সংবিধান সংশোধনে আমার ভাবনা

কিছুদিন ধরেই সংবিধান সংশোধন নিয়ে চারিদিকে নানা কথা হচ্ছে। নানা মিডিয়ায় সবাই নিজেদের মতামত দিচ্ছেন। কোন অংশ কেমন হওয়া উচিত, কোনটা থাকা উচিত আর কোনটা উচিত নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। এতকিছু বারবার আলোচনায় আসতে দেখে আমিও আমার মত করে কিছু চিন্তা-ভাবনা করলাম। ভাবলাম সিসিবিতে শেয়ার করি। আর সিসিবিতে এই আলোচনাটা এখনও হয়নি। সেজন্যই লিখতে বসা।

সংবিধানের কোন অংশ কেমন হওয়া উচিত সেসব কথায় যাওয়ার আগেই এব্যাপারে আমার কিছু মত আগে বলে নিই-

– আমার মনে হয়, সংবিধানে অন্য কোন দেশকে অন্ধ অনুকরণ করার মানসিকতা থাকা উচিত না। অমুক অমুক দেশের সংবিধানে এটা আছে, সুতরাং আমাদেরটাতেও থাকতে হবে, এটা কোন যুক্তি হতে পারে না। আমরা যেটা করতে পারি সেটা হল, অন্য দেশের সংবিধানগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারি। সেটার সাথে ঐ দেশের সফলতা/ব্যর্থতার সম্পর্ক তলিয়ে দেখতে পারি। তবে আমাদের সংবিধানের খুঁটিনাটি কেমন হবে তা অবস্থানুসারে আমাদেরই ঠিক করতে হবে। একই জিনিস সবখানে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

– আর চারপাশের অবস্থা থেকে আমার মনে হচ্ছে, সবাই সংবিধানের ব্যাপারে নিজের মতটাকে অনেকটা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যেহেতু আমরা গণতন্ত্রকেই আমাদের প্রধান মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছি, গণতান্ত্রিক রীতি হিসেবে আমাদের উচিত সংখ্যালঘুদের মতকে সম্মান জানিয়ে সংখ্যাগুরুদের মতকেই প্রাধান্য দেওয়া।

এখন আসি একটা একটা করে পয়েন্টে যেগুলো বেশি বেশি আলোচনায় আসছে-

ধর্মনিরপেক্ষতা: ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বা ‘Secularism’ একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট শব্দ। অ্যাবস্ট্রাক্ট বললাম এই কারণে যে, শব্দটির অর্থ নানাজনের কাছে নানারকম। বিশেষত ডান ও বাম ঘরানার রাজনীতিবিদ এবং বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে। সেজন্য ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এবং এধরণের অন্যান্য অ্যাবস্ট্রাক্ট শব্দ (যেমন ‘সমাজতন্ত্র’) সংবিধানে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এক্ষেত্রে যা করা উচিত বলে আমার মনে হয় তা হল-

– প্রথমে এটা ঠিক করা উচিত যে, শব্দটির ব্যাখ্যা কী? বা আরও স্পষ্টভাবে বললে শব্দটির ঠিক কোন ব্যাখ্যা বা অর্থটি আমরা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা অর্থকে নীতি হিসেবে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

– এরপর দেখতে হবে আলোচ্য শব্দটি ছাড়াও অন্য এমন কোন শব্দ বা শব্দগুচ্ছ আছে কিনা যা গৃহীত ব্যাখ্যা বা অর্থকে আরও ভালভাবে বা দ্ব্যর্থ-হীনভাবে প্রকাশ করতে পারে। যদি এমন শব্দ বা শব্দগুচ্ছ পাওয়া যায়, তাহলে সংবিধানে আলোচ্য মূল শব্দের পরিবর্তে নতুন শব্দ বা শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করতে হবে। আর না পাওয়া গেলে মূল শব্দটিই ব্যবহার করা হবে। এক্ষেত্রে আগেই বলেছি, অনুকরণের মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে।

– পরবর্তীতে বিভ্রান্তি নিরসনে ব্যবহৃত শব্দের ব্যাখ্যা যে ঐটাই যেটা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অন্য কিছু নয়; সেটাও সংবিধানে উল্লেখ করতে হবে।

আবার ধর্মনিরপেক্ষতায় ফেরত আসি। আমরা কেউই চাই না যে, বিশেষ কোন ধর্মের অনুসারী হওয়ার জন্য রাষ্ট্র আমাদেরকে বিশেষ কোন সুবিধা দিক। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবেন এটাই আমাদের চাওয়া। এটাই যদি ধর্মনিরপেক্ষতা হয়, তাহলে আমার মনে হয় কোন সমস্যা নেই। তবে যেকোনো জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বা অন্যান্য কারণেও রাষ্ট্রের কাছে বিশেষ কোন চাহিদা থাকতে পারে। সেটা রাষ্ট্র পূরণ করতেই পারে। যেমন এখন বিয়ে-তালাক বা অন্যান্য পারিবারিক বিষয়ে ধর্মভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন আইন আছে। আজকাল ধর্মনিরপেক্ষতার যে অর্থ করা হয়- “রাষ্ট্রের সাথে ধর্মের কোন সংশ্লিষ্টতা থাকবে না”, সেটাকে ব্যবহার করে যদি এসব প্রচলিত নীতিকে কেউ এখন বা পরে সুযোগ মত পরিবর্তন করতে চায়, সেটা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এসব বলছি কারণ, আমার কাছে মনে হয়েছে অনেকেই এখন ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি কোনভাবে সংবিধানে ঢুকিয়ে দিয়ে পরে সুযোগ অনুসারে রাষ্ট্রকে বিশেষ একটা অবস্থায় নিয়ে যেতে চায়। বিশেষ কোন মত আসতে হলে জনগণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে আসুক। এমন চোরা পথে যাবার কি প্রয়োজন?

এজন্য আমার মত হল- ধর্মনিরপেক্ষতা বা এধরণের অন্যান্য শব্দ বা আরও উপযোগী শব্দ/শব্দগুচ্ছ অবশ্যই সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সহকারে। আর সেক্ষেত্রে শব্দটি নয়,ব্যাখ্যাটিই হবে মুখ্য।

বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলামঃ এই দুটি ইস্যুই বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট, যারা বাংলাদেশে ধর্মীয় দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু লক্ষ্য করুন, সংবিধানে এই দুটি বিষয় কিন্তু জনগণের দাবী থেকে আসেনি। এসেছে ক্ষমতাসীনদের হাত ধরে। এত বড় জনগোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্টতার পরেও ‘বিসমিল্লাহ’ এবং ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ কেন জনগণের দাবী থেকে আসল না? কারণ জনগণ কোন তত্ত্বীয় ধারণার জন্য আন্দোলন করে না, আন্দোলন করে বাস্তব অধিকারের জন্য। আর সংবিধানে এই দুটি অন্তর্ভুক্ত থাকা বাস্তব কোন অধিকার নিশ্চিত করে না, কাগজে-কলমে থাকা একটা স্বীকৃতি দেয় মাত্র। এটা এমন কিছু নয় যে, এর ফলে মুসলিম জনগোষ্ঠী অন্যান্যদের তুলনায় নাগরিক হিসেবে বেশি সুবিধা পাবে, সবখানে তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোটা থাকবে, তারা প্রথম শ্রেণীর নাগরিক আর অন্যরা দ্বিতীয় শ্রেণীর ইত্যাদি ইত্যাদি। যদিও অনেকেই সেটাই বুঝাতে চাচ্ছেন। আর তৎকালীন ক্ষমতাসীনেরা যে এই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, তা আসলে কীজন্য যেটাও যথেষ্ট প্রশ্ন-সাপেক্ষ।

