অতঃপর মানিক রণে ভংগ দিয়া ঘুমের আয়োজন করিল।

তখন ভদ্রলোক বলিলেন, “আরে মশাই, এখনই ঘুম কেন? চলুন এক খেলা খেলি। আমি আপনাকে প্রশ্ন করিব, আপনিও আমাকে প্রশ্ন করিবেন; না পারিলে উভয়েই পাঁচ ডলার করিয়া দিতে বাধ্য থাকিব।”
কিন্তু মানিক আরো গভীর ঘুমে তলাইয়া যাওয়ার ভান করিল।
তখন ভদ্রলোক বলিলেন, “আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি পাঁচ ডলার, আর আমি পঞ্চাশ ডলার, রাজি?”
কিন্তু মানিক আরো গভীর ঘুমে তলাইয়া যাওয়ার ভান করিল।
তখন ভদ্রলোক ক্ষেপিয়া উঠিয়া বলিলেন, “আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি পাঁচ ডলার, আর আমি পাঁচশ’ ডলার, রাজি?”
মানিক তখন চক্ষু মেলিয়া বলিল, “রাজি।”

তখন ভদ্রলোক প্রশ্ন করিলেন, “বলুন তো, চন্দ্র হইতে সূর্যের দুরত্ব কত?”
মানিক মনে মনে গাল দিয়া পকেট হইতে পাঁচ ডলার বাহির করিয়া দিল।

এইবার মানিক প্রশ্ন করিল, “বলুন তো, কোন প্রাণী তিন পায়ে পাহাড়ে উঠে এবং চার পায়ে নামে?”
ভদ্রলোকের মাথায় যেন বাজ পড়িল, সে দ্রুত তাহার ল্যাপটপ লইয়া গুগলের সহিত যুদ্ধে নামিয়া পড়িল। ক্রমাগত তাহার বন্ধুদের মেইল করিতে লাগিল। অবশেষে তিন ঘন্টা পর হতাশ হইয়া মানিককে ঘুম হইতে জাগাইয়া বিমর্ষ বদনে পাঁচশ ডলার বাহির করিয়া দিল।
মানিক নোট পকেটে গুঁজিয়া আবার ঘুমাইবার আয়োজন করিতেছে দেখিয়া ভদ্রলোক তেড়িয়া ফুড়িয়া বলিল, “মশাই এবার আপনি বলুন না এমন প্রাণী কোনটা?”
মানিক অম্লান বদনে পাঁচ ডলার বাহির করিয়া দিয়া পুনরায় ঘুমের ভান করিল।

ভদ্রলোক শোকে পাথর হইয়া বসিয়া রহিলেন।
বলাই বাহুল্য, আর কোন বিষয়ে সে মানিককে উৎপাত করিবার সাহস করে নাই।



বিঃ দ্রঃ ঘটনা এবং চরিত্রাবলি কাল্পনিক। কাহারো বাস্তবতার সহিত সাদৃশ্য প্রতীয়মান হইলে থোড়াই পরোয়া করা হইবে।

১,৭৮৭ বার দেখা হয়েছে

১১ টি মন্তব্য : “রস, রঙ্গ, সংসার এবং মানিক।”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।