এখন কথা হল, এই দুটি সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা? আমার মনে হয়, প্রশ্নটা এভাবে করলে বেশি সরল হয়ে যায় এবং কিছু বিবেচ্য বিষয় বাদ পড়ে যায়। আমার মতে এখানে পরিস্থিতি হিসেবে প্রশ্নটা কয়েকটি ভিন্ন ভাবে করা যেতে পারে- (১) দেশের সংবিধান তৈরি হচ্ছে। এই সম্পূর্ণ নতুন সংবিধানে এই দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা? (২) দেশে একটা সংবিধান আছে। সেখানে এই দুটি বিষয় নেই। নতুন করে এই দুটি বিষয় যোগ করা হবে কিনা? (৩) দেশে একটা সংবিধান আছে। সেখানে এই দুটি বিষয় আছে। এখন সংবিধান থেকে এই দুটি বিষয় বাদ দেওয়া হবে কিনা?

আশা করি সবাই বুঝতে পারছেন, তিনটা পরিস্থিতি একই রকম নয়। বিশেষ করে শেষের পরিস্থিতিটা আগের দুটোর চেয়ে অনেকাংশে ভিন্ন। এখন আমার মতটা বলি। আমার মতে প্রথম দুটি ক্ষেত্রে এই দুটি বিষয় সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তবে না করলে যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বড় কোন ক্ষতি হয়ে যাবে এমন কিছু নয়। কেউ বলতে পারেন, এধরণের জিনিস সংবিধানে থাকলে ধর্মনিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হবে। সেক্ষেত্রে আমি আগেই বলেছি, কোন একটা শব্দ মুখ্য নয়, শব্দটির যে ব্যাখ্যা বা নীতি সবাই (বা সংখ্যাগরিষ্ঠ) গ্রহণ করবে সেটিই মুখ্য। আমার মনে হয় না, এমন একটা কাগজে কলমে দেয়া স্বীকৃতি ঐ নীতিবিরোধী হবে।

এখন আসি তৃতীয় পরিস্থিতিতে, যেটা বর্তমানে আমাদের সামনে আছে। অর্থাৎ বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে আছে। এর মাধ্যমে দেশের একটা গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়ে গেছে। এখন এগুলো বাদ দেয়া উচিত কিনা? এখন আপনারাই বলুন, কাউকে কোন স্বীকৃতি দিয়ে সেটা কি আবার ফিরিয়ে নেয়া উচিত? ফিরিয়ে নিলে সেটা কি পরোক্ষ অপমানের মত দেখায় না? অবশ্য যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তিনি ফিরিয়ে দিলে ভিন্ন কথা। কিন্তু কেউ তো আর এমনি এমনি স্বীকৃতি ফিরিয়ে দেয় না। ক্ষোভে বা অভিমানে দিতে পারে। যেমন রবীন্দ্রনাথ ‘নাইটহুড’ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামনে এমন কোন পরিস্থিতি আছে কি? এখন এই দুটি বিষয় সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার মনে হল, অনাকাঙ্ক্ষিত গোলযোগের রাস্তা করে দেওয়া।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার: আমার মনে হয় এখনও বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশের মূল ক্ষমতা আহরণের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সদিচ্ছা থাকলেও নয়। সুতরাং যতই নজিরবিহীন এবং অগণতান্ত্রিক হোক না কেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন আছে। তবে দু-এক দশক পর পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে।

শেষে একটা কথা বলতে চাই। সেটা হল, সংবিধান একটা রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত সেটা কাগুজে একটা দলিল ছাড়া আর কিছুই নয়। সংবিধান পরিবর্তন হয়ে গেলেই আমাদের জীবন রাতারাতি পালটে যাবে না। রাতারাতি তো নয়ই, কয়েক বছর বা দশকেও না। জাতির আসল পরিচয় তার মানসিকতায়, তার মূল্যবোধে। এজন্য আমাদের জাতি হিসেবে নিজেদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আর এই ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি কারও একার কাজ নয়। এতে প্রয়োজন সবার অংশগ্রহণ।

৩,৮৩৬ বার দেখা হয়েছে

৪০ টি মন্তব্য : “সংবিধান সংশোধনে আমার ভাবনা”

  1. মরতুজা (৯১-৯৭)
    জাতির আসল পরিচয় তার মানসিকতায়, তার মূল্যবোধে।

    যেইটা আমাদের মধ্যে, বিশেষ কইরা রাজনীতিবিদদের মইধ্যে নাই। তাই দেশের উন্নতিরও কোন সম্ভাবনা নাই। দি এন্ড।

    জবাব দিন
  2. মরতুজা (৯১-৯৭)

    বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, লেখার চিন্তাধারা আমার পছন্দ হয়েছে। এভাবে চিন্তা না করতে পারলে এই নিয়া ক্যাচাল চলতেই থাকবে।ঞ্জনগন ভাত পায় না, রাস্ট্রধর্ম দিয়া কি *ল ছিড়ব?

    জবাব দিন
  3. রাব্বী (৯২-৯৮)

    ধর্ম নিয়ে রাজনৈতিক ভাবালুতায় ভর করে আমরা তো সাতচল্লিশে পাকিস্থান হয়েছিলাম। নাকি? তারপর দেখা গেল, ভ্রান্তি কেটে বুঝলাম ধর্মীয় ভাব-আবেগে পেটে ভাত হবে না, জাত হিসেবেও সম্ভ্রম রাখা মুশকিল। বুঝলাম আমাদের আসল পরিচয় আমরা বাঙালি। তখন আসলো বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মুক্তিযুদ্ধের একটা পোষ্টার ছিল -

    বাংলার হিন্দু
    বাংলার খৃষ্টান
    বাংলার বৌদ্ধ
    বাংলার মুসলমান

    এটাতেই স্পষ্ট সংবিধানে কিসের ভিত্তিতে 'ধর্ম নিরপেক্ষতা' এসেছে। বাদ পড়েছিল আদিবাসীদের কথা। সেইটা বরং এখন কিভাবে অর্ন্তভূক্ত করা যায় সেইটা মতামত তৈরি জরুরী।

    রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং সংবিধানে বিসমিল্লাহ মূলতঃ সত্তর এবং আশির দশকের প্রথমে মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম দেশের ক্ষয়রাতি সাহায্য পাবার জন্য এবং রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের কারণে নতুন ডিপলোমেটিক এ্যালাইনমেন্ট ঠিক করার জন্য। 'নাইটহুড' ফিরিয়ে দেয়া এবং সংবিধানে 'বিসমিল্লাহ'+রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিষয় দুইটা একদাগে যায় না। দেশে তো বাঙালি হিন্দু, খ্রীষ্টধর্মাবলম্বী ও বৌদ্ধও আছে এবং আদিবাসীও আছে। আর ইসলাম ধর্ম রাষ্ট্র ধর্ম রেখে কি লাভ? কাটমোল্লারা কাদিয়ানিদের অমুসলিম হিসাবে ঘোষনা দিয়ে নিপীড়ন-অত্যাচার করে, তখন রাষ্ট্র দেখি নাই, শুনি নাই, জানিনা বলে বসে থাকে। তাদেরও স্পেস প্রয়োজন সংবিধানে। এমনভাবে সংবিধানে স্কোপ থাকা প্রয়োজন যাতে যার যা ইচ্ছা ধর্ম পালন করার যেমন সুযোগ থাকে, তেমনি কেউ না পালন করতে চাইলে বা ধর্মীয় পরিচয় না রাখতে চাইলে সে সুযোগও যাতে থাকে।

    ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবেই থাকা ভাল। তুমি উদারপন্থী দেখে বললে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল থাকা একটা সম্মান-স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারমাত্র তাদেরকে, একজন কট্টরপন্থীতো বলবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শরীয়া আইন চালু হওয়া উচিত এবং সংবিধানের মালিক জনগণ না হবেন খোদাতালা। খুব খিয়াল কৈরা, ভায়া।

    এইটা তো ঠিক বললা না -

    সংবিধান একটা রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত সেটা কাগুজে একটা দলিল ছাড়া আর কিছুই নয়

    বাংলাদেশের সংবিধান পাবার জন্য একটি মুক্তিযুদ্ধ করা লেগেছে। এবং কাগুজে বা মৌখিক দলিল যাই হোক, তারচে বড় কথা, এটা একটি বড় রক্ষাকবচ যারা সমাজের ছোট ছোট পকেটে বসবাস করে। জিনিষটার অপরিসীম গুরুত্ব আছে - দেখো না্‌ই স্বৈরতন্ত্রের এই একটা জিনিসরেই হিসাবে নিতে হইছে।

    সমাজতন্ত্রটা এ্যাবট্রাকটস না। কিন্তু এখন কার্যকারিকা হারিয়েছে। তাই এখন আর প্রয়োজন নাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে - রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর আস্থা নাই, পুরাই পোলারাইজড অবস্থান। আবার গেলবারের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অসাড়তা সবাই ফকফকা দেখলাম - তাই এটারও খানিক রিফর্ম দরকার। তবে এখনো দরকার আছে, কারণ আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস নাই - এটা আমার জনগুরুত্বপূর্ন বিষয়ে চ্রম অপ্রয়োজনীয় মতামত 🙂


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
    • গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

      ভাইয়া আমি আমার অবস্থানটা আরও পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। আমি 'ধর্মনিরপেক্ষতা' নিয়ে আলোচনার শেষে বলেছিলাম- শব্দের ব্যাখ্যা হিসেবে গৃহীত নীতিটাই মুখ্য, শব্দটা না। এটাও সংবিধানে স্পষ্টভাবে থাকতে হবে। যেন কেউ কয়েকটা শব্দের সূত্র ধরে রাষ্ট্রকে বিশেষ কোন দিকে নিয়ে যেতে না পারে। ঐ নীতি পরিবর্তন করতে হলে জনগণের মাধ্যেমে গণতান্ত্রিক উপায়েই করতে হবে।

      এই কথাটা 'বিসমিল্লাহ' এবং 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এগুলোরও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা থাকতে হবে যেন কেউ এগুলোকে ভিন্নভাবে ব্যবহার করতে না পারে, অন্য কারো ক্ষতি করতে না পারে। সেই ব্যাখ্যার পরিবর্তন আসতে হলে, জনগণের মাধ্যমে আসতে হবে।

      আমি এই দুটি ব্যাপার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য প্রশ্নসাপেক্ষ এটা বলেছি। আবার এই দুটি না থাকলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর কোন ক্ষতি হবে না সেটাও বলেছি। তবে আমি এখনকার পরিস্থিতিটা বুঝানোর চেষ্টা করেছি যে, সংবিধানে থাকা স্বীকৃতি বাদ দিলে সেটা নতুন গোলযোগের রাস্তাই শুধু খুলে দেবে। সেজন্য এই দুটি ব্যাপার থাকুক।

      "স্বৈরতন্ত্রের এই একটা জিনিসরেই হিসাবে নিতে হইছে।"
      কথাটা ঠিক বুঝিনি ভাইয়া।

      জবাব দিন
      • রাব্বী (৯২-৯৮)

        স্বৈরতন্ত্র (আরো সরাসরি বললে সামরিক সরকারগুলো) প্রথমে ক্ষমতায় এসেই সংবিধানকে অকার্যকর করে। তারপর জরুরী অবস্থা জারি/মার্শাল ল' দেয়। এরপর সুযোগমতো সংবিধানটিকে কাটাছেঁড়া করে নিজের বৈধতা দেয় এবং পর্যায়ক্রমে ক্ষমতাটা কুক্ষিগত করে। সংবিধান এইসব ক্ষেত্রে লেজিটিমেসি বা ইলেজিটিমেসির বিষয়টা নিরুপন করে।

        তুমি মন খারাপ করো না যেন। আলোচনা না করলে তো আর জানতে পারবা না। বা আমার অস্পষ্টতা থাকলে সেটা আমিও বুঝবো না 🙂


        আমার বন্ধুয়া বিহনে

        জবাব দিন
        • গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

          ভাইয়া আপনার কথা থেকে পাওয়া যাচ্ছে- সংবিধানকে একটা অধ্যাদেশের মাধ্যমে অকার্যকর করে দেওয়া যায়। সুযোগ করে নিয়ে নিজের সুবিধামাফিক কাটা-ছেঁড়াও করা যায়। এজন্যই বলেছি, শেষ পর্যন্ত এটা একটা কাগুজে দলিল-মাত্র। তবে সন্দেহ নেই- সমস্ত দলিলের মধ্যে রাষ্ট্রের কাছে এই দলিলটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রথম ধাক্কাটা এর উপর দিয়েই যায়।

          সংবিধান জনগণকে নিজেকে(সংবিধানকে) মানতে বাধ্য করতে পারে না। ওটা তো আর জীবন্ত কিছু নয়। বরং জনগণই (বা ক্ষমতাসীনরাই) সিদ্ধান্ত নেয় তারা সংবিধানকে কতখানি মানবে আর কতখানি ভাঙবে। এজন্যই বলেছিলাম, শুধু সংবিধান পাল্টালে হবে না, জাতি হিসেবে নিজেদের মানসিকতাকেও পরিবর্তন করতে হবে।

          জবাব দিন
  4. যে যাই বলুক ভাই আমার সোনার হরিণ চাই......... সকলদলের মতামত ছাড়া একক ভাবে কিছু করলে সরকার ভুল করবে এবং পরবর্তিতে এর ভোগান্তি আমাদেরই (সাধারন জনগন) ভুগতে হবে।

    জবাব দিন
  5. আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

    যে কোন দেশের শাসকশ্রেণী সেদেশের জনগণের চারিত্রিক রূপেরই প্রতিফলন। আমাদের শাসকগোষ্ঠী খারাপ কারন আমরা খারাপ। আমি তর্কে যাবনা। তবে সবাইকে অনুরোধ জানাব যাতে নিজেকেই নিজে জিজ্ঞাসা করি, সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে নিজেকে certify করি। আমি কতটা ভালো, সৎ, আন্তরিক নিজের প্রতি, অপরের প্রতি, দেশের প্রতি?

    আইন তৈরী করে হয়ত কাউকে ভয় দেখানো যাবে, কিন্তু আইনের অনুপস্থিতিতে তার আচরণ পশুর মতই হবে যদি মজ্জাগতভাবে ভালত্ব কারো মধ্যে না থাকে। সেইজন্য উচিত সচেতন মানুষদের তাদের আশেপাশের মানুষ এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই সকল মূল্যবোধের বীজ বপন করা এবং তার লালন পালন করা। সেজন্য মানুষের প্রতি মানুষের সদয়, সদ্ভাব, সম্প্রীতি, সহযোগিতা আর সহমর্মিতার আচরণ অতীব জরুরী। আর এটার সুফল একদিন দুদিনে পাওয়া সম্ভব না, সময় দিতে হবে। তবে প্রয়োজন নিরবিচ্ছিন্ন সামগ্রিক প্রচেষ্টা।

    একটা রাষ্ট্রে মুলত দুই ধরনের মানুষ থাকে। ধর্মাবলম্বী আর ধর্মহীন। সেক্যুলারিজম মানে যদি হয় রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা করবে না, তাহলে তারা পৃষ্ঠপোষকতা করলো ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর যারা ধর্মহীন। সে অর্থে রাষ্ট্র অবিচারক। আর যদি রাষ্ট্র পৃষ্ঠপোষকতা করে ধর্মাবলম্বীদের তাহলে ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী যারা ধর্মহীন তারা কিন্তু বঞ্চিত হয় না। কেননা যাদের ধর্মই নাই তাদের কোন জিনিসকে পৃষ্ঠপোষকতা করবে রাষ্ট্র??? তাই সংবিধান যদি সেক্যুলারিজম বলতে বোঝায় যে নাগরিক হিসেবে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রাষ্ট্রযন্ত্র সংরক্ষন করবে, তাতে কারো কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে রাষ্ট্রকে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে নাগরিক হিসেবে সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করতে কোনো বাধার সম্মুখীন হবে না, এমনকি রাষ্ট্রযন্ত্রও কাউকে বাধ্য করবে না এবং সকল ধর্মের প্রতি রাষ্ট্র শ্রদ্ধাশীল থাকবে। এবং যে কোন ধর্মের প্রতি কটুক্তি এবং আক্রমনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে নির্ধারণ করা এবং তার যথাযথ শাস্তির বিধাণ করতে হবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হোক সে স্বধর্মাবলম্বী কিংবা অন্য ধর্মের। আর প্রত্যেক ধর্মের মানুষের সামনে সুযোগ থাকতে হবে সে কোন পদ্ধতিতে (নিজ ধর্মের নাকি রাষ্ট্র নির্ধারিত) বিচার চায় তার আশ্রয় নেওয়ার। রাষ্ট্র সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু কোন প্রভেদ করবে না এবং যোগ্যতার বাইরে ধর্মীয় পরিচয় তার চাকুরী বা অন্য কোন রাষ্ট্রীয় সুবিধায় বাদ সাধবে না বা সুযোগ দিবে না। এই যদি হয় সেক্যুলারিজম তবে, তাকে স্বাগতম।

    প্রকৃতপক্ষে বিষয়সমূহ অনেক আলোচনার অবকাশ রাখে এবং সকলেই তার নিজের চিন্তা চেতনা অনুযায়ী পক্ষে বা বিপক্ষে রেশ টানতে চায়। তবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করলে উপরে বর্ণিত এর চাইতে ভালো কোন সেক্যুলারিজম সম্ভব না।

    জবাব দিন
    • গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

      শিশির ভাই, আপনার সাথে সহমত। আমাদের একটা সমস্যা হল, আমরা সবাইকে সমান করতে চাই। এটা ঠিক যে, নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কিন্তু বিভিন্ন কারণে কোন গোষ্ঠী বিশেষায়িত অধিকার চাইতে পারে, যেটা অন্যরা পাবে না বা পাওয়া প্রয়োজনও নয়। আর এই বিশেষ কারণটি যেমন ধর্ম হতে পারে, তেমন অন্য কিছুও হতে পারে। তুলনা করার জন্য আমি ধর্ম ছাড়াও অন্য বিষয়ে বিশেষায়িত অধিকারের দুইটা উদাহরণ দিচ্ছি। (১) আদিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন বিশেষায়িত নাগরিক অধিকারের। কারণটা অনেকটা ভৌগোলিক, কিছুটা ঐতিহ্যগত। (২) আরেকটা উদাহরণ হতে পারে, ৫২-তে আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবী। ইংরেজি এবং উর্দু পাকিস্তানের কোন জনগোষ্ঠীরই মাতৃভাষা ছিল না। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানের অন্য দাবী না জানালেও আমরা জানিয়েছিলাম তার কারণ হল সংখ্যাগরিষ্ঠতা। একইভাবে ধর্মের ভিত্তিতেও কোন গোষ্ঠীর বিশেষায়িত অধিকার প্রাপ্য হতে পারে। যদি তা না দিয়ে জোর করে সবাইকে সমান করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তাদেরকে বঞ্চিতই করা হবে।

      জবাব দিন
      • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

        সবাইকে সমান করার মানে এই না যে, হিন্দুদের মসজিদে যেতে হবে, কিংবা মুসলিমদের পুজায় যেয়ে রঙ ঢং করতে হবে। সমান করার মানে এই না যে, মসজিদের ইমামতি কিংবা মন্দিরের পুরোহিতগিরি করবে অন্য কোন ধর্মের মানুষ শুধুমাত্র এই দেশের নাগরিক হওয়ার যোগ্যতায়।

        তবে এইটাও ঠিক যে, কোন দেশের ট্যাক্সের টাকা, যা দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র নামক অকেজো জিনিসটা পরিচালিত, তার ব্যবহার নিশ্চয়ই সে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবদানের সাথে সম্পর্ক রেখে করাটাই ন্যায়বিচার। তার মানে এই না যে আমার টাকা আমি কেউ ক্ষুধার্ত অথচ অন্য ধর্মাবলম্বী বা নাস্তিক হওয়ায় খেতে পারবে না, কিংবা অসুস্থবস্থায় চিকিৎসায় খরচ করতে দিব না বা শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে খরচ করবো না। আবার এও না যে আমার টাকায় তথাকথিত অযোগ্য এবং দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতিবিদরা ফুর্তি করবে আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ধর্মনিরপেক্ষতা আর সংখ্যালঘু, সংখ্যালঘু করে মুখে ফেনা তুলবে। এই ক্ষুদ্র পরিসরটাকে বৃহৎ অনুপাতে দেখলেই তো হয়।

        সবাই সমান না হোক, যে যে যার যার প্রাপ্যটা অন্তত পাক। সবাইকে সমান যদি রাষ্ট্র করতে যায়, তাহলে তো আর কোন প্রতিযোগিতা থাকবে না বড় হওয়ার। ফলশ্রুতি সবাই একে অপরেরটা কাড়াকাড়ি করবে সমান হওয়ার জন্য। তাই বড় হওয়ার এই প্রতিযোগিতা খারাপ না তা যদি হয় সুস্থ। তবে রাষ্ট্রের কাছে কাম্য সকলের অধিকার সংরক্ষন করা, বিনষ্ট করা নয়।

        জবাব দিন
      • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

        exactly গুলশান। তবে একটু শুদ্ধিকরণ। আমার জানামতে তখন বালুচরাও রাষ্ট্রভাষা উর্দু মানতে চায়নি এবং আন্দোলনও হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকেনি।

        আর হ্যাঁ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই আমরা রাষ্ট্রভাষা বাংলা চেয়েছিলাম। এইদেশের মানুষ কি উর্দু বা ইংরেজী বুঝতো না??? তারপরও কেন চেয়েছিলাম? কারন, এইটাই আমাদের জাত, এইটাই আমাদের ধাতে ছিল। তখন কি অন্যান্য উপজাতির নিজস্ব ভাষা ছিল না? তারপরও শুধুমাত্র বাংলার জন্য আন্দোলন হয়েছিল।

        তাহলে এইদেশের শতকরা ৮৫-৯০ ভাগ মানুষের ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম করতে অসুবিধা কোথায়??? তবে এইদেশে রাষ্ট্রধর্ম ব্যাপারটা মোটেই প্রায়োগিক নয়, পুরোপুরিই মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা যা শুধু জামায়াতে ইসলামীই নয়, সবাই করে 😀 ।

        জবাব দিন
  6. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকে কি করে। রাষ্ট্র কি ব্যক্তি? তবে রাষ্ট্র যেহেতু ব্যক্তিরই প্রতিভু, তার চালচলনে সেই ব্যক্তির জীবনাচরণ মূল্যবোধ দর্শনের প্রতিফলন তো থাকবেই।
    রাষ্ট্রধর্ম বলে কোন বস্তু থাকা উচিত কি না এ নিয়ে কত বিতর্ক/ক্যাচাল হচ্ছে/হতে থাকবে।
    তবে এটা বেশ স্পষ্ট যে বাংলাদেশ তার ধর্মসহনশীল অবস্থান থেকে অনেকদূরে সরে এসেছে গত কয়েকদশকে, যার প্রত্যক্ষ মদদদাতা ছিলো আমাদের রাজনীতি। ভোটের অংক নিয়ে একবার বসলেই দেখা যাবে, ধর্মীয় আর সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘুদের জায়গা আরো সংকুচিত করে ফেলার খেলা চলছে। একটা সময় দেখা যাবে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভোট দিলো কি দিলোনা তাতে ভোটের ফলাফলের কিছু আসবে যাবে না। এমন অবস্থায় নেহাৎ বিবেকবোধে তাড়িত হয়ে কেউ এঁদের দিকে ফিরে তাকাবেন এমনটা আশা করা বৃথা।
    কিন্তু আসলে এদেশে সংখ্যালঘু কারা। হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান-আদিবাসী-কাদিয়ানি-বাউল জনগোষ্ঠী, না সুস্থ বিবেকবান নির্ভীক মানুষ? না, দেশের আপামর বিবেককেও সংখ্যায় লঘু মনে তো হয়না। আসলে আমাদের সবার কন্ঠস্বর লঘু হয়ে পড়েছে। এদেশে ক'জন আর দূষিত রাজনীতি করে, ক'জন ছাত্র আর টেন্ডারবাজি করে অস্ত্রবাজি করে। কোন নিষ্ঠাবান ধার্মিক কি অন্যধর্মাবলম্বীর জন্যে ঘৃণা পুষে রাখতে পারেন? সেটা তো ধর্মের শিক্ষারই বিরুদ্ধ।তবু আমাদের নীরবতার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরাই দেশের নীতি নির্ধারকের ভূমিকায়।
    বাংলাদেশ যখন মোটা দাগে ইসলাম ধর্মের হয়ে যায় তা আসলে ইসলামের স্পিরিট থেকেই আরো দূরে সরে যায়। এমন সংবিধানে 'সবার অধিকার সমান' এ বাক্যাংশ যখন সহাবস্থান করে তখন তা সমান অধিকারের হাস্যকর অবমাননা আর পরস্পরবিরোধিতার একটি অনন্য নজির স্থাপন ছাড়া আর কিছুই প্রদর্শন করেনা।
    এই ঐতিহাসিক ভুলটুকু শুধরে নেবার মতো বুকের পাটা বাংলাদেশের রয়েছে এমন ইংগিত আমি কোথাও দেখিনা।

    জবাব দিন
    • গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

      ভাইয়া আমি "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম"-কে "কাগজে-কলমে দেওয়া একটা স্বীকৃতি মাত্র" হিসেবে সংবিধানে রাখার কথা বলেছিলাম। দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের অধিকার বাস্তব একটা জিনিস। কোন গোষ্ঠীকে একটা স্বীকৃতি দিলেই তাদের অধিকার বেড়ে যায় বা অন্যদের অধিকার খর্ব করা হয় কিনা আমি জানি না। আমরা রাষ্ট্রভাষা বাংলা ব্যবহার করি। এতে সংখ্যায় খুব সামান্য হলেও কিছু মানুষের তুলনায় আমরা বাকী দেশবাসী বেশি অধিকার ভোগ করছি। যদিও এটাই বাস্তব সমাধান। "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম" তো অনেকদিন ধরেই আমাদের সংবিধানে আছে। এই কথার জন্য কি অন্যদেরকে কোন অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে যেমনটা ভাষার ব্যাপারে হয়েছে? আমার জানা নেই।

      জবাব দিন
      • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

        তোমার বক্তব্যের স্পিরিট বুঝিনি এমন নয়।
        একটি দেশ শুধু আইন আর সংবিধান কিংবা বিধান নিয়ে চলেনা, তার সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থানগুলোও ক্রমাগত নিরুপণ করে চলে গতিপথের প্রকৃতিটিকে। তাই কাগুজে স্বীকৃতি শেষ পর্যন্ত কাগুজে হয়ে থাকেনা, তা গণমানুষের চেতনাকে পরিবর্তিত করে, প্রভাবিত করে বৈকি। তোমার বক্তব্যেই পরিষ্কার যে, 'আগে ছিলোনা এখন আছে আবার পরবর্তীতে রাখা হবে না' এমন পরিস্থিতি সামলানো সহজ নয়। কিন্তু নেহাৎ সস্তা রাজনৈতিক চালের অংশ হিসেবে এরশাদ যখন সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা উৎপাটন করে তাকে ধর্মের ঢাল পরালো, তখন এদেশের অন্য ধর্মাবলম্বীদের কেমন অসহায় আর বিপন্নবোধ হয়েছিলো তা তারা ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারবেনা।
        না চাইতেই যখন আমি আমার সন্তানের হাতে বিপজ্জনক বোমাটি খেলনা হিসেবে তুলে দিয়েছি, তখন তো অবশ্যই সেটি কেড়ে নেবার বাস্তবতা পাল্টে গেছে। তাই সেটি তার হাতে না দিলেই ভালো হতো ভেবে আর কি লাভ, তাই না? কেড়ে নিলে আবার তার খারাপ লাগতে পারে, অনর্থও করতে পারে অনেক রকম।
        কিন্তু কাগুজে স্বীকৃতি কাগুজে কখনো থাকেনা, এটাও বাস্তবতা। বিভাজন, সংঘাতের প্রত্যক্ষ উস্কানি হিসেবে কাজ করে।
        আসল কথা হচ্ছে, the damage is already done.
        আর ভাষার ব্যাপারে যেটা বললে সেটাও তো সংখ্যাগুরুর চাপানো।
        আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কিন্তু বলে অন্য ভাষাভাষীদের অধিকার আর সংস্কৃতি সংরক্ষণের কথা। যার অর্থ হচ্ছে সেসব ভাষা অধিকতর প্রচলনের সুযোগ সৃষ্টি করা।
        মোটের উপর এই হচ্ছে সংখ্যালঘুর জন্যে সংখ্যাগুরুর কর্তব্য। আইন করে যে সেই কর্তব্যবোধ তৈরী করা যায় না তা বলাই বাহুল্য।

        জবাব দিন
        • রাব্বী (৯২-৯৮)

          নূপুরদা, সবই অরণ্যে রোদন! আসেন, তালগাছবাদী হয়ে যাই।

          আমার এতোদিন ধারণা ছিল, সংবিধান একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় শক্তিশালী মৌলিক নির্দেশনা এবং সকল নাগরিক অধিকার, আইনকানুন এবং প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি। কাগুজে হোক বা মৌখিক হোক, সংবিধান একটি রক্ষাকবচ - সেটি যথাযথভাবে কার্যকর থাকুক বা অকার্যকর করে রাখার চেষ্টা করা হোক। এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সেই ধারণা পাল্টাতে হবে।


          আমার বন্ধুয়া বিহনে

          জবাব দিন
    • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

      ......রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকে কি করে। রাষ্ট্র কি ব্যক্তি? তবে রাষ্ট্র যেহেতু ব্যক্তিরই প্রতিভু, তার চালচলনে সেই ব্যক্তির জীবনাচরণ মূল্যবোধ দর্শনের প্রতিফলন তো থাকবেই।

      একটু পরস্পরবিরোধী কথা হয়ে গেলো না???

      রাষ্ট্র ব্যক্তি নয় তবে রাষ্ট্র যেহেতু ব্যক্তিরই প্রতিভু, তার চালচলনে সেই ব্যক্তির জীবনাচরণ মূল্যবোধ দর্শনের প্রতিফলন তো থাকবেই...... এর মানে কিন্তু রাষ্ট্রেরও (যেহেতু ব্যক্তির থাকে) ধর্মীয় আদর্শ থাকতে পারে যার উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্র রচিত হবে এক কথায় রাষ্ট্রেরও ধর্ম থাকতে পারে। 🙂

      যা হোক ধর্ম কিন্তু নাক কান বা চোখ নয়, বরং আদর্শ যা রাষ্ট্রেরও থাকতে পারে।

      জবাব দিন
      • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

        না, পরষ্পরবিরোধী হয়নি। 'প্রতিফলন থাকা' আর ব্যক্তির ধর্মীয় আদর্শের মাপে রাষ্ট্রকে ধর্মের টুপি পরানো এক নয়। একটি রাষ্ট্রে শুধু একটিই ধর্ম থাকেনা। সেখানে নানা ধর্মের প্রতিভু থাকে।শুধু নামে এক ধর্মের হয়েও মানুষের ধর্মজনিত দর্শন আর জীবনবোধ স্বতন্ত্র হয়ে থাকে। তাই রাষ্ট্রের চলনে যখন এসব কিছুরই প্রতিফলন থাকবে তখন শুধু একটি ধর্মের (সংখ্যার মাপে বেশী হলেও) আদর্শে তার গঠনতন্ত্র বানানোর কি যুক্তি? তাহলে কি রাষ্ট্র তার নাগরিকদের বৈষম্যের দৃষ্টিতে দেখছেনা? আমি যদি বলি আমার রাষ্ট্র আমার ধর্মের আদর্শে চলুক?
        মনে রেখো, ওই ধর্মের উপরই পাকিস্তান দাঁড়িয়েছিলো। বেশিদিন পারেনি। ধর্মের উপর ভর করে কোন দেশই বেশিদূর যেতে পারবেনা।
        নাক কান এসবের কথা বলে যে যুক্তিতে দেখালে রাষ্ট্রের আদর্শও ধর্মভিত্তিক হতে পারে তা নিয়ে আর কি বলবো। আমি বরং তোমার কাছে জানতে চাই, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ধর্মীয় আদর্শ বলতে তুমি কি বোঝো? ধর্মীয় আদর্শের সাহায্য নিয়েই কি বাংলাদেশে কি সমঅধিকার, ন্যায়বিচার এসবের পথ খুঁজতে হবে? এটাই কি উত্তম পথ? অন্য কোন দেশে গেলেও কি তুমি এই কথাই বলতে? যেমন ভারত বা পাকিস্তান বা সৌদিআরব বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ভ্যাটিকান? কোথায় কোথায় গেলে তোমার বক্তব্য পাল্টে যেতে পারে জানতে পারি?

        জবাব দিন
        • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

          ভাই প্রথমেই আপত্তি জানাচ্ছি ধর্মের টুপি শব্দটার ব্যবহারে। একটু সাম্প্রদায়িক হয়ে গেল না??? 😉 অন্য কোন শব্দ পিক করতে পারতেন। ধরে নিচ্ছি এইটা অসচেতন ভাবেই করেছেন। আপনার বক্তব্য বোধগম্য কিন্তু কোন সমাধানের পথ দেখায় না। কেননা, আপনি রাষ্ট্রের চালচলনে ব্যক্তির জীবনাচরণ মূল্যবোধ দর্শনের প্রতিফলন দেখতে চান অথচ এও চান যে রাষ্ট্র বলবে আমি ধর্ম কি চিনিনা।

          ভাই আপনি কি জানেন যে, কোনো কোনো রাষ্ট্রের একাধিক রাষ্ট্রধর্ম আছে? আমার কথায় কিন্তু কখনো এটা প্রকাশ পায় নি যে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আদর্শে গঠনতন্ত্র বানাতে হবে। আর আমি শুধুমাত্র বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে কথা বলিনি। আমি সার্বজনীন করে যে কোন দেশের কথা বলেছি আমার অন্যান্য মন্তব্যগুলো পড়লেও আশা করি বুঝবেন। সুতরাং ভ্যাটিক্যান বা নেপাল কিংবা ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও আমার কথা কিন্তু অপরিবর্তনীয়। আপনার প্রশ্নের সুর আমি ধরতে পেরেছি এবং আমার ধারনা আপনি আমার দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা থেকে উত্তরটা পেয়ে গেছেন। সুতরাং আপনার ধর্মের আদর্শেও দেশের গঠনতন্ত্র হতে পারে, তবে আপনার একলা না, সবারটা নিয়েই। এবং আপনার আচার আপনার, আমার আচার আমার। এইক্ষেত্রে নিশ্চয়ই আপনি সবার ক্ষেত্রে আপনারটা চান না? আমিও সবার ক্ষেত্রে আমারটা চাই না।

          হ্যাঁ আমি একটা মন্তব্যে বলেছি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা। সেইটা যুক্তি তর্কের জন্যই বলা। আর এও ঠিক যে ডেমোক্রেসি যদি ম্যাজরিটিকে রিপ্রেজেন্ট করে, তাহলে কিন্তু আমার যুক্তি উদ্ভট নয় বরংচ যথার্থতা নিরুপনে ডেমোক্রেসিই উদ্ভট।

          আমার পুর্বোক্ত মন্তব্যে আপনি দেখবেন আমি সেক্যুলারিজম নিয়ে বলেছি, এর ধারনা কেমন হওয়া উচিত তা বলেছি। সেখানেও কিন্তু আমি এক ধর্মীয় আদর্শের কথা বলিনি। আর আমি মূলত বলেছি রাষ্ট্র কি ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে, কি না???

          আর পাকিস্তান সম্পর্কে আপনি যে প্রশ্ন করলেন তার উত্তরে বলতে হয়, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ভিত্তি ইসলাম হলেও পাকিস্তান কিন্তু পরবর্তীতে ইসলামকে মেনে রাষ্ট্র পরিচালনা করেনি। আর আপনার কি মনে হয় যে, আওয়ামীলীগ ততকালীন সরকার গঠন করতে পারলে বাংলাদেশ হতো??? যাক ভিন্ন স্রোতে আলোচনা নিতে চাই না।

          পরিশেষে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের ধর্মীয় আদর্শ বলতে আমি যা বুঝি তা হচ্ছে এদেশের মানুষ ধর্মভীরু সুতরাং তাদের ধর্মচর্চার যথার্থ সুযোগ সম্বলিত এক পরিবেশ যা সংবিধান থেকে শুরু করে সকল জায়গাতেই থাকা উচিত। আর কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যে জীবনে ধর্মের ধারে কাছেও যায় না, সে কোন একসময় স্বার্থ হাসিলের জন্য কোন সংখ্যালঘু কারো উপর অত্যাচার করলো আর দোষ এসে পড়লো ঐ ধর্মের উপর এই ধরণের মানসিকতার পরিবর্তনও কাম্য।

          জবাব দিন
          • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

            'টুপি পরানো' কথায় তোমাকে আহত করে থাকলে দুঃখিত। আমি কিন্তু টুপির সাথে ইসলামের যোগসূত্র খুঁজে এমন কথা বলিনি, অসচেতন ভাবে তো নয়ই।চোখ টেপার দরকার ছিলোনা। 'টুপি পরানো' এক্সপ্রেশনের আসল মানে যে 'বোকা বানানো' তা জানবে আশা করি। আমার কাছে ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র চালানো তা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেনো তা পাবলিককে ওই টুপি পরানোর মতোই।সা্ম্প্রদায়িক মন্তব্যই যদি করবো তাহলে আমার সাথে মোল্লা পুরুতের তফাৎটা কি রইলো।এ প্রসংগে তোমার আগের মন্তব্যের এই বাক্যাংশটুকু স্মরণ করছি :
            কিংবা মুসলিমদের পুজায় যেয়ে রঙ ঢং করতে হবে

            আপনি রাষ্ট্রের চালচলনে ব্যক্তির জীবনাচরণ মূল্যবোধ দর্শনের প্রতিফলন দেখতে চান অথচ এও চান যে রাষ্ট্র বলবে আমি ধর্ম কি চিনিনা
            ঠিক তাই। রাষ্ট্র শুধু সবাইকে তার বিশ্বাস (বা অবিশ্বাস) নিয়ে নির্বিবাদে থাকার নিশ্চয়তা দেবে, তার বেশি না। আমি চাই রাষ্ট্র কোন ধর্মকে 'বেশি না চিনুক'।

            ভিন্ন ভিন্ন দেশে ধর্ম নিয়ে তোমার অবস্থান জানানোর জন্যে ধন্যবাদ। আমার অবস্থান হচ্ছে: যার যার ধর্ম তাকে শান্তিমতো পালন করতে দেয়ার বাইরে রাষ্ট্রের ধর্ম নিয়ে আর কোন কাজ নেই। সমান অধিকারের নামে সব (বা একাধিক = সবাইকে খুশি রাখলাম আর কি টাইপ) ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম বানানোর উদ্ভট সমাধানে আমার কোন আস্থা নেই।আমি আমার নিজের কেন, কারো ধর্মের আদর্শেই রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্র চাইনা, কেননা এর থেকে বিপজ্জনক প্রবণতা আর কছু হতে পারেনা।

            স্যেকুলারিজম নিয়ে তোমার আগের মন্তব্যগুলো পড়েছি। সেগুলো আমার বেশ যুক্তিসংগত মনে হয়েছে তাই সেসব নিয়ে আর কথা বাড়ালামনা।

            পাকিস্তান পরবর্তী আমলে বাংলাদেশ হতো কি হতোনা সেটা কথা নয়। তার আগেই তো দেশভাগের সময় ধর্মের নামে হাজার হাজার মানুষ কোতল হয়েছে। মানুষ 'লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান' স্লোগান দিয়েছে এবং ক'বছরেই আমাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। বাংলাদেশ হলো কি হলোনা, তার আগেই তো ধর্মভিত্তিক বিভাজনের অসারতা স্পষ্ট হয়ে গেছে।আর পাকিস্তান ইসলামকে মেনে রাষ্ট্র চালালে সৌদি আরব হতো বড়োজোর, তালেবানদের হাতে তো চলেই গেছে অর্ধেক।

            তোমার শেষ প্যারার সূত্রে বলছি:
            তোমার কথাতেই পরিষ্কার যে, রাষ্ট্র যদি সকলের সব মৌলিক অধিকারসমূহ সংরক্ষণে যত্নবান হয়, তবে ধর্মকে আলাদা করে টেনে আনার কোন দরকারই পড়েনা।আর সংবিধান যদি ধর্মনিরপেক্ষ থাকে তবেই সবার ধর্মচর্চার (বা চর্চা না করার) পথটি কন্টকমুক্ত থাকে।ধর্ম আমাদের বেশিরভাগ মানুষের কাছেই সংবেদনশীল বলে তাকে অপব্যবহার করার লোকের অভাব কখনো হবেনা।ধর্মের নামে কেউ যাতে কারো উপর অত্যাচার করতে না পারে সেজন্যেই ধর্মের গতিবিধি একটা গণ্ডির মধ্যে থাকা প্রয়োজন।
            কাঠমোল্লা পুরুতরা এসে ধর্মের বই quote করে ফতোয়া দেবার অঢেল সুযোগ পেলে মানুষ ধর্মের মধ্যেই দোষ খুঁজে পাবে বৈকি।যে দেশে বেশিরভাগ মানুষ নিরক্ষর, বিনাবিচারে মোল্লাদের কথা বিশ্বাস করে, সেখানে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোন অন্যায় হলে জনতার ঘোলাটে মানসে ধর্মকে ছাড়িয়ে তার পেছনের কলকাঠি নাড়ানো মানুষগুলো ধরা পড়বে এমন মানসিকতা আশা করা এখনো সুদূর পরাহত।

            আরেকটা কথা: দেশের লোকদের আদর করে 'ধর্মভীরু' বলে একদাগে তার উপর ভয়ের স্ট্যাম্প লাগিয়ে দিই আমরা। ধর্ম কি কেবল ভয়ের? ভালবাসার নয়? ধর্মকে ভয় পেতে কারা শিখিয়েছে? ভয়ে পেলে কাদের বেশী লাভ?

            জবাব দিন
            • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

              কিংবা মুসলিমদের পুজায় যেয়ে রঙ ঢং করতে হবে.......
              কথাটা কিন্তু শুধুমাত্র কতিপয় মুসলিমদের জন্য এবং অবশ্যই হিন্দুদের আচার নিয়ে নয়। সুতরাং quote করাটা মানতে পারলাম না।

              আপনি রাষ্ট্রের চালচলনে ব্যক্তির জীবনাচরণ মূল্যবোধ দর্শনের প্রতিফলন দেখতে চান অথচ এও চান যে রাষ্ট্র বলবে আমি ধর্ম কি চিনিনা
              ঠিক তাই। রাষ্ট্র শুধু সবাইকে তার বিশ্বাস (বা অবিশ্বাস) নিয়ে নির্বিবাদে থাকার নিশ্চয়তা দেবে, তার বেশি না। আমি চাই রাষ্ট্র কোন ধর্মকে ‘বেশি না চিনুক’।
              একটু confusing. nullifying and approving. যাক তাও ভালো, রাষ্ট্র ধর্মকে কিছুটা চিনলে আপত্তি নেই আপনার।

              আমি আমার নিজের কেন, কারো ধর্মের আদর্শেই রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্র চাইনা, কেননা এর থেকে বিপজ্জনক প্রবণতা আর কছু হতে পারেনা।

              নিজের ধর্মেও আস্থার অভাব?

              ধর্মের নামে কেউ যাতে কারো উপর অত্যাচার করতে না পারে সেজন্যেই ধর্মের গতিবিধি একটা গণ্ডির মধ্যে থাকা প্রয়োজন।
              এইজন্য দরকার নিজ নিজ ধর্মকে ভালোভাবে জানা। মাথাব্যথা তাই মাথা কেটে ফেলা কোন সমাধান না।

              যে দেশে বেশিরভাগ মানুষ নিরক্ষর, বিনাবিচারে মোল্লাদের কথা বিশ্বাস করে, সেখানে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোন অন্যায় হলে জনতার ঘোলাটে মানসে ধর্মকে ছাড়িয়ে তার পেছনের কলকাঠি নাড়ানো মানুষগুলো ধরা পড়বে এমন মানসিকতা আশা করা এখনো সুদূর পরাহত।

              তার সমাধান মানুষকে শিক্ষিত করা এবং তাদের মানসিকতার উন্নয়ন।

              ধর্মভীরু শব্দটা প্রত্যাহার করলাম, ধার্মিক শব্দটা বেশি গ্রহনযোগ্য।

              জবাব দিন
              • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

                নিজের ধর্মেও আস্থার অভাব?

                নিজের আর পরের ধর্মের কথা নয়, আস্থার অভাবটা যে কোথায় তা আশা করি তুমি বুঝে গেছো।
                তাছাড়া কোন ধর্মে যে আস্থা থাকতেই হবে এমনটা ধরে নেয়া কেন? আর আস্থা থাকলেই তাকে গোটা রাষ্ট্রের কাঁধে সওয়ার করে দেবো এটা কেমন কথা।
                ধর্মকে ভালোভাবে জানা তো প্রয়োজন বটেই, তবেই ধর্মব্যবসায়ীদের দিন ফুরোবে।আমি মনে করি শুধু 'নিজের' কেন, অন্য ধর্মগুলোও সম্পর্কে পড়াশোনা করা উচিত।
                তবে 'ধর্ম'কে ওই যে মাথার সাথে তুলনা করে ফেললে, সেটাই আমার বোধগম্য নয় আর কি।
                ধর্মকে মাথায় তুলে ফেললেই যত গণ্ডগোল লেগে যায়, অন্তত ইতিহাস তাই বলে।

                যাক। তোমার সংগে আলাপচারিতায় অনেক কিছু জানা/বোঝা হলো।
                আশা করি আমার অবস্থান বোঝাতে ("ব্যক্তির ধর্ম থাকা = রাষ্ট্রের ধর্ম থাকা = সেই বা ততোধিক ধর্মের আদর্শে রাষ্ট্র চালনা" জাতীয় তত্ত্বে যে আমার আস্থা নেই) আর নতুন করে কিছু বলতে হবেনা।
                অশেষ শুভকামনাসহ।

                জবাব দিন
  7. আমি দ্ব্যরথহীন ভাষায় বলতে চাই ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ আমরা তথাকথিত মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি।(সুভাষ বোস,ভগত সিং-রা যা করেছিলেন অখন্ড ভারতবরষে গান্ধী কংগ্রেসের হিন্দু জাতীয়তাবাদের বিপক্ষে) ৭১-এ যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের কাফের বলা হয়েছে,নারায়ে তাকবীর ধ্বনি দিয়ে করা হয়েছে যাবতীয় অপকরম, বিশেষায়িত বাহিনী গুলির নাম ছিল আরবী ভাষায়(আল-কুদস,আল-শামস,রাজাকার ইত্যাদি),আমরা যেন ভুলে না যাই আমাদের মা-বোনকে ধরষণ করা হয়েছিল এ দেশ "সাচ্চা মুসলমানে" ভরিয়ে তুলবার জন্য,আর যারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল তারা তথাকথিত মুসলিম ভ্রাতৃত্বের তত্ত্বকে উপেক্ষা করেই তা করেছিল।
    অন্যায় করে বিসমিল্লাহ বা রাষ্ট্রধরম ইসলাম জুড়ে দেয়া গেল,তাতে কারো বাধলনা।এখন এটা বাদ দিতে গেলেই গন্ডগোল বেধে যাবে?? সত্যি সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশ।আর এই দেশের মানুষের মুল্যায়নের মাপকাঠী!
    আমার শেষ প্রশ্ন হল আমি যে কোন ভাবে একটা অবৈধ বাড়ী বা প্রতিষ্ঠান নিরমাণ করে এর নামের সাথে ইসলামী(সচরাচর আমরা আরবী আর ইসলামী শব্দকে একই ভাবি, যদিও আরবী একটি ভাষা আর ইসলাম একটি ধরম) কোন শব্দ লাগিয়ে দিলেই হল। ্যেই সেটা ভাংতে যাবে সে হয়ে যাবে ইসলামের শত্রু! এই ন্যায়বিচার কী আমাদের সবার কাম্য?? অন্যায়কে অন্যায় না বলতে পারলে কীসের আমাদের ধরম, কীসের আমাদের ঈমান? আমি অন্ততঃ ঈমান বলতে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ,অন্ততঃ তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করাকে বুঝি।।
    আজ সব মুসলমানের বোঝা উচিত ধরমকে কোনভাবে রাজনিতীর গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেবার অমারজনীয় ভুল যেন আমরা না করি,এতে ধরমের কলুষতাই কেবল বেড়ে যাবে।

    জবাব দিন
    • গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

      দেশ-ধর্ম এসব উপরে উপরে থাকে। কিন্তু আসলে মানুষ মূলত তার সাথে করা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে। আমরাও সেটাই করেছিলাম। যুদ্ধ ধর্মের বিরুদ্ধে হয়নি, পাকিস্তানীদের শোষণ আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে হয়েছে। আর পাকিস্তানী এবং তাদের দোসররাও ধর্মের জন্য যুদ্ধ করেনি, পাকিস্তানের জন্য করেছে। তাদের অপকর্মকে ধর্মের আবরণে ঢাকতে চেয়েছে মাত্র। তবে সন্দেহ নেই, এই ধর্মের আবরণে তারা অনেককেই বিভ্রান্ত এবং বিপথগামী করতে সফল হয়েছিল।

      রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে পোস্ট আর মন্তব্যগুলোতে অনেক লিখেছি। আর লিখতে চাচ্ছি না। মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

      জবাব দিন
      • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

        আমি গুলশানের সাথে একমত। যারা ইসলামের নামে (যদিও তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা আগলে রাখা, এমনকি পাকিস্তানও রক্ষা করা নয়) ৭১-এর জঘন্যতম অপরাধ করেছে এবং সেগুলোকে ঢাকতে চায়, তারাও নিকৃষ্ট আর যারা ৭১ কে ব্যবহার করে ইসলামের বিরোধিতা করে তারাও নিকৃষ্ট।

        জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।